Omicrin: করোনার নয়া ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে মধ্যরাত থেকেই কেন্দ্র চালু করছে নতুন নির্দেশিকা

new variants of corona

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: গোটা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিশ্বের সব দেশেই ফিরছিল জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্তু গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় (south africa) করোনার নতুন ভাইরাস ওমিক্রন, (omicrin) সেই ছন্দের পতন ঘটাল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (who) ইতিমধ্যেই করোনার এই নতুন প্রজাতিকে ‘উদ্বেগজনক’ তালিকাভুক্ত করেছে। ওমিক্রন ভাইরাস যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশিকার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার ১ ডিসেম্বর (december) থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার কেন্দ্র তার নতুন নির্দেশিকায় জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরেই আরটি-পিসিআর টেস্ট করতে হবে। সেই আরটি- পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা টার্মিনালের বাইরে আসতে পারবেন না। যদি ওই বিদেশিদের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ হয় তা হলেও তাঁদের কমপক্ষে ৭ দিন বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। অষ্টম দিন তাঁদের ফের করোনা পরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই তাঁরা বাইরে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রেও তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের নজরদারিতে থাকতে হবে।

যদি কোনও বিদেশি যাত্রীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হয় তাহলে তাঁকে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকতে হবে। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আর কারা এসেছিলেন তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘হাই রিস্ক’ বলে চিহ্নিত দেশ থেকে যে সমস্ত যাত্রীরা আসবেন তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম বলবৎ হবে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বাংলাদেশ, বৎসোয়ানা, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জিম্বাবোয়ে, হংকং, ইজরায়েল এবং ইউরোপের ৪৪ টি দেশের যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

করোনার নতুন ভাইরাস ঠেকাতে সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলকেও সতর্ক থাকার কথা বলেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করা এবং দ্রুত টিকাকরণের উপরেও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্র এদিন তার নির্দেশিকায় জানিয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে সমস্ত এলাকায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন সেই সব এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ, অতিরিক্ত বেড, অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটরের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে

কেন্দ্র তার নির্দেশিকায় আরও জানিয়েছে, বিদেশি যাত্রীদের আগে থাকতে এয়ার সুবিধা পোর্টালে নিজেদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সেল্ফ ডিক্লারেশন ফর্মের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাতে হবে। যে সমস্ত দেশে ইতিমধ্যেই ওমিক্রনের হদিশ মিলেছে সেই সমস্ত দেশ থেকে কোনও যাত্রী বা পর্যটক ভারতে আসলে তাঁদের সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশের মত রাজ্যে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য এই নতুন নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, এয়ারলাইন্সগুলিকে প্রতিটি ফ্লাইটের ৫ শতাংশ যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিন দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। দেশবাসীকে রক্ষা করতে কেন্দ্রের এই নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হবে।

Omicron: আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন, দাবি বিশেষজ্ঞদের

Corona's new strain

নিউজ ডেস্ক: সবেমাত্র হদিশ মিলেছে করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রনের (omicron)। এই নতুন প্রজাতির ভাইরাসকে নিয়ে গোটা দুনিয়াই আতঙ্কে কাঁপছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (who) এই ভাইরাসকে উদ্বেগজনক বলে চিহ্নিত করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছেন। তাঁরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত যাবতীয় সর্তকতা মেনে চলার পরেও যদি ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ে সেটা হয়তো মানুষের পক্ষে ভাল হতে পারে।

প্রশ্ন হল, কীভাবে বা কী কারণে বিশেষজ্ঞরা এমনটা মনে করছেন? বিশিষ্ট ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মার্ক ভ্যান (mark van) জানিয়েছেন, ওমিক্রন কতটা ভয়াবহ তা এখনও জানা যায়নি। কিন্তু যদি দেখা যায় করোনার নতুন এই প্রজাতি ততটা ভয়ঙ্কর নয়, কিন্তু অনেক বেশি ছোঁয়াচে তাহলে সেটা মানবজাতির কাছে আশীর্বাদ (bless) হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওমিক্রন ডেল্টা স্ট্রেনকে সরিয়ে প্রধান সংক্রামক স্ট্রেন হয়ে উঠবে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক একটা দিক।

গোটা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ডেল্টা। এই স্ট্রেনেই বিশ্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ডেল্টার দাপটে ভারতে আছড়ে পড়েছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এখন ওমিক্রন যদি ডেল্টার সেই ভয়াবহতা কমাতে পারে। তাহলে গোটা বিশ্বেই করোনার বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই কমবে বলে ভ্যানের মতো বিশেষজ্ঞদের আশা।

যদিও করোনার এই নতুন প্রজাতি ওমিক্রনকে প্রতিরোধ করতে বিশ্বের সব দেশই একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এমনকী, বহু দেশ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের উপরেও জারি করেছে নিষেধাজ্ঞা।

Delhi High Court: বুস্টার ডোজ সরকার দেবে না কেন, কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি আদালতের

covid booster shot

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: করোনার মতো মারণব্যাধি প্রতিরোধ করতে কেন বুস্টার ডোজ (booster dose) দেওয়া হবে না, কেন্দ্রের কাছে তার জবাব চাইল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court )। শুক্রবার আদালত স্পষ্ট জানায়, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কখনওই বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত বিষয়ে যত শীঘ্র সম্ভব কেন্দ্রীয় সরকারকে (central goverment) তার মতামত জানাতে বলল হাইকোর্ট।

করোনা প্রতিরোধ করতে ইতিমধ্যেই আমেরিকা (America) ও ইউরোপের (Europe) কয়েকটি দেশে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত সরকার চাইছে চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে টিকার দু’টি ডোজ দিতে। যদিও সরকার নিজের ঠিক করা সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে বুস্টার ডোজ নিয়ে মোদী সরকারকে নিজেদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানাতে বলল দিল্লি হাইকোর্ট।

এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি বিপিন সিংঘি এবং বিচারপতি জসমীত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে করোনা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয়। এই মামলায় দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বুস্টার ডোজ নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত খতিয়ে দেখেন। বেঞ্চ এদিন বলে, বুস্টার ডোজের বিষয়ে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা কোনও জোরদার সওয়াল করেননি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে রোগ প্রতিরোধ করতে হলে বুস্টার ডোজ আবশ্যিক।

আমরা জানি, বুস্টার ডোজ দেওয়া যথেষ্টই ব্যয়বহুল। তবে দেশের মানুষের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সকলকেই একেবারে বিনামূল্যেই বুস্টার ডোজ দিতে হবে। দেশের খুব কম মানুষই আছেন যারা এই বুস্টার ডোজ কিনবেন। সরকারের উচিত নয়, মানুষের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখে বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেহেতু বুস্টার ডোজ দেওয়ার খরচ অনেকটা বেশি সম্ভবত সে কারণেই সরকার এখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে না। যদিও এটা একেবারেই ঠিক নয়।

কারণ আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা দেখেছি। নতুন করে আমরা ফের এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না। সে কারণেই বুস্টার ডোজ দেওয়া আবশ্যিক। তাই সরকার জানাক, বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে তারা কী ভাবনাচিন্তা করছে।

একইসঙ্গে বেঞ্চ এদিন বলে, ভ্যাকসিনের বহু ডোজ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেই সমস্ত ভ্যাকসিনের মেয়াদও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তাই আরও জোর গতিতে টিকাকরণ করতে হবে।

শিশুদের টিকাকরণ নিয়েও দুই বিচারপতির বেঞ্চ এদিন মুখ খুলেছে। বিচারপতিরা বলেন, বিশ্বের বহু দেশে ইতিমধ্যেই শিশুদের টিকাকরণ চলছে। আমাদের দেশেও স্কুল-কলেজ খুলে গিয়েছে। তাই শিশুদের টিকাকরণও দ্রুত শুরু হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে তা আমাদের জানা দরকার।

