Gangasagar : ‘নোনা জলে করোনা হবে না’ থিওরিতে চরম কটাক্ষের মুখে মমতা সরকার

mamata banerjee drinking

করোনা আবহে কতোই না ‘থিওরি’ আবিষ্কার হয়েছে। ফ্যাক্ট চেক করতে গিয়ে বোধহয় হিমশিম খেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷ হয়তো অনেকের মনে পড়েছে ‘গল্পের গরু গাছে ওঠে’। যুক্তিকে থোড়াই কেয়ার! প্রসঙ্গে গঙ্গাসাগর (Gangasagar)।

এবার আলোচনায় ‘নোনা জলে করোনা’। মানে? ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যে এবার গঙ্গাসাগর মেলায় আয়োজনের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে চলেছে মামলা। আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর যুক্তি- নোনা জলে করোনা ছড়ায় না।

নেট দুনিয়ায় এ প্রসঙ্গে হচ্ছে আলোচনা৷ নেট নাগরিকরা কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে৷ নোনা জলে করোনা প্রসঙ্গে বিজ্ঞানের কী যুক্তি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’- জানিয়েছে, জলের করোনা ছড়ায় এমন প্রমাণ আপাতত মেলেনি। সাঁতার কাটার মতো কাজও নিরাপদে চলতে পারে। তবে বিপত্তি হতে পারে অল্প জায়গায় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিতি। জলে থাকলেও শারীরিক দুরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলেছে হু। এমনকি কাশি, হাঁচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কনুই দিয়ে মুখ ঢাকা দেওয়ার উপদেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মমতা-সরকারের যুক্তি কি একেবারে যথার্থ?

হু-এর পক্ষ থেকে মিষ্টি জল কিংবা নোনা জলের কথা আলাদাভাবে বলা হয়নি৷ বলা হয়েছে জলে করোনা ছড়ায় এমন প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ আইনজীবীর ‘নোনা জল’ যুক্তি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। সমস্যাটা জমায়েত নিয়ে।

ভারতবর্ষের সিংহভাগ মানুষ ধর্মের ব্যাপারে কীরূপ উৎসাহী এ কথা প্রত্যেকের জানা৷ জলে হোক বা ডাঙ্গায়, ভিড় বা জমায়েত এড়ানোই চ্যালেঞ্জ। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সাগর এলাকার প্রত্যেকেই প্রতিষেধক পেয়ে গিয়েছেন। তাতেও কি করোনা রোধ করা সম্ভব? সম্প্রতি যারা কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অনেকেরই ডবল ডোজ নেওয়া ছিল। তার পরেও রিপোর্ট পজিটিভ।

স্রেফ ‘নোনা জলে করোনা ছড়ায় না’ যুক্তি কি তাহলে যথার্থ? ভিড় প্রতিহত করার ব্যাপারে আদালতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার৷ প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কি সম্ভব হবে? কুম্ভমেলা ২০২১-এর স্মৃতি চাইছেন না সাধারণ মানুষ।

High Court: পাওনা কেন বকেয়া? মমতার অস্বস্তি বাড়িয়ে আদালতের তলব

এখনও বকেয়া রয়েছে পাওনা৷ অভিযোগের তির রাজ্যের অর্থসচিব-সহ ৪ আধিকারিকেএ বিরুদ্ধে। তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছে কলকাতার উচ্চ আদালত (High Court)। আগামী শুক্রবার দিতে হবে হাজিরা।

অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে উঠেছে আদালত অবমাননার অভিযোগ। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার দীর্ঘদিন পরেও পুরকর্মীর বকেয়া পাওনা-গন্ডা মেটানো হয়নি, এমনটাই অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের অর্থসচিব পুনিত যাদবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় রুল ইস্যু হয়েছে বলে প্রকাশ সংবাদমাধ্যমে। অভিযোগ রয়েছে বহরমপুরের মহকুমা শাসক, বহরমপুর পুরসভা এগজিকিউটিভ অফিসার ও সেখানকার বর্তমান প্রশাসক বোর্ড প্রধানের বিরুদ্ধেও।

বকেয়া পাওনা না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী স্ত্রী ডলি সরকার। গত ২৮ অক্টোবর সমস্ত পাওনা-গন্ডা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কোর্টের পক্ষ থেকে। কিন্তু তারপরেও পাওনা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফের বিচারপতির দরবারে যান ডলি সরকার। করেন আদালত অবমাননার মামলা। তারই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের এই রুল ইস্যু।

সাফাই দেওয়া হয়েছে বহরমপুর পুরসভার তরফে৷ জানানো হয়েছে, কর্মীদের কাছে ৮-১০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তা মেটানোর সামর্থ্য এখন পুরসভার নেই। রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে স্থানীয় এই প্রশাসন। বহরপুর ছাড়াও রাজ্যের একাধিক জায়গায় বকেয়া সম্পর্কিত এমন সমস্যা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এমতাবস্থায় আদালতের এই পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসেছেন রাজ্যের একাংশ। অর্থসচিবকেও দিতে হবে হাজিরা৷ বিচারপতি রাজা শেখর মন্থর এজলাসে আগামী দিনে কী হয়, এখন সে দিকেই তাকিয়ে সকলে।

TMC: বিকল্প শক্তি নেই, বেরোজগারির রাজ্যে মমতা নিশ্চিন্ত

bengal unemployment

বিধানসভা জয়ের হ্যাটট্রিক। বিজেপির দুর্দান্ত জয়রথকে রুখে দিয়েছে তৃণমূল (TMC)। জাতীয় স্তরে দাঁত ফোঁটানোর প্রয়াস। কোন পথে তৃণমূল? নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের মধ্যগগনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে এসেছিলেন রাজ্যের ক্ষমতায়। তারও আগে ব্রিগেডে বাজিয়েছিলেন বামেদের মৃত্যু ঘন্টা। অনেকের চোখের সামনে এখনও ভাসছে সে’দিনের স্মৃতি। শব্দও শুনতে পাচ্ছেন কি?

‘কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী’, এই শব্দযুগল বহুবার লেখা হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। কল্পতরু হয়ে তিনি দিয়েছেন কী কী? নিঃসন্দেহে উনি বা ওনার দল সাধারণ মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছেন। শহরে, গ্রামের রাস্তাঘাটে চোখ ফেরালে অনেক পোস্টার-হোডিং চোখে পড়ে সকলের। সুবজ সাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী… আরও কতো কী!

শুধুই কি দেওয়া? দাঁড়িপাল্লার কনসেপ্টাই বিগড়ে যাবে তাহলে৷ বিগত কয়েক বছরে যা গিয়েছে তা দৃশ্যমান নয়- মানুষের কর্মদ্যোগ। মাসে মাসে কিছু টাকা ঢুকছে তথাকথিত গরীব, মধ্যবিত্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। শ্রমের বিনিময়ে আগে যে টাকা রোজকার করা হতো এখন সেই টাকা মিলছে ঘরে বসে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য খাটনি বা শ্রমের পরিমাণ কমছে ধীরেধীরে। তৃণমূল সরকার চিরকাল থাকবে এমনটা আশা করা যায় না। আগামী দিনে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতেই পারে। তারাও কি বজায় রাখবে একই ভর্তুকি নীতি? শ্রম এমন একটা বিষয় যা একজন মানুষের সম্পদ। সেই সম্পদেই যদি ধুলো জমে তাহলে প্রয়োজনে তা আর কাজে লাগবে কি?

