করোনা বাধা কেটে মহাকাশ-মহাসাগরে ভারতের ‘বিজয় রথ’ ছুটছে

বিগত ২ বছর ধরে চলা করোনা অতিমারীর কারণে থমকে গিয়েছে যেন জনজীবন। একটু ধাতস্ত হতেই একের পর এক করোনার ঢেউ, নতুন নতুন ভেরিয়েন্ট মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন আরও দুঃসহ করে তুলেছে। এদিকে এই অতিমারীর কারণে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) কাজও অনেক কম হয়েছে তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান কে শিবন। তিনি বলেছেন যে গত বছর লকডাউনের কারণে ইসরোকে সরকারের নির্দেশিকা এবং নিয়ম অনুসরণ করে সমস্ত ক্রিয়াকলাপের গতি হ্রাস করতে হয়েছিল। যদিও ইসরোর তরফ থেকে আশ্বাসবাণী দেওয়া হয়েছে যে চলতি বছরে বেশ কয়েকটি অভিযান ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসীকে ‘উপহার’ দেবে সংস্থা। যেমন

গগনযান মিশনঃ
ভারতীয় মহাকাশ মিশন কর্মসূচি ২০২২ সালে ‘গগনযান’ মিশনের মাধ্যমে শুরু হবে এবং বছরের শেষে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা দুটি মানববিহীন মিশনও উৎক্ষেপণ করবে। ভারত সরকার আরও বলেছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা শুক্র মিশন, সৌর মিশন এবং মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু করবে। যদিও কোভিড মহামারীর কারণে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে এই বছর ভারত আরও অনেক মিশন পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে ইসরো। গগনযান মিশনের মাধ্যমে যে কোনও ব্যক্তি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ভ্রমণ করতে পারবেন। ৫০০ টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এই মিশনের সঙ্গে জড়িত।

ইসরো-সিএনইএস-এর যৌথ মিশনঃ
ইসরো-সিএনইএস-এর যৌথ মিশন ‘তৃষ্ণা’র কাজ চলছে। দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী সিভান ইসরোর ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘আমি ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির আগে অর্থাৎ ১৫ আগস্ট, ২০২২-এর আগে প্রথম প্রহরীবিহীন মিশন চালু করার নির্দেশ দিয়েছি। এই মিশন সম্পর্কিত সমস্ত দল এই সময়সীমা পূরণের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আমি নিশ্চিত যে আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব।’

সমুদ্রযান মিশনঃ
গগনযান মিশন ছাড়াও ইসরো সমুদ্র অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে মহাকাশ ও সমুদ্রে ভারতের প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী হবে। এই মিশনের আওতায় একটি মানববাহী সাবমেরিন তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পের নাম ‘সমুদ্রয়ন।’ ইসরোর চেয়ারম্যান আরও জানান, পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজি এর আগে ৫০০ মিটার জলের গভীরতা রেটিং-এর জন্য একটি মানববাহী সাবমেরিন সিস্টেম তৈরি ও পরীক্ষা করেছিল।

হু হু করে বইছে তুষারঝড়, কর্তব্যে অবিচল জওয়ান, ভাইরাল

তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে একটু নিচে নামলেই আমাদের অনেকেরই মনে হতে শুরু করে, ‘এই রে এবার জমিয়ে ঠাণ্ডাটা পড়ছে, যাই কম্বল মুরি দিয়ে একটু শুই, নয়তো কম্বলের তলায় ঢুকে একটি গরম পানীয়তে চুমুক দিই।’ কিন্তু আরেক দিকে শীত হোক বা বর্ষা অথবা নাভিশ্বাস ওঠা গরম, নিজেদের কর্তব্যে অবিচল থেকে দেশকে রক্ষা করেন সেনাবাহিনীর জওয়ানরা।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও যথেষ্ট ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও দেখে সকলেরই হাত উঠেছে স্যালুটের জন্য। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চারিদিক ঢাকা বরফে। সেইসঙ্গে হু হু করে বইছে তুষার ঝড়। তার মধ্যেও একটু বিচলিত না হয়ে নিজের কর্তব্যে অবিচল রয়েছেন এক জওয়ান। তাঁর হাতে রয়েছে একটি রাইফেল। আর এই ভিডিওটি দেখে আপনি অবশ্যই ভারতের জওয়ানদের আত্মত্যাগে গর্বিত হতে বাধ্য হবেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উধমপুর জনসংযোগ আধিকারিক তাঁর অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। সেইসঙ্গে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্যে সহজে পৌঁছাতে পারি না কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং ত্যাগের মাধ্যমে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। সবার একটাই জীবন আছে কিন্তু দেশে পরাধীনতা এলে পাশে কে দাঁড়ায়?’ তিনি আরও একটি ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বরফে ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে চলাফেরা করছেন কয়েকজন সেনা জওয়ান। নেটিজেনদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘পার্কে আপনার ভোরের হাঁটার সাথে এটি তুলনা করুন!’

প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দিন ধরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে নতুন করে তুষারপাত দেখা গেছে। নেটাগরিকরা সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মারফত তা ছড়িয়েও দেন। তবে গভীর শীতে এই ধরনের উচ্চতার এলাকায় কাজ করার অসুবিধার কথা তুলে ধরে সশস্ত্র বাহিনীর শেয়ার করা একটি ভিডিও যথেষ্ট যে সকলের সম্মান অর্জন করেছে তা বলাই চলে।

Travel: সুন্দরগ্রামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন আপনিও

গ্রামটির নাম সুন্দরগ্রাম। আর এই সুন্দরগ্রাম যে আক্ষরিক অর্থেই ভীষণ সুন্দর তা আপনি এই গ্রামে পা রাখলেই (Travel) টের পাবেন। কলকাতা থেকে সামান্য একটু দূরে গেলেই এই গ্রামের অবস্থান। কলকাতা থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজেন্দ্রপুর ইকো ভিলেজ। সেখানেই আপাতত তৈরী হয়েছে পাঁচটি মাটির বাড়ি। সেই মাটির ঘরেই চমৎকার ব্যবস্থা করা হয়েছে অতিথি সেবার ।

রয়েছে একটি অসাধারণ কৃত্রিম পুকুর, যেখানে নানান ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এছাড়া একেবারে অসাধারণ রাঁধুনিদের দ্বারা রান্না করা অসাধারণ সব বাঙালি রান্না রয়েছে। কংক্রিটের জঙ্গলে থাকতে থাকতে যদি একেবারে একঘেয়ে হয়ে যান, তাহলে অবশ্যই কয়েক দিনের জন্য বা একদিনের জন্য হলেও এখানে ঘুরে আসতে পারেন। যতই মাটির ঘর হোক না কেন, ভেতরে সমস্ত রকম আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। এয়ার কন্ডিশন মেশিন থেকে শুরু করে ছোট ফ্রিজ এবং ওয়াশিং মেশিন সবই এই মাটির ঘরে পাবেন।

সায়েন্সসিটি থেকে বাস বা যে কোনো যানবাহনে আপনাকে পৌঁছাতে হবে ঘটকপুর। সেখানে রয়েছে এই সুন্দর ইকো ভিলেজ সুন্দর গ্রাম। এক টুকরো গ্রামের পরিবেশ কলকাতার কাছাকাছি এলাকায় । সবচেয়ে ভালো হয় আগে থেকে বুকিং করে যেতে পারলে। আপনারা ইন্টারনেটে সার্চ করলে সহজেই পেয়ে যাবেন এর ফোন নম্বর। গ্রামে বেড়াতে যেতে অনেকেরই অসুবিধা হয়, কিন্তু কলকাতা শহরের বুকে সমস্ত শহুরে ফেসিলিটি সমেত যদি গ্রামের কুড়ে ঘরে থাকতে চান, তাহলে এই জায়গাটি আপনার জন্য একেবারে অসাধারণ ডেস্টিনেশন।

New Year: অন্তর্বাসে বরণ হয় বছর, আরও চমক আছে

Underwear is welcome year

News Desk: কথায় আছে, যস্মিন দেশে যদাচার। নববর্ষকে (New Year) বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই বিবেচনা করা হয় সুখ ও সমৃদ্ধির বছর হিসেবে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিশ্বের অনেক দেশেই অভিনব কিছু বিশ্বাস রয়েছে। জেনে নিন, এমনই কিছু দেশ, যেখানে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় অনন্য পদ্ধতিতে…

ডেনমার্ক : ডেনমার্কে অনন্য পদ্ধতিতে উদযাপন করা হয় নববর্ষ। এখানকার মানুষ সারা বছর অব্যবহৃত প্লেট সংগ্রহ করে। এরপর নতুন বছর উপলক্ষে সেগুলো ভেঙে দেন অতিথি ও পরিবারের সদস্যদের সামনে। কথিত আছে, এই কাজের মধ্যে দিয়ে নববর্ষ উপলক্ষে ঘরে সমৃদ্ধি আসে।