Corona latest updates: করোনার নতুন রূপের আগমণে কেন্দ্র সরকারের উদ্বেগ বাড়াল

Corona latest updates

Corona latest updates
নয়াদিল্লি: বিদেশে করোনাভাইরাসের একটি নতুন রূপ প্রকাশের পরে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ বেড়েছে। সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং হংকং-এ করোনার নতুন রূপ B.1.1529-এর কেস ধরা পড়েছে। এই ভেরিয়েন্টটিকে আগের ভেরিয়েন্টের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলা হয়েছে। তাই সব রাজ্য সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত বলে জানান হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে, বিদেশ থেকে আসা সমস্ত লোকের পরীক্ষা জোরদার করতে হবে। যদি কোনও ভ্রমণকারী পজিটিভ প্রমাণিত হয়, তার নমুনা রাজ্যের INSACOG জিনোম সিকোয়েন্সিং ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। যাতে সময়মতো ভুক্তভোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি এই ভেরিয়েন্টটির চিকিৎসা শুরু করা যায়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেসের মতে, বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এই নতুন করোনার সম্ভাব্য প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত বিদেশে এই ভেরিয়েন্টটির ২২ টি ক্ষেত্রে রিপোর্ট করা হয়েছে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার বিটা ভেরিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। এই বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার রূপ C.1.2 সনাক্ত করা হয়েছিল।

Covid19: সংক্রমণ রুখতে বুস্টার ডোজ আবশ্যিকতার কোনও প্রমাণ মেলেনি: আইসিএমআর ডিরেক্টর

covid

নিউজ ডেস্ক: করোনা (Covid19) প্রতিরোধ করতে ইউরোপ ও আমেরিকায় (america) ইতিমধ্যেই বুস্টার ডোজ (booster dose) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে এখনও পর্যন্ত ১০০ শতাংশ মানুষ টিকার দুটি ডোজ পাননি।

তাই আলোচনা শুরু হলেও বুস্টার ডোজ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের সেভাবে উদ্যোগী হয়নি। এরই মধ্যে বুস্টার ডোজ নিয়ে মুখ খুললেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (ICMR) প্রধান চিকিৎসক বলরাম ভার্গব (Balaram Bhargav)।

ICMR-Director
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (ICMR) প্রধান চিকিৎসক বলরাম ভার্গব

আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর বলেন, করোনা প্রতিরোধ করতে বুস্টার ডোজ আবশ্যিক এমন কোনও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ মেলেনি। তাই সরকার এখনই বুস্টার ডোজ নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছে না। বরং দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে করোনার টিকা দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। সবার আগে দেশের প্রতিটি মানুষকে টিকার দুটি ডোজ দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

সম্প্রতি ভারতেও বিভিন্ন মহলে বুস্টার ডোজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বুস্টার ডোজ এবং শিশুদের টিকাকরণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সর্বোচ্চ সংস্থা ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসারি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশনের জরুরী বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকের প্রাক্কালে আইসিএমআর-এর ডিরেক্টরের এই মন্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট-সহ অনেকেই কেন্দ্রের কাছে বুস্টার ডোজ শুরু করার অনুমতি চেয়ে ছিলেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জানান, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত টিকা মজুত আছে। তবে বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আইসিএমআর যদি বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা বলে তখন সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ করবে। উল্লেখ্য ভারতে এখনও পর্যন্ত ৮৩ শতাংশ মানুষ টিকার একটি ডোজ এবং ৪৩ শতাংশ মানুষ দুটি ডোজ পেয়েছেন।

ভ্যাকসিন না হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের পর মিলবে না রেশন

vaccine

নিউজ ডেস্ক: ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রমাণপত্র দাখিল করতে না পারলে উপভোক্তারা আর ভর্তুকি মূল্যে রেশন (ration) পাবেন না। ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে অর্থাৎ ২০২২-এর ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ভর্তুকি মূল্যে রেশন নিতে গেলে গ্রাহককে অবশ্যই করোনার দু’টি টিকা নেওয়ার শংসাপত্র দেখাতে হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নয়, মধ্যপ্রদেশ সরকার (madhyapradesh) এই নির্দেশ জারি করেছে।

মধ্যপ্রদেশের খাদ্য দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক গ্রাহককে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ অবশ্যই নিতে হবে। টিকা নেওয়া হলে তবেই তাঁরা আগামী বছর রেশন পাবেন। বর্তমানে অবশ্য গণবণ্টন ব্যবস্থায় টিকা নেওয়া হোক বা না হোক সকলকেই রেশন দেওয়া হয়। তবে শুধু গ্রাহকদের জন্য নয়, রেশন ডিলারদের (ration dealer) জন্যও একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।

vaccines

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রেশন ডিলারদের সুনিশ্চিত করতে হবে যে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি গ্রাহকের ভ্যাকসিন (vaccine) নেওয়া হয়েছে। সে কারণে প্রতিটি রেশন ডিলারকে নিজেদের দোকানের সামনে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সর্বশেষ যাবতীয় তথ্য টাঙিয়ে রাখতে হবে। যারা রেশন নিচ্ছেন তাঁরা যে সকলেই ভ্যাকসিন পেয়েছেন সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার দায়িত্ব রেশন ডিলারের। যদি কোনও গ্রাহকের ভ্যাকসিন না হয়ে থাকে তবে তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থাও করতে হবে রেশন ডিলারকে। প্রতি সপ্তাহে নিকটবর্তী হাসপাতালের কাছে রেশন ডিলারকে যাদের ভ্যাকসিন নেওয়া হয়নি তাদের নামের তালিকা জমা করতে হবে।

রাজ্যের খাদ্য ও গণবণ্টন দফতরের মুখ্য সচিব ফয়েজ আহমেদ কিদোয়াই (kidoai) বলেছেন, উপভোক্তা ও দোকানদার উভয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, বেশকিছু রেশন ডিলার সংক্রমিত হয়ে মারা গিয়েছেন। তাই সরকার কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। সংক্রামিত ডিলারের মধ্যে যেমন গ্রাহকরা আক্রান্ত হতে পারেন তেমনই গ্রাহকদের থেকেও রেশন ডিলাররা সংক্রমিত হতে পারেন। সে জন্যই এই কড়াকড়ি। তাছাড়া টিকা নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে।

<

p style=”text-align: justify;”>৩১ ডিসেম্বরের (december) পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। মানুষ যাতে করোনার ভ্যাকসিন নিতে এগিয়ে আসেন সে কারণেই ‘নো ভ্যাকসিন নো রেশন’ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য মধ্যপ্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের ১০০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তবে বিরোধী কংগ্রেসের দাবি, রাজ্য সরকারের যে লক্ষ্যের কথা বলেছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে উৎসাহী করতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাই এখন সরকার নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলতে রেশন ডিলারদের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।

করোনার বিরুদ্ধে লড়তে ৭৭.৮ শতাংশ সফল Covaxin

Covaxin

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ভারতের দুটি সংস্থা করোনার টিকা তৈরি করেছে। যার মধ্যে ভারত বায়োটেকের (bharat biotek) কোভ্যাকসিন (Covaxin) অন্যতম। সম্প্রতি প্রথম সারির বিজ্ঞান সংক্রান্ত পত্রিকা ‘ল্যানসেটে’ (lancet) প্রকাশিত এক লেখা থেকে জানা গিয়েছে, করোনার বিরুদ্ধে কোভ্যাকসিন ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকরী।

ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, টিকার দু’টি ডোজ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শরীরে অ্যান্টিবডি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। গবেষকদের দাবি, চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে যারা দুটি টিকা নিয়েছেন এমন ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ওই পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১৮ থেকে শুরু করে ৯৭ বছর বয়সি কোনও মানুষই কোভ্যাকসিন নিয়ে কোনোওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (side effect) আক্রান্ত হননি। কারও মৃত্যু হওয়া তো দূরের কথা।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (who) কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে। এতদিন হু কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় ভারতীয়রা সমস্যায় পড়েছিলেন। কারণ হু-র স্বীকৃতি না থাকায় একাধিক দেশ কোভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের অনুমতি দিত না। দীর্ঘ টালবাহানার পর শেষ পর্যন্ত কোভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই সিদ্ধান্তের পর আমেরিকা (america), অস্ট্রেলিয়া (australia) কোভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তিদের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তা তুলে নেয়।

