বাইচুংয়ের মতো লি এলেন মমতার দলে, কতদিনের জন্য?

Leander Paes

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে সরকারে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসে খেলোয়াড়ের অভাব তেমন নেই। দলটির অন্যতম নির্বাচনী স্লোগান ‘খেলা হবে’। সেই রেশ ধরেই গোয়া বিধানসভায় ভোটের প্রচরাভিজান শুরুর দিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূলী হলেন আন্তর্জাতিক লন টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। তিনি এখন থেকে ক্রীড়া রাজনীতিক।

এইভাবেই তৃ়ণমূল কংগ্রেসে আচমকা এসেছিলেন ভারতের প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক তথা এশিয়ার অন্যতম ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দুবার নির্বাচনে নামেন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে দার্জিলিং ও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়ি থেকে টিএমসির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করেছিলেন। পরাজিত হন।

বাইচুংয়ের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের সংশ্রব নেই। নিজ রাজ্য সিকিমে ফিরে গিয়ে সেখানকার রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর দল হামরো সিকিম পার্টি ২০১৯ সালে সিকিম বিধানসভা ভোটে লড়ে। পশ্চিমবঙ্গ হোক বা সিকিম ভোট যুদ্ধে বাইচুংয়ের পরাজয় গেরো এখনও কাটেনি।

সেদিক থেকে দেখতে গেলে ডাবলস বা মিক্সড ডাবলসে বারবার উইম্বলডন কাপ জয়ী কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ রাজনীতিতে নবাগত। সূত্রের খবর, গোয়াতে তাঁকে বিশেষ প্রচারে নামাবেন মমতা। লিয়েন্ডারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে ক্রীড়া মহলের আলোচনা, ইনিও কি বাইচুংয়ের মতো মমতার সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সম্পর্ক নিয়েই এসেছেন?

কলকাতার ছেলে লিয়েন্ডারের পিতা অলিম্পিয়ান হকি তারকা ডা. ভেস পেজ রাজনীতির ধারপাশে ছিলেন না। তবে দীর্ঘ বামফ্রন্ট জমানায় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভেস পেজের সঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে সুসসম্পর্ক ছিল। বাবার মতো লি’এর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল বাম সরকারের। কিছু ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে দলে বা সরকারের ঘনিষ্ট করলেও লি বা বাইচুংকেকে টানতে পারেনি জ্যোতি-বুদ্ধর সরকার।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলকাতার ফুটবল জগতের সবার সঙ্গেই বাম সরকারের বিশেষ করে কিংবদন্তি হয়ে যাওয়া প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর মধুর সম্পর্ক ছিল। যার ফলে ইংলিশ চ্যানেল জয়ী বুলা চৌধুরী ও এশিয়াডে সোনা জয়ী অ্যাথলিট জ্যোতির্ময়ী শিকদার সরাসরি সিপিআইএমের হয়ে ভোটে নেমে জয়ী হন। পরে সরকার পাল্টাতেই তাঁরাও সরে গিয়েছেন।

বাম জমানাতেই লি-ভুটিয়া ময়দানে বা টেনিস সার্কিটে রীতিমতো সক্রিয়। ফলে সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্রব রাখেননি। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পরে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তারকা হিসেবে বাইচুং সরাসরি চলে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। আসেন দেশের অন্যতম খ্যাতনামা ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজনীতিতে পুরো জড়িয়ে। বাকি যারা এসেছেন কমবেশি রয়েছেন বা ছেড়েছেন।

রাজ্যে বিরোধী দল বিজেপিতে কিছু ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দলত্যাগে মরিয়া। সেদিক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের ছড়াছড়ি। কিছু বাম মনস্ক ক্রীড়াবিদ এখনও বাম শিবিরে আছেন।

তবে বামই হোক বা তৃণমূল প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক গভীর। গত বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়ি থেকে অশোকবাবুর হয়ে প্রচার করেন তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ভোট লড়ে যাওয়া বাইচুং। তবে এবার আর অশোকবাবু জিততে পারেননি।

বাইচুং বা লি দুজনেই ক্রীড়া বিশ্বে ভারতের দুই উজ্জ্বল মুখ। দুজনেই অশোকবাবুর ঘনিষ্ঠ। দুজনেই রাজনীতিতে ঝড়ের মতো এলেন। কতদিন টিকতে পারবেন মমতার সঙ্গে? প্রশ্ন সবারই।

Goa: ‘সব কুছ কর দেঙ্গে’ মৎস্যজীবী মহল্লায় মমতার ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’

Mamata Banerjee

News Desk: রাজ্যের বাইরে গোয়ার ভোট যুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দিলেন নির্বাচনের ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর গোয়া সফর রীতিমতো সাড়া জাগানো। পরিপূর্ণ কর্পোরেট ছাপ সর্বত্র।

বৃহস্পতিবার গোয়ায় পৌঁছতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজ্যটির রাজনৈতিক মহল আরও তপ্ত হয়েছিল। শুক্রবার মমতার পূর্ব নির্ধারিত সফর তলিকায় ছিল রাজধানী পানজিম পানজিম(পানাজি) লাগোয়া মৎস্যজীবী মহল্লা।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো কে সঙ্গে নিয়ে মমতা ঢুকে পড়েন সেই মহল্লায়। ‘দিদি আ রহি ‘ এই খবর আগেই ছিল। মৎস্যজীবীরাও তাঁদের রীতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করলেন।

mamata-leander

পানজিমের এই মৎস্যজীবী মহল্লা থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মাইকে ঘোষণা করলেন, গোয়ার মৎস্যজীবীরা খুব সমস্যার মধ্যে আছেন। তাঁদের রফতানি বন্ধ করা হয়েছে। করোনার জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমি জানি গোয়ায় মৎস্যজীবীরা বৃহত্তম সংখ্যা।তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করছে। আপনাদের ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ভর্তুকি বাড়িয়ে দেব আমরা।

এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মৎস্যজীবীদের জন্য যা যা করা দরকার সব চিন্তা করে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, সব কুছ কর দেঙ্গে’

মমতার গোয়া সফর ঘিরে আরব সাগর তীরে রাজ্যটি বেশ আলোড়িত। আসন্ন বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করবে।

আগামীদিনে ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

Prashant Kishor

News Desk: কংগ্রেসকে কার্যত আরও হতাশার মধ্যে ফেলে দিলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। বৃহস্পতিবার প্রশান্ত স্পষ্ট জানালেন, আগামী আরও কয়েক দশক ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিজেপি। গেরুয়া দল যদি ক্ষমতায় নাও থাকে তবুও তারা ভারতীয় রাজনীতির ভর কেন্দ্র হিসাবেই থাকবে।

