Manipur: বিরোধী আসন দখলে মমতার অভিযান, কংগ্রেস কাঁপছে মনিপুরে

TMC

News Desk: মেঘের দেশ মেঘালয়ে কংগ্রেসকে শেষের কবিতা পড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা। সে রাজ্যে টিএমসি প্রধান বিরোধী দল। এবার কোন রাজ্য ?

সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর নজর পড়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্য মনিপুরে (Manipur)। এই রাজ্যে বিরোধী আসন দখলে জন্য মেঘালয়ের মতো ঝড়ের বেগে অপারেশন শুরু করছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে ভোটকুশলীরা পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।

মনিপুরে বিজেপি সরকারে। বিরোধী দল কংগ্রেস। আর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর লক্ষ্য তারাই। এই বিপদের আঁচ করেছে কংগ্রেস। কীভাবে সম্ভব ভাঙন রোখা তার সূত্র খুঁজছেন কংগ্রেসের ক্রাইসিস ম্যানেজাররা। মনিপুরে বিরোধী আসনে থাকা কংগ্রেস বিধায়করা ‘উড়ু-উড়ু’। তাঁদের কাছে টাটকা উদাহরণ মেঘালয়।

এক নজরে মনিপুর বিধানসভার অঙ্ক
বিধানসভার মোট আসন ৬০
সরকারপক্ষে রয়েছেন ৩৫ জন বিধায়ক।
বিজেপি ২৪
এনপিপি ৪
এনপিএফ ৪
নির্দল ৩

বিরোধী আসনে মোট ১৮ জন বিধায়ক
প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের ১৭ জন
তৃণমূল কংগ্রেস ১
৭টি আসন খালি।

সূত্র মারফত kolkata24x7.in জানতে পেরেছে মেঘালয়ের বিরোধী নেতা মুকুল সাংমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই মনিপুরের বিরোধী দল কংগ্রেসকে ভাঙাতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনিপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের যিনি বিধায়ক সেই থংব্রাম রবীন্দ্র সিং তৈরি বাকিদের বোঝাতে।

উত্তরপূর্বাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনীতিক মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। তাঁর হাতেই মনিপুরে ঘাঁটি তৈরির ভার ছেড়েছেন মমতা। সেই লক্ষ্যে মুকুল সাংমা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে মনিপুরকেই বেছে নিয়েছেন।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে আচমকা তৃণমূল কংগ্রেস বিশেষ আলোচনায়। পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের শাসকদল এখন মেঘালয়ে বিরোধী আসনে। আবার ত্রিপুরায় পুর নির্বাচনে ভোটের হার ০.৩ শতাংশ থেকে ১৬.৩৯ শতাংশে পৌঁছে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর পূর্বের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্য দখলে আগামী বিধানসভা ভোটে সর্বশক্তি নিয়ে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Tripura: মোদীর টুইটে ‘সুশাসন’ বেছে নেওয়ার ধন্যবাদ, হামলায় সন্ত্রস্ত ত্রিপুরা

Tripura post poll violence

News Desk: পুর ও নগর পরিষদ-পঞ্চায়েক নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) শাসকদল বিজেপি। প্রবল ভোট সন্ত্রাস ও রিগিং অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বারবার রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নির্বিঘ্নে ভোট ব্যবস্থা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল।

অভিযোগ, সেই নির্দেশ গিয়েছে ধুলোয় লুটিয়ে। ভোটে সন্ত্রাসের ভয়াবহ হামলা অব্যাহত ফল বের হওয়ার পরেও। রবিবার রাতভর চলেছে হামলা, বাড়ি ঘর ভাঙচুর। সর্বক্ষেত্রে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।

পুর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন। তিনি লিখেছেন, ত্রিপুরাবাসীকে ধন্যবাদ। তাঁরা সুশাসন বেছে নিয়েছেন।

Tripura post poll violence

সুশাসনের ভয়াবহ ছবি সোমবার সকাল হতেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শুধু আগরতলা নয়, জেলায় জেলায়, এলাকাভিত্তিক হামলা চলছে। গাড়ি ভাঙচুর, বিরোধী দল সিপিআইএমের সমর্থকদের উপর হামলা অব্যাহত। তেমনই আক্রান্ত হচ্ছেন তৃ়ণমূল কংগ্রেস সমর্থক ও প্রার্থীরা। আক্রান্ত কংগ্রেসও।

ভোটের ফল ঘোষণার পর ত্রিপুরার মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানান, এই জয় জনগণের জয়। ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপির দাবি গণতন্ত্রের জয়। প্রধান বিরোধীদল সিপিআইএমের দাবি, গণতন্ত্র লুঠ হয়েছে। টিএমসি ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছে। বিধানসভায় খেলা হবে বলে জানিয়েছে। কংগ্রেসের তরফে ভোটের ফল প্রত্যাখান করা হয়েছে। তিপ্রা মথা ভোট সন্ত্রাস নিয়ে সরব।

রবিবার পুর ও নগর পঞ্চায়েত-পরিষদ ভোটের ফলাফলে বিজেপি কার্যত একতরফা জয়ী। ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ত্রিপুরায় পুর নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ জয়ী শাসকদল বিজেপি।

মোট ২০টি পৌর এলাকার ৩৩৪টি আসন। বিজেপি জয়ী ৩২৯টি। ৯৯ শতাংশ আসনে জয়!
তাৎপর্যপূর্ণ, ৭টি পুর ও নগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন হয়নি। এই এলাকাগুলিতে বিরোধীদের উপর হামলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় জয়ী হয় বিজেপি।

আগরতলা পুরনিগম সহ যে ১৩টি নগর পঞ্চায়েক ও পরিষদের ভোট হয়েছিল তার ২২২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২১৭টি। বিরোধী সিপিআইএম পেয়েছে ৩টি। টিএমসি একটি। তিপ্রা মথা ১টি।

