দেবের এবার ডাকাত রূপ, ঝড়ের গতীতে ভাইরাল আগামী ছবির পোস্টার

dev

পুজোতে মুক্তি পেয়েছে দেবের ছবি গোলন্দাজ। বক্সঅফিসে আবারো আলোর পথ দেখল টলিউড। পুজোর মেজাজে পরপর পাঁচ ছবি মুক্তি পেতেই দর্শক আবারো হলে ফিরেছেন। যার ফলে সিনে দুনিয়া আরও একবার নড়েচড়ে বসে, ছবি নিয়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে টলিউডের ব্যস্ততম নায়ক এর মধ্যে অন্যতম হলেন অভিনেতা সাংসদ দেব।

চলতি বছরের নির্বাচন সামলানোর পর থেকেই ছবির কাজে হাত দিয়েছেন তিনি। টনিক ছবি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে বসে রয়েছে। করোনার কবিতার মুক্তি এখনো পর্যন্ত ঘোষণা না করলেও টেলিভিশনে মুক্তি পেয়ে গেছে দেব প্রযোজনার ছবি হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী। এরই মাঝে কিসমিস ছবির শুটিং শেষ করেছেন দেব। এই ছবিতে দেবের বিপরীতে দেখা যাবে রুক্মিণীকে।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Dev Adhikari (@imdevadhikari)

বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল দেবের আগামী ছবির মোশন পোস্টার। ছবির নাম রঘু ডাকাত। এককথায় ডাকাত বলতে ঠিক যা বোঝায়, এই ছবি পরতে পরতে জড়িয়ে থাকবে তেমনই এক চরিত্র। সদ্য এই ছবি ঘিরেই উত্তেজিত দেবের ভক্ত মহল। প্রকাশ্যে আসেনি দেবের লুক, কিন্তু দেবের শরীরী গড়নে নজর কেড়েছে এই ছবির প্রথম পোস্টার। বর্তমানে আইসল্যান্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেব। সঙ্গে রয়েছেন রুক্মিণী। বলিউডের সনক ছবির মুক্তি পাওয়ার পর খানিকটা ছুটির মেজাজে রুক্মিণী। অন্যদিকে দেব তারপর বেশ কয়েকটা ছবির কাজ সেরে এখন গা ভাসিয়েছেন ছুটির মেজাজে।

সেখান থেকেই একের পর এক ছবি শেয়ার করে চলেছেন দেব। বরফে মোড়া উত্তর মেরু। অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপের মাঝে রঙিন স্টার দেব যেন আরও একবার সকলকে তাক লাগালেন নানান ফ্রেমে পার্ফেক্ট পোজে। তবে খুব একটা বেশি নজরে এলেন না রুক্মিনী। এখন দেখার ট্রিপ সেরে ফিরেই দেব পরবর্তী ছবি রঘু ডাকাতের কাজে কবে হাত দেন।

​দুবাই ট্রিপে বোল্ড জাহ্নবী, মরুভূমির মাঝে ডন লুকে পোজ

janhvi

জাহ্নবী কাপুর মানেই স্টাইল স্টেটমেন্টে ঝড়। সদ্য একাধিক কারণ বশত খবরের শিরোনামে নিত্য আনাগোনা শ্রীকন্যার। সারা আলি খানের সঙ্গে ট্রিপ থেকে শুরু করে তাঁদের সমধ্যে থাকা সম্পর্কের জল্পনা নিয়ে মুখ খুলতেই নয়া গসিপ সৃষ্টি। ছোট থেকে সারা ও জাহ্নবী একে অন্যকে চিনতেন। বন্ধুত্বও তাঁদের মধ্যে বেশ গভীর। কিন্তু বিটাউনে এই খবর খুব একটা ছড়ায়নি কয়েকদিন আগে পর্যন্ত। এবার দুই বন্ধু মিলে কেদারনাথ ট্রিপে গিয়ে ছবি দিতেই মুহূর্তে তা ঝড় তুলেছিল সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor)

জাহ্নবী বরাবরই ঘুরতে ভিষণ পছন্দ করেন। তিনি মাঝে মধ্যেই কাজের ফাঁকে খানিকটা ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিদেশ বিভূঁইয়ে। এবার তাঁর ডেস্টিনেশন দুবাই। সেখানে গিয়েই একতের পর এক ছবি শেয়ার করছেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়। হাতে একাধিক কাজ, তারই মাঝে খানিক ছুটির স্বাদ নিতে বোন ও বন্ধুর সঙ্গে দুবাইতে উড়ে গেলেন তিনি।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor)

 

সেখান থেকেই ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন একাধিক ছবি, শেয়ার করে নিলেন ফান মোমেন্ট। মরুভূমির মাঝে বাইক নিয়ে বোল্ড ফোটোশ্যুট। দেখতে দেখতে সন্ধ্যে গড়িয়ে আসে। ঝড়ের গতীতে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সকলের হাতে হাতে। কয়েকদিন আগেই জন্মদিনের পার্টিতে সেজে উঠেছিল জাহ্নবীর ইনস্টাগ্রাম, এবার সেই ছবিকে ছাপিয়ে গেল নয়া লুক। ধড়ক ছবির জাহ্নবী এখন অতীত। বিটাউনে এখন সর্বত্রই পাপরাজিৎ-দের তোলা ছবিতে তিনি বোল্ড বিউটি। জাহ্নবী কাপুর ভীষণ ঘুরতে পছন্দ করেন। আর সেই সুবাদেই একাধিক ট্রিপে তাঁদের দেখা যায় বছরভোর। 

কেদারনাথ দর্শণের কয়েকমাস আগেই তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন মলদ্বীপ। সেখান থেকেই একাধিক বিকিনি লুকে ছবি শেয়ার করেছিলেন জাহ্নবী। হটনেসের ঝড়ে কাবু করেছিলেন ভক্তমহলকে। খুশির সঙ্গেই এখন কাটছে সময় ফিরে এসেই পাইপলাইনে থাকা একাধিক ছবির কাজে হাত দেবেন তিনি। 

গাড়িতে যেন নতুন করে পেট্রোল-ডিজেল দেওয়া হয়েছে: সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের সুপরিচিত নাম। ১৯৩৬ সালে কলকাতায় জন্ম। মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং হুগলি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক। বহু উপন্যাস, ছোটগল্প ও প্রবন্ধের রচয়িতা। তাঁর রচনায় হাস্যরসের সঙ্গে তীব্র শ্লেষ ও ব্যঙ্গ মেশানো থাকে– এটাই তাঁর লেখার বৈশিষ্ট। ছোটদের জন্য লিখেছেন অনেক। ‘লোটাকম্বল’ তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা দিয়েছে। ‘শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন’ বইয়ের জন্য ২০১৮ সালে পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। সেই সময় এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় বরাহনগরে লেখকের বাসভবনে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অরুণাভ রাহারায়

অরুণাভ: সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে?
সঞ্জীব: প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। হ্যাঁ ভালোই লাগছে। বেশ একটা কেমন কেমন লাগছে। এ প্রসঙ্গে বলি– এতকাল হাতুড়ে চিকিৎসক ছিলাম তো; এবার যেন পাশকরা ডাক্তার হলাম আর কি! এর আগে অনেকেই বলতো কী কী পুরস্কার পেয়েছেন? দুঃখের সুরেই বলতাম কোনো বড়ো পুরস্কার তো পাইনি! আসলে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের কথাই সকলে শুনবে; এমন এক ট্রেন্ড আছে চিরকালই। এই পরিসরে এক মজার কাহিনি বলি। আমি এক জ্যোতিষীকে বলি আপনি তো বলেছিলেন, আমি মস্ত বড়ো পুরস্কার পাব! কোথায়? তখন তিনি বলেন, একজনের কুষ্টি দেখে বলেছিলাম– তুমি লটারিতে বড়ো পুরস্কার পাবে। সে গিয়ে পাড়ার লটারিতে এক টাকার লটারি কেনে এবং প্রথম পুরস্কার পায়। সেই পুরস্কার ছিল এক নাগড়ি গুড়! আমারও নাকি এমনই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তুমি পাড়ার দুগ্গাপুজোয় বিচারক হয়ে গিয়ে গলায় একটা ব্যাচ ঝুলিয়ে ঘুরেছো। এতে তোমার বড় পুরস্কারের ভাগ্য নষ্ট হয়েছে! তারপর ভাবলাম পুরস্কার পাওয়ার জন্যই লিখতে হয় বুঝি!