এই দল যদি গোটা দেশে ৩০ শতাংশ ভোট পায় তবে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রাসঙ্গিকতা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সম্প্রতি কেন্দ্রের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিজেপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ অনেক বেড়েছে। মোদির প্রতি মানুষ ক্ষুব্ধ। কিন্তু তাই বলে কেউ যদি ভাবেন, মানুষ মোদিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে তা হবে না। বরং মোদি যদি পরাজিত হন তাতেও বিজেপির প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু কমবে না। বৃহস্পতিবার গোয়ায় বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন প্রশান্ত কিশোর।

প্রশান্ত স্পষ্ট বলেছেন ঠিক যেভাবে বিগত ৪০ বছর কংগ্রেস দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিজেপি ও তেমনই আগামী কয়েক দশক দেশের রাজনীতির মূল আকর্ষণ হিসাবে থেকে যাবে। অর্থাৎ বিরোধী দলগুলিকে লড়তে হবে বিজেপির সঙ্গেই।

একই সঙ্গে প্রশান্ত এদিন কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধীর সমালোচনাও করেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, রাহুল গান্ধী বিজেপিকে নিয়ে যে মূল্যায়ন করেছিলেন সেটা ছিল ভুলে ভরা। রাহুল মনে করেছিলেন, তাঁকে কিছুই করতে হবে না। সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ছুড়ে ফেলে দেবে। এটা যে ভুল ছিল সেটা তো ২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। রাহুল বোঝার চেষ্টাই করলেন না, মোদি কেন এত জনপ্রিয়। মোদির শক্তি এবং দুর্বলতা কোথায়। যতদিন না মোদি সম্পর্কে রাহুল সঠিক বিশ্লেষণ করবেন ততদিন তিনি মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছতে পারবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতির আঙিনায় প্রশান্ত কিশোর বিজেপির তীব্র বিরোধী। কিন্তু এই মন্তব্যের ক্ষেত্রে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে তাঁর চরম পেশাদারিত্ব। স্বাভাবিকভাবেই দেশের সেরা ভোট কুশলীর এই মন্তব্যে রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে গোয়ায় রয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছেন। এদিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোয়ায় পৌঁছেছেন। ঠিক সেদিনই প্রশান্তর এই মন্তব্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পিকের এদিনের মন্তব্য নিয়ে যথারীতি বিজেপি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গেরুয়া নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি সম্পর্কে পিকে যে মন্তব্য করেছেন সেটা একজন পেশাদার মানুষ হিসেবেই তিনি বলেছেন। পিকে যদি এই কথা না বলতেন তাহলও এটাই প্রকৃত বাস্তব। ভারতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি আগামী পাঁচ দশক যে বিজেপি দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তাই বিজেপিকে অপ্রাসঙ্গিক করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এদিন এই বাস্তব চিত্রটাই মেনে নিয়েছেন পিকে।

একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় কংগ্রেস প্রতিদিনই দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজেপি চায়, শক্তিশালী গণতন্ত্রিক পরিকাঠামো গঠনের জন্য একটা মজবুত বিরোধীদল থাকুক। কিন্তু দেশে এই মুহূর্তে কোনও শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। এটা দেশের পক্ষে আদৌ মঙ্গলের নয়।

বিজেপির এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বিরোধী দলের দুর্বলতা বলে জানিয়েছেন প্রশান্ত। তিনি বলেছেন, বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগাভাগি কারণেই বিজেপি নির্বাচনী ময়দানে ফায়দা লুটছে। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এই মুহূর্তে লড়াইটা চলছে দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে এক-তৃতীয়াংশের। দেশের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট একাধিক দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। কংগ্রেসের প্রভাব কমার কারণেই আঞ্চলিক দলগুলি মাথাচাড়া দিয়েছে। এই আঞ্চলিক দলগুলি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাই বিজিপিকে টক্কর দিতে হলে কংগ্রেসকেই শক্তি অর্জন করতে হবে।

Mujib 100: কলকাতা প্রেসক্লাবে সূচনা বঙ্গবন্ধু সংবাদ কেন্দ্র

Press Club Kolkata

News Desk, Kolkata: বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামাঙ্কিত সংবাদ কক্ষ উদ্বোধন হলো ঐতিহ্যবাহী কলকাতা প্রেসক্লাবে। ‘বঙ্গবন্ধু সংবাদ কেন্দ্র’র উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ যে সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে, সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর নামে কলকাতা প্রেসক্লাবে সংবাদ কেন্দ্র স্থাপন দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আরেকটি মাইলফলক। এর আগে নয়া দিল্লিতে প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী।

Press-Club-Kolkata

বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে ছিলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই অর্থাৎ ‘মুক্তিযুদ্ধ’ সময়ের পাঁচ বর্ষীয়ান সাংবাদিক ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তরুণ গাঙ্গুলী, সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত, মানস ঘোষ ও দিলীপ চক্রবর্তী। পিআইবি জানাচ্ছে, তাঁদের ‘মুক্তিযুদ্ধ সুবর্ণজয়ন্তী কলমসেনা সম্মান’ প্রদান করা হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকারের প্রতক্ষ্য সহযোগিতা ছিল। ততকালীন সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার যা ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত তার সদর কার্যালয় ছিল কলকাতায়। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্র জীবন কলকাতাতেই কেটেছে।

কলকাতা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সংবাদ কক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য শামসুর সানোয়ার কমল ও কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান প্রমুখ।

কলকাতা প্রেসক্লাব প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস সুর বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই সংবাদ কেন্দ্র স্থাপন আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন ও সংগ্রাম করায় ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর নামে সংবাদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অর্থ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস জানতে নতুন প্রজন্মের জন্য এই কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

Mamata Bnerjee: কী হবে গোয়া সফরে? মমতা পৌঁছনোর আগেই ‘জয় শ্রী রাম’ ছড়াছড়ি

mamata banerjee

News Desk, Kolkata: দার্জিলিং পার্বত্যাঞ্চল থেকে আরব সাগর তীরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি গোয়া পৌঁছতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কতটা দাগ কাটতে পারবেন মমতা?