Mamata Banerjee: বিরোধী মুখ হওয়ার প্রস্তুতিতে TMC, কংগ্রেসের বৈঠক থেকে দূরত্ব

Mamata Banerjee

News Desk: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস দল এখন বিরোধীদের প্রধান মুখ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই কারণেই টিএমসি একে একে তাদের কার্ড খুলতে শুরু করেছে। রাজধানীর রাজনীতিতে ঘুরছে এমনই কথা।

কংগ্রেসের ডাকা বি রোধী দলগুলির বৈঠকে টিএমসি অংশ নিচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, রাজ্যসভায় বিরোধী দলের নেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গের ডাকা বিরোধী দলগুলির বৈঠকে টিএমসি অংশ নেবে না।

টিএমসি সূ্ত্রে খবর, সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও কংগ্রেসের সাথে সমন্বয় করা হবে না। সংসদ অধিবেশনে কংগ্রেসকে সহযোগিতা করবে না দলটি। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দলটি অবশ্যই অন্যান্য বিরোধী দলকে সমর্থন করবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই কারণেই টিএমসি অন্যান্য রাজ্যে মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। অন্যান্য দলের বড় নেতাদের টেনে আনছে।

এর আগে, টিএমসি টেনে আনে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মহিলা নেত্রী তথা শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেবকে। তিনি অসম সহ উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যতম নেত্রী। এখন টিএমসির রাজ্যসভা সাংসদ ও ত্রিপুরার দায়িত্বে। সিনিয়র কংগ্রেস নেতা কীর্তি আজাদ ও অশোক তানওয়ারকে টেনে নিয়েছে টিএমসি। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন মমতার শিবিরে। মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা কংগ্রেস ছেড়ে টিএমসিতে সামিল। মেঘালয়ে বিরোধী আসনে টিএমসি। এটি সোনিয়া গান্ধীর জন্য একটি বড় ধাক্কা।

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস বলতে কিছুই নেই। ত্রিপুরার পুর ভোটে টিএমসি নিজের অস্তিত্ব তৈরি করেছে। এ রাজ্যে বিজেপির ওপর ক্ষুব্ধ কয়েকজন সিনিয়র নেতাও টিএমসির পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছেন।

তবে বিশ্লেষণে উঠে আসছে, কংগ্রেসের ভারতব্যাপী অবস্থানকে ভাঙতে একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতদূর সফল হবেন। দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসকে ভাঙানো তাঁর পক্ষে সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

Tripura: বামেদের ঘাড়ে ‘হামলা’ মমতার, হাসি চওড়া মোদীর

modi-mamata

News Desk: ত্রিপুরা (Tripura) পুর ও নগর পঞ্চায়েত, পরিষদের ভোটের ফলে ‘ব্যাপক রিগিং’ ছাপ লাগলেও শাসক বিজেপির বিপুল জয় সর্বত্র। আর বিরোধী দল সিপিআইএমের করুণ অবস্থা। ত্রিপুরায় আরও একটি সমীকরণ তৈরি হলো। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের উঠে আসা। বিরোধী দল না হয়েও কার্যত বিরোধীদলের ভূমিকা নিতে চলেছে মমতা শিবির।

পুর নির্বাচনের ফলাফলে দিশেহারা বাম শিবির। দুই দফায় রাজ্যে মোট ৩৫ বছর (১০+২৫) মধ্যে সর্বশেষ টানা ২৫ বছর সিপিআইএম ছিল সরকারে। গত বিধানসভা ভোটের পর বিরোধী আসনে তারা। দলটির দখলে আছে ১৬ জন বিধায়ক। এই শক্তি নিয়েও ফলাফলে তেমন কিছুই করতে পারেনি বিরোধীরা। ত্রিপুরায় ব্যাপক ভোট রিগিং হয়েছে বলে অভিযোগ সিপিআইএমের।

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও ভোট সন্ত্রাস অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও সন্ত্রাস চলেছে ভোটে এমনই অভিযোগ। এরই মাঝে নিজেদের ভোট বাড়িয়ে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগরতলা পুরনিগমে ব্যাপক ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ এলেও এখানেই টিএমসি বিভিন্ন ওয়ার্ডে বামেদের তিননম্বরে পাঠিয়েছে। কোনও কোনও ওয়ার্ডে তারা সিপিআইএমের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলেছে।

রাজ্যের অন্যান্য নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদের ভোটেও বিজেপির বিপুল জয়ের মাঝে টিএমসি যেমন আছে টিমটিম করে, তেমনই আছে সিপিআইএম। একাধিক আসনে বামেদের থেকে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সর্বত্র বিজেপি জয়ী। জয়ের এই খবরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাসি চওড়া। কারণ তাঁরই ঝড়ে গত বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় ভেঙে পড়েছিল বিরাট বাম দুর্গ।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে প্রচারে এসে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা মানিক সরকার বলেছিলেন, তাঁর রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে জনগণের নিদারুণ অভিজ্ঞতার কথা। ঠিক সেই সময়ে ত্রিপুরা ছিল দেশের বেকারত্ব তালিকায় শীর্ষে। পূর্ব বর্ধমানের সদর বর্ধমান শহরে সিপিআইএমের জনসভায় মানিকবাবুর ভাষণের পর রাজ্য জুড়ে প্রবল শোরগোল পড়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে টিএমসি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মানিকবাবুর সেই ভাষণকে হাতিয়ার করেছেন। প্রচারে এসেছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। তবে তিনি সাড়া পাননি।

ভোটে এ রাজ্যে সিপিআইএম শূন্য হয় বিধানসভায়।বিজেপির দাবি ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিনের উন্নয়ন হয়েছে। এর পরেও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার সরকারে।