অরুণাভ: লেখালিখির বাইরে আপনার অবসর যাপন….
সঞ্জীব: কলকাতায় এই বাড়িতে আসার পর এখানে অনেক বড় বড় গাছের সমাহার দেখা যেত! আমি এবং আমার পিতৃদেব মাটির চালুনিতে চেলে সহজেই ভূমিজাত কিছু গাছ লাগিয়েছি। এরপর কৃষ্ণচূড়া, আম, চেরি গাছ! পরবর্তীতে কেটে ফেলতে হয়! আগে মরশুমি ফুলের প্রস্ফুটনে পুরো বাগান ফুলে ছয়লাপ হয়ে যেত। এখন বাড়িতে একা হয়ে যাওয়ায় তেমন পরিচর্যা করা হয় না। এক টব এখান থেকে ওখানে সরিয়ে কেবন টব স্থানান্তরের খেলা চলে। বর্ষায় এই সব টব জলে টুইটুম্বর হয়ে যায়। এই সব গাছ এক এক স্মৃতি। বাগানে একটা গুলঞ্চ গাছ আছে। আমার বাবা গঙ্গার জল থেকে তার ডাল পুঁতেছিলেন। সেটা এখনও আমাদের বাড়িতে আছে।

অরুণাভ: আপনার কি মনে হয় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেতে অনেক দেরি হয়ে গেল?
সঞ্জীব: এই আক্ষেপটা আমার পাঠক-পাঠিকাদের। যারা আমার লেখা ভালোবাসে। আমি এক বিষয় আবিস্কার করলাম, আমি মহানন্দে শুধুই লিখে গিয়েছি। সেই লেখা পাঠক-পাঠিকাদের হৃদয় জয় করেছে। তাই পুরস্কারের চিন্তা ছিল না। কিন্তু এই যে পুরস্কার এল, যেন এক প্রবল উচ্ছ্বসের মতো! পুরস্কার ঘোষণার পর সারারাত কিছু সময় ঘুমিয়েছি। যারা আরও কম বয়সে এই পুরস্কার পেয়েছে, সেই পুরস্কারে এখন ঘুণ ধরে গিয়েছে। ঘুণ ধরেছে লেখকের কর্মজীবনেও। সাহিত্য আকাদেমি পাওয়ার পর আমার মনে হল গাড়িতে যেন নতুন করে পেট্রোল-ডিজেল দেওয়া হয়েছে। এবার উদ্যোম গতিতে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব। হ্যাঁ, এটাই আমার বড়ো পাওয়া। বেলুড় মঠের মহারাজ এই দেরি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। আমি বলি, মহারাজ দেরি হওয়াই ভালো। আসলে জীবনের শেষ ভাগটা খুব শুকনো। বন্ধুবান্ধবহীন জীবনে একাকীত্ব চলে আসে। শেক্সপিয়ার বলেছেন, suns shine, sun steingth, suns availability. গৃহবন্দি জন্তু হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে এই পুরস্কারটা এলো। আমি ঠাকুরমা স্বামীজিকে বিশ্বাস করি, তাঁরাই হয়তো এটা আটকে রেখেছিল এতদিন…

অরুণাভ: শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতায় আছে, ‘দেরি করে যে এসেছে, ইচ্ছে করে ভালোবাসি তাকে।’ ব্যাপারটা তেমনই তো?
সঞ্জীব: হ্যাঁ একদম। আর দেরি করে যে এসেছে সে তো যুবতী নারী, বৃদ্ধা নয়। সেই নতুন প্রেম, নতুন করে ভালোবাসা…..

অরুণাভ: আপনার লেখায় ও জীবনে রামকৃষ্ণ, সারদা মা এবং স্বামীজির প্রভাব প্রভাব লক্ষ্য করা যায়
সঞ্জীব: এ এক মস্ত বড়ো গল্প। আমি স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পাশ করে অবসর সময়ে দর্শনের অনেক বই পড়তে লাগলাম এক সময়। তার মধ্যে ছিল, ভ্যান গখের মতো দার্শনিকদের বইও। আমাদের বাড়িতে এমন শিক্ষা দেওয়া হত, যা কিছু পড়বে, পরে যেন সেটা কাজে লাগে। সেই ভাবনায় দীক্ষিত হয়ে আমি জীবনের প্রথম লেখা লিখলাম ‘মানুষ’। যার প্রথম লাইনই ছিল ‘Man is a biped without wings’। মানুষ কে যতই দেবতা করে দেখানো হোক না কেন, আসলে সে এক জন্তু! সেই লেখা রামকৃষ্ণ মিশনের কাগজ ‘উদ্বোধন’-এ পাঠাই। কিছু দিন বাদে একটি চিঠি পেলাম। তাতে আমাকে দেখা করতে বলা হয়েছে। আমি গিয়ে সম্পাদক মশাইয়ের সঙ্গে দেখা করি। উনি তো আমাকে দেখে হেসে অস্থির। আমি ভাবছি, এত খারাপ লিখেছি যে আমাকে ডেকে এনে উনি বুঝি হাসছেন! তাঁকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম– কী ব্যাপার? উনি বললেন, তোমার প্রবন্ধ পড়ে মনে হল, তোমার বুঝি অনেক বয়স! বড় বড় চুল থাকবে, চোখে বড় লেন্সের চশমা। কিন্তু এ তো দেখছি ছোট ছেলে! এর পর তাঁর সঙ্গে সখ্য তৈরি হল। সেই আমার এই জগতে প্রবেশ। এরপর দেওঘর বিদ্যাপীঠে পড়াতে গেলাম। সেখানে যাওয়ার কারণ অবশ্য ছিল। আমি সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিলাম। সে সময় এক সমস্যাও হল। কারণ, বাড়িতে বাবা ছাড়া কেউ নেই। তিনি আমার এই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবেন? আমার গুরুদেব বললেন, তুমি যদি বলে সন্ন্যাসী হব, তা হলে উনি হয়ত আহত হবেন। তুমি বরং বলে, ওখানে শিক্ষকতা করবে। আমি সেই মতো ওনাকে জানিয়ে দেওঘর গেলাম। কিন্তু সন্ন্যাসী হওয়া আমার আর হল না। ঢুকে পড়লাম লেখার জগতে। এই পরিবেশে আসার আগে আমাকে অনেক চাকরির গন্ডি পার হতে হয়েছে। আমাকে একজন বলেছিলেন, তুমি যত পড়বে, ততো পরিশীলিত হবে। ভালো ভালো সাহিত্য পড়লে বুঝতে শিখবে। আর সব শেষে তোমার সাহিত্যযাপনে যেন কান্না থাকে…।

অরুণাভ: সেই কান্না ছাপিয়ে আপনার লেখায় এত হাসি…
সঞ্জীব: পৃথিবীতে যখন এসেছিলাম তখন ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদেছিলাম। আর যে শিশু জন্মানোর পর কাঁদে না তাকে নিয়ে সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করে। তখন তাকে কাঁদানোর জন্য পিঠে চাপড় দেওয়া হয়- একটু কাঁদ বাছা। এক্ষেত্রে তুলসী দাস বলছেন, তুলসী যাব যগ মে আয়ো, তুলসী রোয়ে জাগ হাসে! সবাই তো খুশি ছেলে হয়েছে, ছেলে হয়েছে। কিন্তু তুলসী যগ মে যায়ো, তুলসী হাসে যগ রয়ে। অর্থাৎ তুমি জীবনটাকে এমন করো যাতে সবাই কাঁদে। এই দোঁহাই আমার জীবনে কাজে লেগেছিল। আর চারদিকে তাকাই, তখন যতই গণতন্ত্র-প্রজাতন্ত্রের বুলি আওরালেও জগতে একটা কথা আছে Have’s ও Havesn’t. মানে এক শ্রেণীর মানুষ খেয়ে শেষ করতে পারছে না, আর এক শ্রেণীর মানুষ দু’বেলা খেতেই পারছে না। আর যারা খেয়ে শেষ করতে পারছে না, তারাই গণতন্ত্রের মাথায় বসে আছে। তাদের মুখে বড় বড় কথা। এক্ষেত্রে আরও এক কথা বলি। আমি প্রচুর শ্রুতি নাটক করতাম। তুলসী রায় ছিলেন সেসব শ্রূতি নাটকে, এইসব নাটক রবীন্দ্রসদন, মহাজাতি সদন, নিরঞ্জন সদন-সহ বিভিন্ন জায়গায় হত। একদিন নাটক শেষে বললেন, আপনি আজ তেমন হাসাতে পারেননি! রাগান্বিত হয়ে বলে ফেললাম– আজকে আমি হাসাতে আসিনি। কাঁদাতেই চেয়েছি। মোহিত লাল মজুমদারের কবিতা বলতে ইচ্ছে করছে, যত ব্যথা পাই তত গান গাই– গাঁথি যে সুরের মালা! ওগো সুন্দর! নয়নে আমার নীল কাজলের জ্বালা! এই লাইনের মতো সবাই আমাকে বলে বসল– তুমি বাংলা সাহিত্যের চার্লি চ্যাপলিন।