ইতিমধ্যেই গোয়া জুড়ে মমতার পোস্টার ছেঁড়া, কালি লেপে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রতিক্ষেত্রেই অভিযুক্ত বিজেপি। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল বিজেপির দাবি, গোয়া গিয়ে গণতন্ত্র শিখে আসবেন দিদি।

বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ের বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গোয়ার ভাস্কো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান। তিনি আসার আগেই গোয়ার সর্বত্র জয় শ্রী রাম পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এই পোস্টার কারা দিল তা স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপি এই কাজটি করিয়েছে।

তৃ়নমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উপস্থিতিতে গোয়ার বিজেপি ও কংগ্রেস শিবিরে ভাঙন ধরবে। স্থানীয় দলেও ভাঙন ধরতে চলেছে।আসন্ন গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে তৃ়ণমূল কংগ্রেস গোয়ায় লড়াই করবে।

গত গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয় হয়। ৪০ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস বৃহত্তম দল হলেও বিজেপির বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ ওঠে। তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।

আসন্ন গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে গোয়া দখল করতে মরিয়া কংগ্রেস। তার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেস এন্ট্রি নেওয়ায় রাজনৈতিক ‘খেলা হবে’ শুরু হয়েছে গোয়া জুড়ে।

Bangladesh: দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হচ্ছে

bangladesh durga puja violence

News Desk: বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় পাঁচ জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি মহ. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহ. কামরুল হোসেন মোল্লার বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

গত ২১ অক্টোবর সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ দোষী সরকারি কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়।

রিট আবেদনে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে এমন সব ধরনের পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাস এই রিট দায়ের করেন।

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ রেখে হামলা ছড়ানো হয়েছিল। এর জেরে পাঁচটি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা হয়। হামলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে ৫ হামলাকারী মারা গেছে। হামলায় খুন হয়েছেন দুই সংখ্যালঘু।

তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করেছে পূজামণ্ডপে কোরান রেখে হামলা ছড়ানো ব্যক্তি ইকবাল হোসেনকে। আর ভুল ভিডিও দেখিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়েছে ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুর্গাপূজায় হামলা পূর্ব পরিকল্পিত। দোষী কেউ ছাড় পাবে না।

হাইকোর্টে রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ফেনীর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ ১৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

Mumbai: কল রেকর্ড দেখলেই বোঝা যাবে কে কত ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছে, মন্তব্য গোসাভির

KP Gosavi

News Desk: মুম্বইয়ের মাদক মামলা ক্রমশই যেন জটিল হচ্ছে। চলছে পাল্টা দোষারোপের পালা। কয়েকদিন আগে এই মামলার সাক্ষী প্রভাকর সইল অভিযোগ করেছিলেন, আরিয়ানকে ছাড়ার জন্য ১৮ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। এবার প্রভাকরের সেই দাবি উড়িয়ে দিলেন কিরণ গোসাভি। 

বুধবার রাতে এক জালিয়াতির মামলায় পুণে পুলিশ গোসাভিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত গোসাভিও মাদক কাণ্ডে এনসিবির অন্যতম সাক্ষী। প্রভাকর সইল গোসাভির দেহরক্ষী হিসেবেই পরিচিত।

কয়েকদিন আগে প্রভাকর দাবি করেছিলেন, তিনি গোপনে গোসাভির সঙ্গে ফোনে অন্য এক ব্যক্তির কথাবার্তা শুনেছেন। তা থেকেই তিনি জানতে পেরেছেন, গোসাভির পরিকল্পনা ছিল শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানির কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা আদায় করা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাদের মধ্যে ১৮ কোটি টাকায় রফা হয়েছিল। যার মধ্যে ৮ কোটি টাকা দেওয়ার কথা হয়েছিল এনসিবির তদন্তকারী অফিসার সমীর ওয়াংখেড়েকে। ওই টাকা পেলেই আরিয়ানকে মাদক মামলায় রেহাই দিতেন সমীর।

প্রভাকর আরও দাবি করেছিলেন, এনসিবির আধিকারিকরা তাঁকে বেশ কয়েকটি সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়েছিলেন। জমা নিয়েছিলেন আধার কার্ডের প্রতিলিপি। ওই কাগজে সই করার পরই তিনি আরিয়ান খানকে দেখতে পেয়েছিলেন। পাশাপাশি প্রভাকর আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এনসিবি অফিসার সমীর তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারেন। নিজের জীবন বাঁচাতে মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনারকে তিনি চিঠিও দিয়েছেন।

প্রভাকর এর এই দাবির প্রেক্ষিতে গ্রেফতারের আগেই মুখ খুলেছেন গোসাভি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, প্রভাকর সব কথাই মিথ্যা বলছেন। যদি কেউ প্রকৃত সত্যটা জানতে চান তাহলে প্রভাকর এবং তার দুই ভাইয়ের কল রেকর্ড ও চ্যাট খতিয়ে দেখা হোক। আমার ফোনের কল রেকর্ড ও সমস্ত চ্যাট খতিয়ে দেখা হোক। তাহলেই সকলে বুঝতে পারবে কে কাকে কত টাকা ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কেন দিয়েছে?

গোসাভি বলেছে,  বিষয়ে তো অস্পষ্টতার কোন জায়গা নেই। তদন্তকারী অফিসাররা আমার এবং প্রভাকরের ফোনের যাবতীয় তথ্য যদি পরীক্ষা করেন তাহলেই তো বিষয়টি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে গোসাভির এই মন্তব্য নিয়ে এনসিবির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 

উল্লেখ্য, গোসাভির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় জারি করা হয়েছিল লুক আউট নোটিস। গোসাভি কেপিজে ড্রিমজ সলিউশন নামে একটি সংস্থা চালাতেন। ওই সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগেই বুধবার রাতে গোসাভিকে গ্রেফতার করে পুণে পুলিশ।

Africa: অভ্যুত্থান বিরোধী জনতা যেন ইঁদুর! তাড়া করছে সুদানের সেনা

sudans-armed-forces

News Desk: সরকার ফেলে দেওয়ার পর জরুরি অবস্থা জারি করেছে সুদানের সেনা। আফ্রিকার আরও এক নীল নদের দেশ হিসেবে পরিচিত সুদান রক্তাক্ত। শুরু হয়েছে অভ্যুত্থান বিরোধী জনতাকে ইঁদুরের মতো খাঁচা বন্দি করার পালা।

বিবিসি জানাচ্ছে, সুদানের সেনাবাহিনী দেশটির অসামরিক নেতাদের বেছে বেছে গ্রেফতার করছে। তবে মুক্তি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হামদক। তিনি এখন নজরবন্দি।

আল জাজিরার খবর, সুদানের সেনা ক্ষমতা দখল করার পর দেশটির জনগণের একাংশ সেনা শাসনের বিরোধিতা করে। তবে অভ্যুত্থানের পক্ষে রয়েছেন বহু সুদানি। এদিকে ক্ষমতা দখল করেই সুদানি সেনা শুরু করেছে ব্যাপক ধরপাকড়। গণতন্ত্র চাওয়া বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালাচ্ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

বিবিসি জানাচ্ছে, সেনার হাতে বন্দি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সেচমন্ত্রী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা।অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার। সোমবার সুদানের সেনাবাহিনী দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়ে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান বলেন সরকার অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।