বঙ্গে বিজেপিকে রুখে দিয়ে ত্রিপুরায় ঝাঁপ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। সেই লক্ষ্যে তিনি সেমিফাইনাল ম্যাচে অস্তিত্ব জানিয়ে দিলেন। বিরাট ভোট ধাক্কা নিয়ে মানিক সরকার ও সিপিআইএম আসন্ন বিধানসভার ভোটে ঘুরে দাঁড়ানোর সূত্র খুঁজতে মরিয়া। 

তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ অনুকরণে বিজেপির বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি হাতিয়ার ‘‘Khadeda Hoibe’’

Akhilesh Yadav

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনে (assembly election)বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্লোগান ছিল ‘খেলা হবে'(khela hobe)। শাসক দলের এই স্লোগান বাংলায় কেমন সাড়া ফেলেছিল সেটা আজ সকলেই জানেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee ) সেই স্লোগানকেই বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করলেন উত্তরপ্রদেশের (utter Pradesh) সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।

২০২২-এর শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। শাসক দল বিজেপি ও প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ইতিমধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে। এই প্রচারেই অখিলেশের দল তৃণমূলের স্লোগানকে অনুকরণ করে পাল্টা স্লোগান তুলল ‘খদেড়া হইবে’। যার বাংলা অর্থ ‘তাড়ানো হবে’, অর্থাৎ বিজেপিকে এবার উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা থেকে হঠানো হবে।

অওয়াধি ও ভোজপুরি ভাষার মিশ্রণে এই গানটি তৈরি করা হয়েছে। এই গানে শুধু যে বিজেপিকে তাড়ানোর কথা বলা হয়েছে তা নয়। ক্ষমতায় ফিরলে উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নে অখিলেশ সরকার কী কী কাজ করবে তারও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যোগীর বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

খেলা হবে এই স্লোগানটি মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলার প্রতিটি আনাচে-কানাচে। তৃণমূল নেত্রীর এই স্লোগান তাঁর দলকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে বাংলার ক্ষমতায় ফিরিয়েছে। ২০২২ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সেই স্লোগানকেই কিছুটা এদিক ওদিক করে ফিরিয়ে আনলেন অখিলেশ।

তবে অখিলেশ যে প্রথমবার এই স্লোগানের কথা বললেন তা নয়। মাস খানেক আগে এক জনসভায় তিনি প্রথম ‘খদড়া হইবে’ কথাটি বলেছিলেন। তারপর থেকেই সমাজবাদী পার্টির বিভিন্ন সভায় নিয়মিত তাঁর মুখে খদড়া হইবে কথাটি শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগানের মতই খদেড়া হবে স্লোগানটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

উল্লেখ্য গত মাসেই সপা ‘সমাজবাদী সুগন্ধি’ নামে একটি পারফিউম বাজারে এনেছে। অখিলেশের আনা সেই সুগন্ধীর বোতলের গায়ে রয়েছে দলীয় পতাকার রং ও চিহ্ন। অখিলেশের এই অভিনব প্রচার কৌশলও মানুষের নজর কেড়েছে। এবার এল গান। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, যোগীকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সরাতে চেষ্টার কোন খামতি করছেন না অখিলেশ। যদিও সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অল্প ব্যবধানে হলেও উত্তরপ্রদেশে ফের ক্ষমতায় ফিরছেন যোগী।

Duare Ration: মমতার স্বস্তি, ফের ডিলারদের পরবর্তী শুনানিতে হাজিরার নির্দেশ আদালতের

Duare Ration

News Desk: দুয়ারে রেশন (Duare Ration) নিয়ে মামলা হাইকোর্টে। ‘পাইলট প্রজেক্ট’কে চ্যালেঞ্জ কিন্তু গেজেটেড প্রজেক্টকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। সেটা না করলে রাজ্য কীভাবে সওয়াল করবে। পাইলট প্রজেক্ট একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করা হয়েছিল। সেটা শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন এই প্রকল্প আইনত সম্মতি পেয়েছে।

রাজ্যের আবেদনের ভিত্তিতে মামলাকারীকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। যেখানে ‘গেজেটেড প্রজেক্ট’ নিয়ে কী অভিযোগ সেই বিষয়ে জানানোর নির্দেশ। আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি।

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দুয়ারে রেশন প্রকল্প শুরু হয়েছে। দুয়ারের রেশন স্থায়ীকরণ করার জন্য রাজ্য সরকার একটি সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। রাজ্য সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন রেশন ডিলার। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তির ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করুক আদালত।

অভিযোগ, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতি রেশন ডিলারদের কর্মচারী রাখতে হবে তার আর্থিক ভরণ পোষণ সম্ভব নয়। তবে সরকার জানায়, দশ হাজার টাকার অর্ধেক দেওয়া হবে বাকিটা দেবে ডিলাররা। আর ডিলারদের দাবি, এই টাকা দেওয়া অসম্ভব। এই নিয়ে বারবার আদালতে চলছে সওয়াল জবাব। বারবার ধাক্কা রেশন ডিলারদের।

মানুষের সেবা করতেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি: মুকুল

mukul sangma

News Desk: বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল মেঘালয়ের কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। জল্পনাকে সত্যি প্রমাণ করে বুধবার ১১জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন মুকুল সাংমা।

সাংমা ও ১১ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা এক লাফে ১৭ থেকে কমে হচ্ছে মাত্র ৫ জন। স্বাভাবিকভাবেই উত্তর পূর্বের এই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিরোধী দলের মর্যাদা চেয়ে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন মুকুল সাংমা।

আরও পড়ুন: Meghalaya: মেঘের দেশে ‘কংগ্রেসের শেষের কবিতা’ লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা

হঠাৎই মুকুল সাংমা কেন কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। মুকুল সাংমা সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, মানুষের সেবা করার জন্যই তাঁরা বাধ্য হয়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মেঘালয়ে কংগ্রেসই যে সরকার গড়বে এটা অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা সরকার গড়তে পারেননি। এনপিপি ও বিজেপি জোট কীভাবে রাজ্যে সরকার গঠন করেছিল সেটা আজ সকলেই জানে। ওই ঘটনার পর রাজ্যে দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করা তো দূরের কথা, বরং নিয়মিতই কংগ্রেস সদস্যদের ভাঙানোর চেষ্টা শুরু হয়। যা রোখার মত কোনও কাজ করেনি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

