Kabul: আমরা খেতে চাই স্লোগান দিতেই আফগান মহিলাদের দিকে গুলি তালিবানের

Taliban militants are taking underage girls as sex slaves

News Desk: রাজপথে বিক্ষোভ। সরকার গুলি চালাচ্ছে। তালিবান জমানায় ফের বিদ্রোহের মুহূর্ত দেখল আফগান রাজধানী কাবুল।

মঙ্গলবার আফগানি মহিলারা বিক্ষোভ থেকে দাবি তুলেছেন আমরা ক্ষুদার্থ আমারা শরিয়তি ধর্মীয় আইন নিয়ে ক্নান্ত। আমরা খেতে চাই। বিক্ষোভ বড় আকার নেয় বলেই জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলি। এমননকি তালিবান জঙ্গিদের সরকার নিয়ন্ত্রিত আফগান টিভি চ্যানেলগুলিতে বিক্ষোভের খবর সম্প্রচার করা হয়।

ভয়েস অফ আমেরিকা জানাচ্ছে,কাবুলে তালিবান নিরাপত্তা বাহিনী মঙ্গলবার প্রতিবাদরত মহিলাদের ছত্রভঙ্গ করতে হুঁশিয়ারি দিয়ে গুলি চালায়। বিক্ষোভকরীরা মহিলাদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।

তালিবান সরকারের “প্রমোশন অব ভার্চু এন্ড প্রিভেনশন অব ভাইস ” নীতির বিরোধিতা করে রাজধানীর রাস্তায় মিছিল চলছিল। প্রতিবাদকারীদের ব্যানারে লেখা ছিল “আমরা বৈষম্য নিয়ে ক্লান্ত এবং “আমরা ক্ষুধার্ত জনগণের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর”।

অন্যান্য ব্যানারে লেখা ছিল “আমরা মহিলারা জেগেছি এবং বৈষম্যকে ঘৃণা করি” এবং “কেন তোমরা স্কুল বন্ধ করেছ”? প্রতিবাদকারী মহিলারা চাকরি, শিক্ষা ও খাদ্যের জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। সরকারি ভবনে প্রবেশের আগে তালিবান রক্ষীরা গুলি চালাতে শুরু করে। কয়েকজন মহিলা জখম হন।

তালিবানদের দ্বিতীয় দফার সরকারের আমলে আফগানিস্তানে চলছে চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট।

Afghanistan: তালিবান জঙ্গি শাসনে করুণ অবস্থা, ভারত পাঠাল ওষুধ

medicines-to-afghanistan

News Desk: কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি কোনও দেশই। এমনকি বন্ধু বলে পরিচিত পাকিস্তানও। ফলে তালিবান জঙ্গিদের দখল করা আফগানিস্তানে (Afghanistan) অর্থনৈতিক বিপর্যয় চলছে। তেমনই চলছে ওষুধ বিপর্যয়। বিদেশ থেকে আসা ওষুধের উপর ভরসা করা আফগানিদের চরম বিপদ। এই প্রেক্ষিতে মানবিক কারণে আফগানিস্তানে ওষুধ পাঠাল ভারত সরকার।

সরাসরি তালিবান জঙ্গি সরকারকে না দিয়ে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা (হু) মাধ্যমে ওষুধ পাঠিয়েছে ভারত সরকার।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ বিমানে করে এই চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়। বিমানটি ফেরার পথে১০ জন ভারতীয় ও ৯৪ জন আফগানকে দিল্লিতে এনেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাবুলের প্রতিনিধিদের কাছে এই ওষুধ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট আমেরিকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতেই নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। এর পর বারবার তালিবান জঙ্গিদের পরিচালিত সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছে। কেউ সাড়া দেয়নি।

এরমধ্যে শুরু হয়েছে খাদ্য সংকট। পরিস্থিতি দেখে ভারত ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সড়ক পথে আফগানিস্তানে ৫০,০০০ টন গম এবং ওষুধ পাঠাবে। মানবিক কারণে পাকিস্তানের সড়পথ ব্যবহার করার জন্য অনুমতি চায় ভারত। পাকিস্তান সরকার ভারতের আবেদনে সাড়া দেয়।

গত ১০ নভেম্বর আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির উপর একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল ভারত সরকার। যেখানে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দেশগুলি যথা রাশিয়া, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান অংশগ্রহণ করে। তবে পাকিস্তান ও চিন এই বৈঠকে আসেনি। বৈঠকে আফগানিস্তান যাতে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘরে যাতে পরিনত না হয়, সেই ব্যাপারে সব দেশ কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে বলে একমত হয়।

BSF: তালিবান জঙ্গিরা চোরাপথে ভারতে অস্ত্র পাচার করতে পারে, আশঙ্কা বিএসএফের

BSF in border

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের আগে সেদেশের সরকার ও মার্কিন বাহিনীর বিপুল অস্ত্র লুঠ করেছিল তালিবান জঙ্গিরা (Taliban terrorist )। জঙ্গিদের লুট করা সেই অস্ত্র চোরা পথে ভারতে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করল বিএসএফ (BSF)।

বিএসএফের ডিজি পঙ্কজ সিং (Pankaj Singh) জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে (Afganisthsn) জঙ্গি বাহিনীর সরকার গঠন ভারতের পক্ষে যথেষ্ট উদ্বেগের। এই প্রথম বিএসএফ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী তালিবানদের বিপদের কথা স্বীকার করল।
বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল পঙ্কজ সিং বলেন, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের ক্ষমতা ভোগ করছে তালিবান জঙ্গিরা। তাদের হাতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। যা ভারতের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ ওই অস্ত্রশস্ত্র চোরাপথে ভারতে পাঠানো হতে পারে। জঙ্গিরা যাতে এভাবে ভারতে গোপনে অস্ত্র পাঠাতে না পারে তার জন্য ইতিমধ্যেই বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে বাড়ান হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা।