সুদানে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে একদা তিরিশ বছরের স্বৈরশাসক ওমর আল বাশিরের সমর্থকরা। ২০১৯ সালে প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে তার সরকার পড়ে গিয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর বশিরের সমর্থকরা ফের সক্রিয় হয়েছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে ওমর আল বশিরের স্বৈরশাসন শেষের পর সুদানি সেনা ও রাজনৈতিক দলগুলি মিলিতভাবে সরকার গড়ে। সেই সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে গঠিত পরিষদ ঘিরে জনগণের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। প্রকাশ্যে সেনা শাসনের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়। অভিযোগ, জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান পূর্ণ ক্ষমতা দখল করতে এই বিক্ষোভ সংঘটিত করেন।

পরিস্থিতি আরও ঘোরতর। গৃহযুদ্ধের পথে যাচ্ছে সুদান।

Covid 19: শুনশান সোনারপুর, করোনা রুখতে কড়া বিধিনিষেধ শুরু

sonarpur lockdown

News Desk: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুর এলাকায় করোনা সংক্রমণ রুখতে শুরু হয়েছে বিধিনিষেধ। তিনদিনের বিধিনিষেধের প্রথম দিনই শুনশান হয়ে গেল রাজ্যের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটি। কলকাতার কাছাকাছি এই এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার শারোদতসবের পর থেকে চিন্তাজনক।

পরিস্থিতি উদ্বেগের। তাই আগে থাকতেই পুর প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি করে বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিন এলাকাবাসীকে বাইরে বের হতে নিষেধ করে। পুরসভার তরফে বিজ্ঞপ্তিতে রাজপুর – সোনারপুর এলাকায় করোনা সংক্রমিত ওয়ার্ডগুলি চিহ্নিত করে মাইক্রো কনটেন্টমেন্টের পোস্টার সাঁটানো হয়।

মঙ্গলবার রাজ্য সরকার রাজপুর-সোনারপুরে ১৯টি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করে। সংশ্লেষণ এলাকাগুলিতে কারোর ঢোকা ও বেরিয়ে আসায় কড়াকড়ি জারি হয়। প্রশাসনিক নির্দেশে ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর এই তিন দিন পুর এলাকার সমস্ত বাজার এবং দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওষুধ সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে।

এদিকে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা আফশোষ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, শারদোতসবের সময় ভিড় ছিল লাগামছাড়া। অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনকে বারবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু উৎসবের সময় করোনা বিধির শিথিলতা করায় সংক্রমণ ফের ছড়াতে শুরু করেছে।

দুর্গাপূজার পর থেকেই করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। কলকাতার নিকটস্থ সোনারপুরের জনঘনত্ব বেশি। এর ফলে সংক্রমণের হার বাড়বে এমন আশঙ্কা বড় করে দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতায় করোনা পজিটিভ রেট বেড়েছে। কলকাতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে রাজ্য সরকারকে বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, দীপাবলি উৎসবের আগেই করোনার কালো ছায়া লম্বা হবে।নবান্ন সূত্রে খবর, করোনা সংক্রমণের কারণে বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে ফের তৈরি হয়েছে ফের কোভিড ওয়ার্ড।

পূর্ব বর্ধমান, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ টি করে বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬ টি জেলা এবং মহকুমা হাসপাতালেও ১০০ টি করে কোভিড বেড বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম মহকুমা হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে ৫০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড। দুই জেলার আরও ১০ টি ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও ২০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে।

NRC: ‘ডি’ ভোটারে অসম বিজেপি জেরবার, প্রচারে বাঙালিদের মন পেতে মরিয়া হিমন্ত

himanta biswa sharma

News Desk: ‘ডি’ ভোটার সমস্যার বিতর্কে জর্জরিত অসম সরকার। রাজ্যে উপনির্বাচনে এই ইস্যু ভোটে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে রাজ্যে শাসক দল বিজেপি। অসমের বাঙলিরা যে জর্জরিত সেটা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা স্বীকার করলেন।

বুধবার উপনির্বাচনের প্রচারে বাংলাভাষী অধ্যুষিত ভবানীপুর, গোসাইগাঁও ও তামুলপুরে বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডি ভোটার ও নোটিশ সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন,এনআরসি’র জন্য বায়োমেট্রিক করতে গিয়ে আধার আটকে পড়ে বহু মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এহেন সমস্যার সমাধান খুব শীঘ্রই করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলায় ভাষণ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধার সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার যাবতীয় ব্যবস্থা করছে। এনিয়ে কেউ যেন চিন্তা না করেন।

আরও পড়ুনNRC: ভারতীয় ঘোষণার পরেও ‘ডি নোটিশ’ অসমে, বাঙালি ভারতীর ‘দেশহীন’ আতঙ্ক

রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, রাজ্যে কংগ্রেস আমলেই অসমে ঘুষ নেওয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল। টাকার বান্ডিল না দিলে কাজ হতো না। সে সময়ে ঘুষ দিতে দিতে মানুষ পাগল হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষক,আশাকর্মী অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরিতে পাওয়ার জন্য দিতে হতো ঘুষ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এমন সংস্কৃতি মাত্র চারমাসে পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। প্রশাসনিক অব্যবস্থা বিজেপি সরকার বন্ধ করেছে। আগামী সাড়ে চার বছর সব কলঙ্ক মুছেই ছাড়ব বলে দাবি করেন তিনি।

উপনির্বাচনের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, আগামীদিনে প্রায় ১ লক্ষ যুবক যুবতীকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চাকরি দেওয়া হবে। এক পয়সাও ঘুষ দিতে হবে না। তিনি বলেন, কংগ্রেস শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ভোট নিতে জানে।

NRC: ভারতীয় ঘোষণার পরেও ‘ডি নোটিশ’ অসমে, বাঙালি ভারতীর ‘দেশহীন’ আতঙ্ক

controversial ad notice issued against bengalis in assam

News Desk: ‘ডি নোটিশ’ শব্দটাই আতঙ্কের। ‘ডাউটফুল’ বা সন্দেহজনক তালিকায় যার নাম ওঠে সেই ব্যক্তিকে তাড়া করে দেশহীন হওয়ার আতঙ্ক। যেতে হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে।বিশেষত অসমের বাংলাভাষীদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের নাম ‘ডি নোটিশ’।

ফরেনার্স ট্রাইবুনাল বা বিদেশি চিহ্নিতকরণ তালিকায় যে ব্যক্তিতে একবার । ভারতীয় করা হয়েছে তাকেও ফের সন্দেহভাজন নাগরিকে তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে অসমে।

ফের এমন ঘটনাটি ঘটেছে নাম্নী অসমের বঙ্গাইগাঁও জেলার মানিকপুর থানার ২ নম্বর জামদহা গ্রামে। এই গ্রামের প্রয়াত অবিনাশ সরকার ওরফে প্রেম দাস সরকারের কন্যা ভারতী। তিনি গোপালচন্দ্র সরকারের স্ত্রী। কৃষক পরিবারের গৃহবধু ভারতী।