এরইমধ্যে ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণার রিপোর্ট কোভ্যাকসিন সম্পর্কে মানুষকে আরও বেশি আশান্বিত করেছে। তাঁরা মনে করছেন, কোভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে করোনার হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যাবে। ল্যানসেটের ওই গবেষকরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কোভ্যাকসিন প্রাপকদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সর্বোপরি এই টিকায় কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই। তাই ১৮ বছরের উর্ধ্বে যে কোনও ব্যক্তি নিশ্চিন্তে কোভ্যাকসিন নিতে পারেন।

Covaxin : দীপাবলির সকালে আরও এক সুখবর শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Covaxin

News Desk: দীপাবলীর সকালেই আরও এক সুখবর শোনালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে ভারতীয় সংস্থা ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনা টিকা কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে হু। বৃহস্পতিবার সকালে হু-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাচ্চাদের টিকা করণের জন্য খুব শীঘ্রই ছাড়পত্র দেওয়া হবে কোভ্যাকসিনকে।

বৃহস্পতিবার হু-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেন, শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অত্যন্ত ভালো বলে প্রমাণ হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ড্রাগ কন্ট্রোলারের অনুমতির অপেক্ষা। ড্রাগ কন্ট্রোলারের অনুমতি মিললে শিশুদের শরীরে কোভ্যাকসিন প্রয়োগে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। উল্লেখ্য, দেশে শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা বেশ কিছুদিন আগেই শুরু করেছিল ভারত বায়োটেক।

আমেরিকার সংস্থা ফাইজারের টিকাও শিশুদের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু ফাইজারের টিকা শুধুমাত্র ১২ বছরের উর্ধ্বে থাকা শিশুরাই পেয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত হু যদি ছাড়পত্র দেয় তবে ২ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সিদের জন্য কোভ্যাকসিন শীঘ্রই আসতে পারে দেশের বাজারে। তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিন টিকা নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন ভাগে ভাগ করে তারা শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রথম ধাপে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি, দ্বিতীয় ধাপে ৬ থেকে ১২ এবং তৃতীয় ধাপে ২ থেকে ৬ বছর বয়সিদের টিকা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে যত জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের সকলের শরীরেই তৈরি হয়েছে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি। স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। এ থেকেই প্রমাণ হচ্ছে যে শিশুদের উপরেও কোভ্যাকসিন যথেষ্ট কার্যকর।

এখন গোটা দেশ তথা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে হু-র দিকে। কারণ যত তাড়াতাড়ি হু-র ছাড়পত্র মিলবে তত তাড়াতাড়ি শিশুদের টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন করানোর তৃতীয় ঢেউ শিশুদের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণে খুব তাড়াতাড়ি শিশুদের টিকা দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ভারত বায়োটেকের দাবি, তারা যে সমস্ত শিশুদের উপর টিকা প্রয়োগ করেছিল তাদের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রায় ৭৯ শতাংশই কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি টিকা দেওয়ায় কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়নি।

Dengue: করোনা আবহে ৯ রাজ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

Dengue is spreading panic

News Desk: করোনার প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়াতে শুরু করেছে। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ৯ রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

কেরল, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু , দিল্লি, এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। এই রাজ্যগুলিতে বিগত কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু মহামারির আকার ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক যথেষ্টই উদ্বিগ্ন। কেন্দ্রের এই বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে সেখানকার স্বাস্থ্য দফতরকে ডেঙ্গু দমনের বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দেবে। সংক্রমিত এলাকাগুলির মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজও করবে এই দল। কী কারণে বিভিন্ন রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে এই প্রতিনিধি দলকে।

করোনার কারণে বছর দেড়েক ধরে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়ার মতো বিভিন্ন অসুখ কিছুটা পিছনের সারিতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানী দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান-সহ বেশ কিছু রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রভাব যথেষ্টই বাড়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে শুধু ডেঙ্গু নয়, তার দোসর হয়েছে ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়ার মত রোগও। পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জিকা ভাইরাস। কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ, এই সমস্ত রোগগুলি মশাবাহিত। কী কারণে মশাবাহিত রোগের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে তা খতিয়ে দেখতে চাইছে ওই কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল।

ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকার ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাস দমনের জন্য একটি আলাদা বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। যোগী সরকারের ওই বিশেষজ্ঞ দলটি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফে প্রত্যেকটি মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার কাজও চলছে। বিশেষ করে মশা যাতে বংশ বৃদ্ধি করতে না পারে তার জন্য প্রতিটি পরিবারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

Covid 19: কোভ্যাকসিনকে অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি

Covaxin

News Desk, New Delhi: শেষ পর্যন্ত কোভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দিল অস্ট্রেলিয়া। সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, ১২ বছর বা তার বেশি বয়সিরা যদি কোভ্যাকসিন টিকা নিয়ে থাকেন তাহলে তারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন।

করোনাজনিত পরিস্থিতিতে গত দেড় বছর ধরে বিদেশি পর্যটকদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। এবার সেই কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করা হল।

অস্ট্রেলিয়ায় সরকার এদিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এবার থেকে কোনও অস্ট্রেলিয় নাগরিক বিদেশ থেকে ফিরলে তাঁকে আর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। কোভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ভারতের পক্ষে উল্লেখ্যযোগ্য খবর বলা যায়। ভারত ইতিমধ্যেই প্রতিবেশি বহু দেশকে কোভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। তাই যে সমস্ত দেশের নাগরিকরা কোভ্যাকসিন নিয়েছেন তাঁদেরও অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা হবে না। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্তে বহু বিদেশি ছাত্র, দক্ষ কর্মী ও পর্যটক সেদেশে যেতে পারবেন।

গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু কোভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি না দিলেও চলতি সপ্তাহেই এই স্বীকৃতি মিলতে পারে বলে খবর। ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক হুকে তাদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছে। সব ধরনের নথিপত্রও পেশ করেছে।

হুর সহকারী ডিরেক্টর জেনারেল মারিয়ানগেলা সিমা জানিয়েছেন, ভারত বায়োটেকের কাছ থেকে তাঁরা সমস্ত তথ্য পেয়েছেন। এই সমস্ত তথ্য তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। যদি তাদের সব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়ে যায় তবে খুব শীঘ্রই তাঁরা কোভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দেবেন। হুর স্বীকৃতি মিলে কোভ্যাকসিনের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনার জেরে দেশে আত্মহত্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে: NCRB Report

corona

News Desk: করোনার জেরে ২০২০ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। আত্মঘাতীদের মধ্যে পড়ুয়া এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। করোনা মহামারীজনিত অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পারার কারণেই এরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (NCRB) এক পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য মিলেছে।

বৃহস্পতিবার এনসিআরবির এই রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে আত্মহত্যায় মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। গত বছর সারাদেশে আত্মঘাতী হয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২জন। ১৯৬৭ সালের পর এটাই আত্মহত্যার সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০১৯ সালের তুলনায় আত্মহত্যার সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনসিআরবির রেকর্ড বলছে, ২০২০ সালে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১১.৩ জন আত্মঘাতী হয়েছেন। বিগত ১০ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ।

প্রশ্ন হল, কেন আত্মহত্যার সংখ্যা এতটা বাড়ল।
এনসিআরবির রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি, পড়ুয়া এবং পেশাদার ব্যক্তিরাই আত্মঘাতী হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনাজনিত কারণে স্কুল-কলেজ গত দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। সেই হতাশা থেকেই তাঁরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