পঙ্কজ সিং আরও বলেন, তালিবানের হাতে যে সমস্ত অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে সেগুলি তারা পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পাঠাতে চাইছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতে তালিবানকে সব ধরনের মত জুগিয়েছে পাকিস্তান। তাই কৃতজ্ঞতাবশত এবার পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করতে পারে তালিবান। তালিবান জঙ্গিরা ইতিমধ্যেই গোপনে অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে বলেও ডিজি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তালিবান জঙ্গিরা যাতে গোপনে ভারতে অস্ত্র পাচার করতে না পারে তার জন্য সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে বাহিনীর সংখ্যা।

সম্প্রতি ভারত-পাক সীমান্তে বেশ কয়েকটি ড্রোন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএসএফের ডিজি বলেন, এখনও পর্যন্ত ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি ৬৭ টি ড্রোনের দেখা মিলেছে। বেশির ভাগ ড্রোনই ছিল ছোট। সেগুলি অধিকাংশই চিনের তৈরি। এই ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র দুই পাঠানো হচ্ছে।

ডিজি আরও বলেন, ড্রোনের গতিবিধি আটকানোর জন্য ইতিমধ্যেই সীমান্তে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেমের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। সে কারণে বিকল্প কোনও পদ্ধতির কথা ভাবা হচ্ছে। সীমান্তে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলির পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে বলে বিএসএফের ডিজি জানান।

আফগানিস্তানে খাদ্যশস্য পাঠাতে ভারতকে স্থলপথ ব্যবহারে সম্মতি পাকিস্তানের

pak-road

News Desk: তালিবান জঙ্গিরা কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশা চরমে। বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় স্তব্ধ। চরম খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্কট মেটাতে মানবিক কারণে ভারত আফগানিস্তানে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে সেই খাদ্য সমাগ্রী যাওয়ার সবুজ সংকেত এসেছে।

শেষ পর্যন্ত মানবিকতার খাতিরে আফগানিস্তানে খাদ্যসামগ্রী পাঠাতে ভারতকে সে দেশের স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে এই অনুমতি দিতে দু’মাস সময় নিলেন তিনি।

পাকিস্তান সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি বছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আফগানিস্তানে পাঠানোর জন্য ভারতকে স্থলপথ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে।

Afghanistan

আফগানিস্তানে তীব্র সঙ্কটের কথা জেনেও খাদ্য সামগ্রী পাঠানোর জন্য স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে দুই মাস সময় লাগায় আন্তর্জাতিক দুনিয়া বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

চরম খাদ্য সঙ্কটে পড়া আফগানিস্তানের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই অবস্থায় ভারত খাদ্যসামগ্রী পাঠাতে চাইলেও পাকিস্তান অনুমতি না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে ইসলামাবাদ।

রাষ্ট্রসংঘ সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ও দেশ পাকিস্তানকে অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানায়। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান বদল করতে বাধ্য হলেন ইমরান খান।

মঙ্গলবার পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, ভারত তাদের দেশের স্থলপথ ব্যবহার করে কাবুলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য সামগ্রী পাঠাতে পারবে। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তান থেকে যে সমস্ত মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন তাঁরাও পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং আফগান নাগরিকদের কথা মাথায় রেখেই পাক প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারত থেকে খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হলে আসন্ন শীতের আগে আফগান বাসীরা অনেকটাই উপকৃত হবেন। শীতের কারণে যত শীঘ্র সম্ভব এই খাদ্য সামগ্রী কাবুলে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও সকলেই মনে করছেন।

পাক প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হয়েছে, চলতি পরিস্থিতিতে কাবুলের মানুষের কথা ভেবে ভারতকে নিজেদের দেশের স্থলপথ ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। মানবিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Afganistan: বিশ্বের ৮৭ শতাংশ মাদক পাচারকারী তালিবান-EFSA

world's-drug

News Desk: আফগানিস্তান (Afghanistan) দখল করার পর তালিবানের (Taliban) দৌলতে বিশ্বে মাদক (Drug) কারবার ফের ফুলে-ফেঁপে উঠেছে।

এই মুহূর্তে নিষিদ্ধ মাদকের অন্যতম বড় সরবরাহকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আফগানিস্তান সম্প্রতি এক মার্কিনী রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হিন্দুকুশের আড়াল থেকে নতুন করে ফের হেরোইন ব্যবসার রাশ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে তালিবান।

গোটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আফিম তৈরি হয় আফগানিস্তানে। আফিম থেকেই তৈরি হয় হেরোইনের মত মারাত্মক মাদক। এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে এই মাদকের বিপুল চাহিদা। সম্প্রতি এই মাদক সংক্রান্ত এক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ (EFSA)। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের ৮৭ শতাংশ আফিম তৈরি হয় আফগানিস্তানে। মাদকের কারবার বন্ধ করতে বিগত ২০ বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে আমেরিকা। তা সত্ত্বেও মাদকের কারবারে রাশ টানা সম্ভব হয়নি।

world's-drug

ইএফএসএ-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ (jabiullah mujhahid) ঘোষণা করেছিলেন আফিম চাষে লাগাম টানবেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তবে একেবারেই উল্টোটা ঘটেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ পাওয়ার জন্যই শুধুমাত্র লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালিবান। সূত্রের খবর, আফগানিস্তানে তৈরি হওয়া আফিম থেকে পাকিস্তানের (pakistan) গবেষণাগারে বিপুল পরিমাণ হেরোইন তৈরি হচ্ছে এবং তা ইউরোপরর (europe) বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে ভারতেও। আফগানিস্তানে তৈরি হওয়া মাদকের ৪০ শতাংশ পাচার হয় পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে। বিদেশি সাহায্য বন্ধ থাকায় দেশ চালাতে মাদক ব্যবসাকেই হাতিয়ার করেছে তালিবান।