১৩৭১/২০০২ সালের বিদেশি সংক্রান্ত মামলায় একই জেলার এক নম্বর বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইবুনাল আদালত ২০১৯ সালে ভারতী সরকারকে ভারতীয় হিসেবে ঘোষণা করে। আদালতে পেশ করা ১০ টি তথ্যের উপর ভিত্তি করে উল্লেখিত নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৪৬ ফরেনার্স এক্টের ৯ ধারা অনুযায়ী আদালত ভারতী সরকারকে ভারতীয় ঘোষণা করেছে।

আশ্চর্যের বিষয়ট, বিএনজিএন/এফটি ১২০১/২০১০ এর ভিত্তিতে আরেকটি মামলায় ভারতীকে একই ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে ফের ‘ডি’ভোটারের নোটিস জারি করা হয়। খুবই দরিদ্র পরিবার ভারতী এই নোটিশ পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। মামলা চালাতে টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নিজের জমি বিক্রি করে মামলার টাকা জোগাড় করেছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে কিনা, সেটা প্রমান করতে সেটার তথ্য সাবুদ নিয়ে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে। কয়েকদিন আগেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এদিকে ,জামদহা এলাকাটি বন্যা কবলিত। কৃষক এবং খুবই দুঃস্থ পরিবারের ভারতী।একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারের সদস্য হিসেবে ফের নোটিশ পাওয়ায় ভেঙে পড়েন ভারতী সরকার।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সারা অসম বাঙালি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অমৃতলাল দাস। তিনি বলেন, কয়েকদিন যাবত নিম্ন অসমের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু বাঙালিদের ডি নোটিশ দেওয়া চলছে। ইচ্ছাকৃত ও আক্রোশমূকলভাবে একাজ করা হচ্ছে। শীঘ্রই এসব বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অমৃতলাল দাসের অভিযোগ, সরকারি উদাসীনতার শিকার হচ্ছেন অসমের বাঙালিরা। বিদেশি শনাক্তের নামে প্রকৃত ভারতীয়কে হয়রানি মেনে নেওয়া যায় না। স্বরাষ্ট্র দফতর দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে এক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন অমৃত বাবু।

Covid 19: দীপাবলির আগেই করোনার কালো ছায়া, বিভিন্ন জেলায় কোভিড ওয়ার্ড

corona-diwali

News Desk: দীপাবলি উৎসবের আগেই করোনার কালো ছায়া লম্বা হচ্ছে রাজ্যে। সংক্রমণের গতি উর্ধমু়খী। নবান্ন  সূত্রে খবর, করোনা সংক্রমণের কারণে বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে ফের তৈরি হয়েছে ফের কোভিড ওয়ার্ড।

পূর্ব বর্ধমান, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ টি করে বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬ টি জেলা এবং মহকুমা হাসপাতালেও ১০০ টি করে কোভিড বেড বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম মহকুমা হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে ৫০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড। দুই জেলার আরও ১০ টি ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও ২০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার থেকে অঘোষিত লকডাউন সোনারপুরে

কলকাতা ও সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর-রাজপুর পুরসভা এলাকা। বৃহস্পতিবার থেকে এখানে চালু হচ্ছে এলাকা ভিত্তিক মাইক্রো কনটেন্টমেন্ট জোন।

আরও পড়ুনCovid 19: এই বুঝি করোনা হয়! ভয় নিয়ে দিন শুরু সোনারপুরে

উদ্বেগের কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরকে নিয়ে। শারদোতসব মিটতেই এই ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়েছে করোনা। প্রশাসনিক নির্দেশে ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর এই তিন দিন পুর এলাকার সমস্ত বাজার এবং দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওষুধ সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে। মঙ্গলবার রাজ্য সরকার রাজপুর-সোনারপুরে ১৯টি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করে। সংশ্লেষণ এলাকাগুলিতে কারোর ঢোকা ও বেরিয়ে আসায় কড়াকড়ি জারি।

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা আফশোষ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, শারদোতসবের সময় ভিড় ছিল লাগামছাড়া। অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনকে বারবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু উৎসবের সময় করোনা বিধির শিথিলতা করায় সংক্রমণ ফের ছড়াতে শুরু করেছে।

দুর্গাপূজার  পর থেকেই করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।  কলকাতার নিকটস্থ সোনারপুরের জনঘনত্ব বেশি। এর ফলে সংক্রমণের হার বাড়বে এমন আশঙ্কা বড় করে দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতায় করোনা পজিটিভ রেট বেড়েছে। কলকাতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে রাজ্য সরকারকে বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ।

Bihar: দুধেল গাই ছিল রেল, তাকে বেচে দিয়েছে মোদী, ময়দানে চিৎকার লালুর

lalu-prasad-yadav

News Desk: চুটকুলা আন্দাজ, মুচকি হাসির সেই লালু ফের ময়দানে, রাজনীতি সরগরম। বিহারে ফের আবির্ভাব লালুপ্রসাদ যাদবের। রাজনৈতিক মঞ্চে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে জেল খাটা আরজেডি প্রধানের রঙ্গিলা এন্ট্রিতে মাতোয়ারা বিহার ও পুরো দেশ।

বিহারে মাত্র দুটি আসনে উপনির্বাচন। সেটা ঘিরেই বিহার তপ্ত হয়ে গিয়েছে। লালুপ্রসাদ যাদব বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বিহারে ফিরেছেন। উপনির্বাচন প্রচারে নেমেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কটাক্ষ করে লালুপ্রসাদের কটাক্ষ, দেশের রেল ব্যবস্থা ছিল দুধেল গাই। তাকেই বেচে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবল আলোড়ন পড়েছে এই ভাষণে।

ভাষণে লালুপ্রসাদ বলেন, তিনি যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন এক টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দেননি। এখন রেল আর সাধারণ মানুষের নয়।

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় লালুপ্রসাদ যাদব ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলে বন্দি ছিলেন। অসুস্থ হয়ে দিল্লির এইমসে চিকিৎসাধীন হন। সেখান থেকেই বিহারে ফের এন্ট্রি নিলেন। আসন্ন ছট পুজোর আগে রাজনৈতিক মহলে চমক লেগেছে লালুপ্রসাদের এন্ট্রিতে।

বিহারের তারাপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রচার করলেন লালুপ্রসাদ যাদব। সেখানেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ফের কটাক্ষ করেন। লালুপ্রসাদ বলেন, গুলি করে মারব না তোমাকে। তুমি তো এমনিই মরে যাবে। আগেই লালুপ্রসাদের আগমন ও তার সরকারের সময় ‘জঙ্গলরাজ’ পরিস্থিতি টেনে কটাক্ষ করে নীতীশ কুমার বলেছিলেন, ও আমাকে গুলি করে মারতে পারে। নীতীশের বিস্ফোরক মন্তব্যের জবাব চুটকি দিয়ে উড়িয়েছেন লালুপ্রসাদ। পুরনো জোট প্রসঙ্গ টেনে লালু বলেছেন, আমি নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলাম। ও এখন মোদীর কোলে দোল খাচ্ছে।