অরুণাভ: আপনি প্রথম জীবনে সন্ন্যাসী হতে চাইলেও জীবন আপনাকে করে তুলল বাংলা সাহিত্যের চার্লি চ্যাপলিন! এখন প্রতিদিনই আপনাকে বিভিন্ন সাহিত্যের অনুষ্ঠানে যেতে হয়। এ ছাড়া কলেজ স্ট্রিটের কাছে ঝামাপুকুর লেনে রামকৃষ্ণ সংঘে আপনি নিয়মিত পড়াতে যান। সেই যাপনের কথা কিছু বলুন…
সঞ্জীব: আমি কখনওই ইচ্ছে করে কোনও অনুষ্ঠানে যেতাম না। জোর করে অনেকে নিয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে আমার জীবনে ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য উদ্বোধন পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক স্বামী অব্জজানন্দ বলেন সাহিত্যিকদের লেখায় ঠাকুরের কথা লিখে সাধারণ মানুষদের আকৃষ্ট করতে হবে। তারপর দীর্ঘ ষোল বছর সেই পত্রিকাতে ‘পরমপদকমলে’ বিভাগে লিখেছি ঠাকুর রামকৃষ্ণের কথা। যা দিয়ে আমার সারা জীবন ধরে রামকৃষ্ণকে নিয়ে লেখা। পরে বই হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। শুনেছি সেই বই বেস্টসেলার হয়েছে। আমি সেই বইয়ে রামকৃষ্ণের কথা লিখেছি। তাঁর মুখ দিয়েই তাঁকে কথা বলিয়েছি। যেমন ‘শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন’ বইয়েও করেছি। আমি তাঁকে প্রশ্ন করেছি আপনি যেসব বলে গিয়েছেন, এখন জীবন পাল্টেছে; আমরা এখন কী করব? আপনি বলে দিন। আমি ঠাকুরকে মহাঅবতার না করে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছি। আর আমার এই আঙ্গিকই শ্রোতাদের মাঝে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

ষোলকলায় হয়ে উঠুন সুগৃহিণী

homemaker Women

গুছিয়ে সংসার করতে গেলে নিজের সঙ্গে সঙ্গে নিজের আশপাশটিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। জামায় হঠাৎ দাগ লেগে গেল কিংবা বাসনের দাগ কিছুতেই উঠছে না! তাহলে কি গেল গেল রব উঠে যাবে মনের ভেতর? দাগ-ধরা জিনিস কি ফেলে দেবেন? এই সব দাগ-ছােপ থেকে চট জলদি রেহাই পেতে রইল ঘরােয়া কিছু টিপস।

১. সাদা কাপড় কেমন অনুজ্জ্বল হয়ে গেছে, গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে তাতে কাপড় ভিজিয়ে রাখুন। কাপড় হবে সাদা।
২. প্রেসার কুকারে কালাে দাগ পড়লে, ৪ চামচ ভিনিগার জলের সঙ্গে মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিলে দাগ চলে যাবে।

৩. ভাত রান্নার সময় জলে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস দিন। ভাত হবে সুস্বাদু ও ঝরঝরে।

৪. চশমা ঝকঝকে পরিষ্কার রাখতে হলে এক ফোটা ভিনিগার দিয়ে কাচ পালিশ করুন।

৫. চায়ের পট বা কফি মেকার থেকে দাগ দূর করার জন্য কুসুম গরম জলে বেকিং পাউডার গুলে ঘষে নিন। দাগ চলে যাবে।

৬. কিসমিসে অনেক সময় ফাঙ্গাস ধরে যায়। ময়দা মাখিয়ে রাখলে তাতে আর ফাঙ্গাস ধরবে না। অনেকদিন ভালাে থাকবে।

৭. দেওয়ালে পেরেক গাঁথার আগে পেরেকগুলাে গরম জলে ডুবিয়ে নিন। এতে হাতুড়ি মারার সময় দেওয়ালের প্লাস্টার খসবে না।

৮. মােমবাতি জ্বলার সময় তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজে রেখে দিন কিছুক্ষণ। তাড়াতাড়ি পুড়ে যাবে না।

৯. কলমের কালি লেগে গিয়েছে শার্টে। টুথপেস্ট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

১০. এক কাপড়ের রং যাতে অন্য কাপড়ে না লাগে এ জন্য ভেজানাে জলে লবণ ছড়িয়ে দিন। এক কাপড়ের রং অন্য কাপড়ে লাগবে না।

১১. ফ্রিজারে বাজে গন্ধ হতে শুরু করলে একটি পাত্রে বেকিং সােডা ও জল মিশিয়ে ফ্রিজারে রেখে দিন। এতে রাতারাতি গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

১২. পেঁয়াজ ও রসুন কাটার পর হাতে গন্ধ থেকে যায়। আলু কেটে নিয়ে হাতে ঘষুন। গন্ধ তাে পালিয়ে যাবেই, ত্বকও ভালাে থাকবে।

১৩. রুপাের চামচ, কাঁটা চামচ, কেটলি, প্লেট বা ফুলদানি পরিষ্কার করতে আলুর বিকল্প নেই। আলু সেদ্ধ জলে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। ব্যাস, তার পর দেখুন।

১৪. বাথরুমে শাওয়ার বন্ধ হয়ে এলে একটি পলিথিনে ভিনিগার নিয়ে তা শাওয়ারের মুখে কিছুক্ষণ বেঁধে রাখুন। দেখবেন এর পর শাওয়ার চালাবার সময় জল অনায়াসেই পড়ছে।

১৫. কাঁচের প্লেট, প্লাস্টিকের বােতলে লেগে থাকা স্টিকার কী করে তুলবেন? সুতির কাপড়, না হলে তুলােয় তেল নিয়ে লেগে থাকা স্টিকারের ওপর ঘষুন।

১৬. বেসিনে জল জমছে? জল জমা বন্ধ করতে জল বেরােনাের মুখের জালটিতে পরিমাণমতাে সােডা ও লেবুর রস এক ঘণ্টা মাখিয়ে রাখুন। তার পর জল ছেড়ে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

Srabanti Chatterjee: ‘হিন্দু ধর্মের অবমাননা!’ তীব্র কটাক্ষ শ্রাবন্তীকে

srabanti chatterjee

কলকাতা: ‘হিন্দু বলে আর নিজেকে পরিচয় দিও না’ সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তীব্র কটাক্ষের মুখে টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (Srabanti Chatterjee)। সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ঘুর পাক খাচ্ছে নায়িকার একটি ছবি। যেখানে জুতো পরে গণেশ মূর্তির উপর বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে নায়িকাকে। যা দেখে বেজায় খেপেছেন নেটিজেনরা। হিন্দু ধর্মের অবমাননার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি ছবি আপলোড করেন শ্রাবন্তী। ক্যাপশন ‘দু’হাত বাড়িয়ে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে স্বাগত জানান’। ছবি গুলিতে কালো শর্টস, টি-শার্ট এবং পায়ে চপ্পল পরে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন অভিনেত্রী। আর এই তিনটি ছবির একটিতে গণেশমূর্তির উপর বসে থাকতে দেখা গিয়েছে শ্রাবন্তীকে। এতেই কটাক্ষের পালা শুরু। একের পর এক কুমন্তব্যে ভরতে থাকে অভিনেত্রীর ছবির কমেন্টবক্স। ‘বেহায়া মহিলা! লজ্জা বোধ সব কিছু হারিয়ে গিয়েছে? জুতো পরে গণেশ ওপর বসে পড়েছো, নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিও না’-এমনই তীব্র মন্তব্যে ট্রোল হতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে।

প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই মহালয়ার ভিডিও পোস্ট করে ট্রোলড হতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। তিনবার বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে নায়িকার চরিত্রের ওপর। ‘আপনি দুর্গা নন, দ্রৌপদী!’, ‘আগে নিজের চরিত্র বদলান, তারপর দুর্গা সাজবেন’ এমন সব মন্তব্যে ভরে উঠেছিল নায়িকার কমেন্টবক্স। আর এখন হিন্দু ধর্মের অবমাননার অভিযোগ আনা হল তাঁর বিরুদ্ধে।

‘নয়ের দশকের ফ্লেভার’ নিয়ে ফের শিরোনামে রানাঘাটের রানু

Ranu mandal and eshika day

কলকাতা: রানাঘাট স্টেশন থেকে সোজা স্বপ্নের নগরী মুম্বাই। লতা মঙ্গেশকরের একটি গান গেয়ে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যান রাণুমন্ডল। মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে তাঁর গানের প্রশংসা। এরপর বলিউড থেকে ডাক। পরিচালক হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে হিন্দি ছবিতে প্লেব্যাক। ব্যাম্প ওয়ার্ক-লাইমলাইটে উঠে আসেন রানুদি। ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। কিন্তু বেশিদিন সুখ সহ্য হয় না রানুর। খ্যাতির পাশাপাশি তার বিড়ম্বনাও সইতে হয়েছে রানুকে। কিছুটা নিজের কারণে ফিরতে হয়েছে সেই রাণা।

এই উত্থান-পতনের কাহিন এবার পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন পরিচালক হৃষিকেশ মণ্ডল। রানুদির নাম ভূমিকায় ‘সেক্রেড গেমস’ সিরিজ খ্যাত অভিনেত্রী ঈশিকা দে । এই চরিত্রের খাতিরে সম্প্রতি রানাঘাটে এসে রানু মন্ডলের সঙ্গে দেখা করে গেলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি রানুদির সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। যেখানে রানুদি তাঁকে জড়িয়ে ধরে আছেন। ছবি থেকেই স্পষ্ট, রানু মণ্ডলের সঙ্গে অনেকটাই সময় কাটাচ্ছেন ঈষিকা। ছবিটি মুহূর্তে ভাইরালও হয়।