আফগানিস্তানের মাদক ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে ওঠার কারণ প্রসঙ্গে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় তিন মাস আগে তালিবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই দেশ কার্যত একঘরে হয়ে আছে। আফগানিস্তানের অর্থনীতি মূলত বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বিশ্বের কোনও দেশ তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় সেই বৈদেশিক সাহায্য আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘ- সহ যে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংগঠন আফগানিস্তানকে সাহায্য করত তারাও তালিবান সরকারকে কোনও রকম সাহায্য করছে না। আমেরিকার বেশকিছু ব্যাংকে আফগানিস্তান সরকারের টাকা থাকলেও জো বাইডেন প্রশাসন সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। ফলে কোনও জায়গা থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে পারছে না তালিবান শাসকরা।

কিন্তু দেশের বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন খরচ চালাতে প্রচুর পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। অর্থের সেই প্রয়োজন মেটাতে তালিবানরা হাতিয়ার করেছে মাদককে। এতে তালিবানদের নিজেদের প্রয়োজন মিটলেও গোটা বিশ্বেই অন্ধকার নেমে আসছে। যা ইউরোপ আমেরিকা (america) এবং ভারতের (india) মত দেশকে নিতান্তই উদ্বেগে ফেলেছে।

Afghanistan: ভারতের সঙ্গে কোনও বিবাদ নয় বলে জানাল তালিবান বিদেশ মন্ত্রী

Taliban foreign minister

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের ঠিক তিন মাস পর এই প্রথম ভারত সম্পর্কে সরাসরি কোনও মন্তব্য করল তালিবান সরকার। তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী (foreign minister ) আমির খান মুত্তাকি (amir khan) বলেন, ভারতের সঙ্গে তাঁরা কোনও রকম বিবাদে যেতে চান না। একই সঙ্গে আমির জানিয়েছেন, শুধু ভারত নয় তাঁরা বিশ্বের কোন দেশের সঙ্গেই অহেতুক বিতর্কে জড়াতে রাজি নন।

ক্ষমতা দখলের তিন মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তালিবান (taliban) বিদেশ মন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেছেন, দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসলামিক এমিরেটসের হাতে। দেশের প্রায় বেশিরভাগ জায়গাতেই আঞ্চলিক ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে খতম করা হয়েছে। তালিবান বিদেশ মন্ত্রীর কাছে তাঁদের বিদেশ নীতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা কোনও দেশের সঙ্গেই বিবাদে জড়াতে চাই না।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের (india) সঙ্গেও আমরা বিবাদ ও বিতর্ক চাই না। কারণ ভারত আফগানিস্তানের (afganistan) পুনর্গঠনে প্রভূত কাজ করছে। ভারত সরকারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে আমরা সেই সমস্ত কাজ বন্ধ হোক এটা কখনওই করব না। দেশের উন্নয়ন কোনওরকম বাধার মুখে পড়ুক আমরা তা চাই না। সম্প্রতি মস্কোয় আফগানিস্তান নিয়ে যে বৈঠক হয়েছিল সেখানেও আমরা ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনাই করেছি।

Taliban foreign minister

বিদেশ মন্ত্রী এদিন স্বীকার করে নেন, ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল যা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে সেই সমস্ত স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে প্রায় শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠনগুলির উত্থানের জন্য তিনি পূর্ববর্তী আশরফ ঘানি সরকারকেই দায়ী করেন।

আফগান মহিলাদের চাকরি এবং শিক্ষার অধিকার থেকে যেভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিদেশ মন্ত্রী বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। কারণ ইতিমধ্যেই সরকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মহিলাদের ১০০ শতাংশ যোগদানের অনুমতি দিয়েছে। যে সমস্ত ক্ষেত্রে মহিলাদের কাজে যোগ দেওয়া প্রয়োজন সেখানে মহিলাদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও মহিলাদের ধীরে ধীরে জায়গা করে দেওয়া হবে। পূর্ববর্তী ঘানি সরকারের অধীনে যে সমস্ত মহিলারা চাকরি করতেন তাঁদের কাউকেই বরখাস্ত করা হয়নি। তালিবান-সরকার কখনওই মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না। সে কারণেই আগের সরকার মহিলা কর্মীদের যে পরিমাণ বেতন দিত বর্তমান সরকারও তা দিয়ে যাচ্ছে।

<

p style=”text-align: justify;”>পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী আমির খান এদিন দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মহল সরকার গঠন নিয়ে যা শর্ত দিয়েছিল তার সবই তাঁরা পূরণ করেছেন। তাই এবার গোটা বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। একই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, তালিবান সরকারে আফগানিস্তানের সব দেশের প্রতিনিধিদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। কারও প্রতি কোনও রকম অবিচার করা হয়নি।

Afghanistan: কাবুলের রাস্তায় মার্কিন সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে তালিবান শক্তি প্রদর্শন

Afghanistan: Taliban hold military parade with U.S.-made weapons in Kabul in show of strength

News Desk: আফগান রাজধানীতে তালিবান জঙ্গি সরকারের বিরাট সেনাবহর প্রদর্শনে চমকে গেছে বিশ্ব। কাবুলের রাজপথে ট্যাংক, যুদ্ধযান, বিমান ধংসকারী কামান ও আকাশে হেলিকপ্টার উড়িয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে তালিবান সরকার।

তালিবান জঙ্গিদের এই সামরিক বহরের পুরোটাই আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়া মার্কিন সেনার অস্ত্র ভাণ্ডার। গত ১৫ অাগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ ছেড়ে দেয়। সেই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য কাবুল দখল করে তালিবান জঙ্গিরা। দেশত্যাগ করেন নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

Afghanistan: Taliban hold military parade with U.S.-made weapons in Kabul in show of strength

বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবান সরকার যে সমরাস্ত্র প্রদর্শন করেছে তার পুরোটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আফগানিস্তানে থাকাকালীন মার্কিন সেনা যে সব অস্ত্র মজুত করেছিল তার বড় অংশ তালিবান দখলে। তবে কাবূল ত্যাগের আগে কিছু অস্ত্রসম্ভার ধংস করে যায় মার্কিন সেনা।

তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র আহসানউল্লাহ খাতমি জানাচ্ছেন, আফগান সেনার আধুনিকীকরণ চলছে। সেনাবাহিনীতে নতুন ২৫০ জনকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তাদের নিয়েই কাবুলে হয়েছে কুচকাওয়াজ।

<

p style=”text-align: justify;”>তালিবান সরকারের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, কোনও অবস্থায় আফগালিস্তানকে আর বিদেশি কোনও সরকারের অধীনে রাখা হবে না। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন দেশের অরাজক পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। কড়া আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।

Taliban 2.0: তালিবান সুপ্রিমো আখুন্দাজাদা ‘বেঁচে আছে’ অডিও শোনাল জঙ্গি সরকার

akhundzada

News Desk: তালিবান দখলে দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতা যাওয়ার পর বারবার প্রশ্ন উঠেছে জঙ্গি সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতাকে কি প্রকাশ্যে দেখা যাবে ? তেমনটা এখনও হয়নি।

এবার তালিবান সরকার জানাচ্ছে, ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে বেরিয়েছেন মোল্লা হাইবাতুল্লা আখুন্দাজাদা। কান্দাহারে একটি মাদ্রাসা পরিদর্শনে দেখা গেছে তাকে। সেসময় নিরাপত্তার কঠিন বলয় ছিল।

তাৎপর্যপূর্ণ, এবারেও আখুন্দাজাদার কোনও ছবি প্রকাশ করেনি তালিবান সরকার। একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করে দাবি করা হয় সেটি সর্বোচ্চ নেতার কণ্ঠ।

এই অডিও রেকর্ডে একজনকে বলতে শোনা গেছে, “গত ২০ বছর ধরে যারা কাফের এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন সেইসব নির্যাতিত আফগান জনগণকে সৃষ্টিকর্তা পুরস্কৃত করবেন। আমার এখানে আসার উদ্দেশ হলো আপনাদের জন্য দোয়া করা,আপনারাও আমার জন্য দোয়া করবেন।”

১০ মিনিটের ওই অডিও রেকর্ড মোল্লা আখুন্দাজাদার বলেই দাবি তালিবান সরকারের। তাদের তরফে রয়টার্সকে জানানো হয়, শনিবার কান্দাহারে জামিয়া দারুল উলুম হাকিমিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আখুন্দজাদা। 

তালিবানের সর্বোচ্চ এই নেতার একটি মাত্র ছবির সত্যতা যাচাই করতে সক্ষম হয়েছে রয়টার্স। ছবিটি ২০১৬ সালের মে মাসে তালিবানের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছিল।

T20 WC: নেই জঙ্গি তালিবান পতাকা, মাঠ থেকে পঞ্জশিরের গুহায় গণতন্ত্রী আফগান ঝলক

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: যে ক্রিকেট কূটনীতি আঁকড়ে তালিবান জঙ্গি সরকার বিশ্বকে নরম মনোভাবের বার্তা দিচ্ছে তার জন্য দরকার স্বীকৃতি। সেটি না হওয়ায় পুরনো গণতন্ত্রী আফগানিস্তানের পতাকা নিম পাতা গেলার মত করেই হজম করছে তালিবান।

তালিবান শাসনের আফগানিস্তানে জাতীয় পতাকা বদলে গিয়েছে। তেমনই বদলেছে সরকারি নাম। ইসলামি প্রজাতন্ত্র থেকে ইসলামি আমিরশাহি আফগানিস্তান হলেও কূটনৈতিক প্যাঁচে বিশ্ব ক্রিকেট ক্রীড়াঙ্গনে ঠাঁই পায়নি জঙ্গি সরকারের পতাকা।

afgan

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ড পরাজিত হয়েছে আফগানিস্তানের কাছে। জয়ের আনন্দে শারজা থেকে কাবুল- আফগানবাসী আত্মহারা।

 

আফগানিস্তানের জয়ে তিনজন আবেগতাড়িত। অপসারিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘান, যিনি ‘পলাতক’। জঙ্গি তালিবানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ চালানো পঞ্জশির উপত্যকার আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের কমান্ডার আহমেদ মাসুদ। তিনিও আত্মগোপনে রয়েছেন। আর আছেন সোভিয়েত জমানার আফগান মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তাম। তালিবানের যম বলে সুপরিচিত বৃদ্ধ সেনা কমান্ডারও দেশের জয়ে তাঁদের সরকারের পতাকা উড়তে দেখলেন। তিনিও দেশত্যাগী।

afghan

মাঠে নিজেদের পতাকা না থাকলেও জঙ্গি তালিবান সরকার উল্লসিত। পরবর্তী ক্রিকেট কূটনীতির পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে তালিবান শাসক।

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার মাঠেও দেখা যায়নি ইসলামি গণতন্ত্রী আফগানিস্তানের সেই পতাকা। শুধু মাঠ নয়, গ্যালারি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্র সদ্য বাতিল হওয়া পতাকার ছড়াছড়ি। কোথাও নেই তালিবান সরকারের পতাকা।

afgan

আফগানিস্তান বনাম স্কটল্যান্ডের ম্যাচ নিয়ে যত না খেলার উত্তাপ তার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তালিবান শাসনে চলে যাওয়া দেশটির কথা। গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বারের জন্য তালিবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা দখল করেছে। চলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

কূটনীতির প্যাঁচে তালিবান শাসক। কারণ, রাষ্ট্রসংঘের অনুমোদন আসেনি। তেমনই ঘনিষ্ঠ পাকিস্তান ও চিন তো বটেই বাকি কোনও দেশ পাশে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে তালিবান শাসকের হয়ে রাষ্ট্রসংঘে কূটনৈতিক ততপরতা চালিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তালিবান প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রাশিয়া, চিন, ইরান, ভারতের মধ্যে মস্কোতে বৈঠক হয়েছে। দিল্লিতে পরবর্তী বৈঠকও হবে।