মুকুল সাংমা বলেছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের দিশার অভাবেই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতেও ব্যর্থ কংগ্রেস। জনবিরোধী কাজ প্রতিরোধ করা ও সরকারের ভুলগুলি তুলে ধরার যে দায়িত্ব বিরোধী দলের রয়েছে সেটা পালন করতে পারেনি কংগ্রেস। দলের নীতি মেনে চলতে গিয়ে জনস্বার্থের সঙ্গেও তাঁদের প্রতি পদে পদে আপোস করতে হয়েছে।

মুকুল সাংমা স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ্যের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁদের যা করা উচিত ছিল সেটা তাঁরা করে উঠতে পারেননি। কংগ্রেসে থাকলে প্রকৃত বিরোধী ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে না। সে কারণেই তাঁরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুকুল অভিযোগ করেছেন, দলীয় হাইকমান্ডের ব্যর্থতার কারণেই কংগ্রেস কখনওই দেশের প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারেনি।

উল্লেখ্য, মেঘালয়ে কংগ্রেসের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই একটা ভাঙন দেখা যাচ্ছিল। এই ভাঙনের মূল কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভিনসেন্ট এইচ পালার মধ্যে ঠান্ডা লড়াই। মুকুলের অভিযোগ, ভিনসেন্টকে প্রদেশ সভাপতি করার আগে দলের হাইকমান্ড তাঁর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনাই করেননি। সে কারণে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন মুকুল। পরবর্তী ক্ষেত্রে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর মতপার্থক্য আরও বেড়েছে।

দলের দুই প্রবীণ নেতার মধ্যে এই বিরোধ মেটাতে কিছুদিন আগেই দেখা করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। অনেকেই মনে করেছিলেন, এবারের মতো হয়তো রাহুল পরিস্থিতি সামালে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ভাবনাচিন্তা যে ঠিক ছিল না মুকুলের দলত্যাগ তারই প্রমাণ।

গত মাসে কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুকুল সাংমা। ওই সাক্ষাতের পর মুকুলের তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। যদিও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছিলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি অভিষেকের সঙ্গে দেখা করেছেন।

সম্প্রতি কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেও দেখা করেন মুকুল। এই সাক্ষাতকে তিনি সৌজন্য বলে জানিয়েছিলেন। করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১১ জন কংগ্রেস বিধায়ককে নিয়ে মুকুলের তৃণমূল কংগ্রেসে চলে আসা নিশ্চিতভাবেই কংগ্রেসের কাছে বড় ধাক্কা।

Mamata Banerjee: সোনিয়াকে উপেক্ষা করার কারণ সম্পর্কে বিস্ফোরক মমতা

Mamata Banerjee meeting Sonia Gandh

Mamata Banerjee meeting with Sonia Gandhi
নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: রাজধানীকে এলেই প্রতিবারই আমায় সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে দেখা করতে হবে কেন? সংবিধানে কি এমন কোন নিয়ম আছে যে, দিল্লি আসলেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে হবে? সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে চাঞ্চল্যকর এই প্রশ্নটিই ছুড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা (Mamata Banerjee) বন্দ্যোপাধ্যায়।

চার দিনের সফরে সোমবার দিল্লি (Delhi) এসে পৌঁছেছেন মমতা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi), দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ (Aravind Kejriwal) বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, মমতা দিল্লি আসলে অবশ্যই সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু এবারই তার ব্যতিক্রম ঘটলো। চার দিনের এই সফরে সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা উচ্চারণও করলেন না নেত্রী। তাই সংবাদমাধ্যম মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চায়, আপনি কি এবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন না? তার উত্তরে মমতা স্পষ্ট বলেন, ওনারা এখন পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে খুব ব্যস্ত। তাই কিভাবে দেখা হবে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী কিছুটা রাগত স্বরে বলেন, আমি দিল্লি এলে প্রতিবারই কেন সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করবো বলুন তো? এটা কি কোনও সাংবিধানিক নিয়ম নাকি?

মমতার এই কথার যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করার পরেই নিজের রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে তৃণমূল ক্রমশ জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে জায়গা করে নিচ্ছে। নিজের জায়গা করতে গিয়ে তৃণমূল মূলত কংগ্রেসেই ভাঙন ধরাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই উত্থান ও দল ভঙানোর নীতিতে বেজায় খাপ্পা কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে মমতার এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি মমতা এবং তাঁর দলের কাজে বিরোধীজোটের ঐক্য নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।

মমতা এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে তাঁর দল অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির পাশেই থাকবে। অখিলেশ চাইলে তিনি উত্তরপ্রদেশে প্রচার করতেও যাবেন। কারণ তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হল বিজেপিকে ক্ষমতায় থেকে হঠানো। একই সঙ্গে মমতা জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর তিনি মুম্বই যাচ্ছেন। দেখা করবেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীদের অনৈক্যের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে এনসিপি, কংগ্রেস ও শিবসেনা জোট সরকার গঠন করেছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের শরিকদের নিজের কাছে টানতে মমতা উদ্যোগী হয়েছেন, এমন কথাও উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহল এই প্রশ্নও তুলেছে যে, কংগ্রেসকে বাদ রেখে কি কোন বিরোধী জোট করা সম্ভব? কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট করতে গেলে সব আঞ্চলিক দলকে মমতা কি নিজের পাশে পাবেন?

আবার রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেস যদি বিরোধী জোটে থাকে সেই জোটে কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদবের মতো নেতা কি সামিল হবেন!