তবে শুধু ছবি নয়। একটি ভিডিওটি ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ‘খেতে খেতে গান গাইছেন রানুদি। অন্যদিকে ঈষিকা মন দিয়ে শুনছেন সেই গান। ঈশিকার কথায়, ‘এই মুহূর্তে রানুদির সঙ্গে রয়েছি, খুব এনজয় করছি আমরা। অনেক কিছু জানতেও পারছি রানুদির সম্পর্কে। ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎ খুবই প্রয়োজন ছিল। সত্যি বলতে এক দারুণ অভিজ্ঞতা।’ জানা গিয়েছে রানু মণ্ডলের সঙ্গে গানের অনুশীলন করছেন ঈশিকা।

পরিচালক হৃষিকেশ মণ্ডল জানিয়েছেন, নয়ের দশকের ফ্লেভার থাকবে ছবিতে। নাম ‘মিস রানু মারিয়া’। যেখানে রানু মণ্ডলের বর্তমান এবং অতীতের লুকে দেখা যাবে ঈশিকাকে। বলাবাহুল্য ছবিতে থাকছে একাধিক গান। যার দায়িত্ব সামলাবেন সুরজিৎ, সিধু ও নীলাকাশ। নভেম্বর থেকে শুরু হবে ছবির কাজ।

Ankush-Oindrila: শোরগোল ফেলে দিল অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার ‘লাভ ম্যারেজ’-এর ভিডিও

ankush-andrila

কলকাতা: কখনও মলদ্বীপ কখনও দুবাই ভালবাসার আকাশে পাখা মেলে উরছে টলিউডের দুই লাভবার্ডস অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলা। চুটিয়ে প্রেম করলেও সহজে বিয়ের বাঁধানে বাঁধা পরছেন না তাঁরা। যদিও মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ে নিয়ে নানা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন, কিন্তু কবে, কখনও সেসব নিয়ে স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করতে একেবারেই নারাজ এই কপত-কপতি।

তবে বিয়েল না হলেও রিল লাইফে ‘লাভ ম্যারেজ’ করছেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা। আর তারই ফাস্টলুকের একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন হিরো। যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মোস্ট পপুলার ভিডিও। আর এই ভিডিও দেখে একের পর এক ছুটে আসছে অনুরাগীদের প্রশ্ন, ‘ সিনেমা তো বিয়েটা সেরে ফেললেন, বাস্তব জীবনে বিয়েটা কবে করবেন!’

পরিচালক প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী ছবি ‘লাভ ম্যারেজ’-এ জুটি বেঁধেছেন অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলা। এছাড়া ছবিতে রয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য, রঞ্জিত মল্লিক। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে শুটিং পর্ব।

রাজা চন্দর ‘ম্যাজিক’ ছবি থেকেই সিনেমায় পা রাখেন ঐন্দ্রিলা সেন। তার আগে অবশ্য় একের পর এক ধারাবাহিকে নিজের পরিচিতি বানিয়ে ফেলেছিলেন নায়িকা। ‘ফাগুন বউ’ ধারাবাহিকে বিক্রম চট্টোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে তাঁর জুটি ভীষণ মনে ধরেছিল দর্শকদের।

উল্লেখ্য কিছুদিন আগে বিয়ের ইঙ্গিত দিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে নজর কেড়েছিলেন অঙ্কুশ। তবে টলিপাড়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, চলতি বছর ডিসেম্বরে সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছে এই জুটি।

aparajita adhya: কেমন হচ্ছে এবছর অপরাজিতা আঢ্যের লক্ষ্মী পুজো

aparajita adhya laxmi puja

কলকাতা:  লাল শাড়ি, নাকে নথ, গা ভর্তি গয়না-প্রতিবার লক্ষ্মী পুজোয় তাঁর পুজোর দিকেই তাঁকিয়ে থাকেন দর্শক। কোন থিমে মাকে সাজিয়েছেন তিনি। নিজের হাতে মায়ের জন্য কি কি ভোগ রান্না করলেন-সব মিলিয়ে জমজমাটি অপরাজিতা আঢ্যের (Aparajita Adhya) লক্ষ্মী পুজো।

যদিও দু’বছর ধরে মায়ের আরাধনা জাঁকজমক করে কিছুতেই করতে পারছেন না অভিনেত্রী। একটা না একটা বাধা লেগেই আছে। আগের বার অভিনেত্রী নিজে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। আর এবার কিছুদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন শ্বশুরমশাই। যদিও অপরাজিতা জানিয়েছেন,’ সব ঠিক থাকলেও আমি বড় করে লক্ষ্মী পুজো করতাম না। তার কারণ করোনা। আবার বাড়ছে সংক্রমণ’।

বেহালার বাড়িতে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করেন অপরাজিতা আঢ্য। এই পুজোয় টলিউডে মধ্যমণি তিনি। যদিও গত দু’ববছর ধরে সময়টা ভাল যাচ্ছে না নায়িকার। আগেরবারের মতো এবারও নম নম করে পুজো সারবেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘এবার তো আমার শ্বশুরমশাই মারা গিয়েছেন। তাই খুবই ছোট করে পুজো করছি। ঠাকুরমশাই আসবেন না, ফলে সংকল্প হবে না।’

গতবার পুজোতেই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন অপরাজিতা আঢ্য। অপরাজিতার সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর শাশুড়ি মা ও বাড়ির আরও দু’জন সদস্য। আইসোলেশনে থেকে কোনও মতে মায়ের পুজো করেছিলেন। সেই ভিডিয়ো অপরাজিতা শেয়ার করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

প্রসঙ্গত, মন ভাল রাখতে, পুজোতে শাশুড়ি মাকে রাশিয়া পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে। সাতদিন কাটানোর পর তিনিও ফিরে এসেছেন। তিনি আসার পরই রাশিয়া লকডাউন।

 

Aryan Khan: ছেলে ফিরলে তবেই মন্নতে ঢুকবে মিঠাই, পণ গৌরীর

Aryan Khan

মুম্বই: দেখতে দেখতে হপ্তা দুই। ছেলে ফেরেনি ঘরে। আরিয়ানকে (Aryan Khan) ছাড়াই নবরাত্রি কাটিয়েছে খান পরিবার। কিন্তু দীপাবলিতে নয়! শাহরুখ -গৌরীর বিশ্বাস, ছেলে বাড়িতেই দীপাবলি উদযাপন করবে। তাইতো বাড়ির সবাই ডেকে মা গৌরি জানিয়ে দিয়েছেন, আরিয়ান না ফেরা পর্যন্ত কোনও রকম মিষ্টি তৈরি হবে না ‘মন্নত’-এ।

খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, এক কর্মীকে মন্নতে ক্ষীর রান্না করতে দেখে তড়িঘড়ি তাঁকে আটকে দেন গৌরী। এর পরেই নির্দেশ দেন, আরিয়ানের অনুপস্থিতিতে কোনও মিষ্টি তৈরি করা হবে না। আরিয়ান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই হতাশায় ভুগছেন গৌরী। সব কাজও স্থগিত রেখেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ছেলের জন্য নবরাত্রিতে উপোস করেছিলেন তিনি।

বাদশা পুত্র আরিয়ান এখন আর্থার রোড জেলের ৯৫৬ নম্বর কয়েদি। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের প্রমোদতরীর মাদক পার্টি থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে হাজতই এখন তার ঠিকানা। । একাধিক বার জামিনের আবেদন খারিজ করেছে আদালত। শাহরুখ-পুত্রের পক্ষে কোনও যুক্তিই ধোপে টেকেনি সেখানে। কিন্তু তবু আশা ছাড়তে নারাজ শাহরুখ এবং গৌরী।

অন্যদিকে, আর্থার রোড জেল সূত্রে খবর, আরিয়ান জেলের আদবকায়দা মানতে পারছেন না। খেতে পারছেন না জেলের খাবার । কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকী মাদক কাণ্ডে ধৃত কারও সঙ্গে দেখাও করতে চাইছেন সে। যে কারণে আরিয়ানকে বাকি অভিযুক্তদের থেকে আলাদা, জেলের অন্য ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরতে দেওয়া হয়েছে নিজের পোশাক।

প্রসঙ্গত, জেলের খাবারে অরুচি বলে ছেলেকে খাওয়াদাওয়ার খরচ বাবদ মানি অর্ডারে সাড়ে চার হাজার টাকা পাঠিয়েছেন শাহরুখ। কেননা এই মুহূর্তে জেলে বাড়ির খাবার খাওয়ার অনুমতি পাননি তিনি। আপাতত সেখানকার ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে দিন কাটছে আরিয়ানের।

বিতর্কে দেব, ভাইরাল কবীর সুমনের ভিডিও

কলকাতা: বিতর্ক পিছু ছাড়চ্ছে না ‘হবুচন্দ্র রাজা, গবুচন্দ্র মন্ত্রী-র। প্রথমে শোনা গিয়েছিল ছবির পরিচালক ও প্রযোজকের মধ্যে কিছু সমস্য়া হয়েছে। কিন্তু এখন জল্পনা নয়। সরাসরি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন হবুচন্দ্র রাজা, গবুচন্দ্র মন্ত্রী-র সঙ্গীত পরিচালক কবীর সুমন।

একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন,’ হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর একটি বড় গান প্রতীক চৌধুরী গেয়েছেন। ২০১৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল গায়কের। তার দিন কয়েক আগেই তিনি হবুচন্দ্র রাজা, গবুচন্দ্র মন্ত্রী-র জন্য একটি গান রেকর্ড করেছিলেন। ছবির কাজ চলাকালীনই চলে যান প্রতীক চৌধুরী। অথচ ছবির টিজার, ট্রেলারে একবারও গায়কের নাম উল্লিখিত নয় বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কবীর সুমন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর পরিচালিত এই গান প্রতীক চৌধুরী ছাড়া আর কেউ এভাবে গাইতে পারতেন না। অথচ ছবির টিজারে কোথাও প্রতীক চৌধুরীর নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হল না।’ শিল্পী দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন, যে এটি প্রতীক চৌধুরীর করা শেষ কাজ ছিল। তাঁকে ফাইনাল গানটি শোনাতেও পারেননি তিনি। কিন্তু আশা করেছিলেন এই ছবি তাঁকে উৎসর্গ করা হবে। কিন্তু ছবির টিজার বা ট্রেলার কোথাওই শ্রদ্ধা জানানো হল না কেন তা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন ছবির সঙ্গীত পরিচালক।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর টেলিভিশনে মুক্তি পেয়েছে দেব প্রযোজিত ‘হবুচন্দ্র রাজা, গবুচন্দ্র মন্ত্রী’। ছবিটি মুক্তির আগের দিন প্রতীক চৌধুরীর সঙ্গে ছবি কবীর লিখেছিলেন, ‘অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর মন্তব্যমূলক পাঁচটি ছোট গান আর একটি বড় গান প্রতীক যেভাবে গেয়ে দিয়েছিলেন আর কেউ পারতেন না। আগামীকাল এই ছবিটি টেলিভিশনে প্রকাশ পাবার কথা। প্রতীক নেই। দেব এন্টারটেনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ, যাঁরা এই ছবির প্রযোজক, প্রতীকের নাম একটিবার উল্লেখ করারও প্রয়োজন মনে করেননি।”

একইসঙ্গে একটি পোস্টে প্রযোজক দেবকেই কটাক্ষ করে কবীর সুমন লিখেছিলেন, ‘মাননীয় প্রযোজক একটিবারও প্রতীকের নাম উল্লেখ করেননি এই ছবিটির নানান টিজার প্রকাশ করার সময়। অথচ এটাই প্রতীকের জীবনের শেষ ছবি। আমি প্রতীকের চেয়ে বয়সে যথেষ্ট বড়। আমি বেঁচে থাকলাম, প্রতীক মারা গেলেন। এই ছবির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন সকলকে ধন্যবাদ ও নমস্কার জানাচ্ছি। প্রযোজকের শ্রীবৃদ্ধি হোক আরও টাকা হোক তাঁর আরও নাম হোক।’

Ranveer-Deepika: তৈরি নামের লিস্ট, মা হতে চলেছেন দীপিকা!

Ranveer Singh and Deepika Padukone

মুম্বই:  লাভবার্ডস থেকে মিস্টর অ্যান্ট মিসেস আর এখন উড বি মম অ্যান্ড ড্যাড (Ranveer-Deepika)। বলিপাড়ার জোর গুঞ্জন মা হতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালের বাইরে দেখা গিয়েছিল দীপিকা ও রণবীরকে। তখন থেকেই কানাঘুযি চলছে দীপিকা নাকি অন্তঃসত্ত্বা। আর সেই জল্পনায় এবার ঘি ঢাললেন রণবীর নিজে।

সম্প্রতি অভিনেতা বলেন,’ আপনারা তো জানেনই আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, আর ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে বাচ্চাও হয়ে যাবে। আপনাদের বউদি ছোটবেলায় এত কিউট ছিল যে আমি তো বলে দিয়েছি, আমার এমন সন্তান চাই। তাতেই লাইফ এক্কেবারে সেট হয়ে যাবে। আমি তো নামের তালিকাও তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছি।’

রণবীরের এমন মন্তব্যের পরই সোড়গোল পড়েছে টিনসেলে। অনেকেই নিশ্চিত সন্তানের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন বলিউডের ‘বাজিরাও মস্তানি’। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ইটালির লোক কোমোতে গাঁটছড়া বাঁধেন দুই তারকা।

এদিকে সদ্যই শুরু হয়েছে নতুন কুইজ শো ‘দ্য বিগ পিকচার’। এই কুইজ শো দিয়েই টেলিভিশনে সঞ্চালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর সিংহের। এতদিন বড় পর্দায় দর্শকদের অভিনয় দিয়ে মন জয় করার পর এবার সঞ্চালক হিসেবে তিনি কতটা মন জয় করতে পারেন, তাই এবার দেখার। ‘দ্য বিগ পিকচার’-র ঝাঁ-চকচকে সেট, উত্তেজক গেম ফর্ম্যাট তো রয়েছেই। এছাড়াও রয়েছে পাঁচ কোটি টাকা জিতে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

Dev-Rukmini: খুশির জোয়ার দেব-রুক্মিনীর জীবনে

Dev-Rukmini

কলকাতা: এবার পুজোয় এক্কেবারে জমজমাটি। এক কথায় সময়টা বেশ ভাল কাটছে-রুক্মিনীর (Dev-Rukmini)। বাংলায় ‘গোলন্দাজ’ আর মুম্বইতে ‘সনক’ দিয়ে ছক্কা হাঁকাচ্ছেন লাভ-বার্ডস।

করোনা আবহে এবার পুজোয় মানুষ কতটা হলমুখী হবে তা নিয়ে প্রথম থেকেই একটা জল্পনা চলছিল। তাছাড়া পুজোর সিনেমার লিস্টেও ছিল অনেকগুলি নাম। তবে সবাইকে পিছনে ফেলে এগিয়ে খোকাবাবু।

অনেকগুলো দিন পর ফের হলমুখী দর্শক। ‘গোলন্দাজ’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে প্রতি শো-হাউজফুল। যদিও ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে সিনেমা হল খোলা হয়েছে। আর এই ব্যবস্থায় এখনও পর্যন্ত ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবি ২ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে।
এ বার পুজোয় ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছেন নগেন্দ্রপ্রসাদ অধিকারী। যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেব। বাঙালির ফুটবল প্রেমের সূচনায় তাঁর অশেষ অবদান রয়েছে।

অন্যদিকে,মুম্বইতে কাজ করলেন রুক্মিণী। ওটিটিতে নায়িকার ‘সনক’ খুব জনপ্রিয় হয়েছে। বিদ্যুৎ জামওয়ালের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন টলিউড অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র।

নিজের ‘গোলন্দাজ’ আর বান্ধবীর ‘সনক’ নিয়ে খুব খুশি দেব। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দু’জনের কাজের ক্ষেত্রে খুব ভাল সময় যাচ্ছে। রুক্মিণীর কাছে ‘সনক’ আছে, আমার কাছে ‘গোলন্দাজ’। একটা বাঙালি মেয়ে মুম্বইতে এত ভাল কাজ করেছে- খুব গর্ব হচ্ছে আমার। দেব এন্টারটেনমেন্ট ওকে প্রথম অভিনয়ে নিয়ে আসে। ওর সাফল্য দেখে ভাল লাগছে।’

 

জেলে আরিয়ানকে টাকা পাঠাল শাহরুখ

Aryan Khan

মুম্বই:  রং বদলেছে জীবনের। বাদশা পুত্র আরিয়ান এখন আর্থার রোড জেলের ৯৫৬ নম্বর কয়েদি। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের প্রমোদতরীর মাদক পার্টি থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে হাজতই এখন তার ঠিকানা। আর সেই ঠিকানায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা মানি অর্ডার করল শাহরুখ।

সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে ওঠা। সাদামাঠা খাবার। বিশেষ কোনও আয়োজন ছাড়াই পাঁচজন অভিযুক্তের মতো জেলে দিন কাটছে আরিয়ান। আর্থার রোড জেল সূত্রে খবর, আরিয়ান জেলের আদবকায়দা মানতে পারছেন না। খেতে পারছেন না জেলের খাবার । কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকী মাদক কাণ্ডে ধৃত কারও সঙ্গে দেখাও করতে চাইছেন সে। যে কারণে আরিয়ানকে বাকি অভিযুক্তদের থেকে আলাদা, জেলের অন্য ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরতে দেওয়া হয়েছে নিজের পোশাক।

অন্যদিকে জেলের খাবারে অরুচি বলে ছেলেকে খাওয়াদাওয়ার খরচ বাবদ মানি অর্ডারে সাড়ে চার হাজার টাকা পাঠিয়েছেন শাহরুখ। কেননা এই মুহূর্তে জেলে বাড়ির খাবার খাওয়ার অনুমতি পাননি তিনি। আপাতত সেখানকার ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে দিন কাটছে আরিয়ানের। যদিও বিশেষ কিছু মুখে তুলছেন না বাদশা পুত্র। আর তাই শাহরুখ-পুত্রের স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে চিন্তিত জেল কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, ভিডিও কলে বাবা শাহরুখ এবং মা গৌরী খানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান আরিয়ান। সেখানে কেঁদে ফেলেন তিনি। বারবার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায় আরিয়ানের। আইনজীবী বদল করেও কোনও লাভ হয়নি। আগামী ২০ অক্টোবর ফের আদালতে তোলা হবে তাঁকে।