পাশাপাশি লকডাউনের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় চলছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু ভারতের প্রায় তিন কোটি পড়ুয়ার অনলাইন ক্লাস করার মত তেমন কোনও মোবাইল বা অন্যান্য পরিকাঠামো নেই। তাই পড়াশোনা করতে না পেরে তারা হতাশ হয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতিবছর ৭ থেকে ৮ শতাংশ পড়ুয়া আত্মহননের পথে হাঁটে। ২০২০ সালে সেটাই ২১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাশাপাশি ২০২০ সালে বেতনভোগী ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬.৫ শতাংশ মানুষ আত্মঘাতী হয়েছেন। দৈনিক মজুরদের মধ্যে ১৫.৭ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ওই রিপোর্টে থেকে আরও জানা গিয়েছে, করোনার জেরে বেতনভোগীদের থেকেও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। ফলে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদকদের ২৬.১ শতাংশ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আত্মহত্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনার জেরে দীর্ঘদিনের লকডাউনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বহু ক্ষুদ্র উদ্যোগপতির। ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছিলেন তাঁরা। ঋণ মেটাতে না পেরেই তাঁরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। একই কথা প্রযোজ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও।

Covaxin: শেষ মুহূর্তে কোভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিল না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Covaxin

News Desk, New Delhi: আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত কোভ্যাকসিনকে (Covaxin ) ছাড়পত্র দিল না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য জানিয়েছে, কোভ্যাকসিনের বিষয়ে আরও কিছু নিশ্চয়তা দরকার। যতক্ষণ না সেই নিশ্চয়তা মিলছে ততক্ষণ কোভ্যাকসিন ব্যবহারে ছাড়পত্র মিলবে না।

মঙ্গলবার হু-র এক আধিকারিকের কথায় অনেকেই আশার আলো দেখেছিলেন। জানা গিয়েছিল, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কোভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়া হবে। কিন্তু বুধবার সেই আশায় জল ঢেলে দিল হু। মঙ্গলবার হু-র এক বিশেষজ্ঞ দল কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখেন। কিন্তু ওই পরীক্ষায় তাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কোভ্যাকসিন নিয়ে আরও একটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে। সেই চূড়ান্ত পরীক্ষায় যদি পাশ করতে পারে তবেই কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেবে হু।

৩ নভেম্বর কোভ্যাকসিন নিয়ে সেই চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে। ওইদিনই কোভ্যাকসিনের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ সেদিনই জানা যাবে কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে কিনা। কোভ্যাকসিন যারা নিয়েছেন এদেশে তারা কোনও সমস্যায় পড়ছেন না এটা ঠিক। কিন্তু বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রবল সমস্যায় পড়ছেন। হু-র অনুমতি না মেলায় যারা কোভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা কোনওভাবেই বিদেশ যেতে পারবেন না।

হু-র অনুমোদন মিললে যারা কোভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের বিদেশযাত্রায় আর কোনও বাধা থাকবে না। কোভ্যাকসিন নির্মাণ করেছে ভারত বায়োটেক। এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই জরুরি ভিত্তিতে কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য হু-র কাছে আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বায়োটেকের তৈরি এই ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিল না হু। হু-র এদিনের সিদ্ধান্তে এদেশে যারা কোভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা কিছুটা দ্বিধায় পড়েছেন।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যারা কোভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের দেহে কি তাহলে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি? তাদের কি নতুন কোন ভ্যাকসিন নিতে হবে? হু যেখানে ছাড়পত্র দেয়নি সেখানে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া কিভাবে ছাড়পত্র দিল, তা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। সবচেয়ে বড় কথা অনেকেই মনে করছেন, কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নেই। তাই এই ভ্যাকসিন নেওয়া আর না নেওয়ায় দুই সমান।

যদিও কোভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।

করোনা বাড়তেই ঢাল তলোয়ার নিয়ে রণে নামল Ujan Gang

Ujan gang

Special Correspondent: ফের বাড়ছে করোনা। শুরু হয়ে গিয়েছে নাইট কার্ফু, কন্টেইনমেন্ট জোন। সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে গ্রামেও। সমস্যা বড় হবার আগে আবারও মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল স্বপ্ন দেখার উজান গাং (Ujan gang)।

ওঁরা জানাচ্ছে করোনা সংক্রমণ কম থাকার সময়েও আমাদের অক্সিজেন পরিষেবা থেকে শুরু করে মাস্ক বেলানোর কাজ জারি ছিল। বাকি ছিল হেল্পলাইন খোলা। সেটা আবারও চালু করল তাঁরা। মুমূর্ষু রোগীকে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া কিমবা হোম আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বা করোনাকে আক্রান্তকে সাহস জোগানো— এভাবেই রাতদিন এক করে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে গ্রামীণ হাওড়ার আমতার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।

Ujan gang

ইতিমধ্যেই ২৪ ঘন্টার হেল্পলাইন চালু করে বহু মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আমতার এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। এবার তাদের এই লড়াইয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন আমতার নবনির্বাচিত বিধায়ক সুকান্ত কুমার পাল। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সুকান্ত বাবু সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটিকে একটি মাস্ক ভেন্ডিং মেশিন তুলে দিলেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সূত্রে জানা গেছে, এই মেশিনটি উদং-ফতেপুর বাসস্ট্যান্ডে বসানো হবে। মেশিনে ৫ টাকা দিলেই মিলবে দু’টি সার্জিক্যাল মাস্ক। এর ফলে গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ উপকৃত হবেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সময়ে দিনরাত লড়াই করে চালিয়ে গিয়েছিল গ্রামীণ হাওড়ার আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর সদস্যরা। গ্রামীণ হাওড়ার করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে তাদের পক্ষ থেকে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য ৩ টি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছিল। দিনভর সেখানে ফোন করে কেউ আর্জি জানিয়েছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার কিমবা ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার, রক্তের ব্যবস্থা করার কেউবা সরকারি ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করানোর অনুরোধ করেছেন, আবার অসহায় হয়ে বাড়িতে পড়ে রয়েছেন করোনা রোগী তার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ আসে। পাশাপাশি, হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীর কী করণীয় তার পরামর্শ বহু মানুষ হেল্পলাইনে ফোন করেছেন।

Ujan gang

ফোন পেয়েই সৌভিক চৌধুরীর নেতৃত্বে তৎপরতা শুরু করে অরুণ, তাপস, প্রিয়াঙ্কারা। বেড়িয়ে আসছে সমাধানসূত্র। সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রসেনজিৎ, প্রিয়াঙ্কারা।

মধ্যরাতেও সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সংগঠনটির সদস্যরা। শুধু গ্রামীণ হাওড়াই নয় সদর হাওড়ার করোনা আক্রান্তদেরও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনের কর্তা পৃথ্বীশরাজ কুন্তী জানান, “সারাবছরই বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে আমরা দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষ বড় অসহায়। তাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।” তিনি আরও বলেন, “করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিংয়ের কাজ চালানো হচ্ছে। “

ভাসছে দেশের “মডেল রাজ্য”, কটাক্ষ দেবাংশু’র

Debangshu on kerala flood and corona situation

নিউজ ডেস্ক: কেরালার বৃষ্টি নিয়ে এবং জল যন্ত্রনা নিয়ে বামেদের দুষলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। বাংলায় সম্প্রতি বৃষ্টিতে নাস্তানাবুদ হয়েছে। এখনও জলে ভাসছে বহুস্থান। এর আগে বাঁধ ভেঙেই মারাত্মক অবস্থা হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির। তা নিয়েই বামেদের কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।

তিনি বলেছেন, “কেরালায় বৃষ্টিতে এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু। কয়েকদিন যাবৎ ৫টা জেলা জলের তলায়। প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তারই সাথে দেশের সর্ববৃহৎ কোভিড কন্ট্রিবিউটর আজও কেরালা! কদিন আগের বাংলার অতিবৃষ্টির জল জমা নিয়ে ওদের রাজনৈতিক ব্যঙ্গবিদ্রুপ গুলো মনে থাকলেও আমরা সিপিএমের মত পাশবিক ও অমানুষ নই। তাই “মডেল রাজ্য” নিয়ে ব্যঙ্গ কদিন পরে হবে। আপাতত জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাক কেরালা, করোনা থেকে মুক্তি লাভ করে সুস্থ থাকুক সবাই, মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি।”

গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টি এবং তার জেরে কেরলের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস, সব মিলিয়ে বন্যা। ভয়ানক পরিস্থিতি কেরলের। এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে বন্যার জেরে। ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে কোট্টায়ামে, ৮ জনের মৃত্যু ইদুক্কিতে। কোঝিকোড়েতে এক শিশুর জলে ডুবে গিয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জোরকদমে দুর্গতদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিরাপদ স্থানে। বিশেষ করে কোট্টায়াম ও ইদুক্কির বহু এলাকা বন্যার জলে একেবারে মুছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

kolkata-rain-bus

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জোরকদমে উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে। ধসে ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তিন শিশুর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাত, আট ও চার বছরের শিশুরা একে অপরকে জড়িয়ে রেখেছিল ধসের সময়। সেই ভাবেই তিন জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। গোটা পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন তিনি। আহত ও প্রভাবিত মানুষদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে সরকার। প্রত্যেকের সুরক্ষার প্রার্থনা করে ট্যুইটও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের তরফে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।অতি ভারী বৃষ্টি আর তার জেরে হওয়া ধসে বিধ্বস্ত ঈশ্বরের আপন দেশ কেরল। আরব সাগরে ঘনিয়ে ওঠা নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে দক্ষিণের রাজ্যটির মধ্য এবং দক্ষিণ প্রান্তের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই হড়পা বান শুরু হয়েছে। যার ফলে ভয়ানক ক্ষতি হয়েছে একাধিক এলাকায়।গোটা কেরালাজুড়ে প্রায় ১০৫ টি রিলিফ ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জোরকদমে। সমস্ত জলাধারগুলিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

লাগাতার অতি ভারী বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে গোটা রাজ্যে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছিলেন, রবিবার সকাল পর্যন্ত কেরালায় অতি ভারী বৃষ্টি হবে। পরবর্তী দু’দিনে ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে। এই পূর্বাভাসের পরই কেরালার পাঁচটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন।রবিবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও মেনে নিয়েছেন পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। সাম্প্রতিক কালে এই পর্যায়ের বৃষ্টি বহুদিন হয়নি কেরালায়। রবিবার সকালে অবশ্য শুধু কেরল বা দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে নয়, উত্তরের বেশ কয়েকটি রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে।

দু’বছরে এই প্রথম মুম্বইয়ে করোনায় মৃত্যুশূন্য, তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে: অনুমান বিশেষজ্ঞদের

third wave may not come: Experts

নিউজ ডেস্ক, মুম্বই: ২০২১-এর মার্চ মাসে থেকে গোটা দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রে। রাজধানী মুম্বইয়ের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। এরই মধ্যে দেড় বছর পর এই প্রথম সামনে এল এক আশার খবর। দীর্ঘ ১৮ মাস ২১ দিন পর রবিবার করোনায় মৃত্যুর কোন খবর নেই মুম্বইয়ে। পাশাপাশি এদিনই এক আশার কথা শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ – ২৭ মার্চ মুম্বইয়ে প্রথম করোনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর ক্রমশ করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছিল মুম্বই। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন মুম্বইয়ে। করোনা রুখতে মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল। সরকারের সেই গৃহীত ব্যবস্থার সুফল এতদিনে মিলল। করোনার প্রথম ঢেউয়ে মুম্বইয়ে ২০২০-র ২১ জুন সবচেয়ে বেশি ১৩৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

third wave may not come: Experts

২০২১ সালের ১ মে মুম্বইয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বাধিক ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। করোনা রুখতে এই শহরে জোর গতিতে চলছে টিকাদান। জানা গিয়েছে মুম্বইয়ে ৯৭ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। ৫৫ শতাংশ মানুষ পেয়েছেন দুটি ডোজ। মুম্বইয়ের পুরো কমিশনার ইকবাল সিং চাহাল জানিয়েছেন মুম্বইতে, খুব শীঘ্রই দৈনিক মৃত্যু শূন্যে নেমে আসবে। এজন্য বৃহনমুম্বই পুরোনিগমের স্বাস্থ্য কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বিএমসির অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত আমরা মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছি। এই মুহূর্তে শহরে করোনা পজিটিভিটি রেট ১.২ শতাংশ।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন করানোর তৃতীয় ঢেউ ভারতে নাও আসতে পারে। হরিয়ানার সোনিপত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম মেনন বলেছেন, দেশে দ্রুত গতিতে টিকাকরণ চলছে। মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। এসবের জেরে শেষ পর্যন্ত হয়তো ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে।

দেশের মহামারী বিশেষজ্ঞ চন্দ্রকান্ত লাহড়িয়া বলেছেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের শরীরে বন্ধুর মতন আচরণ করে। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের জন্যই কোভিডের অন্যান্য ভেরিয়েন্ট আর সংক্রমণ ছড়াতে পারছে না। লাহড়িয়া আরও বলেন, সম্প্রতি দেখা গিয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ৭০ শতাংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এসবের কারণে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এখন অনেক কম।

Bharat Milap: করোনা বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ধুমধামের সঙ্গে পালিত হল ভরত মিলাপ

Bharat Milap ceremony

নিউজ ডেস্ক: গোটা দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দেশজুড়ে চলছে উৎসবের মরসুমে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মানুষকে করোনা বিধি মেনে উৎসবে সামিল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ঘরে বসে উৎসব পালন করুন।

কিন্তু কেন্দ্রের সেই নির্দেশিকা বা করোনা বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শনিবার দিনভর বেনারসে ধুমধামের সঙ্গে পালিত হল ‘ভরত মিলাপ’ অনুষ্ঠান। হাজার হাজার মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অধিকাংশের মুখেই মাস্ক ছিল না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা তো চিন্তাই করা যায় না। তবে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন, বেনারসবাসীকে এই ঘটনার জন্য কড়া মাসুল চোকাতে হবে।

চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছরই দশমীর পরের দিন বেনারসে পালিত হয় এই অনুষ্ঠান। দীর্ঘ ১৪ বছর বনবাসে কাটিয়ে একাদশীর দিন রামচন্দ্র অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। রামচন্দ্র এবং সীতাকে সসম্মানে অযোধ্যায় ফিরিয়ে এনেছিলেন ভাই ভরত। তাই এই দিনটি পবিত্র দিন হিসেবে উদযাপন করা হয়। এই দিনের অনুষ্ঠানকেই ‘ভরত মিলাপ’ বলা হয়ে থাকে। সেই অনুষ্ঠানে যোগী সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই যোগী সরকার এভাবে অনুষ্ঠানের ওপর কোনও বিধিনিষেধ জারি করেনি। কিন্তু যোগী সরকারের এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা আগামী দিনে মানুষের পক্ষে বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেভাবে শনিবার বেনারসের নাতি ইমালি মাঠে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছিল তার যথেষ্টই উদ্বেগের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, একটি রথকে কাঁধে নিয়ে ওই মাঠের চারদিকে প্রদক্ষিণ করছেন ভক্তরা। তাদের কারও মুখেই মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা তো চিন্তাই করা যায় না। গোটা এলাকায় তিল ধারনের জায়গা নেই। বেনারসের বাইরে থেকেও বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। বেনারসের প্রতিটি হোটেলেই ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই রব।

কেন্দ্রের করোনা বিধিকে উপেক্ষা করে যোগী সরকার কীভাবে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলো তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে যোগী সরকার সস্তায় কিস্তিমাত করতে চাইছে। সে কারণেই এই অনুষ্ঠানে জনসমাগমের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে মহামারীর দুঃস্বপ্নের স্মৃতিস্তম্ভরা

memorials of pandemics

বিশেষ প্রতিবেদন: বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব চলেছে। যুগে যুগে কলেরা ইয়োলো ফিভার প্লেগ স্প্যানিশ ফ্লু প্রভৃতি নানা ধরণের এই বিশ্বব্যাপি মহামারীর আক্রমণে কত নগর সভ্যতা জনপদ ধ্বংস হয়ে গেছে । পৃথিবী জুড়ে কোটি কোটি মানুষ অসহায়ের মত মহামারীর কাছে আত্মবিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছে । কখনও সেটা ঘটেছে মহামারীর কার্যকারণ সম্পর্ক না জানায় , কখনো বা উপযুক্ত বা পর্যাপ্ত প্রতিষেধক না থাকায় ,কখনও বা শাসকের অবহেলায় ।