আত্মসমান বোধেও লাগতে পারে কারও। সবাই কিন্তু ৫ টাকার ডিম-ভাতের লাইনে দাঁড়ান না। শ্রমিকদের অনেকেই এখনও দুপুরের ভাত খান কোনও হোটেলে। হয়তো সেই ডিম-ভাতই খাচ্ছেন। কিন্তু লাইনে দাঁড়াচ্ছেন না। কাজের বিনিময়ে সম্মানিক। আমজনতার অধিকাংশের ইউএসপি এটা। কিন্তু কাজ কোথায়? ছাঁটাইয়ের খবর, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর মেলে বিস্তর। কিন্তু নতুন কারখানা হয়েছে কিংবা বিপুল কর্মসংস্থান হয়েছে এমন উদাহরণ ক’টা? যে সিঙ্গুর আন্দোলনের হাত ধরে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছিল, সেই আন্দোলনই এখন প্রশ্নের মুখে। দলের অন্দরেও দ্বিধা। চাকরির অভাবে ছেলে-মেয়েরা চলে যাচ্ছেন রাজ্যের বাইরে।

সম্প্রতি মমতা দাবি করেছেন তিনিও বাম ঘেঁষা। সম্প্রতি মঞ্চে উচ্চারণ করেছেন হিন্দু দেব-দেবীর নাম। গ্রামের মেয়েটির ইমেজের পাশাপাশি তিনিও আঁকেন ছবি, লেখেন কবিতা-গান। অর্থাৎ অলরাউন্ডার। মাঠে শব্দ যখন ব্যবহার করাই হল তখন এবার ‘খেলা’র প্রসঙ্গ। একজন আদর্শ অলরাউন্ডারের মতোই তিনি জিতিয়েছেন নিজের দলকে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, তিনি না, আদপে জিতিয়েছে মানুষে। কারণ বাংলার মানুষ এখনও বিজেপিকে মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। রাজ্যে আপাতত বিকল্প কোনও শক্তি নেই, তাই তৃণমূলের পক্ষে গরিষ্ঠ মত।

জেলা স্তরে বা গ্রামের দিকে পার্টির সমর্থকরা এখনও মেনে নিতে পারছেন না নেত্রীর ফেজ টুপি পরার ছবি। ইমাম ভাতাও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছি একাংশের মনে। প্রাক-নির্বাচনী ভাষণে হিন্দি ব্যবহার হয়েছে নিয়মিত। ‘কেন অবাঙালী তোষণ?’ এই প্রশ্নও কি ওঠেনি আগে? যে মানুষ রাজ্যের বাইরে যাননি, তিনি লন্ডন-প্যারিস চেনন না৷ তিনি শুধু চেনেন নিজের পরিবার, নিজের এলাকাকে। জিনিসের দাম বাড়ছে, চাকরি কমছে, হাত পড়ছে মাথায়। এখনও বৃষ্টি হলে ভাঙছে বাঁধ, ঘরে ঢুকছে জল। মানুষ এবার করবেটা কী?

TMC: চব্বিশে পা, আঞ্চলিক দল থেকে ‘অনিশ্চিত’ সর্বভারতীয় পথে তৃণমূল কংগ্রেস

TMC

News Desk: দলের নামের সঙ্গে সর্বভারতীয় শব্দ জুড়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের শাসক দলের সঙ্গে এই শব্দ যায় কি? তবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যে রাজনৈতিক অভিযান প্রমাণ করছে তিনি শব্দটি বাস্তবায়নে মরিয়া। সেই লক্ষ্যে চব্বিশ বছরে পা রেখে আঞ্চলিক দল থেকে অনিশ্চিত সর্বভারতীয় পথে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে যেতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান নেত্রী  মমতা।

জন্মের পর এই সময়ে টিএমসি তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় বিরাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গে তিনবার সরকার গঠন। মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী দল। ত্রিপুরার পুর নির্বাচনে আচমকা ফের চর্চায়। গোয়াতে লড়াই করার কৌশল। উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস ও অন্যান্য দল ভাঙিয়ে বিরোধী আসনের তকমা পাওয়ার নীতি নিয়েছে দলটি। আসন্ন ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে টিএমসিকে সে রাজ্যে মূল প্রতিপক্ষ করতে মরিয়া প্রচার চেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থার ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক।

দলটির এই বিস্তৃতির চেষ্টা প্রমাণ করছে, আঞ্চলিকতা ত্যাগ করতে চাইছেন দলনেত্রী মমতা। পশ্চিমবঙ্গে গত বাম জমামায় শাসক সিপিআইএমের দখলে ছিল তিনটি রাজ্য। এছাড়া দেশজোড়া সংগঠন। বিভিন্ন রাজ্যে সাংসদ ও বিধায়ক। কালক্রমে বামেরা এখন পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে অপসারিত। একমাত্র কেরলে ক্ষমতায়।একইভাবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস।

এই ফলের হিসেবে বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস একই আসনে আছে। তবে টিএমসির দাবি, দল সর্বভারতীয় তকমা তুলবেই, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মোদী বিরোধী মুখ।

বিরোধীদের কটাক্ষ, আরও অনেক রাজ্যে মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির পরাজয় হয়েছে। কংগ্রেস, সিপিআইএম, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি, টিআরএস, বিজেডির মতো দলগুলিও মোদীর বিজয় রথ থামাতে পেরেছে। উত্তর পূর্বে, বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের উপরেই বিজেপি নির্ভর করে। কী করে মমতা দাবি করেন তিনিই একমাত্র মোদী বিরোধী মুখ।

রাজনৈতিক এই পরিস্থিতির মাঝে তৃণমূল কংগ্রেস মরিয়া তার সর্বভারতীয় তকমা প্রতিষ্ঠিত করতে। প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে আর কোনও রাজ্যে কি টিএমসি সরকার গড়বে? বিশ্লেষকদের মতে যদি তা করতে পারেন মমতা, তাহলে তিনি সর্বভারতীয় নেত্রীর তকমা পেতে পারেন।

এক সপ্তাহের মধ্যেই বঙ্গে আছড়ে পড়বে তৃতীয় ঢেউ, আশঙ্কার নয়া তথ্য

The third wave will hit Bengal in a week, raising new fears

News Desk: ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বছরের শুরু থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ জারি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল এক উদ্বেগজনক তথ্য। তথ্য বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এমনকি গোষ্ঠী সংক্রমণের অঙ্গিত মিলেছে কলকাতায়।

তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে শক্তিশালী তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। জার ফলে দ্বিগুণ হারে বাড়বে সংক্রমণ। দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক সংক্রমণ ছিল ২০-২৫ হাজার। তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লে দৈনিক সংক্রমণ ৩০-৩৫ হাজারের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

কলকাতায় গোষ্ঠী সংক্রমণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলার পাঁচ জনের মধ্যে চার জনের নমুনা পরীক্ষায় ওমিক্রনের হদিশ মিলেছে।

তৃতীয় ঢেউ নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলাগুলিকে সতর্কতা জারি করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে জেলার দৈনিক সংক্রমণের পরিসংখ্যান। স্বাস্থ্য দফতরের অধিকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যের দৈনিক সংক্রমণের যে চিত্র সামনে এসেছে তাতে আগামী কয়েকদিনেই দ্বিগুণেরও বেশী হবে বলে আশঙ্কা। জেলার সরকারি হাসপাতালে সকল বিভাগে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক কড়া হয়েছে।

রাজ্যের ৬ টি জেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। বীরভূম, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া- এই ৬ টি জেলায় পজিটিভিটি রেট অনেক বেশী এবং নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা তুলনায় অনেক কম।

Dilip Ghosh: প্রত্যেক নির্বাচনের পরেই মমতা পাপ ধুতে যান: দিলীপ ঘোষ

Mamata-Dilip

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরের মোহন্ত বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। বুধবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেন। 

তিনি বলেন, ‘মোহন্ত রাজনীতি বোঝেন না। তিনি সবাইকে আশীর্বাদ করেন। এখানেও করেছেন।’ দিলীপ কটাক্ষ করে বলেন, ‘কলকাতা পুরভোটে যে পাপ করেছেন তা ধুতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেক নির্বাচনের পরেই এটা করেন তিনি।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গঙ্গাসাগর দুয়োরানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যিই যদি গঙ্গাসাগরের উন্নয়ন চান তাহলে নির্দিষ্ট প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলুন। বিগত ১০ বছরে গঙ্গাসাগরে কী উন্নয়ন করেছে তৃণমূল?’  

প্রসঙ্গত, গঙ্গাসাগর মেলার কোনো দায়িত্ব কেন্দ্র নেয় না, এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘গঙ্গাসাগর মেলায় বাইরে থেকে যে লোক আসে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। অন্যদিকে জেটি ভেঙে পড়ে যায়। কোনও ডিসিপ্লিন নেই। রাজ্য সরকার চাইলেই কেন্দ্র সাহায্য করবে কিন্তু তার জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে।’

এদিকে মঙ্গলবার রাতে গোয়া সফরে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দিলীপ ঘোষ অভিষেকের গোয়া সফরকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘গোয়াতেই থেকে যান উনি। বিমান কেনা হয়েছে বলে সেটা ব্যবহার করতে হবে, তাই বার বার অভিষেক গোয়া যাচ্ছেন। ত্রিপুরার লোক পুরভোটে উত্তর দিয়েছে। গোয়ার লোক আগেই বুঝে গিয়েছে। তাই তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। তৃণমুলের আসল রূপ সবাই বুঝে গিয়েছে।’

গঙ্গাসাগরের মেলা উপলক্ষে চলবে বাড়তি বাস-ট্রেন, বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Additional bus-train will run on the occasion of Gangasagar fair, special message of the Chief Minister

News Desk: প্রতি বছরই বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ আসেন গঙ্গাসাগরের মেলায়। এইবারে মেলার উৎসবের যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগর যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার এই মেলা সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেলের কর্তারাও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গঙ্গাসাগরের মেলা উপলক্ষ্যে বাড়ানো হবে বাস ও ট্রেনের সংখ্যা। হাওড়া এবং শিয়ালদা-নামখানায় অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হবে। মেলার দিনগুলিতে ৭০ টি বাড়তি ট্রেন চলবে বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য গঙ্গাসাগর মেলার কয়েকদিনে ২,২৫০ টি বাস চালানো হবে।

এইবারের মেলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা। নতুন বছরের গঙ্গাসাগরের মেলা প্লাস্টিকমুক্ত হওয়ার বার্তা দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। একইসাথে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে থাকবে ভলেন্টিয়ার্স। দর্শনার্থীদের সতর্ক করতে ৬,৫০০ জন ভলেন্টিয়ার্স থাকবে মেলায়। বাড়তি সতর্কতা রাখতে ১০০০-এর বেশী সিসিটিভি রয়েছে।

যেহেতু করোনার উদ্বেগ বজায় রয়েছে ফুএ মেলায় যাতে করোনা বিধি সঠিকভাবে মেনে চলা হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। মেলায় ১৩ টি মেডিক্যাল স্ক্রিনিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে। বাসে ওঠার আগে করাতে হবে আরটিপিসিআর টেস্ট। মেলার নিকটবর্তী স্থানে তৈরি করা হয়েছে কোভিড হাসপাতাল যেখানে ৬০০ টি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং থাকবে ৫ টি আইসোলেশন সেন্টার।

গঙ্গাসাগরের মেলা গোটা ভারত তথা বিশ্বের অন্যতম সুখ্যাত মেলা। তাই এই উৎসবের সময় যাতে কোনো আপত্তিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Meghalaya: মমতা পেলেন বড়দিনের উপহার! প্রধান বিরোধী দল TMC

mamata banerjee

News Desk: ধোপে টিকল না মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেসের আপত্তি। দলত্যাগী ১২ জন বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মেনে স্বীকৃতি দিল্ন বিধানসভার অধ্যক্ষ মেটবাহ লিংডো। এর পরেই এই রাজ্যে আনুষ্ঠানিক প্রধান বিরোধী দল হলো তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের কাছে এটাই বড়দিন উপহার !

স্পিকারের স্বীকৃতির ফলে ৬০ সদস্যের মেঘালয় বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা হাতছাড়া হল কংগ্রেসের।

পশ্চিমবাংলায় (westbengal) নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখলের পর ত্রিপুরা, মেঘালয়, গোয়ার মত ছোট রাজ্যগুলির দিকে অগ্রসর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের দল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন।

সম্প্রতি মেঘালয়ে কংগ্রেসকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা-সহ কংগ্রেসের ১২ জন বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। মুকুল সাংমা বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরিষদীয় দলকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে কংগ্রেস বিধায়ক আম্পারিন লিংডো দাবি করেন, তাঁরাই প্রধান বিরোধী দল। তৃণমূল কংগ্রেসকে যেন কোনওভাবেই এই স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। কংগ্রেসের ওই আবেদনের পর স্পিকার মুকুল সাংমা সহ কংগ্রেস বিধায়কদের কাছে জানতে চান, কেন তাঁদের বিধানসভা থেকে সরানো হবে না।

স্পিকারের ওই প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেস ত্যাগী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল-সহ অন্য বিধায়করা স্পষ্টভাবে জানান, দলের ১২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। অধিকাংশ সদস্যই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় এই দলটিকেই প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হোক। কংগ্রেস সেই আবেদনে তীব্র আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত তা ধোপে টিকল না।

বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দেন। তৃণমূল কংগ্রেসকে মেঘালয়ের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের ভিত্তি ও সংগঠন আরও মজবুত করার পরই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁরা এবার গোয়া, মেঘালয়, ত্রিপুরার মত ছোট রাজ্যগুলিতে বাড়তি নজর দেবেন।

আগামী বছরের শুরুতেই গোয়া বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই তৃণমূল এই রাজ্যে নিজেদের পায়ের তলার মাটি অনেকটাই শক্ত করেছে বলে দাবি। চলতি মাসেই তৃণমূল নেত্রী গোয়া সফরে গিয়েছিলেন। তৃণমূল নেত্রী গৃহলক্ষী প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেছেন।

একই সঙ্গে দক্ষিণ ভারতেও পা রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা। তামিলনাড়ুতে তামিল মানিলা কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ওই দলকে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

শেষ শীতে পৌর যুদ্ধে মমতা, বছরের প্রথম ভোট পরীক্ষায় TMC

Mamata Banerjee

News Desk: একুশের ভোটযুদ্ধে তরতরিয়ে জিতেছেন। বিধানসভায় তিনবার সরকার কায়েম হয়েছে। কলকাতা পুরনিগমের ক্ষমতায় এসেছেন। তবে পুরনিগমের ভোটে লেগেছে ছাপ্পার ছাপ। এসব নিয়েই বাইশের ভোট যুদ্ধে নামতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তরে হিমালয় পাদদেশে থেকে দক্ষিণে দামোদর তীরবর্তী এলাকা ভোটে গরম হতে চলেছে।

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ৫টি পুর নিগমের ভোট: শিলিগুড়ি (দার্জিলিং), আসানসোল (পশ্চিম বর্ধমান), চন্দননগর (হুগলি), হাওড়া (হাওড়া) ও বিধাননগর (কলকাতা জেলা)।

কলকাতার পুরনিগম ভোটের পর এটাই সর্ববৃহৎ নগর কেন্দ্রিক ভোট যুদ্ধ। কলকাতায় শাসক তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিরোধী দল বিজেপির রাজনৈতিক যুদ্ধে বামফ্রন্টের পুরনায় শক্তি অর্জনে লেগেছে চমক। যদিও বিরোধীদের দাবি, কলকাতায় ব্যাপক রিগিং করে জয়ী হয়েছে শাসকদল। এবার বাকি পুরনিগমগুলির লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তুঙ্গে উঠতে শুরু করল।

পুরনিগম ছাড়াও ১০৯টি পুরসভার ভোট হতে চলেছে ফেব্রুয়ারি মাসেই। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি হবে এই ভোট পর্ব।

আলিপুরদুয়ার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে ছড়ানো সবকটি পুরসভা। ফলে শাসক দলকে রাজ্য জুড়েই ভোট পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় বসবে বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস।

কলকাতা পুরনিগমের ভোটে বিরোধী দল বিজেপি মহানগরে তৃতীয় দলের তকমা পেয়েছে। ভোট প্রাপ্তির হারে মূল বিরোধী হয়েছে বামফ্রন্ট। বিধানসভায় শূন্য হয়ে যাওয়া বামপক্ষ ও কংগ্রেসের কাছে নিজেদের শক্তি দেখানোর ময়দান পুর যুদ্ধ। তেমনই বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা পাওয়া বিজেপির লড়াই অস্তিত্ব প্রমাণেও।

KMC: মমতার পছন্দ ‘অ্যাক্সিডেন্টাল মেয়র’ ববি, শিলমোহরের অপেক্ষা

Firhad Hakim

News Desk: শিলমোহরের অপেক্ষা। শপথ ৩১ জানুয়ারি। কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদেই থাকতে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম (ববি)। মহারাষ্ট্র ভবনে বৈঠকে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ঘোষণা শুধু বাকি আছে।

পুরনিগমের ভোটে বিপুল জয় এসেছে। লেগেছে ছাপ্পা ভোটের তকমা। তবে তৃণমূল কংগ্রেস সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। জয়ের পর ববি হাকিম যে ফের মেয়র পদে বসছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ তিনি ছাড়া আর কেউই এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে নেই।

গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল ত্যাগ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে ববি হাকিম ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। ফলে অ্যাক্সিডেন্টাল মেয়র হিসেবে ববি আবির্ভূত হন।

তাঁকে সামনে রেখেই পুর নির্বাচন লড়াই করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ববি হাকিমের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই সব হয়েছে।

KMC: ‘ছাপ্পা’ ভোট অভিযোগেও সংখ্যালঘু সমর্থন অটুট মমতার

KMC Election: Kolkata pre-poll count on Sunday

News Desk: পুরভোটের ফলপ্রকাশের পর খোশমেজাজে পাওয়া গিয়েছিল ফিরহাদ হাকিমকে৷ হুডখোলা বাসে করে নাতনি সাড়ে তিন বছরের আয়াতকে নিয়ে কলকাতা ঘোরাতে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি৷ পুরভোটে সাফল্যের আনন্দ নিজের নাতি-নাতনিদের সঙ্গেই ভাগ করে নিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম৷

পুরভোটে নিজের ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১৪,৯১৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন ফিরহাদ৷ পরিবহনমন্ত্রী একাই পেয়েছেন ৭৯ শতাংশের বেশি ভোট৷ নিজের ওয়ার্ড থেকে ফিরহাদের জয় নিশ্চিতই ছিল৷ কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের সাতটি ওয়ার্ডে সাফল্যের জন্য তৃণমূল তাকিয়ে ছিল ফিরহাদের দিকেই।

পুরভোটে বন্দর দুর্গ অক্ষত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের।  এবার ২৯, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৬২ ও ৬৬ সহ কুড়িটি ওয়ার্ড থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।  তালিকায় ছিলেন ৬২ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সানা আহমেদ ও ফৈয়াজ আহমেদ খানের মতো তরুণ হেভিওয়েটরা।

ঘাসফুল শিবিরের জয়ী মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে একুশে নজির গড়েছেন ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী ফৈয়াজ আহমেদ খান। অস্ট্রেলিয়া থেকে ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রিপ্রাপ্ত ফৈয়াজ বস্তিবাসীর সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন। এই ওয়ার্ড থেকে  নিকটতম প্রতিদ্বন্দীকে বিপুর ভোটে পরাজিত করেছেন কলকাতা পুরভোটে জয়ী কসবার বিধায়ক তথা মন্ত্রী জাভেদ খানের ছেলে। ফৈয়াজ শুধু জেতেননি, উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন ভোটের মার্জিনও। ওই ওয়ার্ড থেকে ৯৫ হাজার ৩৮টি ভোট পড়েছে, যা শতাংশের বিচারে ৭৮.৫৯ শতাংশ।