সংশয় ও ধোঁয়াশা (পর্ব-২)

অরুণাভ রাহারায়

‘সব কিছু কেড়ে নিতে পারো। কিন্তু আমার চোখ থেকে আর মন থেকে তুমি বিস্ময়কে কেড়ে নিয়ো না’। লিখেছিলেন জগন্নাথ বিশ্বাস। আর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লিখেছেন– ‘সুখ, আনন্দ, সম্পদের চেয়েও অনেক বেশি জীবনীয় উপাদন হল বিস্ময়। আর বিস্ময় আছে বলেই আমাদের সাদামাটা জীবনটা পুরোপুরি একঘেয়ে হয়ে যায় না’। কথাগুলো টের পাই গৌতম ঘোষালের গান শুনতে গিয়ে। হঠাৎ ফেসবুকের পর্দায় ভেসে এল তাঁরই গাওয়া একটা গানের ভিডিও– ‘ও কাভি মিল যায়ে তো…’ কী অপূর্ব গায়কি… আর তাতে মিশে রয়েছে ম্যাজিক-হারমোনিয়াম! কথা ও সুরের আশ্চর্য খেলা তাঁর কণ্ঠে।

দু-একবার এই সুর ও কথার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছি আমি। যখন এইট-নাইনে পড়ি আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল ‘সঙ্গীত বাংলা’। লেখাপড়ায় ফাঁকি দিয়েই সারাদিন গান শুনতাম তখন। বাংলা ব্যান্ড আর অ্যালবামের গান সম্পর্কে যে ক্ষীণ ধারণাটুকু আমার হয়েছে, তা সঙ্গীত বাংলার সৌজন্যেই। অনেকের মনে আছে সেই সময় ‘ব্যান্ড-এ মাতরম’ নামে একটা প্রতিযোগিতা হত। ‘টলিউড রিপোর্টার’, ‘হাওড়া ব্রিজ’ এবং আরও কত সুন্দর সব নামের অনুষ্ঠান হত সেই চ্যানেলে। একেকটা গান দিনে দশ-বারোবার করে দেখানো হত।

গৌতম ঘোষালের ‘কুসুম কুসুম রোদ্দুর ছিল একটু আগে’ শুনেছিলাম তখনই। কী মায়া ছড়িয়ে আছে এই গানে। শুনে এখনও একই রকম ভাল লাগে। আর বুঝতে পারি এ গানের সঙ্গে আমার কিশোরবেলা কতটা জড়িয়ে আছে! গানের ভিডিওটাও ঘটনাবহুল। তখন তো আর ইউটিউবের রমরমা ছিল না। তাই এ গান কখন দেখানো হবে তার জন্য টিভির সামনে বসে অপেক্ষা করতে হত। গান জুড়ে প্রেম আর বিরহের রৌদ্রছায়া।

শিল্পী গৌতম ঘোষালের সঙ্গে ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে যায় সেই সময়! ২০০৭ সালে, আলিপুরদুয়ার ডুয়ার্স উৎসবে তিনি গান গাইতে এসেছিলেন। আমি যথারীতি টিউশন ফাঁকি মেরে সন্ধের আগেই পৌঁছে যাই প্যারেড গ্রাউন্ডে। ডিসেম্বরের ঠাণ্ডা হাওয়ায় গ্রিনরুমের পর্দাটা দুলে উঠল একবার। দূর থেকে দেখতে পেলাম ভেতরে তিনি বসে আছেন সোফায়। ঘিয়ে রঙের একটা জ্যাকেট আর মাথায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ টুপি! আমি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম এবং অটোগ্রাফের খাতাটা বাড়িয়ে দিলাম। খসখস করে পাঁচ লাইনের শুভেচ্ছা লিখে দিলেন গৌতম ঘোষাল। যা আমি সংগ্রহে রেখেছি এখনও। মন ভারি হয়েছিল সেদিন এই কারণে যে, বহু শিল্পীর সমাবেশর চাপে মাত্র কুড়ি মিনিট গান গেয়েছিলেন তিনি! অবশ্য স্বস্তির ব্যাপার তিন-চারটে গানের মধ্যে আমার প্রিয় গানও ছিল।

মাঝে দশ বছর কেটে গিয়েছে। ততদিনে আমি গান থেকে চলে গিয়েছি দূরে। একদিন ভোরবেলায় লিখতে বসার আগে দেখলাম শিল্পীবন্ধু নম্রতা ভট্টাচার্য ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট করেছেন তার গুরুজি গৌতম ঘোষালের সঙ্গে। মনে আছে আগের দিনই গুরু পূর্ণিমা ছিল। নম্রতার নানা গান শুনেছি, তবে সে যে গৌতমদার ছাত্রী সে কথা আগে জানতাম না। সেই ছবিতে গুরু এবং ছাত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন, একটু বয়স বেড়েছে গৌতম ঘোষালের। দেখা মাত্রই ভেতরে কাজ করল নস্ট্যালজিয়া। ডুব দিলাম কৈশোরে। এই ভালটুকুর জন্য নম্রতাকে আজও ধন্যবাদ। হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তেকে সেদিন ফিরিয়ে দিয়েছিল নম্রতা।

নম্বর জোগাড় করে একদিন ফোন করলাম গৌতম ঘোষালকে। ওপরে যা লিখেছি তারই মধ্যে বললাম কিছু কিছু। দশ বছর আগে নেওয়া সেই অটোগ্রাফের পৃষ্ঠাটা ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলাম হোয়াটসঅ্যাপে! সেই ছবি দেখে গৌতমদা নিজেই বিস্মিত! ২০১৭ সালে মুকুন্দপুরে শিল্পীর বাড়িতে যেতে হল অ্যাসাইনমেন্টে। তখন একটি ওয়েব পত্রিকা সম্পাদনা করতাম। তারই জন্য ইন্টারভিউ নিতে যাওয়া। সময়ও দিলেন তিনি। বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যতে দেখতে পেলাম কত সবুজ গাছপালা। আগের দিন বৃষ্টি হয়েছে বোধ হয়! চারদিকে বড় বেশি সবুজ ছড়িয়ে আছে। যেন আমার কিশোরবেলা চারদিকে এসে দাঁড়িয়েছে! ঘিরে ধরছে আমাকেই। বাড়ির কাছে একটা পুকুর, তার ধারে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। বহু বছর আগে খোলটালার দিকে সাইকেল চালানোর সময় ‘কুসুম কুসুম’ গুনগুন করতাম, মনে পড়ল সেকথাও। তারপর গৌতমদার গানের ঘরে গিয়ে মুখোমুখি বসে পড়লাম কার্পেটের ওপরে। আমাদের মাঝখানে শুধু একটা হারমোনিয়াম। এভাবে কোনও দিন তাঁর কাছাকাছি বসতে পারব– সত্যিই আগে ভাবিনি। কথা বলতে গিয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে কি সুন্দর বুঝিয়ে দেন তিনি! কত কথা হল সেদিন। গানের কথায় ভরিয়ে দিলেন আমার মন। ইন্টারভিউয়ের চেয়ে আড্ডাই হল বেশি।

তাঁর কথায় উঠে এসেছিল মান্না দে-র সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতি: “তখন আমার অল্প বয়স। গলা ঘোরে খুব। দক্ষতা প্রমাণ করার প্রবণতা ছিল! আর রাগাশ্রয়ী গানে গলা ঘোরানোর সুযোগও বেশি। মান্না দে আমাকে বলেছিলেন– গলার কাজ একটু কমাতে হবে। আরেকটু সোজা ভাবে গাইবে। তাহলে মানুষের ভালো লাগবে।” গৌতম ঘোষাল আজও আমার হৃদয়ে-ঘরে মিশে আছেন। ছোটবেলায় তাঁর গান শুনে যে বুক দুরুদুরু ব্যাপারটা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রত্যক্ষ অনুভূতিকে আমি অবিশ্বাস করি কী করে? লিখতে গেলে কতই স্মৃতি ফিরে আসে। পরেও যখন তাঁর সঙ্গে বিক্ষিপ্ত কথা হয়েছে ফোনে, তিনি এই অধমকে বলেছিলেন– ‘তোমাকে ভাল লেগেছে। কাছেই তো থাকো। মাঝেমধ্যে চলে এসো বাড়িতে।’ তাঁর কাছ থেকে এ কথা শোনা কি প্রাপ্তি নয়? কিন্তু হায়! জীবনের টানে আর পেশার টানে ব্যস্ততায় মিশে গিয়ে আর কখনও যাওয়াই হয়নি। এ কথা মনে করে আজ খুব খারাপই লাগছে আর অন্যায় বোধ হচ্ছে।