ইতালি : ইতালির রীতিও বেশ অন্যরকম। সেখানে নববর্ষ উপলক্ষ্যে লোকেরা তাদের জানালা থেকে পুরনো ঘরের জিনিসপত্র এবং আসবাবপত্র ফেলে দেয়। সেখানকার মানুষের বিশ্বাস, এতে ভাল হয় নতুন বছরের শুরুটা । সেখানকার মানুষ কম্বল থেকে শুরু করে বালিশ পর্যন্ত ফেলে দেয়।

আর্জেন্টিনা : আর্জেন্টিনায় নতুন বছর উদযাপনের রীতিও কিছুটা ইতালির মতোই। ইতালিতে লোকেরা বাড়ির জিনিসপত্র জানালা দিয়ে ফেলে দেয় আর আর্জেন্টিনায় লোকেরা তাদের বাড়িতে রাখা পুরনো নথি এবং কাগজপত্র ফেলে দেয়।

ব্রাজিল : একেবারেই ভিন্নরকম এই দেশে উদযাপনের স্টাইল। এটা বিশ্বাস করা হয় যে নতুন বছর কেমন হবে তা নির্ধারণ করা হয় একজন ব্যক্তির রঙিন আন্ডারওয়্যার দিয়ে। এসব দেশে নববর্ষ উদযাপনের আগেও রং বেছে নেওয়া হয়।

জাপান : সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে শুরু হয় জাপানে নতুন বছরের উদযাপন । জাপানে, রাস্তায় ১০৮ বার ঘণ্টা বাজানো হয় নববর্ষের রাতে। এটি বৌদ্ধ ধর্মের সঙ্গে জড়িত একটি ঐতিহ্য। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ঘণ্টা বাজানোর ফলে মানুষের পাপ দূর হয় এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে। নতুন বছরের নিরিখে এই প্রথাকে খুবই শুভ বলে মনে করা হয়।

বিশ্বকে প্রথম Happy New Year বলে প্রবাল দ্বীপ কিরিবাটি

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: হ্যাপি নিউ ইয়ার। নতুন বছরে সবাই ভাল থাকবেন। প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ কিরিবাটি বাসিন্দারা একথা জানিয়ে দিলেন বিশ্ববাসীকে।

ভৌগোলিক কারণে লন্ডনের গ্রিনিচ মেন টাইম (GMT) থেকে ১৪ ঘন্টা এগিয়ে থাকা কিরিবাটি দ্বীপের কিরিটিমাটি শহরেই বিশ্বে প্রথম ক্যালেন্ডারের পাতা নতুন বছরে ঢুকে পড়ে। বদলে যায় সাল তারিখ।

নারকেল ফুল, ঝিনুক, প্রবাল দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান কিরিটিমাটির বাসিন্দারা। এরপর ঘড়ির কাঁটা ধরে সময় এগিয়ে যাবে, আর তারসঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন দেশে পালিত হবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পালা।

কেমন সে দেশ? সমুদ্র তরঙ্গে জীবন দেখা শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বন্দরে বন্দরে’ যারা পড়েছেন তাদের কাছে মনিমুক্তোর মতো ধরা আছে এই দ্বীপভূমির কথা। যারা অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলম জাদুতে মগ্ন, তারাও পেয়েছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এমন দ্বীপভূমির অনেক কথা। এখানে সাগর ফেনিল জীবন আর প্রবাল রূপের ছটা। 

দ্বীপ দেশ কিরিবাটি। প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ এই দ্বীপের উপকূলে এসে মিলিয়ে যায়। নির্ভয়ে কচ্ছপ আর বিরল সামুদ্রিক প্রাণীরা এখানে ঘুরে বেড়ায়।

এহেন দ্বীপ কিরিবাটির অন্যতম শহর কিরিটিমাটির বর্ষ বরণ কিন্তু ঢাকা পড়ে যায় সিডনি, নিউইয়র্ক, টোকিও, লন্ডনের রোশনাই জৌলুসে। তবে ভৌগোলিক কারণে, ছোট্ট দেশটি সবার আগে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে দেওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রকৃতি দিয়েছে এই উপহার।হা

<

p style=”text-align: justify;”>জার আলোর, কর্পোরেট তামাশার কোনও ক্ষমতাই নেই কিরিবাটি দ্বীপের কিরিটিমাটি শহরের বর্ষবরণকে টেক্কা দেওয়ার।

ধুর মশাই চায়নায় হায়না থাকে না ! ওখানে বাঘ নাচে

News Desk: শীতে কাঁপছে চিন দেশ। তুষারে ঢেকে থাকা চিনের বিস্তির্ণ এলাকা। চিনের শীত কেমন? প্রবল ঠান্ডায় জনজীবন কুঁকড়ে আছে। তাবলে বাঘেরা গা গরম করবে না নাকি! সেরকমই একটি ছবি নিয়ে দুনিয়া জুড়ে হই হই।

চিনা সংবাদমাধ্যম ‘China Daily’ প্রকাশ করেছে পূর্ব চিনের রঙ্গচেঙ্গ বন্যপ্রাণ পার্কের ছবি। সেখানে তুষার ঢাকা সবকিছু। ওয়াইল্ড লাইফ পার্কের চসমা বাঁদর, পান্ডারা যেমন বরফ নিয়ে মত্ত। তেমনই ডোরাকাটা বাঘেরা মেতে রয়েছে।

দুটি চিনা বাঘ বরফের মধ্যে নাচছে। চিনা ওরফে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গলের এমন নৃত্যশৈলীর ছবি দেখে দুনিয়া জুড়ে চলছে আলোচনা। বাঘ কি নাচে নাকি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এটি দুটি বাঘের খেলা। কোনও নাচানাচির ব্যাপার নয়। বরফের মাঝে বাঘ দুটো খেলছে। এদের ভঙ্গীতে নাচের মতো দৃশ্য তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্যভাব। তবে কড়া শাসনের ঘেরাটোপে সেসব এলাকার খবর ঠিক মতো আসছে না। সেই সঙ্গে ছড়িয়েছে করোনা। হু হু করে বাড়তে থাকা সংক্রমণের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহবন্দি। লকডাউন চলছে বেশ কিছু শহরের।

টিলা-নদী-ঝর্ণার মিলনস্থল ঘাটশিলা

নিউজ ডেস্ক: কলকাতা : রেললাইনের সঙ্গে সমান্তরালে বয়ে চলেছে সুবর্ণরেখা। মাঝে রাজপথ। আর সুবর্ণরেখা নদীকে ভর করে শহরের বিস্তার। উপরি পাওনা বিভূতিভূষণের বসতবাড়ি। কাছেই পাণ্ডব পাহাড়ে কালী মন্দির। শাল, আমলকিতে ছাওয়া ডোহিজোড়া, মোসাবনির মনোরম পরিবেশ। দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পাহাড়ি টিলা, সুবর্ণরেখার জলে রক্তিম আভা। আর পাহাড়ি টিলায় সূর্য অস্ত যাওয়ার অসাধারণ দৃশ্য। এইসব কিছু নিয়েই এককথায় রূপবতী ঘাটশিলা। কংক্রিটের ব্যস্ততা আর ক্লান্তি কাটাতে আইডিয়াল ডেস্টিনেশন হতেই পারে ঘাটশিলা। হাতে দু থেকে তিন দিনের ছুটি থাকলেই ঘুরে আসা যায় পাহাড়-ঝর্ণা -নদীর সহাবস্থানে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার এই শহরে। কলকাতা থেকে মাত্র ২১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবর্ণরেখা নদীর ধারের এই স্থানে শায়িত শত শত শিলা। তাই জায়গার নাম হয়েছে ঘাটশিলা। রঙ্কিনী দেবীর মন্দির, চিত্রকূট পাহাড়ের শিবমন্দির, পঞ্চপাণ্ডব পাহাড়, গৌরীকুঞ্জ, কালদিঘি ডাম্প, রাতমোহনা ব্রিজের পাশাপাশি এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ তামার খনি।

কীভাবে যাবেন:

সড়কপথে এবং রেলপথে খুব সহজেই ঘাটশিলা পৌঁছে যেতে পারেন। সকালে হাওড়া থেকে সকাল ৬.৫৫-এর ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরে ৯.৫১ মিনিটে ঘাটশিলা পৌঁছে যান। ঘাটশিলা থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেস দুপুর ৩.৩০ নাগাদ ছাড়ে।

হোটেল ও খাবার দাবার:

ঘাটশিলা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এখানে সাধ্যের মধ্যে অনেক হোটেল পাওয়া যায়। স্টেশনের কাছেই বেশ অনেকগুলি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এখানে নিরামিষ বা আমিষ দুই ধরণের রসনাতৃপ্তি হবে।

শান্ত নির্জন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে একান্তে উপভোগ করা এবং ঝাড়খণ্ডের লুক্কায়িত সম্পদ পরিদর্শনের জন্য আপনাকে আসতেই হবে ঘাটশিলা।

 

বড়দিনে গড় গড় করে চলে যান গড় পঞ্চকোট

নিউজ ডেস্ক: কলকাতা : কর্মব্যস্ত জীবনে কখনও কখনও মন চায় একটু ছুটি। মন চায় শান্তস্নিগ্ধ খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে নিঃশ্বাস নিতে । সপ্তাহান্তে একটু মানসিক শান্তি উপলব্ধির জন্য বন্ধুবান্ধব বা স্বপরিবারে ঘুরে আসুন গড়পঞ্চকোট।