ফৈয়াজ জিতেছেন ৬২ হাজার ৪৫ ভোটে। সাফল্যের নিরিখে উজ্জ্বল ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সানা আহমেদের নামও। ওই ওয়ার্ড থেকে পুরভোটে জয়ী হয়েছেন ইকবাল আহমেদের কন্যা সানা আহমেদ।ভোটের ফল বলছে, সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকেই বিপুল সমর্থন পেয়েছেন লরেটোর প্রাক্তনী সানা।

ঘাসফুল শিবিরের হয়ে জয় পেয়েছেন

২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ইকবাল আহমেদ

৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মহম্মদ জসিমুদ্দিন

৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রেহানা খাতুন                   

৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আমিরুদ্দিন ববি

৬০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মহম্মদ ইয়েজুজার রহমান

৬১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মনজর ইকবাল

৬৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজয়ী হয়েছেন সাম্মি জাহান

৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী নিজামুদ্দিন শামস

১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শামস ইকবাল

১৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শামসুজ্জামান আনসারি

১৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রেহমত আলম আনসারি

১৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ফরিদা পারভিন

১৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শেখ মুস্তাক আহমেদ

১৪০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবু মহম্মদ তারিক

৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী সগুফতা পরভিন জয় ছিনিয়ে আনতে না পারলেও ঘাসফুল শিবিরের আওতায় আসতে পারে এই ওয়ার্ড। সূত্রের খবর, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জয়ী নির্দল প্রার্থী আয়েশা কনিজ নাম লেখাতে পারেন তৃণমূলে।

জোড়াফুলের উপরি পাওনা হতে পারে ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডও। গুঞ্জন বলছে, এই ওয়ার্ডের জয়ী নির্দল প্রার্থী রুবিনা নাজও হাতে নিতে পারেন তৃণমূলের পতাকা। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পিছনে ফ্যাক্টর হয়েছিল মুসলিম ভোট। পুর নির্বাচনেও তার অন্যথা হয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, কুড়িটি ওয়ার্ডে মুসলিম প্রার্থীর ওপরে ভরসা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর দুর্দশিতা যে প্রশ্নাতীত, তা আরও একবার প্রমাণ করেছে ভোটের ফল। তেমনিই মুসলিম সমাজও যে জোড়াফুলকে হাত উপুর করে সমর্থন জানিয়েছে, তার প্রমাণ বন্দর এলাকা-সহ ফৈয়জ-সানাদের মতো প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের অঙ্ক। এমনকি, ফিরহাদ হাকিমের আরও একবার মেয়র হওয়ার পিছনেও এই সাফল্যকেই উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

পুরভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই কামাখ্যা দর্শনে অসমে মমতা

Mamata Banerjee Visit Kamakhya Temple

NEWS DESK: ঝটিকা সফরে অসমে (ASSAM) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরভোটের ফলপ্রকাশের দিনই অসমে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপলক্ষ্য, কামাখ্যা মন্দিরে পুজো ও মাতৃদর্শন। গুয়াহাটি (GUWAHATI) থেকে কামাখ্যা রওনা মুখ্যমন্ত্রীর।

পূজার্চনা সেরে ৫টায় কলকাতার উদ্দেশে রওনা তৃণমূল সুপ্রিমোর। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা ভোটে বাংলায় বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর জাতীয় স্তরের মাটি শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল। মেঘালয়ে কংগ্রেসের ১২ জন বিধায়ককে নিয়ে ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন মুকুল সাংমা। সে রাজ্যে এখন তৃণমূলই বিরোধী দল। এর আগে অসমে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল লড়াই করলেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। 

আবার অন্যদিকে, কয়েক মাস আগে কলকাতায় (KOLKATA) এসে তিনি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিবসাগর কেন্দ্রের বিধায়ক অখিল গগৈ।  চলতি বছর অগস্টে অখিল নিজেই বলেছিলেন,’তৃণমূলের তিন দফায় বৈঠক হয়েছে। রাইজর দলকে তৃণমূলে মিশিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছে। আমাকে অসম তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি করা হবে আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ মমতার নেতৃত্বেও যে তাঁর আস্থা রয়েছে সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অসমের বিধায়ক। স্বাভাবিকভাবেই তারপরই কলকাতা পুরভোটের ফলপ্রকাশের দিন মমতার অসমে ঝটিকা সফরের পিছনে উদ্দেশ্য কি শুধুই ক্যামাখ্য়া দর্শন নাকি রয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণও। মুখ্যমন্ত্রীর অসমে ঝটিকা সফরের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

Bangladesh: মমতা দি জিত্যা গেল…খবরে নজর বাংলাদেশিদের

mamata-hasina

News Desk: ওপার বাংলার রাজধানী কলকাতার ভোট ফলাফলে নজর রেখেছেন বাংলাদেশবাসী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহি, রংপুর সর্বত্র খবরের ব্রেকিং কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের (কলকাতা পুরসভা) প্রায় সবটাই শাসক অনুকূলে। খবরে নজর রাখা বাংলাদেশি বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী জেলা উপজেলাগুলিতে আলোচনা মমতা দি জিত্যা গেল…।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের দিনও একইভাবে বাংলাদেশের নজরে ছিলেন। রাজধানী ঢাকা সহ সব বিভাগের সংবাদপত্রের ওয়েব সংস্করণ, টিভি চ্যানেল ও ওয়েব পোর্টালের শিরোনামটিও দখল করেছিলেন মমতা।

বাংলাদেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপরিচিত। তবে সমালোচিতও। কারণ, তাঁর অনড় অবস্থানে ‘তিস্তা পানি বন্টন’ (জল বন্টন) হয়নি। যদিও ভারত সরকার আগ্রহী এই চুক্তিতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি দৌত্য ব্যর্থ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘না’ মনোভাবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, শুখা মরশুমে তিস্তার জল এমনিতেই কম থাকে, তখন কোনওভাবেই প্রতিবেশি দেশে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ঢাকার যুক্তি, তিস্তা আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়মে এই জলের অংশীদার বাংলাদেশ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জমানার আগে বামফ্রন্ট জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে ও কূটনৈতিক অবস্থানে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি হয়। সেই কারণে প্রয়াত জ্যোতি বসুর বিশেষ কদর এখনও ঢাকার রাজনৈতিক মহলে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের এখন ভোটের ভাঁড়ে মা ভবানী। বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হয়ে গিয়েছে বামেরা।

ঢাকায় আলোচনা, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী তিস্তা চুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হলে সেই চুক্তির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছেন। তাঁর অবস্থান বদলাবে না। ফলে তিস্তা চুক্তি এখন দুরাশা।

এত সবের পরেও মমতার খবরেই নজর বাংলাদেশের। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকা রংপুর, রাজশাহি, খুলনার মফস্বলে চলছে চর্চা।