Meghalaya: মেঘের দেশে ‘কংগ্রেসের শেষের কবিতা’ লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা

mukul Sanga join TMC

News Desk: পশ্চিমবঙ্গ শাসনের বাইরে অন্য রাজ্যে প্রথম বড়সড় সাফল্যের মুখ মেঘালয়েই (Meghalya) দেখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Manata Banerjee)। উত্তর পূর্ব ভারতের মেঘালয়ের বিরোধী দল হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।

এই রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের (INC) বিধায়করা প্রায় পুরোটাই তৃণমূলে সামিল হয়ে গেলেন। এনডিটিভি জানাচ্ছে, বিরোধী দলনেতা মুকুল সাংমা ১২ জন বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে ekolkata24 আগেই জানিয়েছিল টিএমসি মেঘালয়ে বিরোধী দল হতে চলেছে। পড়ুন সেই খবরটি। Meghalya: কংগ্রেস ভেঙে বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে মরিয়া মমতা

মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের নাম কি পাল্টে যাবে? এও প্রশ্ন উঠতে শুরু করল। কারণ এর আগে ত্রিপুরায় কংগ্রেস ত্যাগ করে টিএমসিতে এসেছিলেন বিধায়করা। সে রাজ্যে তখন বাম সরকার। আর বিরোধী আসনে শূন্য হয়েছিল কংগ্রেস। সেই বিধায়কদের নিয়ে ত্রিপুরায় বিরোধী দল হয়েছিল টিএমসি। ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের বোর্ড মুছে দেওয়া হয়। পরে সেই টিএমসি বিধায়করা বিজেপিতে চলে যান। ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার গড়ে। বিরোধী হয় সিপিআইএম। আর টিএমসি বিলীন হয়ে যায়।

মেঘালয়ের পরিস্থিতি:
২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। কংগ্রেস ছেড়ে দিলেও তিনি এখন বিরোধী দলনেতা। রাজ্যের ক্ষমতায় আছে এনপিপি (NPP)। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। সরকারের শরিক দল বিজেপি।

এক নজরে মেঘালয় বিধানসভার অংক
মোট সদস্য সংখ্যা ৬০
সরকার পক্ষে আছেন ৪০ জন
এনপিপি ২২
বিজেপি ২
বাকি শরিক দল ১৬

বিরোধী আসনে মোট ২০ জন
বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস ১২
কংগ্রেস ৬
অন্যান্য ২

বিরোধী নেতা মুকুল সাংমা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। তাঁর নেতৃত্বে টিএমসি বিরোধী দলে পরিনত হলো।

Modi-Mamata Meting: বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন উদ্বোধন করতে মোদীকে অনুরোধ মমতার

Modi-Mamata Meting

News Desk: দিল্লি সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মুখোমুখি হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজকের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফের (BSF) ক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। একই সঙ্গে রাজ্যের পাওনা ৬৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বুধবার নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দফতরে (PMO) আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। প্রত্যাশামতোই বৈঠকের শুরুতেই তিনি রাজ্যের বকেয়া ৬৩ হাজার কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চেয়ে বসেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি মোদী সরকার বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। সেখানেই মমতা বলেন, দিল্লির কাছ থেকে তাঁর সরকার ৬৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা পাবে। ইয়াস, আম্ফান সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য যে টাকা পাওনা রয়েছে সেই সমস্ত টাকাও চেয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, বকেয়া টাকা যদি কেন্দ্র আমাদের না দেয় তাহলে আমরা কিভাবে রাজ্য চালাব। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই অনুরোধ খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। একইসঙ্গে মমতা বলেন, কেন্দ্র বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সিদ্ধান্তও প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিএসএফের সঙ্গে আমাদের কোনও রকম তিক্ততা নেই। ওরা সীমান্তে সদা সতর্ক প্রহরা দিয়ে চলেছে। ওদের ক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি আমরা। এভাবে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়ানো হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি হবে।

মোদী সরকারকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো আছে। অহেতুক সেই পরিকাঠামোর উপর আঘাত করা উচিত নয়। তাই কেন্দ্রের উচিত বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া। তাঁর এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনওরকম মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের দ্রুত টিকাকরণ শুরু করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, কেন্দ্রকে মনে রাখতে হবে রাজ্যের উন্নতি হলে তবেই কেন্দ্রের উন্নয়ন হবে। বিভিন্ন দলের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মমতা এদিন বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বলেন, ২০২২ সালের ২০ ও ২১ এপ্রিল বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন হবে। এই সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ওই সম্মেলনে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই শিল্প সম্মেলন নিয়ে তাঁর কাছে যথেষ্ট উৎসাহও দেখিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। উল্লেখ্য, সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছরে এই সম্মেলন হয়নি। আগামী বছরও এই সম্মেলন নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর হবে। নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এই সম্মেলন হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করার জন্যই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

Mamata Banerjee: স্বামীকে পেয়ে আদৌ লাভবান হবেন মমতা ? প্রশ্ন ঘুরছে তৃণমূলেই

subramanian swamy

News Desk: না আঁচালে বিশ্বাস নেই! এমনই যুক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে। তবে দলনেত্রীর ভয়ে পুরো মুখ খুলতে নারাজ মহানগর থেকে মফ:স্বলের নেতৃত্ব। মোবাইলে খবরের আপডেট দেখতে দেখতেই দিদি (Mamata Banerjee) ঘনিষ্ঠ জেলাস্তরের নেতা যিনি দেশের বিভিন্ন খবরে নিজেকে জড়িত রাখেন বললেন, পুরো বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। যা বিতর্কিত বয়ান দেন সুব্যহ্মণ্যম স্বামী (Subramanian Swamy)।