নীতীশ কুমারের জেডিইউ ও বিজেপি জোট বিহারে ক্ষমতাসীন। গত নির্বাচনে তারা সরকার ধরে রাখে। আরজেডির মহাজোট হয়েছে বিরোধী। ঝাড়খণ্ডের মতো বিহারেও লালুপ্রসাদ যাদব ছিলেন মহাজোটের মুখিয়া। তবে ঝাড়খণ্ডে তিনি সফল হলেও নিজ রাজ্য বিহারে পাশ করতে পারেননি। নির্বাচনের সময় জামিন নিয়ে বিস্তর জট কাটিয়েও প্রচারে আসতে পারেননি। আইনি প্রক্রিয়ায় বিহারে এসেই লালপ্রসাদ শুরু করেছেন তাঁর পুরনো আন্দাজের চুটকি রাজনীতি।

Myanmar: মাস্ক পরা সু কি’র চিন্তিত মুখ দেখল বিশ্ব, আমৃত্যু জেল আশঙ্কা

aung san suu kyi

News Desk: সামরিক সরকারের আদলতে হাজিরা দিলেন মায়ানমারের গণতন্ত্রীকামী নেত্রী আউং সান সু কি। নোবেল জয়ী নেত্রীর সরকারকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে উৎখাত করেছে বর্মী সেনা। চলছে সামরিক সরকার। সেই থেকে অত্যন্ত গোপনে বন্দি করে রাখা হয়েছে সু কি সহ অপসারিত সরকারের বাকিদেরকে। বন্দি প্রেসিডেন্টও।

বিবিসি জানাচ্ছে, টানা কয়েকমাস বিশ্বের নজর থেকে সু কি-কে সরিয়ে রাখার পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করায় সামরিক সরকার। সবই চলছে ঠান্ডা মাথার সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে মায়ানমারে ক্ষমতা ফের দখল করার পর সেনাবাহিনী সু কির বিরুদ্ধে করোনার বিধিনিষেধ লংঘন, অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হাজিরার সময় আদালতে মাস্কে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন সু কি। দেখা গিয়েছে তাঁর চিন্তিত চোখ। আশঙ্কা সু কি জীবদ্দশায় আর বন্দিত্ব কাটাতে পারবেন না। দেশদ্রোহ মামলায় তাঁকে আমৃত্যু জেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

তবে সেনা সরকার জানিয়েছে সু কি আইনি উপদেষ্টা রাখতে পারবেন আদালতে। তাঁর আইনজীবীও সেনা অনুমোদিত ব্যক্তি ! তিনি জানান, আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে প্রমান দাখিল করেছেন সু কি। তথ্য বিচার করেই রায় দেবে আদালত।

বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন, সু কি মুক্তি পাবেন কি? মায়ানমারে সামরিক সরকার হয়ত তাঁকে আর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচচিত নামতে দেবে না। দোষী প্রমানিত হলে অন্তত ১৫ বছরের জেল হবে সু কির।

Bihar: আমাকে গুলি করে মারার ছক করেছেন লালু, বিস্ফোরক নীতীশ

nitish kumar vs lalu prasad yadav

News Desk: নীতীশ কুমারের আশঙ্কা তিনি খুন হতে পারেন। তাঁকে খুন করাতে পারেন লালুপ্রসাদ যাদব। চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। পাটনায় তিনি বলেছেন, লালু যাদব চাইলে গুলি করে মারানোর ছক করতে পারেন। তিনি তো আর কিছুই পারেন না।

সম্প্রতি পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় জেলবন্দি লালুপ্রসাদ যাদব অসুস্থ হয়ে দিল্লিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় বিহারে ফিরেছেন। আরজেজি প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ ফিরতেই বিহারের রাজনৈতিক মহল নতুন করে সরগরম।

পাটনায় ফিরে লালুপ্রসাদ বলেন, এসেছি নীতীশ কুমারের বিসর্জন করাতে। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

রাজ্যে দুটি কেন্দ্র তারাপুর ও কুশেশ্বরস্থানে উপনির্বাচন আসন্ন। এই উপনির্বাচন ঘিরেই বিহারের রাজনীতি সরগরম। সরকারপক্ষ এনডিএ এর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন লালুপুত্র তেজস্বী যাদব। তিনি বলেছেন, দুটি আসনে জয়লাভ করলেই বিহারে আরজেডি নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন হবে। একই কথা বলছেন লালু প্রসাদ যাদব। প্রশ্ন উঠছে, বিহারে কি সরকারপক্ষে ভাঙন ধরাচ্ছেন লালু।

তবে আরজেজি মহাজোট থেকে কংগ্রেস বেরিয়ে গেছে। লালুপ্রসাদ পাটনায় ফিরতেই তাঁর সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। জোট ফের হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে মহাজোট থেকে কংগ্রেস ১৯ টি আসন পায়। আর জোটের বাম শরিকরা বিহারে অভাবনীয় ফল করে। তবে সরকার গড়ে বিজেপি-জেডিইউ সহ শরিকদের এনডিএ জোট।

Covid 19: এই বুঝি করোনা হয়! ভয় নিয়ে দিন শুরু সোনারপুরে

Covid 19-ekolkata24

News Desk, Kolkata: দিন শুরু হয়েছে ভয় নিয়ে। কেউ একটু কাশলেই পাশের জন চমকে চমকে উঠছেন। চারদিকে ভয় এই বুঝি করোনা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অত্যন্ত জনবহুল সোনারপুর-রাজপুর পুর এলাকা একপ্রকার অঘোষিত লকডাউনের আওতায়। বুধবার সকাল থেকে এমনই ছবি সোনারপুরের সর্বত্র।

মঙ্গলবার রাজ্য সরকার রাজপুর-সোনারপুরে ১৯টি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে কারোর ঢোকা ও বেরিয়ে আসায় কড়াকড়ি জারি।

বাড়তে থাকা করোনা রোগীর সংখ্যা সোনারপুরে এমনই যে প্রশাসনিক নির্দেশে ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর এই তিন দিন পুর এলাকার সমস্ত বাজার এবং দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওষুধ সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে।

Corona sonarpur

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা আফশোষ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, শারদোতসবের সময় ভিড় ছিল লাগামছাড়া। অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনকে বারবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু উৎসবের সময় করোনা বিধির শিথিলতা করায় সংক্রমণ ফের ছড়াতে শুরু করেছে।