KMC Election: ‘ছাপ্পা’-বোমায় রক্তাক্ত পুরভোটের গণনায় মমতা নিশ্চিন্ত

KMC Election: Kolkata pre-poll count on Sunday

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: শান্তি-অশান্তি। এই দুইয়ের চাপানউতরে রবিবার শেষ হয়েছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন (KMC Election)। ইভিএম বন্দি হয়েছে ৯৫০ জন প্রার্থীর ভাগ্য। শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবি নস্যাৎ করে কমিশন জানিয়েছে নির্ধারিত সময়ই হবে গণনা। এখন ছোট লালবাড়ি দখলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার মুখের হাসি চওড়া হয়, তা জানতে ভোটগণনার দিকে তাকিয়ে রাজ্য-রাজনীতি। ভোটের ফল ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আমজনতা।

সমীক্ষা বলছে, একুশেও কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে কিস্তিমাত করবে তৃণমূল। এবার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিজেপিও প্রতিটি আসনের প্রার্থী দিলেও পরে দুটি ওয়ার্ডের প্রার্থী নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কলকাতার পুরভোটে বিজেপি লড়ছে ১৪২ টি ওয়ার্ডে। বাম-কংগ্রেস বিধানসভার মতো সরাসরি জোটে না গিয়ে উভয়পক্ষই কিছু আসন ছেড়ে ভোটে লড়েছে। পুরভোটে নির্দল প্রার্থী ৩৭৮ জন। কলকাতা পুর নির্বাচনে ভোট-যুদ্ধ চতুর্মুখী হলেও হাড্ডাহাড্ডির লড়াই যে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যেই, তা বললে অত্যুক্তি করা হবে না।

সমীক্ষানুযায়ী, একুশের পুরসভা ভোটে ১৩৭ থেকে ১৪১টি আসন পেতে পারে তৃণমূল। ভোট শতাংশে ঘাসফুল শিবির অর্জিত ভোট হতে পারে ৬৯ শতাংশ ভোট। অপরদিকে, শতাংশের বিচারে পদ্মশিবির পেতে পারে ১৫শতাংশ ভোট। অর্থাত্ সারা কলকাতায় বিজেপি সর্বোচ্চ ৩টি আসন পেতে পারে বলে বলছে সমীক্ষা। বামেদের ঝুলিতেও পড়তে পারে ১৫ শতাংশ ভোট। কলকাতা পুরসভা দখলের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ ৩টি আসন পেতে পারে বামশিবির। কংগ্রেস পেতে পারে ১টি আসন। ভোট শতাংশ ৫। শহরের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে সোমবার দিনভর চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, হেস্টিংস হাউস, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, বরিশা বিবেকানন্দ কলেজ সহ ১১টি কেন্দ্রে মঙ্গলবার ভোটগণনা।

হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সব গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত সিসিটিভির নজরদারি ব্যবস্থা রেখেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কমিশন সূত্রের খবর, ১৩ থেকে ১৬ রাউন্ড পর্যন্ত ভোট গণনা হবে। ফলে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই ১৪৪ টি ওয়ার্ডের ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছ। কমিশন সূত্রের খবর, বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে প্রতিটি হলে জাল লাগানো আলাদা কাউন্টার করা হয়েছে। কাউন্টিং রুমে দুজন করে আধিকারিক থাকবেন। জালের অপরদিকে প্রার্থীর কাউন্টিং এজেন্টের বসার জায়গা করা হয়েছে। কাউন্টিং হলের সামনে একজন করে সুপারভাইজার থাকবেন। গণনা কেন্দ্রগুলিতে গণনাকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীদের কোভিডবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলে কমিশনের নির্দেশ।

গণনাকেন্দ্রে থাকবে মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং থার্মাল গান দিয়ে শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কথা মাথায় রেখেই মঙ্গলবারও দলীয় কর্মী সমর্থকদের বিজয় মিছিল করতে নিষেধ করেছে তৃণমূল। রবিবারের পর ফলাফল ঘোষণার দিনও অশান্তি রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। বিজয় উল্লাসের নামে কোনও বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না বলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছে জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের একাধিক বিধিনিষেধ-আশ্বাস আর কড়া পুলিশি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরভোটে অশান্তি ঠেকানো যায়নি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর। দু জায়গায় বোমাবাজি। ঝরেছে রক্ত।

শাসকদলের বিরোধিতায় বড়তলা থানার সামনে একসঙ্গে অবস্থানে বসেছে বাম-কংগ্রেস-বিজেপি। পুরভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সোমবার প্রতিবাদে মিছিল করে পদ্ম শিবির। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় মুরলীধর সেন লেনে। দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। এখন ভোটের ফল ঘোষণার দিন কলকাতার ছোট লালবাড়ি কার দখলে যায়, সেদিকে নজর রাখার পাশাপাশি শহরে কোনও অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

BJP: সিঙ্গুরে কৃষক ধর্না ‘ফ্লপ’, শুভেন্দু-দিলীপ-সুকান্তকে নিয়ে ‘হতাশা’

BJP's three day agitation at Singur

News Desk: যত গর্জালেন তত বর্ষণ হলো কই ? সিঙ্গুরে কৃষক বিক্ষোভ বা কৃষক ধর্না ঘিরে হুগলি জেলা বিজেপি (BJP) নেতাদেরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতে দলের ভিতরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), বর্তমান সম্পাদক সুকান্ত মজুমদার সবাই বিদ্ধ হচ্ছেন।

হুগলি জেলা বিজেপির আরও অস্বস্তিতে বাড়িয়েছেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি এই কৃষক ধর্না নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। দলের অভ্যন্তরে ‘বেসুরো’ লকেট।

এদিকে আবার সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নামে নিখোঁজ পোস্টার পড়েছে। এতে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক। হুগলির বিজেপি মহলে কানাঘুষো বেশিদিন আর নেই লকেট!

লকেট কি দলত্যাগ করবেন? বিধানসভা ভোটের পরথেকেই এই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বারবার তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দেখা গিয়েছিল। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা ভোটে প্রবল মোদী হাওয়ায় সাংসদ হন। তবে বিধানসভা ভোটে বিজেপি রাজ্যে বিরোধী দল হলেও সরকার গড়তে না পারায় ধস নামছে।

বিজেপি মহলে আশঙ্কা পুর ভোটের পরেই আরও কিছু ধাক্কা আসতে চলেছে। সিঙ্গুরে কর্মসূচি ‘ফ্লপ’ তা জেলার নেতারা স্বীকার করে নিয়েছেন। কিছুজনের বিস্ফোরক দাবি, দিলীপ-শুভেন্দু আর চলবে না। সুকান্তবাবু কে দিয়ে বিশেষ কিছু হবে না। সেই হাওয়া আর নেই।

সিঙ্গুরে বিজেপির তিন দিনের ধর্না কর্মসূচি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় কর্মসূচি। বুধবার বক্তারা ভিড় করলেও শ্রোতাদের ভিড় নেই। জেলা বিজেপি নেতাদের অনেকেই বলছেন, ফ্লপ করেছে ধর্না।