কীভাবে যাবেন :

কলকাতা থেকে ভলভো বাসে করে আসানসোল পৌঁছে যান ঘন্টা তিনেকের মধ্যে । সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বরাকর হয়ে গড়পঞ্চকোট আরও ৪৫ মিনিট । এছাড়াও হাওড়া থেকে ট্রেনে গিয়ে নামতে পারেন বরাকর, অথবা কুমারডুবি অথবা আদ্রা স্টেশনে। বরাকর থেকে গড় পঞ্চকোটের দূরত্ব ২২ কিমি। কুমারডুবি থেকে দূরত্ব ২৬ কিমি। আদ্রা থেকে দূরত্ব ২৩ কিমি। এই তিন স্টেশন থেকেই অটো বা গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যান গড়পঞ্চকোটে। কুমারডুবি সব চাইতে কাছে কিন্তু যোগাযোগ ভাল বরাকর বা আদ্রা কিংবা আসানসোল (৩৪ কিমি) থেকে। গড়পঞ্চকোট বেড়ানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হল বর্ষা বা শীতকাল।

কোথায় থাকবেন :

সরকারি ও বেসরকারি লজ দুইই পাবেন গড়পঞ্চকোটে । উল্লেখযোগ্য সরকারি লজগুলি হল WBFDC গড়পঞ্চকোট নেচার রিসোর্ট – PHE গেস্ট হাউস – পাঞ্চেত রেসিডেন্সি – গড়পঞ্চকোট ইকো টুরিজম ।

নিসর্গ আর ইতিহাস একসঙ্গে বসত করে এখানে।  গড়পঞ্চকোটের গড় ছাড়াও এখানে রয়েছে বিরিঞ্চিনাথের মন্দির, জয়চণ্ডী পাহাড়, বড়ন্তিতে মুরারডি লেক, কল্যাণেশ্বরী মন্দির। রয়েছে গড়পঞ্চকোট পাহাড়। পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে রয়েছে টেরাকোটা, জোড়বাংলো, পাঁচচুড়োর ৯টি মন্দির, গোপন কুটুরি, সুড়ঙ্গ। আর লাল মাটির পথ ধরে গেলে পাবেন আদিবাসীদের গ্রাম।  তাঁদের ঘরসংসার। এক সময় মাইকেল মধুসূদন এখানে চাকরি করতেন পঞ্চকোট রাজার এস্টেট ম্যানেজার হিসাবে। ইতিহাসবিদদের অনুমান রাজা দামোদর শেখর তার রাজ্যের পাঁচ প্রধান জাতিকে চিহ্নিত করতে রাজ্যের নাম রাখেন পঞ্চকোট । আর রয়েছে কাশীপুর রাজবাড়ি। মুঘল আক্রমণের সময় পঞ্চকোট রাজারা তাঁদের গড় কাশীপুরে স্থানান্তরিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। লাল ইঁট, পাথর ও কাঠের তৈরি এই রাজবাড়ির স্থাপত্য ও শিল্পকলা অসাধারণ। আর রয়েছে প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর রূপ। আর সেই রূপ চাক্ষুষ করতে দিন দুই ছুটি নিয়ে একবার ঘুরেই আসুন গড়পঞ্চকোট।

সাধ্যের মধ্যে দাম, দেখে নিন কলকাতায় কেকের সেরা ঠিকানাগুলি

News Desk :  কলকাতায় শুরু বড়দিনের আমেজ। অ্যালেন পার্কে বড়দিনের সূচনাও হয়ে গিয়েছে। এবার শুধু উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষা। আর বড়দিনের আনন্দে মেতে উঠতে কেক মাস্ট।  তাহলে চিনে নেওয়া যাক শহরের প্রসিদ্ধ কেকের দোকানগুলি।

নাহমস  : নিউমার্কেট এলাকার বিখ্যাত কেকের দোকান নাহমস। সাল ১৯০২, নাহুম ইজরায়েল মর্দখয় নামে এক ইহুদি কলকাতায় প্রথম কেকের ব্যবসা করবেন বলে স্থির করেন। কিন্তু প্রথমে তা দোকান কেনার মতো আর্থিক সামর্থ না থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়েই কেক-পাউরুটি বিক্রি করতে শুরু করেন। এরপর ১৯১৬ সালে তৎকালীন হগ মার্কেট অর্থাৎ নিউ মার্কেটে একটি কেকর দোকান খোলেন নাহুম। সেই শুরু পথচলা।  প্রতিবছরই বড়দিন উপলক্ষ্যে এখানে মেলে বিশেষ কেকের সম্ভার। দোকান খোলা থাকে রাত ৯টা পর্যন্ত। কেকের দাম ৬০ টাকা থেকে শুরু।

ফ্লুরিজ: নাহুমসের পর কলকাতার বুকে অবস্থিত আর একটি কেকের স্বর্গরাজ্য হল ফ্লুরিজ। সাল ১৯২৭। এক সুইস দম্পতি, জোসেফ ফ্লুরি ও ফ্রেডা ফ্লুরি পার্ক স্ট্রিট এলাকায় একটি ছোট্ট একটি চায়ের দোকান শুরু করেন। যার নাম রাখেন ফ্লুরিজ। সেখান থেকে শুরু হয়ে আজ যত দিন এগিয়েছে ততই আকারে বেড়েছে এই রেস্তোরাঁ। এমনকী উত্তম কুমারও প্রায়শই যেতেন এই কেকের দোকানে। তবে কেক ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের প্যাটি, পেস্ট্রিরও বিপুল সম্ভার রয়েছে এখানে। 

ল্যান্ড অব কেক: ল্যান্ড অব কেকের দেখা মিলবে বাগুইহাটি চত্বরে। এছাড়াও কলকাতার আরও জায়গায় রয়েছে এদের শাখা। কেক মিলবে ২৫০ টাকা থেকে। স্বাদে গুণে এই কেকের এক কথায় জুরি মেলা ভার।

দ্য ফ্রেঞ্চ লোফ- কেক-এর জগতে এক অনন্য নাম দ্য ফ্রেঞ্চ লোফ। বন্ধু-বান্ধব বা কাছের মানুষের সঙ্গে একটা সুন্দর মুহূর্ত কাটতে পারে এর আউটলেটে। সাধ্যের মধ্যে নানা ধরনের কেকের সম্ভার রয়েছে এর আউটলেটগুলিতে। তবে কেকের পাশাপাশি বিভিন্ন স্যালাড ও স্যান্ডউইচের অনেক ধরণ রয়েছে এখানে। 

কুকি জার- কুকি জার নামে কুকি জার হলেও এখানে সুস্বাদু কেকেরও বিরাট অপশন রয়েছে। ক্যাপুচিনো পেস্ট্রি, চকোলেট পেস্ট্রি এবং চকোলেট স্লাইস এখানে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ক্রিসমাসের সন্ধেটা আরও রোমান্টিক হয়ে উঠুক কুকি জারের আউটলেটে। 

দ্য বেকরি: ধর্মতলা চত্বরে দ্য বেকারি অবস্থিত। ললিত গ্রেট ইস্টার্নের এই আউটলেটে মিলবে অনবদ্য স্বাদের বিভিন্ন ফ্লেভার কেক। ফিউসন কেকের জন্য বিখ্যাত এই দোকান। খোলা থাকে সকালর সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।

কেকস: শহরের একাধিক জায়গায় অবস্থিত এই বেকারি। দাম সাধ্যের মধ্যে। অনবদ্য কেকের স্বাদ। ধর্মতলা চাদনি চত্বর সহ শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় মিলবে এই কেক শপের আউটলেটের দেখা। খোলা থাকে সকাল নটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত।

জাস্ট বেকড: জাস্ট বেকড শহরের এখন এক অতিপরিচিত নাম। বড়দিন উপলক্ষ্যে এরাও বাড়িয়ে তুলল নিজেদের কেকের সম্ভার। দাম ৭০ টাকা থেকে শুরু। দোখান খোলা থাকে সকাল ৮টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত।

মিয়া ওমোরে: সারা বছরই মিয়া ওমোরে-তে কেকের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। প্রতিবছরই বড়দিন উপলক্ষ্যে বিশেষ ফ্রুট কেক বানায় এই সংস্থা, প্রতিটি শাখার বাইরেই আলাদা স্টল করে বিক্রি করা হয় সেই কেক। 

ক্যাথলিন: শহরের একাধিক জায়গায় অবস্থিত এই কেকের দোকান। দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু। সারা বছরই এখানে পাওয়া যায় ফ্রুটকেক। বড়দিন উপলক্ষ্যে এরাও সেজে উঠেছে নয়া লুকে। তাহলে কেকের গন্ধে আর স্বাদে এবার জমে উঠুক বড়দিনের সন্ধে।

ওমিক্রন আতঙ্কের মাঝেই ছ’হাজারের গন্ডি পেরোল দেশের দৈনিক সংক্রমণ

Omicron Already Here

News Desk, New Delhi: গতকালের তুলনায় বাড়ল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। একলাফে পেরিয়ে গেল ৬ হাজারের গন্ডি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুধবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩১৭ জন। করোনায় একদিনে মৃতের সংখ্যা ৩১৮।

গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৯৬ জন, এখনও পর্যন্ত করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৪২ লক্ষ ১ হাজার ৯৬৬ জন। দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪৮১ এবং করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩২৫।

ভারতে সুস্থতার হার ৯৮.৪০ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা টিকাকরণের সংখ্যা ৫৭ লক্ষ ৫ হাজার ৩৯। দেশে মোট করোনা টিকাকরণের সংখ্যা ১৩৮ কোটি ৯৫ লক্ষ ৯০ হাজার ৬৭০।‌

Tyre House in West Bengal: টায়ার হাউসে কাটিয়ে আসুন একদিন

Tyre House in West Bengal

NEWS DESK : মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে ভারতের প্রথম টায়ার হাউস (Tyre House in West Bengal)। এই শীতের মরশুমে আপনি ঘুরে আসতেই পারেন মন্দারিকা ইকো রিসর্টে। আসলে বাঙালি তো বরাবরই ভ্রমণ প্রিয়। তারওপর সময়টা যদি হয় শীতকাল। তাহলে তো কথাই নেই। মন তো উ়ডুউড়ু করবেই। কিন্তু এই ইচ্ছেটায় বাধ সাধে অফিসের ছুটি। বসকে রাজি করিয়ে ছুটি পাওয়ায় সমস্যা।

কুচ পরোয়া নেহি। অফিসে বসের মন আর নিজের মন দুইই ভাল রাখাতে, সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসা যায় এমন একটি ঘুরতে যাওয়ার নতুন জায়গা মন্দারিকা ইকো রিসর্ট। মনের মানুষ, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের জন্য ছুটি কাটানোর পারফেক্ট জায়গা। আর যদি একদিনে ছুটি হয়, তাহলেও মন্দারিকা আপনাকে নিরাশ করবে না। রিসর্ট ছেড়ে একটু এগলেই আপনি ঘুরে আসতে পারেন রাজ রাজেশ্বরী মন্দির, দ্বারকা মন্দির,রাধা গোবিন্দ মন্দির, বেঙ্গল তাঁত ঘরে। প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারেন এই স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। একান্তে সময় কাটাতে পারেন মনের মানুষের সঙ্গে।

Tyre House in West Bengal

কীভাবে যাবেন:
ডানলপ – বালি ব্রিজ থেকে বাঁদিকে ডানকুনি মোড় হয়ে, আরামবাগ- চণ্ডীতলা-সিয়াখালা থেকে বাঁদিকে পড়বে গজার মোড়। সেখান থেকে এক কিলোমিটার ডান দিকে গেলে পড়বে দ্বারহাত্তা বাবু পাড়া। তারপরেই মন্দারিকা ইকো রিসর্ট।

রুমের ভাড়া: (২৪ ঘন্টা থাকলে ভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে)
১. ডবল বেড এসি রুম (৫জন)- ২৫০০ টাকা
২. ত্রিপল বেড এসি রুম (৭জন)-৩০০০ টাকা
৩. ফোরবেড নন এসি (১২জন)-৩০০০টাকা

জলখাবার থেকে রাতের খাবার এক একজনের জন্য লাগবে ৮০০ টাকা। এর মধ্যে পেয়ে যাবেন মাছ, মাংস সব কিছু। নিরামিষ খাবারেরও সুব্যবস্থা আছে। সেক্ষেত্রে দাম কিছুটা কম হবে। তাহলে আর দেরি না করে একদিনেই স্বল্প খরচে ঘুরে আসুন মন্দারিকা ইকো রিসর্ট।

Madhya Pradesh: ৪০০ বছরে ওই গ্রামে কোন শিশুর জন্ম হয়নি

Sanka Shyam Ji village

নিউজ ডেস্ক: নিয়ম নেই গ্রামের মধ্যে কোনও শিশুর জন্ম (child birth) দেওয়ার। ৪০০ বছর ধরে এমনই প্রথা চলে আসছে চলে আসছে মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামে । কুসংস্কার এই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, গ্রামের লোকজন বিশ্বাস করে এই গ্রামের ভেতরে কোনও মা তাঁর সন্তানের জন্ম দিলে, মা এবং সন্তান উভয়েরই মৃত্যু হবে। না হলে ভূমিষ্ঠ হবে বিকলাঙ্গ সন্তান ।

একবিংশ শতাব্দীতে আজকের আধুনিক যুগেও ৪০০ বছর ধরে এই অন্ধবিশ্বাস বহন করে আসছে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সানকা শ্যামজি গ্রাম। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শেষবার কোনও মহিলা গ্রামেই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন ৪০০ বছর (four hundred years ago) আগে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে যে, তাদের গ্রাম “অভিশপ্ত” এবং যদি কোনও মহিলা এখানে সন্তানের জন্ম দেন তাহলে তার সঙ্গেই অভিশাপ নেমে আসবে গোটা গ্রামে।

রাজ্যের রাজধানী ভোপাল (bhopal) থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে রাজগড়ের সানকা শ্যামজি গ্রামে কোনও লিখিত নিয়ম নেই। তবে গ্রামের মধ্যে মহিলাদের সন্তান প্রসবেরও কোনও অনুমতি নেই। তাই পরিবার ও সন্তানের মঙ্গল কামনায় মহিলাদের সন্তানের জন্ম দিতে যেতে হয় নিজেদের গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য কোনও গ্রামে। সেখানে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর গ্রামের মুরুব্বিদের অনুমতি নিয়ে তবেই মা ও সন্তান গ্রামে প্রবেশের ছাড়পত্র পায় ।

গ্রামের সরপঞ্চ জানান, এখন অবশ্য বেশিরভাগ প্রসবই হয় হাসপাতালে। সেক্ষেত্রে শিশুর জন্ম এলাকার গ্রামীণ হাসপাতালে না হয়ে গ্রামের বাইরের কোনও হাসপাতালে হয়। জরুরি ক্ষেত্রে, এমনকী, খারাপ আবহাওয়াতেও মহিলাদের সন্তান প্রসবের জন্য গ্রামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্ধ বিশ্বাসের এমনই চাপ। অবাক করার বিষয় হল, স্থানীয় প্রশাসনও গ্রামবাসীদের সচেতনতা বাড়াতে তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ফলে এই অযৌক্তিক প্রথা শেষ হওয়ারও কোনও লক্ষণ নেই মধ্যপ্রদেশের এই অখ্যাত গ্রামে।

বাস্তবের ‘সিধুজ্যাঠা’ই ছিলেন কলকাতার শেষ ‘বাবু’

Satulbabu

Online Desk: প্রায় আড়াইশো কিংবা তিনশো বছর আগে শহর কলকাতায় শুরু হয়েছিল এক নতুন আভিজাত্য। যার পোশাকি নাম ‘বাবু কালচার। যদিও নবাবের আমলে ‘বাবু’ ছিল একটি বিশেষ উপাধি, নবাবের অনুমতি ছাড়া যা নামের আগে ব্যবহার করা যেত না। সাধারণত নবাবের অনুগত শিক্ষিত অভিজাত ধনীরাই এই উপাধি লাভ ব্যবহারের অনুমতি পেত।

আরও পড়ুন নয় দশক পেরিয়েও বঙ্গ জীবনের অঙ্গ বোরোলিন

ব্রিটিশ আমলে আবার এক নতুন অভিজাত শ্রেণীর তৈরী হল। নবাব আমলের শিক্ষাকে ছাপিয়ে গেল অর্থ। অর্থাৎ ব্রিটিশ আমল থেকে বাবুর সমার্থক হয়ে উঠলো অর্থ। শিক্ষা বা বংশ পরিচয় নয়। ফলে ব্যবসা বা অন্য উপায়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে রাতারাতি বাবুর সংখ্যা বেড়ে গেল তিলোত্তমায়। আর তাতে মদত দিয়েছিল খোদ ব্রিটিশ সরকার, কারণ এই বাবুদের হাতের মুঠোয় রাখতে পারলে সমাজে খুব সহজেই ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তি কায়েম করা যাবে। ফলে জন্ম হল বেশ কিছু নতুন উপাধিরও।রাজা, রায়, রায় চৌধুরী, রায় বাহাদুর ইত্যাদিতে ভরে গেল কলকাতা সহ গোটা বাংলা।

এই ঘরগুলিতেই বসত বাবুদের জন্য বাঈজিনাচের আসর।পানের মাত্রা বেড়ে গেলে বাঈজিদের কটি দুলিয়ে নাচতেন বাবু’রাও।

আর বাবু হওয়ার প্রধান শর্ত তখন বেহিসেবি জীবন। দামি গাড়ি, লক্ষ টাকার বাঈজি, পায়রা ওড়ানো, রক্ষিতাদের বাড়ি করে দেওয়া, ফি শনিবার বেশ্যাদের নিয়ে আসর বসানো, মদ খেয়ে রাতের পর রাত কাটানো ছিল এই বাবুদের প্রধান কাজ। আবার অনেকে এই জীবনযাপন করতে গিয়ে সর্বসান্তও হয়েছিলেন। মোট কথা শুধু ভোগ নয়, বাবুদের লোভ ছিল খ্যাতিরও। তাই দিনের পর দিন চলত টাকা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা।