কারণ যাই হোক না কেন তার শেষ ফলভোগ করতে হয়েছে সাধারণ নিরীহ মানুষজনকে লাখে লাখে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে । কালের নিয়মে এক সময়ে আপনা হতেই পৃথিবী থেকে ঐসব মহামারী মরণ কামড় দিয়ে বিদায় নিয়েছে । পিছনে রেখে গেছে তার ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের স্মৃতি। পরবর্তীকালের মানুষ মহামারীর সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলির কথা স্মরণ করে পৃথিবীর নানা স্থানে ওই সব ভয়াল মহামারীর স্মারকস্তম্ভ তৈরী করেছে । প্রার্থনা করেছে এমন দিন যেন আর না আসে ।

চারমিনার কলেরা মহামারীর স্মৃতিতে তেমন প্রার্থনাই করেছিলেন ষোড়শ শতকে কুতব শাহি নবাববংশের পঞ্চম নবাব মোহম্মদ কুলি কুতব শাহি , হায়দরাবাদ সহরকে ভয়াবহ কলেরা মহামারীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য । হায়দরাবাদ তখন ভয়াবহ কলেরা মহামারীর প্রকোপে লোক মরে উজাড় হয়ে জনপদ বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছিল । মহামারী থেমে গেলে মোহম্মদ কুলি সেই মহামারীর স্মৃতিতে মুসি নদির পূর্ব তীরে ১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে নির্মান করলেন বিশ্ববিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ “চারমিনার” – যাকে ছাড়া হায়দরাবাদের ছবি চিন্তাই করা যায় না । চারমিনারের পাশেই সেই জায়গায় গড়ে তুললেন বিখ্যাত মসজিদ যেখানে তিনি মহামারী থেকে হায়দরাবাদ সহরকে বাঁচাবার জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছিলেন । পার্সিয়ান গ্রন্থে অবশ্য হিজরি সালের দ্বিতীয় শতাব্দী শুরু হবার সন্ধিক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য চারমিনার নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছে ।

কলেরা রায়ট
কলেরা মহামারীকে কেন্দ্র করে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে “সেন্ট পিটার্সবার্গের কলেরা রায়ট” রাশিয়ার ইতিহাসের এক ঘৃণ্য অধ্যায় । সেন্ট পিটার্সবার্গে স্থাপিত জার প্রথম নিকোলাস স্মারকস্তম্ভের প্রস্তরফলকের ভাস্কর্যের ছবিতে উৎকীর্ণ রয়েছে: ঘোড়ার গাড়িতে জার নিকোলাস দাঁড়িয়ে কলেরা দাঙ্গায় জড়িত প্রজাদের হাঁটু গেড়ে বসে টুপি খুলে রাখতে আদেশ করছেন ।

এবার ফিরে যাই সেই রাশিয়ার কলেরা দাঙ্গার আগের সময়টায় । কলেরা যে জলবাহিত অসূখ – এই ধারণাটা তখন ছিল না । সহরের নর্দমার দূষিত জল গিয়ে পড়ছে নদিতে ।জল দূষিত হচ্ছে । সেই দূষিত নেভা নদির জল খেয়ে রাশিয়ায় ব্যাপক কলেরা সংক্রমণ হয় ,প্রচুর লোক মরতে থাকে । সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন এলাকায় কোয়ারেন্টাইন করে দেওয়া হল । কিন্তু বিশেষ অঞ্চলকে ঘিরে কর্ডন করাকে সাধারণ মানুষের মনে হয়েছিল সাধারন মানুষদের আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে শুধু বড়লোকদের বাঁচাবার জন্যে ।ফলে সাধারণ মানুষেরা মারা যাচ্ছে ।দলে দলে কলেরা রোগী মারা যাওয়ায় সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল ।

১৮৩৩ সালের ২২শে জুন সেন্ট পিটার্সবার্গের সেন্নায়া স্কোয়ারে রাশিয়ার সাধারণ মানুষজন কলেরা রোগ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না কেন – এই নিয়ে সরকার বিরোধী জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখায় । পরে জনতা মারমুখি চেহারা নিয়ে সহরের প্রধান কলেরা হাসপাতাল ভেঙ্গে ধূলিস্যাত করে দেয় , বাজারের স্যানিটারি ইনস্পেক্টরকে মারধোর করে ,এবং ডাক্তাররা খাবার জলের কুয়োয় বিষ মিশিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের মেরে ফেলে । সৈন্য নামিয়েও এই কলেরা মহামারীদাঙ্গা থামান যায় না । তখন জার প্রথম নিকোলাস সেখানে পৌঁছে প্রজাদের টুপি খুলে হাঁটু গেড়ে বসতে আদেশ করেন । প্রজারা সেই আদেশ পালন করে । জনতা শান্ত হয় । দাঙ্গা থেমে যায় । যদিও কলেরা মহামারী থামে না । সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রথম নিকোলাসের মুর্তির কাছে এই ইতিহাসের অংশ খোদাই করা রয়েছে ।

ইংল্যান্ডের শেফিল্ডে ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দের কলেরা মহামারী স্মরণে এক “কলেরা মনুমেন্ট” নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপিত হয়েছিল যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন কবি জেমস মন্টাগোমারি । ৪০২ জন কলেরা আক্রান্তের মধ্যে ৩৩৯ জনের মৃত্যু হলে তাদের পার্ক হিল এবং ক্লে উডের নরফলক পার্কের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সমাধিস্থ করা হয় । এই স্মারক স্তম্ভ নির্মাণ করার জন্য বোর্ড অফ হেলথ অর্থ বরাদ্দ করেছিল । এম ই হ্যাডফিল্ড এর প্ল্যান অনুযায়ী স্থপতি ইয়ার্প এবং হবস নিও গথিক পিনাকল স্থাপত্যের গির্জার আকারের এই কলেরা মনুমেন্ট এর কাজ শেষ করেন ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ।

প্লেগ মহামারীর স্মৃতিস্তম্ভ: ভিয়েনায় প্লেগের স্মারক স্থাপিত হয় ১৬৭৯ -৮০ খ্রিস্টাব্দের “ দি গ্রেট প্লেগ অফ ভিয়েনা ” স্মরণে । এই ভয়ংকর প্লেগের সংক্রমণে অস্টিয়ার ভিয়েনা সহরে ৭৬০০০ মানুষের মৃত্যু হয় । ৬৯ ফুট স্মৃতিফলক সম্বলিত ভিয়েনার প্লেগ স্মারকটির নাম BAROQUE KARISKIRCHE প্লেগ মহামারী নিয়ে আর একটি স্মৃতিস্থম্ভ হল “হোলি ট্রিনিটি কলাম ”। ১৫ মিটার লম্বা এই কলাম টি স্থাপিত হয়েছে বুডা’স ক্যাসল জেলার ট্রিনিটি স্কোয়ারে । ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে বুডা কাউন্সিল প্লেগ মহামারী থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা এবং ঈশ্বরের কৃপায় প্লেগ মহামারী থেমে যাওয়ায় প্লেগের স্মৃতিস্থম্ভ তৈরীর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে । ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে এই স্মারকের ভিত্তি স্থাপন হয় .১৭০৬ সালে এর কাজ শেষ হয় । কিন্তু ১৭০৯ খ্রিস্টাব্দে এই হোলি ট্রিনিটি কলাম টি তুলে নিয়ে গিয়ে উজলাক নামক স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় । পরিবর্তে এই ট্রিনিটি স্কোয়ারে আর একটি বড় সুসজ্জিত নতুন হোলি ট্রিনিটি কলাম স্থাপন করা হয় ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ ই জুন ।