গত ১৫ আগস্ট তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। মার্কিন সেনা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়। দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। কাবুল প্যালেস ও আইনসভায় তালিবান উড়িয়ে দেয় তাদের পতাকা। নির্দেশ জারি করা হয়, আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা পাল্টে ফেলা হয়েছে। এর পরেই আফগানিস্তান জুড়ে দুটি ছবি এসেছিল। নাগরিকরা পুরনো পতাকা নিয়েই স্বাধীনতা দিবস পালন করেন। আর দোকানে ভিড় বাড়ে নতুন তালিবানি পতাকা কেনার।

দুই বিপরীতমুখী ঘটনার পরেই তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগান জাতীয় যুব ক্রিকেট দলের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর হয় বাংলাদেশে। সিলেট স্টেডিয়ামেও কূটনৈতিক কারণে পুরনো আফগান পতাকা ছিল।

T 20 WC: ভারতকে হারিয়ে আত্মহারা পাকিস্তান, নজর ‘বন্ধু’ তালিবানের ক্রিকেটে

afg_sco

স্পোর্টস ডেস্ক: সেই শারজা-যেখানে রবিবার পাকিস্তান ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবার ভারতকে হারিয়ে আত্মহারা পাকিস্তান। একই শহরে এবার তাদেরই ‘বন্ধু’ তালিবান জঙ্গিদের সরকার প্রেরিত আফগানিস্তানের ক্রিকেট দল খেলতে নামছে। প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।

আফগানিস্তানকে এখনও কোনও দেশ সরকারিভাবে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে তালিবান জঙ্গিদের সরকারের হয়ে প্রথম থেকেই বিশ্বজোড়া সহানুভূতি আদায়ে মরিয়া পাকিস্তান। খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনের ভাষণে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার সওয়াল করেন।

গত ১৫ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরো নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতেই আফগানিস্তানের সরকার দ্বিতীয়বার দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। চলছে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কাবুলের ক্ষমতায় ফের বসার পরেই তালিবান সরকার জানায় আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট চলবে। পূর্ববর্তী তালিবান সরকার (1996-2001) যেভাবে ক্রিকেট নিষিদ্ধ করেছিল এই তালিবান তেমন নয়। নিজেদের নরম তালিবান ঘোষণা করে ক্রিকেটকে হাতিয়ার করেই আন্তর্জাতিক সহানুভূতি টেনে আনতে মরিয়া তালিবান সরকার।

দ্বিতীয় দফায় তালিবান সরকারের আমলে আফগান জাতীয় ক্রিকেট দলের জুনিয়র সদস্যরা প্রথম আন্তর্জাতিক সফর করে বাংলাদেশে। তবে এই সফরসূচি নির্ধারিত হয়েছিল তালিবান সরকার গড়ার আগেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আফগান সরকারের আমলে। সরকার উৎখাত করে তালিবান ক্ষমতা দখল করে।

নিজেদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশ সফরে ক্রিকেট কূটনীতি হাতিয়ার করে তালিবান সরকার। আফগান যুব দল বাংলাদেশের সিলেটে সিরিজ খেলেন। একই সময়ে তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগান ক্রিকেট বোর্ড (ACB) জানিয়ে দেয় টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তারা অংশ নেবে।

তবে তালিবান সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করতেই বহু ক্রীড়াবিদ আফগানিস্তান ত্যাগ করেন। আফগান জাতীয় দলের অধিনায়ক রশিদ খান দেশ ছাড়েন। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগান দলের নেতৃত্বে আছেন মহম্মদ নবি।

Turkey: দুরন্ত মোসাদ গুপ্তচরদের ষড়যন্ত্র বানচাল, আরব দুনিয়া সরগরম

15-mossad-agent-arrested-in-turkey

নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোপন ফাইল হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র বানচাল। তুরস্ক সরকার ১৫ জন মোসাদ এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এতবড় ধাক্কা খায়নি বিশ্ববিখ্যাত গুপ্তচর সংস্থাটি।

তুরস্কের জাতীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানাচ্ছে, সন্দেহভাজন এই ব্যক্তিরা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং দলিল পাচার করত। ধৃতদের  মধ্যে ফিলিস্তিন এবং সিরিয়ার নাগরিক রয়েছে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তথ্য পাচার করত এবং এর জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ পেত তারা।

মোসাদের নজর ছিল যে ফাইলে :

সম্প্রতি তুরস্ক ও ইরান সরকার দুই দেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে  চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তিতে দুপক্ষ কৌশলগত সম্পর্ক বিস্তার, যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও চোরাচালান মোকাবিলায় পরস্পর সহমত হয়।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদি এবং তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলায়মান সইলু তেহরানে বৈঠক করেন। সেখানেই  সমঝোতা হয়। এই ফাইলটির তথ্য সংগ্রহ করতে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ নেমেছিল। তাদের এজেন্টদের খবর পায় তুরস্কের গুপ্তচর বিভাগ। শুরু হয় নজরদারি। সন্দেহ মিটতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আটকের পর এসব মোসাদ গুপ্তচরদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদেরকে ইস্তাম্বুলের মালতেপে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

Afghanistan: দিল্লির বৈঠকের পরেই চূড়ান্ত হতে পারে তালিবানকে সাহায্য, কূটনৈতিক ‘অভিমত’

Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাশিয়া থেকে তালিবান জঙ্গি সরকার হাসিমুখেই আফগানিস্তানে ( Afghanistan) ফিরছে। রুশ রাজধানী মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস (Tass) জানাচ্ছে, এই বৈঠকে তালিবান সরকারের সঙ্গে সদর্থক আলোচনা হয়েছে।