তৃণমূল কংগ্রেসে যেভাবে ‘হেভিওয়েট’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তা কি আদৌ টিকবে? জবাবে জবরদস্ত টিএমসি নেতার আকুক্তি, প্লিজ রেকর্ড করবেন না। বিশ্বাস করেই বলছি এ যেন ভোটের আগে বিজেপিতে যোগদান পর্বের মতো লাগছে। আরো যে সব বিধায়করা বিরোধী দল ছেড়ে আসবেন তাদের সামলাতেই তো কালঘাম ছুটে যাবে। মিলিয়ে নেবেন, লোকসভা ভোটের আগে ফের দলত্যাগ ভাইরাসে আক্রান্ত হব আমরা।

দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কংগ্রেস থেকে কীর্তি আজাদকে টেনে নিলেন। হেভিওয়েট নাম। এবার বিজেপির বিতর্কিত নেতা সুব্রাহ্মণ্যম স্বামী ঝুঁকে পড়েছেন মমতার দিকে। বারবার নিজের দল বিজেপিকেই বিভিন্ন ইস্যুতে ‘বিপদে’ ফেলা স্বামীর হঠাৎ মমতা সাহচর্য নিয়ে টিএমসি অভ্যন্তরে চাঞ্চল্য।

টিএমসি মহলে ঘুরছে দীর্ঘ সময় কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিতর্কিত বিজেপি নেতা স্বামীর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য। উঠে আসছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দূরত্বের বিষয়টি। বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর সঙ্গে বিশেষ পরিচয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। টিএমসি মহলে চর্চা, মমতা হাড়ে হাড়ে চেনেন স্বামী কে। তিনি সবদিক বুঝেই এগোবেন। তাছাড়া স্বামী তো টিএমসিতে আসেননি বিজেপিতেই আছেন।

Subramanian Swamy

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার দাবি, অমন বিপজ্জনক বয়ানবাজ স্বামীকে ছেড়ে দিতে পারলে বিজেপি সবথেকে খুশি হবে। কিন্তু স্বামীর মন্তব্যটা দেখেছেন, কী মারাত্মক কূটনৈতিক লোক! উনি আছেন আবার নেইও।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেছেন ‘মমতার পাশেই আছি। আলাদা ভাবে দলবদল করার কোনও প্রয়োজন নেই।’

স্বামীর এই মন্তব্যের পরেই রাজধানীর রাজনীতিতে হইচই পড়েছে। তেমনই বঙ্গ রাজনীতিতে শোরগোল। তবে টিএমসি রাজ্য ও জেলাস্তরের নেতাদের মনে আশঙ্কার প্রশ্ন ‘বয়ানবাজ’ স্বামী কে পাশে পেয়ে আদৌ লাভবান হবেন নেত্রী?

Subramanian Swamy: ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি সাংসদ স্বামীর তৃণমূল যোগের সম্ভাবনা বাড়ছে

Subramanian Swamy

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের (mamata Banerjee) এবারের দিল্লি সফরে রয়েছে একের পর এক চমক। এবারের সফরে প্রতিদিনই কোনও না কোনও বড় মাপের নেতা মমতার হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস (trinamul congress) যোগ দিচ্ছেন বা যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। বুধবার (wednesday) তারই সর্বশেষ সংযোজন বিজেপির প্রবীণ সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী (Subramanian Swamy)।

নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বুধবার বিকেলে মমতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের আগেই সুব্রহ্মণ্যম মমতার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বেশ কিছুক্ষণ তিনি তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

মমতার সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে এসে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা দিল্লির রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে। এদিন সাংবাদিকরা স্বামীর কাছে জানতে চান, তিনি কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সুব্রহ্মণ্যম বলেন, “আমি তো প্রথম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছি। আমার আবার আলাদা করে তৃণমূলে যোগদানের কী প্রয়োজন। তবে আজ আমি মমতার সঙ্গে বাংলা নিয়ে কিছু কথা বলতে এসেছিলাম।

উল্লেখ্য, বিতর্ক বরাবরই এই বিজেপি সাংসদের নিত্যসঙ্গী। নরেন্দ্র মোদির ঘোরতর বিরোধী হিসেবেই স্বামী রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। নরেন্দ্র মোদির একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি রীতিমতো সরব হয়েছেন। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।

পাশাপাশি বরাবরই তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিছুদিন আগে মমতাকে যখন রোম সফরে যাওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে কেন্দ্র সেসময় তিনি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। এবার তিনি সরাসরি মমতার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ একান্ত বৈঠক করলেন। আজকের এই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে মমতা বা স্বামী কেউই সাংবাদিকদের কিছু বলেননি। তাই আপাত নিরীহ এই সাক্ষাৎকারে দিল্লির রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে। এখন অনেকেই জানতে চাইছেন, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী কবে মমতার দলে যোগ দিচ্ছেন? আবার রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, মোদিকে চাপে রাখতেই এদিন মমতার সঙ্গে দেখা করলেন স্বামী।

Lakshmi Bhandar: ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’, বিপুল আর্থিক ধাক্কায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন

Lakshmi Bhandar project

News Desk: মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দের আর্জি পেশ করবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বরাদ্দ হলে নিশ্চিন্ত কিন্তু না হলে ? বিরাট আর্থিক বোঝা মাথায় নিয়েই অতি আলোচিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmi Bhandar) প্রকল্প কী করে চালাবে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সেটাই প্রশ্নের মুখে।

সূত্র বলছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কৌলীন্য ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মরিয়া হয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের যে আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে তাতে রাজ্য সরকারের কোষাগারে টান ধরেছে। বিভিন্ন খাতের টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ঢুকিয়েও হিমশিম অবস্থা। আর কাটছাঁট হওয়া খাতের অবস্থা সঙ্গীন। রীতিমতো অপেশাদারি মনোভাবে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে অভিযোগ আর্থিক বিশেষজ্ঞদের।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্ত প্রকল্প চালাতে ঋণ নেওয়া ছাড়া গতি নেই মুখ্যমন্ত্রীর। অভিযোগ, ঋণ করে মান বজায় রাখতে গিয়ে রাজ্যকে বিপুল আর্থিক বোঝার সামনে দাঁড় করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থ বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষীর ভান্ডার চালাতে যে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে একমাত্র ঋণ থেকেই তার সংস্থান হতে পারে।  

তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে,এখনো পর্যন্ত লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে ১.৬৩ কোটি উপভোক্তারা আবেদন করেছেন। অনুমোদিত হয়েছে ১.৫২ কোটি আবেদনপত্র। মাসে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে রাজ্যের। সমগ্র আর্থিক বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে রাজ্যের।

রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী এবং লক্ষীর ভান্ডার দুটি প্রকল্প মিলিয়ে বছরে খরচ হতে পারে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার মতো। এই টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। তবে মু়খ্যমন্ত্রী চাইছেন যে করেই হোক চালাতে হবে দুটি প্রকল্প। এর জন্য গত আর্থিক বছরের তুলনায় বর্তমান আর্থিক বছরে বাজার থেকে অতিরিক্ত ১৭,৬০৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।

এই আর্থিক বোঝা কতদিন নিতে পারবে সরকার? পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক হলেই উঠছে প্রশ্ন। কারণ সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশনের জন্য যে খাত রয়েছে সেটি নিরাপদ খাকলেও, অন্যান্য পরিকাঠামোগত খাতের টাকা নিয়ে প্রকল্প চালালে রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামোতেই ধাক্কা লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Kirti Azad join TMC: মমতার নেতৃত্বে উন্নয়ন হবে নিশ্চিত কীর্তি

kirti-azada

News Desk, New Delhi: প্রত্যাশামতোই মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিলেন দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ কীর্তি আজাদ। একইসঙ্গে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন জেডিইউয়ের প্রাক্তন সাংসদ পবন ভার্মা।

সোমবার বিকেলেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি এসেছেন। তাঁর এবারের রাজধানী সফরে বেশ কিছু চমক থাকতে পারে এমন ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিশিষ্ট পরিচালক ও সুরকার জাভেদ আখতার এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর উপদেষ্টা সুধীন্দ্র কুলকার্নি। চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি যে নিছকই সৌজন্যমূলক ছিল না তা বলাই বাহুল্য।

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার পর কংগ্রেস ছেড়ে আসা নেতা কীর্তি আজাদ বলেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দেবে তিনি তা পালন করার চেষ্টা করবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বেই গোটা দেশ উন্নয়নের পথে হাঁটবে। একদিন গোটা দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে চলার দিশা দেখাবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

paban

অন্যদিকে পবন ভার্মা একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি ভুটানে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন। তখন থেকেই পবনের সঙ্গে জেডিইউয়ের ঘনিষ্ঠতা। জেডিইউয়ের টিকিটে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন এই দক্ষ কূটনীতিবিদ। একসময় জেডিইউ-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমনকী, দলের মুখপাত্রের ভূমিকাও পালন করেছেন পবন।

মমতা এদিন নিজে পবনকে দলে স্বাগত জানান। গলায় পরিয়ে দেন তৃণমূলের উত্তরীয়। তৃণমূলে যোগদানের পর প্রাক্তন কূটনীতিবিদ বলেন, তিনি নিশ্চিত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই থাকবেন। মমতার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে হাঁটবে।

এদিন মমতার সঙ্গে দেখা করেন বিখ্যাত সুরকার ও পরিচালক জাভেদ আখতার। জাভেদ সরাসরি রাজনীতি না করলেও তিনি বিজেপি বিরোধী বলেই পরিচিত। এরইমধ্যে এদিন মমতার সঙ্গে দেখা করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানীর অতিঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা সুধীন্দ্র কুলকার্নি। কুলকার্নির মত একজন দক্ষ ও সুপণ্ডিত ব্যক্তির সঙ্গে মমতার এই সাক্ষাৎকার দিল্লির রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছে।

তবে, বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে যে জল্পনা চলছিল এ দিন তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। বরুণকে এদিন মমতা বা তৃণমূল নেতাদের আশপাশে কোথাও দেখা যায়নি। তবে আগামী দিনে বিজেপি এই সাংসদ কী পদক্ষেপ করতে চলেছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে একটা কৌতুহল রয়েছে।

Kirti Azad: মমতা শরণং…দলবদলে ‘কীর্তিমান’ আজাদ এবার TMC শিবিরে

Kirti Azad

News Desk: কখনও তিনি সোনিয়া শরনং তো কখনও মোদী শরনং এমনই কীর্তি দেখিয়ে চলেছেন খ্যাতিমান ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। বিজেপি, কংগ্রেস হয়ে এবার টিএমসি শিবিরে বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার।

কীর্তি আজাদ যে কংগ্রেস ছাড়ছেন সেটি এআইসিসির কাছে স্পষ্ট। সর্বভারতীয় কংগ্রেস ছেড়ে এবার আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যতা নিতে প্পস্তুত তিনি। সূত্রের খবর, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি টিএমসি হয়ে যাবেন। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন কীর্তি আজাদ।

সূত্রের খবর, কংগ্রেস তথা ইউপিএ সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন কীর্তি। তবে এনডিএ সরকার ধরে রাখে। তাঁকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে বিজেপির সংসদীয় বোর্ড।

mamata banerjee

কীর্তি আজাদকে টেনে নিলেও এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস শিবিরে বড়সড় ধাক্কা মমতা দিয়েছেন অসমের শিলচরের নেত্রী সুস্মিতা দেবকে ছিনিয়ে এনে। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় বাংলাভাষী নেত্রী সুস্মিতা দেব এখন টিএমসি সাংসদ। তিনি ত্রিপুরায় দলের হয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতির জবরদস্ত নেতা ছিলেন সন্তোষ মোহন দেব। ইন্দিরা গান্ধী ঘনিষ্ঠ সন্তোষ কন্যা সুস্মিতার বিশেষ কদর আছে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতার কাছে।