আরও পড়ুন পচাত্তর পেরিয়ে আজও বাঙালির প্রিয় শালিমার

এই বাবুদের বর্ণণা দিতে গিয়ে সাহিত্যিক শিবনাথ শাস্ত্রী লিখেছেন, ‘বাবুরা দিনে ঘুমাইয়া, ঘুড়ি উড়াইয়া, বুলবুলির লড়াই দেখিয়া, সেতার, এসরাজ, বীণা প্রভৃতি বাজাইয়া, ফুল আখড়াই, হাফ আখড়াই, পাঁচালী প্রভৃতি শুনিয়া রাত্রিকালে বারাঙ্গনাদিগের (বেশ্যা) গৃহে গৃহে গীত-বাদ্য ও আমোদ-প্রমোদ করিয়া কাল কাটাইত।’

আরও পড়ুন ‘সুলেখা কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো।’, বিজ্ঞাপনে লিখেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকবি

অবশ্য শুধু শৌখিনতা করে বৃথা টাকা ব্যয়ই নয়, বাবুরা তোল্লাই দিত কৃষ্ঠি, সংস্কৃতিকেও। বেহিসেবি জীবনযাপন করলেও নাটক, বাংলা গান, যাত্রাপালা, চলচ্চিত্র বাবুদের অর্থ সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্ভব ছিল না। তাছাড়াও নবাবের আমল থেকেই শুধু পয়সাওয়ালাই নয়, বেশ কিছু শিক্ষিত সম্প্রদায়ের তরুণও হয়ে উঠেছিলেন ‘বাবু’। উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্যরা কিংবা কলকাতার নীলমনি হালদার, রামতানু দত্ত, গোকুলচন্দ্র মিত্র, রাজা রাজকৃষ্ণ, ছাতুবাবু, লাটুবাবুরা রীতিমতো তোল্লাই দিতেন শিল্পচর্চাকে।

Radha Prasad Gupta (left) with Satyajit Ray.
প্রিয় বন্ধু মানিকের (সত্যজিৎ রায়) সঙ্গে রাধাপ্রসাদ গুপ্ত (বাঁ’দিকে)

কলকাতার বাবু কালচারের শেষ ধারক যাকে বলা হয় সেই ‘শাঁটুলবাবু’ও ছিলেন এই দ্বিতীয় পর্যায়েরই একজন। পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সুহৃদ, চল্লিশের দশকে কলকাতায় তাঁর মতো প্রতিভাধর লোক খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। ভালো নাম রাধাপ্রসাদ গুপ্ত, নেশায় ছিলেন লেখক-গবেষক। পড়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিষয়ের বাছবিচার ছিল না। প্রায় প্রত্যেক বিষয়েই ছিল অসামান্য জ্ঞান। শোনা যায়, তাকে দেখেই ‘সিধুজ্যাঠা’র ভাবনা মাথায় এসেছিল প্রিয় বন্ধু মানিকের।

রাধাপ্রসাদ গুপ্ত ওরফে শাঁটুলবাবুকে দেখেই ‘সিধুজ্যাঠা’র ভাবনা মাথায় এসেছিল প্রিয় বন্ধু মানিকের।

মাঝেমধ্যে নিজেকে লেখক বললেও শাঁটুলবাবুর বইয়ের সংখ্যা তিন। প্রথমদুটি তাও আকারে একটু বড়সড়। শেষেরটি বটতলার আদলে সাইজেও ছোট। যদিও বিদ্যাচর্চার দিকে ঝোঁক থাকলেও নিজেকে বেহিসেবি, আড্ডাবাজ বলে পরিচয় দিতেও পছন্দ করতেন তিনি। আড্ডাবাজ শাঁটুলবাবু সম্বন্ধে তাঁর বন্ধু এবং আরেক আড্ডাবাজ কুমারপ্রসাদ লিখেছেন, “একবার শাঁটুল দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর বালিগঞ্জে আমার বাড়িতে এলেন পণ্ডিতিয়া রোড থেকে। এসেই বললেন, “আর বলবেন না, কী মুশকিল মশায়, সাড়ে চারটের মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে, একটা ছোঁড়া পরতে আসবে শালকে থেকে।” যথারীতি ট্রাম স্টপেজে এগিয়ে দিতে গেলাম চারটে নাগাদ। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে একটু দেরি হয়ে গেল, উনি প্রায় শেষ ট্রাম ধরলেন রাত সাড়ে দশটায়!

আরও পড়ুন কালের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস

সেই বাবু কালচার, তাদের আড্ডা, আড্ডার প্রোটাগনিষ্ট বিষয় সমস্ত সম্পর্কে বিশদে লিখে গিয়েছেন রাধাপ্রসাদ গুপ্ত। তাঁর ‘আমাদের যুবাকালের আড্ডা: ঝাঁকিদর্শন’ বইটিতে পাওয়া যায় সে যুগের একটুকরো কলকাতা, চায়ের ঠেক এবং নিঁখাদ আড্ডা।

তথ্যঋণ : গুরুচন্ডালি, টইপত্তর

Woman Motorcycle Racer: পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতের দ্রুততম মহিলা বাইক রেসার কল্যানী

Meet Kalyani Potekar

শর্মিষ্ঠা চ্যাটার্জী: ভারতের মতো দেশে প্রাচীন কাল থেকেই যে মেয়েদেরকে (Woman) নানা শর্তের দ্বারা বেঁধে দেওয়া হতো তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। যেকোনো ক্ষেত্রেই সমাজে মেয়েদের প্রথম থেকেই নানা নিষেধাজ্ঞা মেনে সব কাজ করতে হতো।

সর্বোপরি এটাই বোঝানোর চেষ্টা চলত যে মেয়েরা পুরুষদের সমকক্ষ কখনোই হতে পারে না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাই মেয়েদের অবদমিত করেই রাখা হতো। যুগ যত এগিয়েছে তত মানসিকতার পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটেছে। মেয়েরা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে একুশ শতকে মেয়েরা নিজেদের সবক্ষেত্রেই প্রমাণিত করেছে। এমনই একজন সাহসী মেয়ের সাথে আজ পরিচয় করাবো যিনি তাঁর কাজের দ্বারা করে দেখিয়েছেন মেয়েরাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।

Meet Kalyani Potekar

একটা সময় মোটর সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে মনেই করা হতো কেবলমাত্র পুরুষরাই অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এই নির্ভীক মেয়ে প্রমাণ করেছেন যে মেয়েরা এগিয়ে আসলে তারাও পারে। ২৭ বছরের কল্যানী পটেকর ভারতের সকল মেয়েদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে সেই কাজ করে দেখিয়ে। মধ্যপ্রদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কল্যানী। তিনি বর্তমানে ভারতের দ্রুততম মহিলা মোটর বাইক রেসারের খ্যাতি অর্জন করেছেন।

সম্প্রতি তিনি বুধ ইন্টারন্যাশানাল সার্কিট এর সম্পূর্ণ একটি ল্যাপ পূরণ করেছেন মাত্র ২.০৮ মিনিটে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এত অল্প সময়ের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ করে তিনি পূর্বের ২.১৬ মিনিটের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন সেইসঙ্গে সমাজের মেয়েদের নিয়ে যে প্রচলিত ধারণা তা ভেঙে দিয়েছেন।

আমাদের ভারতের মত দেশে একজন মেয়ে হয়ে বাইক রেসিংকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা ভাবাই যায়না। মূলত মনে করা হয় বাইক রেসিং পুরুষদের কাজ। কিন্তু ছোট থেকেই কল্যাণীর মূল অনুপ্রেরণা দাতা ছিলেন তাঁর বাবা। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে কল্যানীকে তাঁর বাবাই প্রথম বাইকে কিভাবে চড়তে হয় তার সাথে সাক্ষাৎ করিয়েছিলেন।

২০১৩ সালে যখন কল্যাণীর স্নাতকের শেষ বর্ষ চলছিল তখন প্রথম সে বিশ্বের সবথেকে কঠিনতম বাইকিং সমাবেশ ‘রেড দি হিমালয়া’ তে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর তারপরেই তাঁর সার্কিট রেসিংয়ে প্রবেশ ঘটে।

২০১৭ সালে সে প্রথম ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাঁর বাইক রেসিং এর সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতকে নানা প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করে। স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় তাঁর।

<

p style=”text-align: justify;”>ছোট থেকে পরিবারের সম্পূর্ণ সমর্থনে এতদূর রাস্তা আসতে পেরেছিল কল্যানী পটেকর। যেখানে সমাজে লিঙ্গ বৈষ্যম্যতা দেখিয়ে মেয়েদের দমিয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেখানে কল্যানী করে দেখিয়ে নজির গড়েছে মেয়েদের জন্য। পরবর্তী প্রজন্ম তাকে দেখে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা পাবে।

Pulwama: জঙ্গিহানায় শহিদ জওয়ানের বোনের বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাল সহকর্মীরা