তিনি সেদিন সদ্য বেরনো গানের অ্যালবাম ‘মজলিস’ উপহার দিয়েছিলেন আমাকে। ওইটুকু পরিচয়ে এমন উপহার! আমি আদৌ কি তার যোগ্য? ভালবাসাটাই বোধ হয় প্রশ্রয় পেয়েছিল সেদিন। আর আমি বুঝতে পেরেছিলাম কতটা বড় তাঁর মন। সেই থেকে এখনও মজলিসের গানগুলো শুনে চলি…। আটখানা বৈঠকি মেজাজের গান রয়েছে এই অ্যালবামে। একটি গানের নাম ‘তোমার কথা ভেবে’। সেই গানে পাই এমন লাইন: ‘বিকেল হলে এলোচুলে আজও কি দাঁড়াও, ছাদের কিনারায়’? শুনেই আমার মনে পড়ে ক্লাস নাইনে দেখা একটা ন্যাড়া ছাদের দৃশ্য! যেখানে সত্যিই একটি মেয়ে এলোচুলে দাঁড়িয়ে থাকত রোজ বিকেলবেলায়, ছাদের তারে নিজের হাতের ওপর চিবুক রেখে। পাশের রাস্তা দিয়ে আমি সাইকেল চালিয়ে পড়তে যেতাম আর চোখ ভরে দেখতাম এই মায়াবী ছবি। সেই মেয়েটির নামই বিস্ময়! আজ, এ লেখার মধ্যে দিয়ে মেয়েটিকে প্রশ্ন করতে চাই, বিকেল হলে ছাদের ধারে আজও কি দাঁড়াও? আমার জন্য? গান কি এভাবেই মিশে যায় জীবনের সঙ্গে? মেয়েটির সঙ্গে আর কখনও দেখা হবে কিনা জানি না তবে একটু জানি, পৃথিবীতে সুসময় এলে প্রিয় শিল্পী গৌতম ঘোষালের সঙ্গে দেখা হবে আবার।

অহ নওরোজের কবিতা

রুপোর সামোভার 

তাকে দেখি—ঝলকায়—
প্রিয়া বলে : যত ধুলো পড়ে আছে,
হাত রেখে মুছে দাও

মায়া রেখে চারপাশে,
ধুলো ধুয়ে দেখি আরো ঝলমলে—
যেন চোখ খুলে গেছে

বহু আগে মানুষের
পশমের কাছে গরম স্বাদের
সুবাসিত সব জল
আর ঈর্ষা হাতে করে
সাক্ষী হয়েছে সে,
রঙ আর মদিরার।

তবু বেলা পার হয়ে গেলে
মানুষ অথবা সামোভার
জল হয়ে গলে পড়ে ধীরে
কিংবা স্বাদ জানে কর্পূরের

ঘাস দেখি

চারপাশে ঘাস দেখি
ছড়িয়ে রয়েছে বাতাসে বাতাসে
সবুজের ভেতর কখনো
মিহি রোদ সরে পড়ে

চারপাশে ঘাস দেখি
আর দেখি খরগোশ
সহজে ধূসরে বয়ে যায়
ঘন কিছু স্মৃতি রেখে যায়

চারপাশে অনেক সবুজ
মৃদু বাঁকা দেহে নুয়ে আছে
হাওয়ায় শাঁ-শাঁ করে
যেন সব ছায়া চলে গেছে

মন্দাক্রান্তায় রুবাইয়াৎ—১৭

উজ্জ্বল জোছনায় বাতাসে ডুবে আজ কাঁপছে মন্থর নিবিড় বন
নীল-ঘুম তন্দ্রায় সেখানে হরিয়াল ডাকছে বারবার—দারুণ ক্ষণ।
নির্জন রাত্রির ভেতরে বহু রোদ আনছে আজকের পাখির গান।
হিমহিম ঠান্ডায় তবুও কিছু এক চাইছে চঞ্চল নরম মন।

মন্দাক্রান্তায় রুবাইয়াৎ—১৮

বিস্তর অঞ্চল শরতে ভেসে খুন, নড়ছে মেঘদল, মলয় রোদ
পাণ্ডুর পথঘাট সহজে ইশারায়, বলছে জল-কাল তামাম শোদ
বিভ্রম চঞ্চল বাতাসে মিহি রাত, কাঁপছে হিমহিম অনর্গল
নিজ নিজ শয্যার ভেতরে তবু গান বাজছে বর্ষার গহিন বোধ।

 


অহ নওরোজের (Aho Nouroz) জন্ম বাংলাদেশের যশোরে। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। চাকুরিসূত্রে সম্পাদনার সঙ্গে জড়িত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি। সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অতিলৌকিক কবিতাসমূহ’ জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর একটি বই লিখেছেন।

হৃদয় হোম চৌধুরীর কবিতা

ফিরে আসা

এখানে তুমি কেন? গতকাল তোমার অন্তিম
দেখেছে হলুদ ছাতার দেশ।ওরা মধ্য দুপুরের
রোদে পোড়া একাকী পথে বিদায় দিয়েছিল।

অথচ তুমি ফিরে এলে? কোন শোকে? দ্বিধায় ভুগছো?
রাতের বারান্দা থেকে ভোররাতের আলোয় আঁধার নামে
ভুলে যাও। জোনাকি ভুলে যাও। গাছেদের ভুলে যাও
চাপা পড়ে মৃত্যু…
হলুদ ছাতার দেশ থেকে ওরা আমায় জানালো-
এখন সময় আয়ুদন্ড যাপন।ওর ফিরে আসা তো বিষ্ময় নয়!

তর্পণ

বাতাসের দেহে সদলবলে মিশে যাচ্ছে গন্ধক
ওদের হল্লা শুরু হবে, আগুনের কাছে আসতে হবে
ধ্বংসের মাঝে কেড়ে নিতে হবে জয়মুকুট
অসফল বিক্রিয়ায় নয়তো পুড়ে যাবে সব

কিন্তু কী পাবে ওরা? প্রেম, হাসি, কাম, আশা?
আশা।এই‌ আশা ও গ্রীবায় রেখে হাত দেয় আগুনে।
অ্যাসিড সবার চেয়ে,সব থেকে বিষাক্ত নভোযান
তবুও নরম রোদ চাইবে ওরা, টেস্টটিউবের সাগর
উপচে পড়বে। ঈর্ষায় নিশ্চিহ্ন হবে বাকি সব বিক্রিয়া….

জীবনের নৈঋতে গন্ধকই গোপন তর্পণ

ময়দান

ভাতের থালার উল্টো দিকে লাফিয়ে আসছে আকাশ। উন্মত্ত ব্যর্থ প্রেমিকের ঘোড়ার চলন। শান্ত ও হতাশ মাঠ।নিরস ত্রাসের রোদ কেড়ে নিচ্ছে চারপাশ। জীবনের তৃষ্ণা। তুচ্ছ মায়ার চোরকাঁটা হুল্লোড়। এখানে উঁকি দেয় পরীর চূড়া। বিরক্ত হাসি। দেহ সহজ নয়। বাঁচার আশ্রয়। স্তম্ভ ছেড়ে এনে দেবে কোমল বিচ্ছেদ। সুরভী নিঃশ্বাস।এরপর বোর্ডের বেলুন তীক্ষ্ণ নজরে কুহকী পথে ফেলছে এই শহরের লক্ষ্য ও স্বপ্ন। তবুও ময়দান বড়ো আপন

সঞ্চারী ভৌমিকের কবিতা

poems of sanchari bhowmik

ছিন্নমূলের কান্না

দিন শেষ হয়েছে, ফুরিয়ে সময়
কেউ নামেনি পথে, খোঁজেনি ঠিকানা।
শেষ ট্রেনে ফিরেছে কেউ, কেউ বা গিয়েছে ক্যাম্পে
এখানে কোনও মানুষ নেই, নম্বরে হয় পরিচয়।
মনে পড়ে রবিঠাকুর; ‘রক্তকরবী’র সংখ্যামালা!

দুঃখের ভার বহন করে না কেউ; এখানে বিশু নেই নন্দিনী
আজও ভাঙেনি বাঁধ, আসেনি রঞ্জনও।
অপেক্ষা দীর্ঘ হয় কেবল; কেউ রাখেনি খোঁজ
৪৭, ৭১ আরও কত স্মৃতি–

এখনও তো লেগে পিঠে শুকনো রক্তের গন্ধ!
এখনও তো লেগে গায়ে ‘রিফিউজি’ শব্দ!

বিচ্ছেদ

যা কিছু নিয়ে যাচ্ছি–
শরতের আকাশ, অপুর স্বপ্ন আর একবুক নিশ্চিন্দিপুর

সারাজীবনে কেবল নেশা একটা–
আলোর মতো মানুষ জমানো
অথচ
জীবন এনে দাঁড় করিয়েছে খাদের কিনারে
জোনাকি ছাড়া নেই কোনও আলোর উৎস
কোনও এক অশরীরী বলে চলেছে আলগোছে–
‘চুপ কেন? লেখো আরও একটা মৃত্যু লেখো!’

ধক্ করে ওঠে বুক, স্পষ্ট তার হাঁকড়পাঁকড়
কুণ্ডলীপাকানো সাপের মতো হঠাৎই অদৃশ্য হয় পথ!