স্প্যানিশ ফ্লু স্মারক স্তম্ভ:  ফ্লু মহামারী স্মারকটি রয়েছে ক্যানসাস সিটির ফোর্ট রিলে’র ক্যাম্প ফানসটনের ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যানাইওন এ । সৈন্য পরিবহনের ট্রেনে স্যানিটারি কাজে নিযুক্ত দশজন সৈন্যের ফ্লু তে অকালমৃত্যুর ঘটনার স্মরণে পিরামিডের আকৃতির এই স্মারক স্তম্ভটি হ্যারী হার্ডির নকশায় ১৯১৮ – ২০ তে নির্মিত হয় ।
ক্যাম্প মেরিট মেমোরিয়াল মনুমেন্ট স্থাপিত হয়েছে প্রথম বিশ্বমহাযুদ্ধে স্পানিশ ফ্লুতে মৃত ১৫ জন আমেরিকান সেনা বাহিনীর অফিসার ,৫৫৮ জন সৈন্য , ৪ জন নার্স এবং ১ জন সিভিলিয়ানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। নিউ জার্সির ক্রেস্কিল ও ডূমন্ট সীমান্ত এলাকায় এই ক্যাম্প মেরিট ছিল ইউরোপে যুদ্ধ করতে যাওয়া সৈনিকদের সবচেয়ে বড় ট্রানজিট বেস ক্যাম্প । ১৯১৮ সালের দু মাস ব্যাপী স্পানিশ ফ্লু সংক্রমনে এই ক্যাম্পের ৫৭৮ জন মারা যায় । তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এখনে ৬৬ ফুটের স্প্যানিশ ফ্লু মহামারী স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপন করা হয় ।

 

ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর স্মারকস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকারের বদান্যতায় সামোয়া নামক স্থানে। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে সামোয়ায় স্পানিশ ফ্লু’র সংক্রমণে ৮৫০০ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে । তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই মহামারী স্মৃতিস্থম্ভ নির্মাণ করা হয় ।

“WAITAPU URUPA INFLUENJA MEMORIYAL” নামে আর একটি স্পানিশ ফ্লু মহামারী স্মারক নির্মান করা হয়েছে নিউ প্লিমাউথ এনগামটু বিচের কাছে ওয়াইটাপু উড়ুপার সমাধি জমিতে । ১৯১৮-১৯ সালে তারাঙ্কি সহরে স্পানিশ ফ্লু তে মৃত অজ্ঞাত নামা মানুষদের জন্য এই স্মারকটি উড়ূপায় কর্মরত এক রাজ মিস্ত্রী ক্যাল্লাম মাহির ব্যাক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত হয় হতভাগ্যদের মৃত্যুর একশ বছর পরে ২০১৮ সালের ১০ ই নভেম্বর । স্মৃতিফলকে উৎকীর্ণ আছে – “ In remembrance of those soules lost forever . The resting place of unknown loved ones who died from Great Flu Epidemic in Taranki ”

ইয়োলো ফিভার স্মারক: ইয়োলো ফিভার নামক রোগটি মহামারী রুপে ছড়িয়ে পরে বহু মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছিল । ইয়োলো ফিভার সংক্রমণের ইতিহাস চমকপ্রদ । ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ ই জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ‘দি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন’ নামক একটি জাহাজ খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভার্জিনিয়ার নরফলক বন্দরে রিপেয়ার কাজ করানোর জন্য ভিড়ে নোঙ্গর করে রইল । এই জাহাজে ইয়োলো ফিভারের জীবাণু বাহী কয়েকটি মশা ছিল ,যেগুলি জাহাজ ছেড়ে নরফলক বন্দরসহরে্র মানুষদের কামড়ে মাধ্যমে দ্রুত ইয়োলো ফিভার ছড়িয়ে দিয়ে এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটাল । সহরের তরূণ মেয়রও এই অসুখে প্রাণ হারালেন । প্রতিদিন শয়ে শয়ে লোক মরতে থাকায় গণকবর খুঁড়ে তাদের মাটি চাপা দিতে হচ্ছিল । পরবর্তী কালে এই কবরখানায় তৈরি হয় “ইয়োলো ফিভার পার্ক” ।

টেনেসি ভ্যালির মেমফিস এ গড়ে উঠেছে “ইয়োলো ফিভার মার্টার মেমোরিয়াল”। . ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে মেমফিস সহরে ইয়োলো ফিভার মহামারীতে ৫১৫০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে । উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবে এই সহরের এক কবরখানায় দেড় হাজার মানুষের গণকবর দিতে হয় । পরবর্তী কালে এই জায়গা পরিত্যক্ত হয় । কিন্তু ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৩ রা জানুয়ারি এখানে মিসিসিপি নদির ধারের অনুচ্চ টিলায় শহিদ পার্ক গড়ে ওঠে । পার্কের মধ্যস্থলের ফলকে লেখা আছে: “The Heros and Heroins of Memphis Who gave their Lives Serving the Victims of Yellow Fiver .”

১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের ইয়োলো ফিভার এপিডেমিকের স্মরণে বুয়েন্স এয়ার্সের পার্ক ফ্লোরেন্টিনা আমেঘিনো ( Parque Florentina Ameghino )অঞ্চলে ইয়োলো ফিভার মনুমেন্ট নির্মিত হয়েছিল ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে । বুএনস এয়ার্সে ১৮৫২ , ১৮৫৮ , ১৮৭০ , ও ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ইয়োলো ফিভার মহামারী ভয়ংকর ভাবে প্রাণহানি ঘটিয়ে ছিল ।

মহামারী বিরুদ্ধে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্মৃতিস্তম্ভ
মহামারি স্মারক স্তম্ভের বর্ণনার উপসংহারে পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ার ইয়োলো ফিভারের এক স্মৃতিস্তম্ভের কথা বোলব যেটি দেখতে অবিকল আমাদের কলকাতার মনুমেন্টের মত । ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই ইয়োলো ফিভার মনুমেন্টটি উৎসর্গ করা হয়েছে মহামারী যোদ্ধা ডাক্তার ,নার্স , ও ওষুধ সরবরাহকারি যারা ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ভার্জিনিয়ায় ইয়োলোফিভার রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে সেখানেই মহামারীর করাল গ্রাসে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে । মহামারীর দুঃস্বপ্নের মধ্যে এই্সব স্মারক স্তম্ভের স্মৃতিফলকগুলি মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে । মানুষ আজো কত অসহায় ভয়াল প্রকৃতির খেয়ালী আচরণের কাছে।

Durga Puja: বাজেটে বড় রেখে নির্বাধ পুজোর প্রস্তুতি টালা পার্ক প্রত্যয়ের

tala park patyay

অনলাইন ডেস্ক: কোনও কাটছাঁট নয়। করোনা আছে বলে সবকিছুতে দিনের পরদিন কাটছাঁট আর চাইছেন না ওঁরা। পুজো হবে বড় করেই। পুজো হবে বড় বাজেট নিয়েই। তা নিয়েই এগিয়ে গিয়েছে টালা পার্ক প্রত্যয়।

ক্লাবের এবারের পুজোর বাজেট ৬০ থেকে ৬৫ লক্ষ টাকা। এত বড় বাজেট এই পরিস্থিতিতে? এর কারণ কী? কেন এত বিগ বাজেটের পুজো? কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, “নানা শিল্প ও শিল্পীর সংযুক্ত উদ্যোগে আজ বাংলার দুর্গাপুজোকে শিল্পে পরিণত করেছে। এই কর্মযজ্ঞের উপর নির্ভরশীল অজস্র মানুষ ও তাঁদের পরিবার। আজকের দিনে পুজো শিল্প এমন এক মাধ্যম যা কর্পোরেট সংস্থার বিজ্ঞাপন থেকে সংগৃহীত পুঁজিকে বহু সংগঠিত ও অসংগঠিত শিল্পী কারিগরদের কাছে পৌঁছে দেয়।”