Dilip-Mamata: ‘যার যেমন রুচি, সে তেমন কথা বলে’, দিলীপের নিশানায় মমতা

Dilip-Mamata

নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার পানাজির(Panaji) এক সভামঞ্চে উঠে চণ্ডীর বেশ কয়েকটি শ্লোক পাঠ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গোটা চণ্ডীই নাকি তাঁর মুখস্ত। তিনি নিয়মিত চণ্ডীপাঠ করেন। আর কেউ কেউ শুধুমাত্র ভোট এলেই গঙ্গায় ডুব দেন। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে তিনি বলেন, কেউ কেউ ভোট এলেই গঙ্গায় ডুব দেয়। উত্তরাখণ্ডের মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনা করেন। ঘটা করে যে গঙ্গায় এত আরতি করেন সেই গঙ্গাতেই করোনায় মৃতদের দেহ ভাসিয়ে দেয়। এরাই গঙ্গাকে অপবিত্র করে।

মমতার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ভোরে ইকো পার্কে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রাজ্যের শাসকদলকে প্রবল আক্রমণের মুখে ফেলেন দিলীপ ঘোষ। মমতাকে সরাসরি আক্রমণ করে দিলীপ বলেন, ‘পচা গঙ্গার ধারে যে থাকে সে গঙ্গার গুরুত্ব কি বুঝবে? যার যেমন রুচি, সে তেমন কথা বলে।’ দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, মোদী করোনাকালে দেশের ত্রাতা। দেশবাসীকে তিনি খাদ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুই করেননি। এছাড়াও সরকারি কর্মচারিদের এক লক্ষ করে টাকা দেবেন বললেও এখনো দেননি সেই টাকা।  

বিরোধী জোটের ইস্যুতে দিলীপ ঘোষ সরাসরি জানিয়েছেন, এই জোট রইল কি গেল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। দেশের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সনিয়া গান্ধীর কোনও গুরুত্ব নেই। 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকে সিঙ্গুরে বিজেপির কিষান আন্দোলন শুরু হয়েছে। শুরুতে ৭২ ঘণ্টার এই আন্দোলনে মঞ্চ বাঁধার অনুমতি নিয়ে জলঘলা হলেও পরে শর্তসাপেক্ষে হুগলি জেলার পুলিশ অনুমতি দেয়। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সিঙ্গুরের মানুষ গত গত নির্বাচনেই তৃণমূলকে জবাব দিয়েছেন। মানুষ তৃণমূলের ভাঁওতাবাজি ধরে ফেলেছেন। এই রাজ্যে আগেই ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে ও মানুষকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে ভোট অবাধ হতে পারত।’

Alvito D’Cunha: গোয়ায় মমতার সভায় তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন ফুটবলার অ্যালভিটো

Alvito D'Cunha

নিউজ ডেস্ক, পানাজি : গোয়ায় (Goa) ক্ষমতা বাড়াতে চাওয়া তৃণমূলে এবার নাম লেখালেন কলকাতার ময়দানের জনপ্রিয় প্রাক্তন ফুটবলার অ্যালভিটো ডি কুনহা (Alvito D’Cunha)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতিতে মঙ্গলবার গোয়ায় তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি।

এর আগেই জনপ্রিয় টেনিস প্লেয়ার লিয়েন্ডার পেজও তৃণমূলে (TMC) যোগ দিয়েছিলেন। গোয়ায় তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন লিয়েন্ডার। তাঁর বান্ধবী অভিনেত্রী কিম শর্মাকেও এখন তৃণমূলের নানা কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে অ্যালভিটোকে দলে এনে চমক দিল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলে সামিল হয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন অ্যালভিটো।

প্রসঙ্গত, ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ের পরদিনই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ভবানীপুরের একটি শীতলা মন্দির ও গুরুদ্বারে পুজো দিতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের তারকা ফুটবলার অ্যালভিটো ডি-কুনহাকে। তারপর থেকেই জল্পনা ছড়িয়েছিল, গোয়ার ভূমিপুত্র কি এবার তৃণমূলে নাম লেখাবেন? অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি হল।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন খেলোয়াড় অ্যালভিটো। গোয়ার ভূমিপুত্র অ্যালভিটো কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার গোয়ার ক্রীড়াবিদ ও ফুটবলারদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তিনি গোয়ার ক্রীড়ার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান। এবার সেই অ্যালভিটো কয়েক মাসের মধ্যেই দলবদলে তৃণমূলে যোগ দিলেন। গোয়ার রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই গোয়ায় জাঁকিয়ে বসেছে তৃণমূল। কংগ্রেসের ঘর ভেঙে নিজেদের ঘর গোছাচ্ছে তাঁরা।

গোয়ার ২ বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফ্যালেইরো কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ২ বার গোয়া সফর করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বছরের শুরুতেই গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যে কোমর বেঁধে নামতে চলেছে, তা নিশ্চিত।

তিনি রোজ চণ্ডীপাঠ করেন-পুরো চণ্ডীই তাঁর মুখস্ত, গোয়ায় বললেন Mamata Banerjee

mamata banerjee in Goa

News Desk: বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখে প্রায়শই চণ্ডীপাঠ (chandi) শুনে থাকেন। তবে গোয়ার (goa) মানুষ এই প্রথম বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে চণ্ডীপাঠ শুনলেন। মঙ্গলবার পানাজির (panaji)এক সভায় মঞ্চে উঠেই চণ্ডীর বেশ কয়েকটি শ্লোক পাঠ করেন মমতা (Mamata Banerjee)।

কইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গোটা চণ্ডীই নাকি তাঁর মুখস্ত। তিনি নিয়মিত চণ্ডীপাঠ করেন। আর কেউ কেউ শুধুমাত্র ভোট এলেই গঙ্গায় ডুব দেন। এভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, সোমবার বেনারসে কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের উদ্বোধন করতে গিয়ে গঙ্গায় স্নান করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

গোয়ায় তৃণমূলের নতুন জোটসঙ্গী মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে এদিন পানাজিতে সভা করেন মমতা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাংসদ তথা গোয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মহুয়া মৈত্র প্রমুখ। যথারীতি পানাজির এই সভায় প্রধান মন্ত্রী মোদি তথা বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।

সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে বলেন, কেউ কেউ ভোট এলেই গঙ্গায় ডুব দেয়। উত্তরাখণ্ডের মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনা করেন। ঘটা করে যে গঙ্গায় এত আরতি করেন সেই গঙ্গাতেই করোনায় মৃতদের দেহ ভাসিয়ে দেয়। এরাই গঙ্গাকে অপবিত্র করে। নেত্রী দাবি করেন, তিনি ব্রাহ্মণ। তাই বিজেপি বা অন্য কোনও দলের কাছ থেকে তাঁর সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বাড়িতে কালীপুজো হয়। তিনি দুর্গাপুজো জগদ্ধাত্রী পূজা সবই করেন বলে নেত্রী জানান।