দুর্গাপূজার পর থেকেই করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। রাজপুর সোনারপুর পুর এলাকায় পুরসভায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৫ থেকে ২০ মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এই পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডের ১৯টি এলাকায় মাইক্রো কনটেন্টমেন্ট জোন চিহ্নিত করেছে।

কলকাতার নিকটস্থ সোনারপুরের জনঘনত্ব বেশি। এর ফলে সংক্রমণের হার বাড়বে এমন আশঙ্কা বড় করে দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতায় করোনা পজিটিভ রেট বেড়েছে। কলকাতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে রাজ্য সরকারকে বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ।

Africa : এবার সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী গোষ্ঠীর গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভ! সুদান রক্তাক্ত

sudan

News Desk: সেনা শাসনের বিরোধিতা করাই জনগণের চরিত্র। যেমনটা হচ্ছে মায়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে। তবে আফ্রিকার দেশ সুদানে জনমানসের বিপরীত চরিত্র সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি কোনও দেশে। একপক্ষ সেনা শাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে  সরকারকে উৎখাত করেছে। তারপর  সুদানে শুরু হয়েছে গণতন্ত্রের দাবিতে অন্যপক্ষের বিক্ষোভ।

বিবিসি জানাচ্ছে, সুদানের সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করার পর রাজধানী খার্টুম সহ দেশটির সর্বত্র রাজপথে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে, পতাকা উড়িয়ে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করেছে। বিক্ষোভ রুখতে গুলি চালিয়েছে সেনা। কমপক্ষে দশ জন মৃত।

মনে করা হচ্ছে, এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে সুদানের একদা তিরিশ বছরের স্বৈরশাসক ওমর আল বাশিরের সমর্থকরা। ২০১৯ সালে প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে তার সরকার পড়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানের মাঝে বশিরের সমর্থকরা ফের সক্রিয় হয়েছেন।

ওমর আল বশিরের স্বৈরশাসন শেষের পর সুদানি সেনা ও রাজনৈতিক দলগুলি মিলিতভাবে সরকার গড়ে। বিবিসি জানাচ্ছে,  সেই সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ২০১৯ সালে যে চুক্তি হয়েছিল তাতে সুদানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগনোর কথা ছিল।  ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে গঠিত পরিষদের প্রধানের পদে ছিলেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান। তিনি বলেছেন, এরপরেও সুদানের সেনা অসমারিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেনি। ২০২৩এর জুলাইয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

সরকারের দুপক্ষের মধ্যে ফাটল বাড়তে থাকে। এর জেরে সরকার পরিচালনা থমকে যায়। সেনাবাহিনী দ্রুত সরকার পরিচালনা করুক দাবিতে পুঞ্জীভূত হতে থাকে বিক্ষোভ। অভিযোগ, অর্ধেক নয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা দখল করতেই বিক্ষোভে মদত দিয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী।হাজার হাজার সুদানি দাবি তোলেন, অসমারিক সরকার নয় সামরিক সরকার চাই। বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করেন প্রেসিডেন্ট হাউস। পার্লামেন্ট ঘেরাও করা হয়। সুদানি সেনা তাদের বাধা দেয়নি। সোমবার সুদানি সেনা বন্দি করে প্রধানমন্ত্রীকে।  অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান সরকার ভেঙে দেন। জরুরি অবস্থা জারি করেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এই অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে।

এর পরেই ফের গণতন্ত্র চেয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সুদানে। সেই বিক্ষোভ থামাতে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছেন অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান। পরিস্থিতি আরও জটিল। রাজধানী শহরের বিমানবন্দর বন্ধ। ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন সংযোগও বন্ধ। তীব্র রাজনৈতিক ঘনঘটার মুখে ফের দাঁড়িয়েছে আরও এক নীল নদের দেশ সুদান।

Aryan Khan Case: ফোন ট্যাপ করে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছেন NCB কর্তা সমীর, মন্ত্রীর অভিযোগ

sameer-wankhede

News Desk: মুম্বইয়ের প্রমোদতরীর মাদক কাণ্ডের জল ক্রমশ ঘোলা হচ্ছে। যার কেন্দ্রে রয়েছেন নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে সমীরের নাম। ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক অভিযোগ করলেন, সমীর আইন বহির্ভূতভাবে বহু ব্যক্তির ফোন ট্যাপ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন বলিউড তারকারা।

এনসিবির জোনাল হেড সমীর একজন সৎ এবং দক্ষ অফিসার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে আরিয়ান খান মামলায় এই তদন্তকারী অফিসার যথেষ্ট ব্যাকফুটে। সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতেও গিয়েছেন তিনি। এই মানুষটিকে নিয়ে এখন একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে।

অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রের মোদী সরকারের ইশারাতেই বিভিন্ন জরুরি বিষয় থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতেই এনসিবি আরিয়ানকে নিয়ে পড়েছে। এদিন নবাব অভিযোগ করেন, সমীর নিয়মিত বলিউড তারকাদের ফোন ট্যাপ করতেন। এমনকী, তাঁর মেয়ে নিলোফারের কললিস্টও চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। তবে মুম্বই পুলিশ সেটা তাঁকে দেয়নি। তাঁর নিজের ফোনও ট্যাপ করা হয়েছে বলে নবাব দাবি করেন।

নবাব আরও বলেন, এনসিবির এক অফিসার নিজের নাম গোপন করে তাঁকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে ২৬টি মামলার কথা তাঁকে জানানো হয়েছে। ওই সমস্ত মামলাগুলির মধ্যে কয়েকটিতে বলিউড তারকারা জড়িত। ওই সমস্ত মামলাগুলির তদন্ত সমীর যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে করেননি। সমীর সবসময় চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন মানুষকে ফাঁসিয়ে দিতে। তাঁদের বিরুদ্ধে এজন্যই তিনি মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।

ওই চিঠিটি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, পুলিশের ডিজি, এনসিবির শীর্ষ কর্তা এবং অন্যদের কাছেও পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই মামলাগুলির যথাযথ তদন্তের দাবিও তুলেছেন নবাব। মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, সমীর তাঁর নিজের পদমর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়ে চলেছেন।

নবাব এদিন বলেন, আমি এনসিবির বিরুদ্ধে কোনও লড়াই করছি না। আমার লড়াইটা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে। একজন ব্যক্তি যিনি প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন আমি সেই বিষয়টি সামনে আনতে চাইছি। সমীর তাঁর জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে এনসিবির চাকরি পেয়েছেন।