তাই সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে এই অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যে বিগ বাজেটের পুজো করা এক জনকল্যাণমূলক প্রচেষ্টা বলে তাঁরা মনে করছেন। এখানে ২০০ লোক টাইম শেডিউল ভাগ করে ভ্যাক্সিন নিয়ে এবং যাদের তা না হয়েছে ভ্যাক্সিন দিইয়ে কাজ করার এবং অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে টালা পার্ক প্রত্যয়। মূল উদ্দেশ্য একটাই কর্পোরেট থেকে প্রাপ্ত অর্থ ডাউনলাইন ধরে সমাজে পাঠিয়ে দেওয়া। সেই কাজে সফল তারা।

tala park patyay

এই ভাবনা থেকেই তাঁদের থিমের নাম নির্বাধ। ক্লাব কর্তারা জানাচ্ছেন, “এক দুর্বিষহ ও আতঙ্কের চৌহদ্দিতে অবরুদ্ধ আমাদের বর্তমান জীবন। এই বাঁধনের শেষ কোথায়?এর থেকে মুক্তির কি উপায় তা আমাদের অজানা। তবে এবার সময়, চৌহদ্দির অন্ধকার অতিক্রম করে আলোয় ফিরে যাওয়ার। আবদ্ধতা ভেঙে নির্বাধ হয়ে আমরা পৌঁছে জাব আলোর উৎসে, শক্তির উজ্জাপনে’।

গতবার তাঁদের থিম ছিল লোকাহিত। অর্থাৎ মানুষের জন্য কাজের বার্তা। ত্রিনয়নে স্যানিটাইজেশনের অভিনব উদ্যোগ নিয়েছিল এই ক্লাব। মুদিয়ালির সঙ্গে একসঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য এই কাজ করেছিল তারা। পাড়া স্যানিটাইজেশনের পাশাপাশি একে অপরের মণ্ডপ চত্বর স্যানিটাইজেশন করেছিল তাঁরা। বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিল ‘সকলের তরে সকলে আমরা’। সেই ভাবনা মাথায় রেখেই এবারও মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়াতে চাইছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

কোভিডের কারণে মানুষের গড় আয়ু কমেছে, চাঞ্চল্য অক্সফোর্ডের সমীক্ষায়

নিউজ ডেস্ক: গত বছর থেকেই করোনা সংক্রমণের ফলে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের ডেল্টা প্রজাতি নিয়েও সতর্কবার্তা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এবার সামনে এল আরও এক ভয়াবহ তথ্য। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশের মানুষের গড় আয়ু কমেছে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এবার প্রথম, যখন ব্যাপক কমেছে মানুষের গড় আয়ু। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন কোভিড-১৯ আক্রান্তের আত্মহত্যা করোনায় মৃত বলে বিবেচিত হবে: আদালতকে জানাল কেন্দ্র 

মোট ২৯টি দেশের মানুষদের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। দেখা গিয়েছে, ২০২০ সালে করোনার প্রকোপে মানুষের গড় আয়ু উদ্বেগজনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু করোনা সংক্রমণই নয়। সংক্রমণের ফলে হওয়া আনুষাঙ্গিক রোগ এবং চিন্তাও মানুষের গড় আয়ুর কমার অন্যতম কারণ। 

আরও পড়ুন কোভিডে মৃতদের চিতাভস্ম দিয়ে পার্ক তৈরি হচ্ছে ভোপালে

যদিও এর মধ্যেই স্বস্তির খবর ভারতের জন্য। আগেই বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা জানিয়ে দিয়েছিল, সম্ভবত ভারতে এন্ডেমিকের শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে দৈনিক আক্রান্তর সংখ্যা কমে হয়েছে ১৮,৭৯৫। মৃতের সংখ্যাও কমেছে। এই মুহূর্তে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ২ লক্ষ ৯২ হাজার ২০৬। ছয় মাস পরে দেশের অ্যাক্টিভ আক্রান্তর সংখ্যা তিন লক্ষের কম। 

 

করোনার জের: শোভাবাজার রাজবাড়িতে প্রবেশে নিষেধ

Sobhabazar Rajbari

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো মানেই শোভাবাজার রাজবাড়ির (Sobhabazar Rajbari) পুজো। যে পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন, আবেগের টানে, বনেদিয়ানার টানে। তবে বিগত বছরের মতন এবারও ছোট রাজবাড়ির পুজো দেখার সুযোগ মিলছে না দর্শকদের। তবে শোভাবাজারের ছোট রাজবাড়ির ফেসবুক পেজে পুজোর লাইভ দেখানো হবে বলেই জানা যাচ্ছে। 

১৭৫৭ সালে রাজবাড়ির পুজো শুরু করেছিলেন রাজা নবকৃষ্ণ দেব। বলা যেতে পারে কলকাতায় প্রথম মহাসমারহে দুর্গোৎসব শুরু করেছিলেন নবকৃষ্ণ। হাজার হাজার টাকা খরচ করে রাজবাড়িতে বসিয়েছিলেন মজলিস। তবে পুজোর নিয়মনিষ্ঠায় কোন খামতি ছিলনা নবকৃষ্ণ দেবের। ভিয়েন বসিয়ে আজও হরেক রকম মিষ্টি তৈরি করা হয় রাজবাড়িতে।

পরিবারের বর্তমান সদস্যরা প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই পুজো করে আসছেন। তবে বিগত বছর থেকেই রাজবাড়ির পুজো দেখার অনুমতি মিলছে না আপামর সাধারণ মানুষের। তার মূল কারণ হল করোনা ভাইরাস। আর এবছরও তার অন্যথা হল না, রাজবাড়ির তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হল এবছরও কোন সাধারণ মানুষকে শোভাবাজার রাজবাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এবারও পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। করোনার সংক্রমণকে রুখতে রাজবাড়ির এহেন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেট নাগরিকরা।

Sobhabazar Rajbari

রাজা নবকৃষ্ণের পিতা রামচরণ ছিলেন নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর কালেক্টর। পরে হন কটকের দেওয়ান। কিন্তু তিনি বর্গিদের হাতে মারা যাওয়ার পরে তাঁর বিধবা স্ত্রী তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে কলকাতার কাছে গোবিন্দপুর অঞ্চলে (এখনকার ফোর্ট উইলিয়াম) পালিয়ে আসেন। রামচরণের কনিষ্ঠ পুত্র নবকৃষ্ণ মায়ের উৎসাহে ইংরেজি, ফারসি ও আরবি শেখেন এবং তার ফলে প্রথমে ওয়ারেন হেস্টিংসের ফারসি শিক্ষক নিযুক্ত হলেন।

পরে নিজের যোগ্যতা ও বুদ্ধি বলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মুনশির পদ লাভ করলেন। লর্ড ক্লাইভ তখন কোম্পানির প্রভাবশালী ব্যক্তি। নবকৃষ্ণ ক্রমে তাঁর কাছের লোক হয়ে ওঠেন। উত্তর কলকাতার শোভাবাজার অঞ্চলে তৎকালীন বড় ব্যবসায়ী শোভারাম বসাকের কাছ থেকে একটি প্রাসাদোপম বাড়ি নবকৃষ্ণ কিনেছিলেন আগেই। পলাশির যুদ্ধের পর সেই প্রাসাদের সঙ্গে নবকৃষ্ণ তৈরি করান দেওয়ানখানা, নাচঘর, লাইব্রেরি, নহবতখানা ইত্যাদি। আর একটি সুবিশাল সাত খিলানের ঠাকুরদালান।

যুদ্ধজয়ের স্মারক হিসাবে তিনি ওই বছরেই ওই দালানে সূচনা করেন দুর্গোৎসবের। কলকাতার মানুষ সেই প্রথম দেখল, দুর্গাপুজোর মোচ্ছব কাকে বলে। রাজা নবকৃষ্ণই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসবে সাহেবদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন। তাতে আমন্ত্রিতের তালিকায় ছিলেন লর্ড ক্লাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
১৮৯৭ সালে বিবেকানন্দ শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা থেকে ফেরার পর তাঁকে এখানেই রাজা বিনয়কৃষ্ণ দেব বাহাদুর আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মানিত করেন