তাস ও বিবিসি আরও জানাচ্ছে, পরবর্তী কূটনৈতিক বৈঠক হবে নয়াদিল্লিতে। সেই বৈঠকের পর আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কূটনৈতিক বার্তা আসবে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের ‘অভিমত’, তালিবান সরকারের ধারণা, ভারত ইতিবাচক হবে। তবে দিল্লির বৈঠকে তালিবান সরকারের প্রতিনিধিরা থাকবেনা। কারণ, ভারত এই সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি।

আফগান সংবাদমাধ্যমের খবর, রাশিয়ার বৈঠকে ভারত নরম বার্তা দিয়েছে। তালিবান সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল সালাম হানাফির সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক বিষয়।

আলজাজিরা, এএফপি সহ বিভিন্ন সংবাদ প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট, আফগানিস্তানকে ভারত ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য দিতে প্রস্তুত। তবে এই বিষয়ে এখনই ভারত কিছু জানায়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত সরকার কোনও আন্তর্জাতিক সংগঠনের মাধ্যমে তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে সাহায্য পাঠাবে। তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানকে সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফায় সরকার দখল করে তালিবান জঙ্গিরা। উৎখাত করা হয় নির্বাচিত আশরাফ ঘানির সরকারকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে চলে যায়। এর পরেই তালিবান সরকার জানায়, তারা পূর্ববর্তী তালিবান আমলের থেকে নরম ভূমিকা নেবে।

Afghanistan: পোলিও জীবাণুর ভয়ে টিকা প্রদানের অনুমতি জঙ্গি তালিবান সরকারের

UN to launch a polio vaccination campaign in Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের ( Afghanistan )শিশুদের জন্য পোলিও টিকা কার্যক্রম চালানোর তালিবান জঙ্গি সরকার অনুমতি দিয়েছে। এমনই জানাচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ। এই জঙ্গি গোষ্ঠী বারবার পোলিও টিকাকরণ কর্মীদের খুন করার ঘটনায় জড়িত।

বিবিসি জানাচ্ছে, ১৯৮৮ সাল থেকে পোলিও রোগের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী টিকা প্রয়োগ শুরু হয়। তবে তালিবান হামলা ও গোঁড়ামি মানসিকতার কারণে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া থেকে এখনও পোলিও পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। 

রাষ্ট্র সংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, নভেম্বর মাস জুড়ে আফগানিস্তানে পোলিও টিকাকরণ শুরু হবে। এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার ঘোষণা করেছে তালিবান সরকার।

প্রথমবার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ তালিবান সরকারের আমলে আফগানিস্তানে পরপর খুন করা হয় পোলিও টিকাকরণ কর্মীদের। পরবর্তী সময়ে একাধারা বজায় রাখে এই জঙ্গি গোষ্ঠী। দ্বিতীয় দফায় গত ১৫ আগস্ট ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর এবার তালিবান সরকার পোলিও টিকাকরণ নিয়ে নরম মনোভাব দেখাল।

রাষ্ট্রসংঘ ও আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালিবান সরকারের মধ্যে বৈঠকে পোলিও টিকাকরণ শুরু করার ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। এর আগে শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়ানোর ঘোর বিরোধী ছিল তালিবান।

বিবিসি জানাচ্ছে, তাালিবানের পাকিস্তানি শাখা তেহরিক এ তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি পোলিও টিকা কার্যক্রম ভণ্ডুল করত বহু কর্মীকে খুন করেছিল।

ইউনিসেফ জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে পোলিও টিকাকরণের জন্য নারী কর্মীদের অংশগ্রহনে আপত্তি জানায়নি তালিবান সরকার। টিকাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর থেকে আফগানিস্তানে পোলিও টিকাকরণ শুরু হবে। ৩৩ লক্ষের বেশি আফগান শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে।

Taliban: ভারত-পাকিস্তান বৈঠক, দিল্লি থেকে নিমন্ত্রণ পত্র গেল ইসলামাবাদে

India to host NSA meet on Afghanistan, Pakistan

নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লি থেকে এসেছে নিমন্ত্রণ পত্র। আপ্লুত ইসলামাবাদ। নিমন্ত্রণ রক্ষায় আসার জন্য তোড়জোর শুরু হয়েছে। ভারত-পারিস্তান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের (NSA) বৈঠক হতে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় দফার সরকার গঠনের দু মাস পর তালিবান সমর্থনকারী পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক বৈঠকে বসতে চলেছে ভারত। এই বৈঠকের পৌরহিত্য করবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফ। বৈঠক হবে নভেম্বরে। থাকছেন রুশ নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

সূত্রের খবর, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া সরকারের উদ্যোগে মস্কোতেও বসতে চলেছেন ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা। তাৎপর্যপূর্ণ, এই বৈঠকেই হাজির থাকবে তালিবান সরকারের প্রতিনিধি। এর পরেই হবে নয়াদিল্লির বৈঠক।

Ajit Doval, Moeed Yusuf,

মস্কোর বৈঠকে আফগানিস্তানে মানবাধিকার ইস্যুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বলে দিয়েছে, আফগানিস্তানে গণহত্যা চালিয়েছে তালিবান। হয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। তবে ক্ষমতায় আসার পর তালিবান সরকার জানায়, তারা নরম মনোভাব দেখাবে। পূর্ববর্তী তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) যেরকম কঠোর ছিল সেরকম নয়।

আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে এখনও কোনও দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। তবে রাশিয়া, চিন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পরোক্ষ সমর্থন এসেছে। তালিবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে সেটাই আলোচিত বিষয়। যদিও তালিবান জঙ্গিরা গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বার কাবুল দখল করার পর পরই ভারত সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার বার্তা দেয়।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি জানান, চলতি অক্টোবর মাসে মস্কোর বৈঠকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে। ওই বৈঠকে তালিবান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা থাকবে। তবে নয়াদিল্লির বৈঠকে তালিবান সরকারকে আমন্ত্রণে বিষয়ে বিদেশমন্ত্রক নীরব।