নবাবের তোলা এই সমস্ত অভিযোগের কোনও জবাব দেননি সমীর। তবে, এদিন মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী। এদিন সমীরের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী কখনও কোনও অন্যায় কাজ করেন না। এ ধরনের চিঠির কোন সারবত্তা নেই। এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে যাব। যারা আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করছেন আদালতে তাদের সেগুলি প্রমাণ করতে হবে। আমরা কোটিপতি নই। আমরা আর পাঁচজনের মতো সাধারণ মানুষ। আমার স্বামী সমীর একজন অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল অফিসার। নবাবের পাঠানো চিঠিতে সম্পর্কে এনসিবির ডিরেক্টর জেনারেল অশোক জইন বলেছেন, তিনি একটি চিঠি পেয়েছেন এবং দেখেছেন। সব খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিতভাবেই ব্যবস্থা নেবেন।

Bangladesh: দুর্গাপূজায় হামলার ছক হয় লন্ডনে, খালেদা পুত্রকে জড়িয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

bangladesh-information-minister-said-durga-puja-violence-plot-organized-by-bnp-leaders

News Desk: বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক হামলায় বিএনপি-জামাত ইসলামি জড়িত। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান সবকিছুর পরিকল্পনা করে।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি দলের প্রধান নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশছাড়া। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত। তাকে পলাতক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। তারেক লন্ডনে থাকেন। সেখান থেকেই দল পরিচালনা করেন।

মঙ্গলবার রাজশাহীতে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী ড হাছান মাহমুদ বনেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পরিকল্পনা হয়েছে সুদূর লন্ডনে বসে। দীর্ঘ একমাস ধরে এই পরিকল্পনা চলে। তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট। এই উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপে হামলা পরিচালনা করেছে তারা।

দুর্গাপূজা চলাকালীন কুমিল্লায় একটি পূজা মণ্ডপে কোরান শরিফ রেখে হামলা ছড়ানো হয়েছিল। এর জেরে বাংলাদেশে পরপর আক্রান্ত হয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়ি, দোকান। হামলাকারীদের রুখতে পুলিশ গুলি চালায়। ৫ জন মারা যায়। আর হামলাকারীদের হাতে দুই সংখ্যালঘু খুন হন। দুর্গা মণ্ডপে কোরান রাখার অভিযোগে ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি ধৃত। সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোয় ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে খুঁজে বের করা হবে। এদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা সবকিছুতে ব্যর্থ
হয়ে এবার দুর্গাপূজায় হনুমানের মূর্তির কাছে কোরান শরিফ রেখে আসে। কারা রেখেছে? যে রেখেছে, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে তো আসলে রাখেনি। সে কারও নির্দেশে সেখানে রেখে এসেছে। কারা এর পেছনে আছে, সেটি খুব সহসা বের হবে। খুবই স্পষ্ট যে, কারা এগুলো ঘটিয়েছে।

তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত, ধর্মান্ধ-উগ্রবাদীরা। বাংলাদেশের কোনও সম্প্রদায়ের লোক অপরের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করার মানসিকতা পোষণ করেন না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এটি করেছে এবং তাকে যারা প্ররোচনা দিয়েছে, তারা আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করেছে। একইসঙ্গে হিন্দু ধর্মকেও অবমাননা করেছে। এই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে। তাদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।এই যুবককে কারা প্ররোচিত করেছে, কারা অর্থ দিয়েছে, কারা পালিয়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পাঠিয়েছে- সবকিছুই বের হবে।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজায় হামলার ঘটনায় সরকার ঘটনার পর ১০২টি মামলা করেছে। সাতশোর মতো দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কঠোর হস্তে সরকার এটি দমন করেছে।

মানুষের ভালবাসাই তাঁকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনেছে, বললেন লালুপ্রসাদ

lalu prasad

National Desk: শারীরিক সমস্যা ও জেলবন্দি থাকায় শেষ দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদব। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ভর্তি ছিলেন দিল্লির এইমসে। গত সপ্তাহেই তিনি দিল্লি থেকে পাটনায় ফিরেছেন। পাটনায় ফিরেই মঙ্গলবার জানালেন, মানুষের ভালোবাসার কারণেই তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। শুধু ফিরে আসাই নয়, আবার তিনি আগের মত সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেবেন বলেও জানালেন লালু।

এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে লালু বলেন, শারীরিক অসুস্থতা এবং জেলের ভিতর থাকায় আমি গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারিনি। এই মুহূর্তে রাজ্যে দুটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। উপনির্বাচনের আগেই আমি বিহারের ফিরতে পেরেছি। আমি ওই দুই কেন্দ্রে প্রচারে যাব। মানুষের ভালবাসাই আমাকে বিহারে ফিরিয়ে এনেছে। মানুষের ভালবাসার প্রতিদান তিনি শীঘ্রই ফিরিয়ে দেবেন। লালু আরও বলেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কুশেশ্বর আস্থান ও তারাপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখবেন।

সম্প্রতি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিন্ন করার কথা বলেছেন লালু। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এদিন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে তীব্র কটাক্ষ করেন। লালু বলেন, নীতীশ অত্যন্ত লোভী ও ক্ষমতা পিপাসু। যে কারণে এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, মোদির আমলে সামান্য ভোজ্যতেলের দামও আকাশছোঁয়া হয়েছে। সরষের তেল ছাড়া মানুষ কী দিয়ে রান্না করবে? ডিজেল তো এখন ঘিয়ের থেকেও দামি হয়ে গিয়েছে। লালু বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকরা নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন। কিন্তু মোদি সরকার এসব দেখতেই পাচ্ছে না। তারা প্রতিদিন পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে। ভোজ্যতেল মানুষের আয়ত্বের বাইরে নিয়ে চলে গেছে। অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এসব কথা ভাবার মত সময় মোদির নেই। সাধারণ মানুষকে বাঁচতে হলে এই দলকে আগে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে লালু বলেন, জোট সবসময় সম মানসিকতাসম্পন্ন দলগুলির মধ্যে হয়। রাজ্যস্তরে আমরা কংগ্রেস, বাম-সহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট করেছি। কংগ্রেসকে আমরা যে ধরনের সহযোগিতা করেছি অন্য কোনও দল তা করেনি। কংগ্রেস অত্যন্ত পুরনো দল। জাতীয় স্তরে তাদের স্বীকৃতি রয়েছে, আমরা সেটা মানি। কিন্তু ওরা আমাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়নি। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে পথ চলার কোনও অর্থ হয় না।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিহার শাসন করেছে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রে রেল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন আরজেডি সুপ্রিমো। কিন্তু ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিহারে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন লালু। ওই কেলেঙ্কারির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে জেলে ছিলেন তিনি। তবে জেলে থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই তিনি কাটিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের রিমসে। চলতি বছরের প্রথম দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় লালুকে দিল্লির এইমসে ভর্তি করা হয়েছিল। এইমসের চিকিৎসকদের সম্মতি মেলায় গত সপ্তাহেই লালু দিল্লি থেকে পাটনা ফিরেছেন।