পানাজির মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, গোয়ায় তৃণমূলের শক্তি দেখে ইতিমধ্যেই বিজেপি ভয় পেয়েছে। গোয়ার মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভয় নেই ২০২২- এর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসে এরাজ্য সরকার গড়বে। সরকার গড়ার লক্ষ্যে তৃণমূল ও এমজিপি একসঙ্গে লড়াই করবে। গোয়ার অন্য বিরোধী দলগুলিকেও তার দলের সঙ্গে জোট করার জন্য আহ্বান জানান নেত্রী।
একইসঙ্গে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, যারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে চান তারাই আমাদের সঙ্গে আসুন। আর যদি না আসেন তবে অনুরোধ করব দয়া করে আমাদের ভোট কাটবেন না। গেয়ায় বিজেপির বিকল্প একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোয়ায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার পেছনে বিশেষ ভূমিকা ছিল গোমন্তক পার্টির। যদিও দু’বছর পর এই দল বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করেছিল। এ প্রসঙ্গটি তুলে মমতা বলেন, বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধার কি ফল তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে এমজিপি। সেজন্যই তারা জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে।

Srinagar Terror Attack: শ্রীনগরে হামলার রিপোর্ট তলব প্রধানমন্ত্রীর, শোকপ্রকাশ মমতা-রাহুলের

Srinagar Terror Attack

নিউজ ডেস্ক, শ্রীনগর: সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরের জিওয়ানে সশস্ত্র পুলিশের বাসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় জঙ্গিরা (Srinagar Terror Attack)। ঘটনায় নিহত হন ৩ জন পুলিশকর্মী। আহত ১৮ জন পুলিশকর্মী। শ্রীনগরে হামলার রিপোর্ট তলব করলেন প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। মৃত নিরাপত্তারক্ষীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে টুইটে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। হামলায় মৃত নিরাপত্তারক্ষীদের পরিবারের প্রতিও তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) সহ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে লেখেন, ‘শ্রীনগরে জঙ্গি হামলার খবর শুনে হতবাক। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। যাঁরা প্রাণ হারালেন তাঁদের আত্মত্যাগকে সেলাম জানাই। এই দেশ কখনও আপনাদের ভুলবে না।’

কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘দেশ শান্তি চায়। আতঙ্কের হোক অবসান। শ্রীনগরে শহিদ জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’

সূত্রের খবর, হামলার দায়স্বীকার করেছে কাশ্মীর টাইগার্স নামে এক জঙ্গি সংগঠন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  ঘটনার পর পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। আশপাশের এলাকায় কোন জঙ্গি লুকিয়ে আছে কিনা তা জানতে চিরুনি তল্লাশি চলে। তবে শেষ পাওয়া খবরে কোনও জঙ্গির ধরা পড়ার খবর মেলেনি।

<

p style=”text-align: justify;”>সোমবার সকালেই শ্রীনগরের রণগ্রেট এলাকায় সেনা ও জঙ্গির মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর একটি দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে এলাকায়। বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেয় বাহিনীও। এইগুলির লড়াইয়ে ২ জঙ্গি খতম হয়েছে। উল্লেখ্য, রবিবার জম্মু-কাশ্মীরের অবন্তীপুরায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর গুলি চালায় জঙ্গিরা। বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে এক জঙ্গি খতম হয়। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশের উপর পাল্টা হামলা চালাল জঙ্গিরা।

Mamata in Goa: ভোট ভাগ নয়, বিজেপিবিরোধী জোটকে একাট্টা করতেই আমরা গোয়ায়: মমতা

Mamata in Goa

নিউজ ডেস্ক, পানাজি: আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে আমরা নাকি বিজেপি ভোট ভাগ করার জন্যই গোয়ায় পা রেখেছি। মনে রাখবেন এই অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয় আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো গোয়াতে ও বিজেপি বিরোধী জোটকে এক জায়গায় নিয়ে আসা। সোমবার গোয়ায় এক জনসভায় (Mamata in Goa) এই মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের পর এই জনসভায় নেত্রী দিলেন খেলা হবে স্লোগান নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করলেন কংগ্রেসকে।

প্রত্যাশামতোই সোমবার তৃণমূল নেত্রী মমতা উপস্থিতিতে এনসিপি ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তবে আলেমা ও এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিয়েছিলেন 2014 সালে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচনে লড়াই করলেও তিনি পরাজিত হন তারপরই তুমি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন আজ ফের কার্যত ঘরে ফিরলেন তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল almahmud7 তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেননি৷

উল্লেখ্য এর আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের তার রাজনৈতিক মহল মনে করছে আগামী বছরের শুরুতেই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেস এড়াচ্ছে যেভাবে তৃণমূলের শক্তি বাড়ছে তার বিজেপির কাছে যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে একসময় মনে করা হচ্ছিল এই রাজ্যে বিজেপি কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির ত্রিমুখী লড়াই হবে কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে লড়াইটা হতে চলেছে ত্রিমুখী রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে গোয়ায় আলেম চার্চিলের যথেষ্টই প্রতিপত্তি রয়েছে সংগঠনেও তিনি দক্ষ পরিচিত মুখ তাই তাদেরকে নিজেদের ঘরে আনতে পারে তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে গেল

তৃণমূল নেত্রী এদিন বলেন আমাদের দল জাতীয় স্তরের একটি দল তাই আমাদের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী সব জায়গায় গিয়ে প্রচার করার নির্বাচনে লড়ার অধিকার আছে। যারা আমাদের গোয়ায় আশা নিয়ে এত কথা বলছে তারা কেন 2021 এর মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ধরতে গিয়েছিল। আগামী বছরের শুরুতেই গোয়া বিধানসভার ভোট তার আগে তৃণমূল নেত্রী এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফর এবং তাদের সক্রিয়তা স্পষ্ট করে দিল আগামী দিনে তারা এই সমুদ্র উপকূলের এই রাজ্যে বিজেপি কে বিনা যুদ্ধে এতোটুকু মারবে না।

3 দিনের সফরে ভাইপো অভিষেককে নিয়ে রবিবারে গোয়া পৌঁছেছেন নেত্রী। দলের বিভিন্ন দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়া নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন গোয়ায় তারা লড়াই থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসবেন না দরকার হয় প্রাণ দেবেন তবু বিনাযুদ্ধে 16 যেটুকু মোটা সেটুকু কাউকে দেবেন না। তৃণমূল নেত্রী এদিনে বলেন বাংলাদেশের মধ্যে সেরা আমরা গোয়া কেউ সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই এ রাজ্যের মহিলাদের উন্নয়নে আমরা বিশেষ গৃহলক্ষী প্রকল্প এনেছি। পাশাপাশি বিজেপিকে তুলোধোনা করে বলেন এই দল শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে জানে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে জানেনা।

অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন তদন্ত নাগপুর থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে আর কংগ্রেস করে দিল্লি থেকে কিন্তু তৃণমূল হলো একমাত্র দল যারা চায় শাসন করবে। আমরা এখানে এসেছি ঠিকই কিন্তু আগামী দিনে এরাজ্যে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করবেন গুহার মানুষ আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে গোয়ার ভূমিপুত্র হবেন এখানকার মুখ্যমন্ত্রী।