থমথমে মন নিয়ে জেনেছি-
শোকের মাঝে বসে যে বাউল দোতারা বাজায় তার ঠিকানা থাকে না।

অমিতকুমার বিশ্বাসের কবিতা

poems of amit kr biswas

কবি

কোন শাপে স্বর্গচ্যুত হল সে?
কোন শাপে দিবারাত্রি সে খুঁজে বেড়ায়
প্রতীকের ধুম্র-মায়াজাল?

ঘরে আধপোড়া বউ। তাঁর শতছিন্ন আঁচলে একমুষ্টি খুদ ফেলে বাউল বিকেলের পথে হেঁটে চলে যাও তুমি কোন নক্ষত্রপুরুষ! গ্রহ থেকে গ্রহে দীর্ঘ হয়ে আসে তোমার ছায়া। আকাশগঙ্গায় ভাসিয়ে দাও কত দুর্বোধ্য লিপি। বৃষ্টির ফোঁটায়
সে-সব লিপি গড়ে তোলে কোনো নতুন জনপদ।

কোন শাপে মাথায় তোমার ঘুর্ণায়মান কাঁটার মুকুট?
ছন্দের কুয়াশায় তুমি দিকভ্রষ্ট নাবিক
কেন ভেসে আছ উত্তাল সামুদ্রিক ঢেউয়ের ফণায়?

ওই দেখো শব্দের আড়ালে সমস্ত জীবন পুড়িয়ে
মহানির্বাণের পথে একাকী হেঁটে যাচ্ছেন
আদিকবি লুইপা

বেতালকথা

রোহিণী নদীর তীরে অসমাপ্ত চিতার পাশে রোজ
তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। তোমার ঘুমন্ত শরীর কাঁধে খোলা তরবারি হাতে নক্ষত্র, তারার আলোয় হেঁটে যাই আমি এক ছায়াপথ থেকে আরেক ছায়াপথে।
কোন এক জেলেনীর বাঘে খাওয়া ছেলের গল্প শোনাতে-শোনাতে তোমার চোখে এসে পড়ে শুকতারার মৃদু আলো। আলো ফুটতেই রোহিণী নদীর তীরে অসমাপ্ত চিতার পাশে তোমার পুর্নযাত্রার আয়োজন…

নীলের জন্যই বদলে গেল কৃষ্ণকলির সময়

Neel Bhattacharya and Trina Saha

বায়োস্কোপ ডেস্ক: ‘নীল’ আলোতে ধারাবাহিক জগতে নতুন চমক। এক অদ্ভুত ঘটনা। যা আগে কোনদিন ঘটেনি। একইসাথে একই চ্যানেলে দুটি সিরিয়ালের লিড চরিত্রে অভিনয়! এও কি সম্ভব?

সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে চলেছে আপনাদের সবার প্রিয় অভিনেতা নীল ভট্টাচার্য। ‘কৃষ্ণকলি’র নিখিল এবার হয়ে উঠবে ‘উমা’র অভিমুন্য। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কৃষ্ণকলির থেকে সরে গিয়ে তারপর ‘উমা’র অভিমন্যু চরিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করছেন নীল, এমনটা একবারও ভাববেন না। যদিও বিগত কয়েকদিন ধরে নীলকে প্রত্যেকদিন দেখা যায়নি কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকে। তবুও মন ভাঙার কিছু নেই। আসলে নতুন চরিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করছেন তিনি সঙ্গে একটু ভ্যাকেসন মুডেও বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে এবার আবার ‘ব্যাক টু ওয়ার্ক’।ঠিক যেমনভাবে আপনারা এতদিন ‘কৃষ্ণকলি-তে নিখিল কে পেয়েছিলেন তেমনভাবেই পাবেন।

অন্যদিকে ‘উমা’তে অভিমুন্য হিসেবেও আপনারা পাবেন নীলকে (Neel Bhattacharya)। বাংলা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে বাংলা ধারাবাহিক জগতে এক সাহসী পদক্ষেপ। একজন অভিনেতাকে দর্শকদের সামনে একই দিনে দুবার দুটি চরিত্রের অবতীর্ণ করা খুব একটা সহজ কথা ছিল না। সঙ্গে কথাও ভুললে চলবেনা এই কর্মযজ্ঞ নীল এর জন্য নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়ের স্রোতে কৃষ্ণকলিতে নিখিলের বয়স বেড়েছে, পাক ধরেছে চুলে, দাড়িতে৷ 

Neel Bhattacharya and Trina Saha

অন্যদিকে অভিমুন্য পুরোদস্তুর কর্পোরেট বিজনেসম্যান। চোখে একরাশ দুর্দমনীয় স্বপ্ন নিয়ে হ্যান্ডসাম হাংক। সবথেকে বড় মজার ঘটনা খুবই কম সময়ের দূরত্বেই জি বাংলায় মিলকে দেখা যাবে দুটি ভিন্ন চরিত্রে কারণ কৃষ্ণকলির জায়গায় এবার থেকে দেখা যাবে উমা ধারাবাহিকটি। আর কৃষ্ণকলি দেখা যাবে সন্ধে ছ’টায়। এই বছরেই সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন নীল ভট্টাচার্য্য অভিনেত্রী তৃনা সাহার (Trina Saha) সঙ্গে। বিয়ের পরেই নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় কে কীভাবে দেখছেন নীল প্রশ্ন উঠতে অভিনেতা জানালেন, তার কাছে তৃণা লাকি চার্ম। তাই তৃণার জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের জন্য একটি দারুন সারপ্রাইজ অপেক্ষা করে আছে নীল এর তরফ থেকে। সময়ের ব্যস্ততার সঙ্গে নিজের স্ত্রী এবং পরিবারকে সময় দিতে ভোলেন না অভিনেতা। তাই যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন নিজের পরিবারের ওপর ভরসা রেখে তিনি জানালেন, নিজের পরিবার পরিজনকে কিভাবে সুখী রাখতে হয় তা তিনি জানেন এবং তার পরিবারও যথেষ্ট কোঅপারেটিভ।

Neel Bhattacharya

নীল তৃণা জুটির প্রচুর ফ্যান পেজ আছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। দুজনেই মাঝেমধ্যেই রিলে দারুন গানের সঙ্গে মজার আবার কখনো রোমান্টিক ভিডিওতে ধরা দেন তাদের দর্শকের কাছে। তবে মজার ব্যাপার বর্তমান সময়ে যেখানে রিলস্ প্রচারের একটি অঙ্গ হয়ে উঠেছে সেখানে অনেক দিন আগে থেকেই কিন্তু এই দুই তারকা শুধুই নিজেদের ভালোলাগার জন্য এই মিউজিক্যাল মুডে থাকতেন। বলা যায়, ‘হোয়াট নীল-তৃণা থিংকস টুডে, আদার্স থিংক টুমরো।

মাদক পাচার মামলায় জামিন পরীমণির, হাঁফ ছাড়ল টলিউড

angladeshi actress Pori Moni

নিউজ ডেস্ক: মাদক পাচার মামলায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি (সামসুন্নাহার স্মৃতি) জামিন পেলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশের সমকালীন সর্বাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণিকে মাদক পাচার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। ঢাকার অভিজাত বনানী এলাকায় পরীমণির ফ্ল্যাটে নাটকীয় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

পরীমণির ফ্ল্যাটের থেকে ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই মামলায় আদালতের নির্দেশে পরীমণিকে জেলে পাঠানো হয়। তবে পরীমণি মাদক মামলায় জড়ানোর আগে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির

প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিরউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ করেন। তাঁর সেই সাংবাদিক সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র মহলে শোরগোল পড়ে যায়। পরীমণির অভিযোগ ছিল, তাঁকে ঢাকা বোট ক্লাবে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে নাসিরউদ্দিনের উপস্থিতিতে। অভিযোগের পরেই পুলিশ অভিযুক্ত রাজনীতিক নাসিরউদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিন পান। জেল থেকে বেরিয়ে পরীমণিকে হুঁশিয়ারি দেন মানহানির মামলার।

পরীমণিকে ঘিরে তৈরি হয় পরপর নাটক। আচমকা তিনি মাদক পাচার মামলায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁর ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ মাদক, বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হয়। তদন্তে উঠে আসে পরীমণি বিকৃত যৌন ব্যবসা করাতেন। এই কাজে ঢালিউডের বেশকয়েকজন উঠতি মডেল ও নায়িকা যুক্ত। তাদেরও চিহ্নিত করা হয়।

এদিকে পরীমণির জেলে যাওয়া, মাদক মামলায় জড়ানোর ধাক্কা এসে লাগে টলিউডে। কারণ, বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী পশ্চিমবঙ্গে প্রবল জনপ্রিয়। তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের ইঙ্গিত, কলকাতার চলচ্চিত্র মহলেও পরীমণির মাদক ব্যবসা ছড়িয়েছে। তবে টলিউডের কারা জড়িত সে বিষয়ে নীরব বাংলাদেশ সরকার।

পরীমণির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার, যৌন ব্যবসা চালানো, ব্ল্যাকমেলিং বিজনেস করার মতো অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বহু প্রভাবশালী এতে জড়িত।