CRPF soldiers walked Constable Shailendra Pratap Singh's sister

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: গতবছর পুলওয়ামায় (Pulwama) কর্তব্যরত অবস্থায় জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান শৈলেন্দ্র প্রতাপ সিং (Shailendra Pratap Singh)। সিআরপিএফ-এর ১১০ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন শৈলেন্দ্র প্রতাপ। সোমবার ছিল শৈলেন্দ্রর বোন জ্যোতির বিয়ে। 

পরিবারের অন্যতম রোজগেরে সদস্য শৈলেন্দ্রকে হারিয়ে কিভাবে জ্যোতির বিয়ে হবে তা নিয়ে তার পরিবারের চিন্তার শেষ ছিল না। জ্যোতির বাবা যথেষ্টই বৃদ্ধ হয়েছেন। মেয়ের বিয়ের জন্য আর ছুটোছুটি করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। এই অবস্থায় জ্যোতির বিয়ের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন শৈলেন্দ্রর সহকর্মীরা। শৈলেন্দ্র সহকর্মীরা সকলেই সোমবার ছুটে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশে।

বোনের বিয়েতে দাদার যে কর্তব্য পালন করা উচিত শৈলেন্দ্র সহকর্মীরা জ্যোতির বিয়েতে সোমবার তার পুরো দায়িত্বই বহন করেছেন। সিআরপিএফ জওয়ানরা টুইট করে যে সমস্ত ছবি প্রকাশ করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সেনাবাহিনীর পোশাকেই জ্যোতির বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শুধু বিয়ের আচার-আচরণ পালন নয়, অথিতি অভ্যাগতদের আপ্যায়ন থেকে তাঁদের খাওয়া-দাওয়া সব দিকেই ছিল জওয়ানদের সজাগ দৃষ্টি।

শৈলেন্দ্রর সহকর্মীদের এই ব্যবহারে রীতিমতো আপ্লুত হয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা। শৈলেন্দ্রর বাবা জানিয়েছেন, আমার ছেলে আজ এই দুনিয়ায় নেই। কিন্তু আমি আজ বহু সিআরপিএফ জওয়ানকে নিজের ছেলে হিসেবে পেয়েছি। তাঁরা আজ আমার বা আমার পরিবারের জন্য যা করেছেন তা আমি সারা জীবনেও ভুলব না। জঙ্গিরা আমার এক ছেলেকে কেড়ে নিয়ে অনেক ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। জওয়ান দাদাদের কথা বারবার বলেছেন সদ্য বিবাহিত জ্যোতি। তিনি বলেছেন, দাদারা না থাকলে হয়তো আমার বিয়েটাই হত না। ওঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। জওয়ান দাদাদের ভূমিকায় নতুন জামাইও বাকহারা।

শৈলেন্দ্রর সহকর্মীরা অবশ্য তাঁদের এই কর্তব্য পালনকে বিশেষ কোনও গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাঁরা পাল্টা বলেছেন, জ্যোতিও আমাদের বোন। তাই বোনের বিয়েতে যা করা দরকার তাঁরা শুধুমাত্র সেটুকুই করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর শ্রীনগরে জঙ্গিরা টহলরত জওয়ানদের ওপর আচমকাই গুলি চালায়। ওই ঘটনায় দুইজন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর জখম হয়েছিলেন ৫ জন।

Laungi Bhuiyan: দশরথের পথে ৩০ বছর ধরে একা খাল কেটে গ্রামে জল আনলেন লোঙ্গি ভুঁইয়া

Laungi Bhuiyan

বিশেষ প্রতিবেদন: বিহারের দশরথ মাঝির কথা গোটা বিশ্ব জানে। দশরথের মতোই অসাধ্য সাধন করেছেন বিহারের গয়ার কোঠিওয়ালা (Kothiwala village) গ্রামের লোঙ্গি ভুঁইয়া (Laungi Bhuiyan)। গয়া থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়-জঙ্গল দিয়ে ঘেরা এক গ্রাম কোঠিওয়ালা।

কিন্তু এই গ্রামে সবকিছু থাকলেও ছিল না জল। পর্যাপ্ত জলের (watet) অভাবে গ্রামবাসীদের (villagers) সমস্যার অন্ত ছিল না। একটু পানীয় জলের জন্য গ্রামের মেয়ে বউদের প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার দূরে যেতে হত। জলের অভাবে হত না চাষবাস। ফলে দারিদ্র্য ও অভাব ছিল এই গ্রামের নিত্যসঙ্গী। যাদের একটু পয়সা ছিল তারা অনেকেই এই গ্রাম ছেড়ে শহরে উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

কিন্তু এত সহজে হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না লোঙ্গি ভুঁইয়া । গ্রামে জল আনতে তিনি একাই এগিয়ে আসেন। কাটতে শুরু করেন তিন কিলোমিটার লম্বা একটি খাল। প্রথমে গ্রামের আরও কয়েকজন তরুণকে তিনি খাল কাটার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আর কেউই খাল কাটতে এগিয়ে আসেনি। সকলেই এটাকে বেগার খাটা বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এই অবস্থায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লোঙ্গি সকালে কিছু খাবার খেয়ে পোষ্য গরু-ছাগলগুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন।

অবশ্যই সঙ্গে থাকত কোদাল ও ঝুড়ি। এভাবেই দেখতে দেখতে চলে যায় ৩০ টা বছর। গ্রামের অনেকেই তাকে পাগল বলত। কেউবা বলত ভূতের বেগার খাটছেন লোঙ্গি। যদিও কোঠিওয়ালা গ্রামে জলের অভাবে চাষবাস প্রায় হত না বললেই চলে। তবে লোকে যে যাই বলুক, লোঙ্গি তাঁর লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। জঙ্গলে গিয়ে প্রথমে তাঁর পোষ্যগুলিকে ছেড়ে দিয়ে খাল কাটতে শুরু করতেন লোঙ্গি। এইভাবে দিনের পর দিন খাল কাটতে কাটতে গড়িয়ে যায় মাস, কেটে যায় বছর। দীর্ঘ ৩০ বছর পর হঠাৎই শেষ হয় খালকাটা। খালের মুখ জুড়ে যায় নদীর সঙ্গে।

লোঙ্গি জানিয়েছেন, বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও পাহাড় বা নদীতে থেকে গ্রামে জল আসার কোনও সুযোগ ছিল না। সে কারণেই তিনি এই খাল কাটার সিদ্ধান্ত নেন। খাল কাটার ফলে এখন পাহাড়ি নদী থেকে জল সরাসরি চলে আসছে কোঠিওয়ালা গ্রামে। তবে শুধু এই একটি গ্রাম নয়, লোঙ্গির এই খালের জলে উপকৃত হবেন আরও পাঁচটি গ্রামের মানুষ। এই পাঁচটি গ্রামের মাঠও হয়েছে শস্য-শ্যামল। যা দেখে এখন জুড়িয়ে যায় চোখ। শুধু চাষবাস নয়, গ্রামবাসীরা ওই খালে মাছ চাষ করতে পারবেন বলে দাবি করলেন ৭২ বছরের তরুণ লোঙ্গি। সামান্য একটা খাল গোটা গ্রামের দারিদ্র দূর দূর করবে বলে জানালেন এই বাহাত্তুরে তরুণ। লোঙ্গির কাটা এই খালে পাহাড় থেকে নেমে আসা বর্ষার জল যেমন গ্রামে ঢুকবে তেমনই পাহাড়ি নদীর জলও নিয়মিত আসবে।

লোঙ্গির এই অবদান স্বীকার করে নিয়েছেন বিনোদ ঝা নামে ওই গ্রামেরই এক ব্যক্তি। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লোঙ্গি একাই এই খাল কেটেছেন। জঙ্গলের মধ্যে লোঙ্গি দিনের পর দিন একা একা কী করছিলেন সেটা আমরা কেউই বুঝিনি। আজ বুঝতে পারছি লোঙ্গি কত বড় একটা কাজ করেছেন। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল কাটার ফলে আশপাশ এলাকার একাধিক গ্রামের সুবিধা হবে। চাষবাস করতে পারবে গ্রামের মানুষ।

<

p style=”text-align: justify;”>সিং নামে ওই এলাকার এক শিক্ষক বলেছেন, এই খাল কাটার জন্য কোনও প্রশংসাই লোঙ্গির জন্য যথেষ্ট নয়। লোঙ্গির এই কাজে প্রচুর মানুষের উপকার হবে। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকার চেহারা লোঙ্গি একার হাতেই পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর এই অবদান এলাকার মানুষ কোনও দিন ভুলতে পারবে না।

ভারতের দুনিয়াকে বোকাবাক্সে বন্দি করা শুরু দূরদর্শনের মাধ্যমেই

Sarla Maheshwari, Salma Sultan, Sheila Chaman, Minu Talwar

বিশেষ প্রতিবেদন: ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ধাক্কায় সিনেমার পাশাপাশি টিভি দেখার প্রবণতা কমেছে। পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের মতো সর্বত্রই এখন নেটফ্লিক্স, হটস্টার-এর রমরমা। আর দূরদর্শন? এমন বলে টিভিতেও কোনও চ্যানেল আছে জানেই না আজকের জেনারেশন। অথচ সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল ভারতের মানুষের পৃথিবীকে ঘরবন্দি করার প্রথম পদক্ষেপ। আজ সেই দূরদর্শনের জন্মদিন। 