Mohan Bhagwat: তালিবান পাল্টালেও পাকিস্তান একই থাকবে, বিজয়া ভাষণে ভাগবত

Mohan Bhagwat

নিউজ ডেস্ক: প্রথামাফিক বিজয়া দশমী পালন উৎসব অনুষ্ঠান থেকে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা কঠোর করতে মোদী সরকারকে বার্তা দিলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। মহারাষ্ট্রের নাগপুরে প্রতিবারের মতো এবছরও বিজয়া দশমী পালন করে আরএসএস।

অনুষ্ঠান থেকে সংঘ প্রধান বলেন,আফগানিস্তানে ফের সরকার গড়া তালিবানের চরিত্র কী তা স্পষ্ট। তাদের অতীত আমরা জানি। তবে তালিবান তার রূপ পাল্টাতে পারে। কিন্তু তালিবানকে সমর্থন করা পাকিস্তান তার চরিত্র বদলাবে না। এই প্রসঙ্গে মোহন ভাগবত চিনকেও টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, চিনের অভিপ্রায় কি পাল্টেছে?

উল্লেখ্য, চিন ও পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। ভাগবতের দাবি, ভারত সীমান্ত আরও মজবুত পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ প্রধানের ভাষণের পরেই কূটনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, যেহেতু বিজেপি হলো সংঘের রাজনৈতিক শাখা তাই সংঘ ঠিক করে দিল তালিবান সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক রসায়ণ সূত্র।

আফগানিস্তানের ক্ষমতার দ্বিতীয়বার আসার পর তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠী বারবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের নরম অবস্থান তুলে ধরার বার্তা দিয়েছে। তারা জানায়, এই তালিবান সরকার পূর্ববর্তী তালিবান নয়। অনেক নরম। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগছম ও সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, আফগানিস্তানে গণহত্যা শুরু করেছে তালিবান।

নাগপুরে সংঘ সদর কার্যালয়ের বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত সহ অন্যান্যরা। শারদ উৎসবের আগে অবস্য মহারাষ্ট্রের নাগপুর সংলাপ এলাকায় জনসমর্থনে ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। পঞ্চায়েতস্তর থেকেই আসন ও জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করেছে।

তালিবানি জমানায় আফগানিস্তান যেন সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর হয়ে না ওঠে বললেন মোদী

Narendra Modi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: তালিবানি জমানায় আফগানিস্তান যেন সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘরে পরিণত না হয় সে বিষয়ে সকলকেই খেয়াল রাখতে হবে। গোটা দুনিয়া দেখছে, তালিবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পরেই সে দেশে মানবিক পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তাই আফগান নাগরিকদের জন্য যাতে জরুরি ও মানবিক পরিষেবাগুলি পুরোপুরি বজায় থাকে সেটা নিশ্চিত করা দরকার। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে নিজের ভাষণে এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

করোনাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রী এদিন ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেন। সেখানেই তিনি বলেন, আফগানিস্তানে ক্ষমতা চলে গিয়েছে জঙ্গিদের হাতে। আর এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদত জুগিয়ে চলেছে আমাদের প্রতিবেশী এক দেশ। প্রতিবেশী এই দেশ যে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর, সন্ত্রাসবাদীরা সেখানে নিরাপদে থাকে এটা সবাই জানে। কাজেই এই দুই দেশ যদি জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় তাহলে শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয় গোটা বিশ্বের পক্ষেই সেটা এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। সরাসরি নাম না করলেও প্রতিবেশী দেশ বলতে মোদি পাকিস্তানকেই নিশানা করেছেন বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, আফগানিস্তানের মানুষ যাতে তাঁদের সমস্ত অধিকার বজায় রাখতে পারেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার আফগানিস্তানের উন্নয়নে একটি উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠন খুবই জরুরি।

আমাদের মনে রাখতে হবে, কোনও প্রতিবেশী যদি দুর্বল ও অনুন্নত হয়ে পড়ে তবে পড়শিরাও খুব সুখে শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই দুর্বল প্রতিবেশীকে সবল করে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমাদের সকলকেই লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত না হয়। জঙ্গিরা যাতে না সে দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনও দেশে নাশকতা চালাতে পারে। সকলেরই মনে রাখা উচিত, সন্ত্রাসবাদীদের কোন জাত হয়না। তাদের মধ্যে কোন ভাল মন্দ হয় না। তাদের একটাই পরিচয়, তারা শুধু ধ্বংস করতে পারে। তাই সন্ত্রাসবাদীদের যদি রমরমা হয় সেটা শুধু আফগানিস্তানের জন্য নয় গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে জঙ্গিরা ।

সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালিবান ও আইএস খোরাসান জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। আইএস (কে) তালিবানের চেয়েও অনেক বেশি উগ্র। দুই জঙ্গিগোষ্ঠীর এই লড়াইয়ে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ আফগানবসীর। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জি-২০ মঞ্চে মোদির ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা দুনিয়া। আমেরিকার পক্ষ থেকেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

Afghanistan: তালিবান জঙ্গিদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক, স্বীকৃতির ইঙ্গিত?

us and taliban militant government discussion

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান থেকে অগাস্ট মাসে সেনা প্রত্যাহারের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথমবারের মত তালিবানের সাথে মুখোমুখি বৈঠক করেছে। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর। কাতারের রাজধানী দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেন তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাক। তিনি জামান, দু’পক্ষই ফেব্রুয়ারি ২০২০-এর চুক্তি বহাল রাখতে সম্মত হয়েছে।চুক্তিতে তালিবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা আল কায়েদাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার মত কোনও কর্মসূচি চালাতে দেবে না। তবে তালিবান সরকারের হুঁশিয়ারি, এক দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে নাক না গলায়।