১৯৫৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লীতে একটি অস্থায়ী স্টুডিও বানিয়ে প্রথম পথ চলা শুরু হয়েছিল দূরদর্শনের। তখন এটি পরীক্ষার পর্যায়ে ছিল। এটির নামকরণ করা হয়েছিল টেলিভিশন ইন্ডিয়া। সেখান থেকে দিল্লিস্থিত টাওয়ারের মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে খুব স্বল্প সময়ের জন্য আরম্ভ হয় প্রথম সম্প্রচার। পরে ১৯৭৫ সালে টেলিভিশন ইন্ডিয়ার নাম পরিবর্তন করে হয়েছিল দূরদর্শন।

১৯৬৫ সালে, দৈনিক প্রোগ্রামগুলি দূরদর্শন নিয়মিত প্রচার করতে শুরু করে। পাঁচ মিনিটের একটি নিউজ বুলেটিনও শুরু হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে টিভি সম্প্রচারের বৃদ্ধি খুব ধীর ছিল। ১৯৭৫ সালের মধ্যে কেবল সাতটি শহরেই সম্প্রচার শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। ১৯৮২ সালে রঙিন টিভি বের হয় এবং এশিয়ান গেমসের সম্প্রচার তার জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। এখানেই টিভির রূপান্তর ঘটেছিল।

নতুন প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে প্রোগ্রামগুলি সকালে এবং তারপরে বিকেলে সম্প্রচার শুরু হয়। সপ্তাহে দু’বার চিত্রহার এবং রবিবার সন্ধায় রঙ্গোলি ও কৃষি দর্শনের জনপ্রিয়তার সাথে আজকের প্রোগ্রামগুলির কোনও মিল পাওয়া যায় না। ১৯৬৬ সালে শুরু হওয়া কৃষি দর্শন দেশে সবুজ বিপ্লব আনতেও ভূমিকা রেখেছে। আজ ২ টি জাতীয় এবং ১১ টি আঞ্চলিক চ্যানেল সহ দূরদর্শনের মোট ২১ টি চ্যানেল সম্প্রচারিত হয়। এটি ১৪ হাজার গ্রাউন্ড ট্রান্সমিটার এবং ৪৬ স্টুডিও সহ দেশের বৃহত্তম সম্প্রচারক। ঘটনা হল, যতই অন্যান্য মাধ্যমের রমরমা হোক এখনও ১৫ আগস্ট কিংবা ২৬ জানুয়ারির প্রোগ্রাম দেখতে গেলে ভরসা ডিডি।

১৯৫৯ সালে প্রারম্ভিক পর্যায়ে প্রথম সম্প্রচার শুরু হওয়ার পরে ১৯৬৫ সালে আকাশবাণীর একটি অংশ হিসেবে আরম্ভ হয় দূরদর্শনের নিয়মিত সম্প্রচার এবং ১৯৭২ সালে ভারতের টেলিভিশন পরিষেবা মুম্বই (তদানীন্তন “বম্বে”) এবং অমৃতসর পর্যন্ত পরিবর্ধিত হয়। এরপর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মোট সাতটি শহর দূরদর্শন পরিষেবার আওতাভুক্ত হয়। ১৯৭৫ সালের ৯ অগস্ট কলকাতায় প্রথমবারের জন্য স্থাপিত হয় “দূরদর্শন কেন্দ্র”। ১৯৭৬ সালে দূরদর্শনকে আকাশবাণী থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বতন্ত্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিষেবায় রূপান্তরিত করা হয়। নয়াদিল্লিতে আকাশবাণী এবং দূরদর্শনের নিজস্ব কার্যালয়ে দু’জন পৃথক অধিকর্তা নিযুক্ত হন।

১৯৫৯ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর স্টুডিওতে একটি ছোট ট্রান্সমিটার ও অস্থায়ী স্টুডিও নিয়ে কাজ শুরু করে দূরদর্শন। ৬ বছর পর, ১৯৬৫ সালে প্রতিমা পুরী প্রথম পাঁচ মিনিটের সংবাদ পাঠ করেন দূরদর্শনে।দূরদর্শন শুরু হয়েছিল গোটা পরিবারকে একসঙ্গে ধরে রাখার ভাবনা থেকে- সে সমাচার হোক অথবা সান্ধ্য শো, আঞ্চলিক এন্টারটেনমনেন্ট হোক কি জাতীয় প্রোগ্রাম অথবা স্পোর্টস।

<

p style=”text-align: justify;”>দুরদর্শনে সম্প্রচারিত বহু শো ক্লাসিকে পরিণত বয়েছে। ৮-এর দশকের শেষ থেকে ৯ এর দশের গোড়া পর্যন্ত মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল তু তু ম্যাঁয় ম্যাঁয়, মহাভারত, দেখ ভাই দেখ, উড়ান, ফৌজি, মালগুডি ডেজ-এর মত শো গুলি।

এই ফুল ফোটার দৃশ্য দেখলেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা

Brahma Kamal flower blooming in Uttarakhand

বিশেষ প্রতিবেদন: প্রায় ৪৫০০মিটার বা তার উপরের উচ্চতায় ফোটে এই ফুল। বলা হয় হিমালয়ান ফুলের রাজা। ফুটে ওঠার দৃশ্য দেখতে পেলে জানবেন আপনিই এই বিশ্বের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ। নাম ব্রহ্মকমল।

ব্রহ্মকমলের পাপড়িগুলি সম্পূর্ন প্রস্ফুটিত হয় সূর্যাস্তের পর। ফুটতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা। প্রস্ফুটিত অবস্থায় থাকে প্রায় ১ ঘন্টা। তারপরেই তা আবার বন্ধ করে পাপড়ি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এর মাঝে কোনও এক সময়ে হিমালয়ের কোলে যখন ধীরে ধীরে সূর্য ডোবে তখন ফোটে ব্রহ্মকমল। এই দৃশ্য নিজের চোখে দেখতে পাওয়াকেই সৌভাগ্যের বলে মনে করা হয়।

Brahma Kamal flower blooming in Uttarakhand

উত্তরাখন্ড রাজ্যের ”স্টেট ফ্লাওয়ার” হিসাবে গন্য করা হয় ব্রহ্মকমলকে। পুরাণ মতে, বিষ্ণুর নাভি থেকে এই ফুলের জন্ম এবং এই ফুলের মধ্যে স্বয়ং ব্রহ্মা বিরাজমান। ফোটার দৃশ্য দেখতে পাওয়া মানে দেব দর্শন। সন্ধ্যা ৭-৮ টা থেকে এর ফোটা শুরু হয়, রাত ১১-১২ টার মধ্যে ফোটা সম্পূর্ণ হয়ে যায়। পরদিন সকালে ফুল ফের মূর্ছা যায়। শাস্ত্রে এর ৬১টি প্রজাতির কথা পাওয়া যায়।

Brahma Kamal flower blooming in Uttarakhand

এটা প্রধানত হিমালয়ের ফুল। উত্তরাখণ্ড, সিকিম, হিমাচল- প্রদেশ, কাশ্মীরে এই ফুল পাওয়া যায়। এটি জগতের সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মাজীর ফুল, তাই ব্রহ্মকমল। শিব, মা নন্দা দেবীর ও এ ফুল খুব প্রিয়। এই ফুল ফোটা দেখলে নাকি মানুষের মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। বহু পৌরাণিক গল্প আছে এই ফুলকে নিয়ে।ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, হেমকুন্ট সাহিব, বাসুকি তাল, রুদ্রনাথ মন্দির পথে এই ফুলের দেখা মেলে।

Brahma Kamal flower blooming in Uttarakhand

<

p style=”text-align: justify;”>অনেকে সকালে শুকিয়ে যাওয়া ফুলটাকে নিয়ে ঘরে ঢোকার দরজায় টাঙিয়ে রাখে। এতে কোন নেগেটিভ এনার্জি ঘরে ঢুকতে পারে না বলে মানুষের বিশ্বাস। এছাড়াও এর অনেক ঔষধি গুণ ও আছে।
ব্রহ্মকমল এর এক এক জায়গায় এক এক রকম নাম। উত্তরাখণ্ডে একে বলে ব্রহ্মকমল, হিমাচলে দুলহাম্বুল। কাশ্মীরে গলগল, দুধফুল হিমাচলপ্রদেশে। শ্রীলঙ্কাতে কাদুফুল আর জাপানে গীকা ভীষণ।

পচাত্তর পেরিয়ে আজও বাঙালির প্রিয় শালিমার

Coconut Oil by Shalimar Chemical Works Private Limited

বিশেষ প্রতিবদেন: বাঙালি যুবকরা ব্যবসা করে না, অন্যের অধীনে থেকে ডেস্কে মাথা গুজে কাজ করতেই তারা অভ্যস্ত। ব্যবসার ঝুঁকি নেওয়ার সাহস বা মানসিকতা কোনটিই তাদের নেই। স্বাধীনতার আগে শুধু নয়, স্বাধীনতার পরেও অনেকেরই এমনটাই ধারণা ছিল। স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের ‘জনঅরণ্য’ সিনেমাতেও চাকরীর খোঁজে বের হওয়া সোমনাথকে (প্রদীপ মুখোপাধ্যায়) একথাই বলতে শোনা গিয়েছিল বিশুদার (উৎপল দত্ত) মুখে। পাশাপাশি শোনা গিয়েছিল গুজরাটি, মাড়োয়াড়িদের প্রশংসাও।

এখনও বাঙালিদের সম্পর্কে অনেক অবাঙালিরই এই ধারণা রয়ে গিয়েছে। এই ধারণা অনেক বাঙালিদেরও। কিন্তু, স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই ব্যবসায় নেমে রীতিমতো ‘বিজনেস টাইকুন’ হয়ে উঠেছে অনেক বাঙালি তরুণ। ননীগোপাল মিত্রের ‘সুলেখা কালি’, গৌরমোহন দত্তের ‘বোরোলিন’ হয়ে উঠেছে বাঙালির অঙ্গাঙ্গিক অঙ্গ। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকেই ব্যবসায় ঝুঁকতে শুরু করেন বেশ কিছু বাঙালি। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে স্বাধীনতা আন্দোলন পরিনত হয় পূর্ণাঙ্গ স্বদেশী আন্দোলনে। এই স্বদেশী আন্দোলন এশিয়ান পেইন্টস, টাটা স্টিল, ল্যাকমের মতো আরও অনেক আইকনিক ব্র্যান্ডের জন্ম দেয়। এই ব্র্যান্ডগুলি কেবল বিদেশী পণ্য বিক্রয়কেই কমিয়ে করে দেয়নি, ঐক্যবদ্ধ করে তুলেছিল বাঙালিদেরও।

Coconut Oil by Shalimar Chemical Works Private Limited

সেইভাবেই স্বাধীনতার আগে শিল্পপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন হাওড়ার এক বাঙালি তরুণ। তাঁর নাম প্রকৃতিনাথ ভট্টাচার্য। তাঁর মাত্র ১০ বছর বয়সে, তাঁর বাবা জানকীনাথ ভট্টাচার্যের মৃত্যু হয়। জানকীনাথ ছিলেন কৃষ্ণনগর কলেজের সংস্কৃতের অধ্যাপক। বাবার মৃত্যুর পর রেলকর্মী দাদা বিভূতিভূষণের সঙ্গে হাওড়া জেলার শালিমারে চলে আসতে হয়েছিল শিশু প্রকৃতিনাথকে। শিবপুর দীনবন্ধু ইন্সটিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে তিনি কলকাতার রিপন কলেজ থেকে B.Sc পাশ করেন।

বাবা-দাদা সবাই ছিলে চাকুরীজীবি। অধ্যাপক-পুত্র হলেও প্রকৃতিনাথের বাসনা ছিল শিল্পসাধনার। ফলে চাকরির বাইরে স্বাধীন ব্যবসার অদম্য ইচ্ছায় মত্ত প্রকৃতিনাথ স্নাতক হওয়ার পর স্থানীয় শিবপুর বাজারে গম-আটা পেশাইয়ের কল খুলেছিলেন। সালটা ১৯৩৭। শিবপুর দীনবন্ধু ইন্সটিটিউশনের শিক্ষক দীনবন্ধু চট্টোপাধ্যায় তাঁর প্রিয় ছাত্র প্রকৃতিনাথ’কে সেই সময় আটাচাকী খোলবার জন্য আড়াইশো টাকা দেন। কিন্তু শিক্ষিত, বি.এসসি পাশ করা মধ্যবিত্ত ছেলের ব্যবসায় নামা তৎকালীন সমাজ মেনে নেয়নি।

অন্যদিকে ‘শঙ্খ আটা কল’ দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ আর খাদ্য নিয়ন্ত্রণের সরকারি ফরমানের দরুন আটার কল বন্ধ হয়ে গেল। পরের বছরেই ক্ষুদ্র শিল্পের বিখ্যাত পরামর্শদাতা জ্ঞানাঞ্জন নিয়োগীর পরামর্শে প্রকৃতিনাথ শালিমারে ইঞ্জেকশনের অ্যাম্পুল তৈরির কারখানা বানালেন ১৯৪৪ সালে। প্রথম বছর সাত-আট জন কর্মচারী নিয়ে কাজ করে অভূতপূর্ব সাফল্য পান তিনি। শালিমার থেকে কারখানা উত্তর কলকাতার নারকেলডাঙা মেন রোডে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় একবছরের মধ্যেই।

সেই বছরেই চেতলার পঞ্চানন মণ্ডলের সঙ্গে প্রকৃতিনাথ গড়ে তুললেন শালিমার কেমিক্যাল ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা পরিস্থিতিতে নারকেল তেল, তিল তেল, পাউডার তৈরির ইউনিট গুলি চেতলা, সাহাপুর আর রামকেষ্টপুরে সরানো হয়। শুরুর পরে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত অপরিশোধিত নারকেল তেল কিনে তা পরিশোধন করে বিক্রি করতো শালিমার কোম্পানি। ১৯৫৫ সাল থেকে নারকেলের শাঁস কিনে তেল বিপণন শুরু হয়। দুজনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানের উচ্চতা ক্রমবর্ধিত হয়ে ওঠে যার স্বীকৃতি হয় বাংলার অন্যতম সফল শিল্পপতি হিসাবে। দেশজোড়া খ্যাতির অধিকারী হন প্রকৃতিনাথ ভট্টাচার্য।

ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই ১৯৫৯ সালে নরেন্দ্রপুরে ২৭ বিঘা জমিতে গড়ে উঠে শালিমার কেমিক্যাল ওয়ার্কস-এর নারকেল তেল তৈরির কারখানা। একে একে হায়দরাবাদে হয় আরও তিনটি কারখানা।

<

p style=”text-align: justify;”>শুধু নারকেল তেল নয়। বর্তমানে রান্নাঘরেও পৌঁছে গেছে তাঁর নাম। গুড়ো মশলা শালিমার শেফ, সরষের তেল, নন-স্টিকি তেল তাদের অন্যতম পণ্য। যদিও এখনও শালিমারের নারকেল তেলই তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিক্রিত পণ্য। শালিমারের নারকেল তেল ব্যবহার করেননি, পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই বাঙালি ব্র্যান্ড ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা তথা ভারত ছাড়িয়ে বিদেশেও আজও সমানভাবে সমাদৃত।

Phasmophobia: আপনি কি একটু বেশি ভয় পাচ্ছেন? তাহলে আপনি এই রোগে আক্রান্ত

Phasmophobia

বিশেষ প্রতিবেদন: ভয়! শব্দটির সাথে আমরা সকলেই কমবেশি জড়িয়ে আছি। বিভিন্ন অলৌকিক বা অশরীরী ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের ‘ভূতের ভয়’ নামক অনুভূতি আবর্তিত হয়। আত্মানির্ভর বা পারলৌকিক বিষয়ের উপর কোনো চলচ্চিত্র বা গল্প বইয়ের রেশ যখন মনের মধ্যে ক্ষণে ক্ষণে উঁকি দিয়ে যায়, তখন এক গা ছমছমের অনুভূতির জন্ম নেয়।

কারো কাছে ব্যাপারখানা নিতান্তই রোমাঞ্চের, আবার কারও কাছে জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো হুমকিস্বরূপ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অলৌকিক বা ভূতের অতিরিক্ত ভয়কে এক ধরনের ফোবিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার নাম ‘ফেসমোফোবিয়া‘ (Phasmophobia)।

ভূতের ভয় থাকা স্বাভাবিক তবে ফেসমোফোবিয়ায় আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে ভয়ের মাত্রাটি অনেক বেশি। তারা একা ঘরে থাকতে ভয় পায়, অন্ধকারকে অসম্ভব ভয় পায়, নিস্তব্ধতা সহ্য করতে পারে না, শহরে বাস করলে গ্রামে কোনভাবেই রাত কাটাতে চায় না, ভৌতিক গল্প, সিনেমা বা ছবি থেকে অনেক দূরে থাকেন। তবে এই ধরনের ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ প্রদর্শন করে থাকেন।

১। একা ঘুমুতে ভয় পান
২। পুরোপুরি অন্ধকার ঘরে ঘুমুতে চান না
৩। মনের মধ্যে সবসময় অলীক ভূতের ছবি ভাসতে থাকে
৪। যেকোনও পরিস্থিতিতে ভূতের অস্তিত্বের আভাস পান

৫। মাঝে মাঝে ভয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন
৬। সবসময় মুখে চিন্তার ছাপ দেখা যায়
৭। নিদ্রাহীনতায় ভুগতে থাকেন কারণ ভূতের ভয়ে ঘুমুতে পারেন না
৮। বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্রের প্রতি অনেক বেশি আসক্তি হয়ে পড়েন

করণীয় :
ভূতের ভয়কে সাধারণত খুব বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে করা হয় না। তবে ভয়ের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে অথবা এই ভয় যদি দৈনন্দিন জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলে, তবে এই বিষয়ে সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত। তবে প্রথমেই উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজে থেকেই চেষ্টা করতে হবে এই ফোবিয়া থেকে বের হয়ে আসার।