বৈঠকের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলে, তালিবানের সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ এই নয় যে তারা আফগানিস্তানে তালিবান শাসনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। কাবুলের পতনের পর ওয়াশিংটন ও তালিবানের মধ্যে এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হয়।

বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নাগরিক ও আফগানদের নিরাপদে সরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ওপর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলে তালিবান সরকার

Afghanistan: কাবুলে মারের বদলা কুন্দুজে নিল ইসলামিক স্টেট? মসজিদে বিস্ফোরণে বহু মৃত্যু

Mosque blast in Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: তালিবান সরকারের পুলিশের দাবি ১০০ জনের বেশি মৃত কুন্দুজের মসজিদে। ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর পিছনে ইসলামিক স্টেট খোরাসান জঙ্গিরা জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্তত ৯০ জন জখম। এদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কা জনক।

কুন্দুজ প্রদেশ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের তাজিকিস্তান সীমান্তের লাগোয়া। বিস্ফোরণ ঘটানোর পিছনে কোনও তালিবান বিরোধী গেরিলা সংগঠনের হাত আছে কিনা তাও আলোচিত হচ্ছে।

আফগানিস্তানে দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলে কুন্দুজ মসজিদের বিস্ফোরণ প্রথম ভয়াবহ নাশকতা। শুক্রবার ধর্মীয় দিন। ফলে মসজিদে ছিল ভিড়। সেই ভিড়ে হয় বিস্ফোরণ। রক্তাক্ত এই মসজিদ প্রাঙ্গনে বহু মানুষের দেহ পড়ে আছে। দেহ সরানোর কাজ চলছে।

আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করার পর তালিবান জঙ্গিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক স্টেট খোরাসানের সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতি রাজধানী কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর তালিবান হামলা চালায় আইএস ঘাঁটিতে। বেশ কিছু আইএস জঙ্গি মারা যায়। তালিবান বনাম আইএস দুই জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্র আফগানিস্তান।

কুন্দুজের বিস্ফোরণের ঘটনায় তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

Afghanistan : মসজিদ কাঁপল নাশকতায়, কেমন সেই মুহূর্ত দেখুন

blast in afghsn mosque

নিউজ ডেস্ক: ফের আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। শুক্রবার কুন্দুজ শহরে একটি মসজিদে বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনা নাশকতা। জানিয়েছে তালিবান জঙ্গি সরকার। অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে প্রতিপক্ষ জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসানের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরের মসজিদে ধর্মীয় জমায়েত ছিল নিয়মমাফিক। তখনই ঘটানো হয় বিস্ফোরণ। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

blast in afghsn mosqueবিস্ফোরণের মুহুর্ত কেমন ছিল তা দেখা যাচ্ছে। বিরাট মসজিদের পুরোটা কালো ধোঁয়ায় ঘেরা। দলে দলে সবাই বেরিয়ে আসছে।

blast in afghsn mosque

আরেকটি ছবিতে স্পষ্ট, ঘটনাস্থল। পুরো মসজিদের ভিতর লন্ডভন্ড পরিস্থিতি। সেখানে কয়েকজনের দেহ পড়ে রয়েছে।

blast in afghsn mosque

আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করার পর তালিবান জঙ্গিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক স্টেট খোরাসানের সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতি রাজধানী কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর তালিবান হামলা চালায় আইএস ঘাঁটিতে। বেশ কিছু আইএস জঙ্গি মারা যায়। তালিবান বনাম আইএস দুই জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্র আফগানিস্তান।

blast in afghsn mosqueকুন্দুজের বিস্ফোরণের ঘটনায় তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

Afghanistan: কাবুলের গুরুদোয়ারায় ‘তালিবান হামলা’, মুসলিম রক্ষীরা পণবন্দি

Gurdwara Karte Parwan of kabul

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের তালিবান জঙ্গি শাসকদের বিরুদ্ধে ফের সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংস্থা UNI জানাচ্ছে, কয়েকজন বন্দুকধারী কাবুলের শিখ ধর্মীয়স্থান গুরুদোয়ারা কারতে পারওয়ানে ঢুকে লুঠ করে।

UNI সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছেন আফগানি নাগরিক গুরনাম সিং। তিনি কাবুলে থাকেন। গুরনাম সিং জানিয়েছেন, ওই গুরুদোয়ারায় জনা পনের বন্দুকধারী ঢুকে ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ভেঙে দেওয়া হয়। গুরুদোয়ারার তিন রক্ষী বাধা দেন। তাদের পরে বন্দি করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

আফগান নাগরিক গুরনাম সিং বলেছেন, গুরুদোয়ারার রক্ষীরা কেউ শিখ নন। তাঁরা মুসলমান ধর্মাবলম্বী। তাদের জীবন সংশয়ে। কারণ অপহরণের পর থেকে আর খোঁজ নেই ওই তিন রক্ষীর।

গুরদোয়ারায় হামলাকারীরা সরকারে আসা তালিবান জঙ্গি বলেই মনে করা হচ্ছে। এই হামলাকারীরা ৫০ হাজার আফগানি টাকা লুঠ করেছে। এছাড়াও ওই গুরুদোয়ারায় ভাঙচুর করেছে।

পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। আফগানি সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায় স্থানীয় তালিবান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এদিকে গুরুদোয়ারা আক্রান্ত হওয়ার সংবাদে আন্তর্জাতিক শিখ সংগঠনগুলি প্রবল ক্ষুব্ধ। তাদের তরফে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আফগানি শিখদের নিরাপত্তা নিয়ে তালিবানদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করা হয়।

সম্প্রতি এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আফগানি ওষুধ ব্যবসায়ীকে কাবুলের রাস্তায় অপহরণ করে তালিবান জঙ্গিরা। তার এখনও কোনও খোঁজ নেই। এক শিখ ধর্মাবলম্বীকে খুন করা হয়েছে আগেই।