তবে হেভিওয়েট কীর্তি আজাদ। তিনিও ক্রিকেটার থেকে কেন্দ্রীয়স্তরের রাজনীতিতে বেশ আলোচিত। বিহারের দ্বারভাঙ্গার সাংসদকে টেনে এনে মমতার চমক নিয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত টিএমসিতে দুই খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ। আগেই এসেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। তাঁকে গোয়ার বিধানসভা ভোটে নামাচ্ছেন মমতা। এবার এলেন ১৯৮৩ সালের বিশ্বাকাপ ক্রিকেট জয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। তাঁকে টেনে বিহারের দিকে নজর দিলেন মমতা? রাজধানীতে গুঞ্জন এমনই।

Delhi: সফরের লোডশেডিং গেরো, তবে রাজনৈতিক আলোকেই মমতা

mamata banerjee

News Desk: চারদিনের দিল্লি সফরে সোমবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কিন্তু দিল্লি পৌঁছে সফরের প্রথম দিন বেশ কিছুক্ষণ সময় আঁধারে কাটাতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে।

সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎই দিল্লিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়। যে কারণে মুখ্যমন্ত্রীর সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেও প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। দিল্লির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এনডিএমসি (ndmc) বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাংলোটি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দিল্লি আসলে মুখ্যমন্ত্রী এখানেই থাকেন। সোমবার দিল্লি পৌঁছলেও মমতার কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তাই তিনি ঘরের মধ্যেই ছিলেন। এসময় আচমকা আলো নিভে যায়। শুধু মমতার বাড়িতে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে তা নয়, বহু সাংসদের বাংলো এমনকী, রাষ্ট্রপতি ভবনও নিষ্প্রদীপ হয়ে পড়েছিল। সরবরাহকারী সংস্থার দাবি, হঠাৎই উৎপাদনে ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছিল সংস্থা।

শোনা যাচ্ছে, মমতার এই সফরে আরও অনেক উল্লেখযোগ্য নাম তৃণমূলে আসতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম বিজেপির তরুণ সাংসদ বরুণ গান্ধী।

BJP MP Varun Gandhi criticized the Centre's agricultural policy

গত মে মাসে তৃতীয়বার বিপুল ভোটে জিতে বাংলায় সরকার গঠনের পর সর্বভারতীয় স্তরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের শক্তি বাড়াতে নেমেছেন। ইতিমধ্যেই গোয়া ও ত্রিপুরায় তৃণমূল পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে। গোয়ায় টেনিস তারকা অভিনেত্রী লিয়েন্ডার পেজ, অভিনেত্রী নাফিসা আলির মতো ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

Tripura: শিক্ষামন্ত্রীর শরীর BJP-র সঙ্গে, মন উড়ুউড়ু, বিস্ফোরক ইঙ্গিত CPIM রাজ্য সম্পাদকের

Ratanlal Nath

News Desk: পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শাসক দল বিজেপির অন্যতম নেতা ও ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের দলত্যাগ ইঙ্গিত বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরীর।

প্রধান বিরোধী দলের রাজ্য সম্পাদকের দাবি, রতনলাল নাথের কথা শুনে রাজ্যের ঘোড়াগুলো হাসবে। রতনবাবুর শরীর এখন বিজেপির সঙ্গেআছে কিন্তু মন এখন কোনখানে আছে কেউ জানে না। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদকের ইঙ্গিতে ত্রিপুরা জুড়ে শোরগোল পড়েছে।

ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বকলমে বিপ্লব দেব মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সরকারের হয়ে যাবতীয় বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন তিনিই করেন। পূর্বতন কংগ্রেস নেতা তিনি। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন রতনবাবু।

শিক্ষামন্ত্রীর দলত্যাগ স্বভাবকে খোঁচা দিয়েছেন বিরোধী দলের রাজ্য সম্পাদক। সোশ্যাল সাইটে জীতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্যের জেরে শাসক দল বিজেপির অভ্যন্তরে শোরগোল যেমন তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Tripura CPI(M) Leader Jitendra Choudhury
সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী

ত্রিপুরায় দলীয় প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আশেপাশে যারা ঘোরেন তাদের সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসতে তৈরি। ইচ্ছে করলে সরকার ফেলে দিতে পারি। কিন্তু নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটাই চাই।

ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের বিরুদ্ধে রাজ্যের কর্মচ্যুত ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকার যৌথ আন্দোলন মঞ্চ ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী বারবার ধাপ্পা দিয়ে চলেছেন। কোনও চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবও কিছুই করতে পারেননা বলেই অভিযোগ। ইতিমধ্যেই রাজ্যে কর্মচ্যুত শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা মারা গিয়েছেন।

মমতার দাবি BJP গণতন্ত্রের তোয়াক্কা করে না, পঞ্চায়েত ভোট টেনে কটাক্ষ শুরু

mamata banerjee in delhi

News desk: ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক হামলার জেরে বিতর্ক চরমে। এই নিয়ে বিজেপিকে গণতন্ত্রের বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি যাওয়ার আগে বিজেপিকে তোপ মমতার, বললেন এই দল গণতন্ত্রের তোয়াক্কা করে না।

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল টিএমসি যাদের বিরুদ্ধেই পঞ্চায়েত ভোট লুঠ ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে সেই দলের সুপ্রিমো মমতার মুখে গণতন্ত্র বুলি নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়েছে। ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে কতটুকু গণতন্ত্র অবশিষ্ট রেখেছেন।

সেই রেশ টেনে বঙ্গ বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ, বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ জোর করে দখল করেছে টিএমসি। একই কায়দায় ত্রিপুরায় বিজেপি ভোট লুঠ করছে।গণতন্ত্রের কথা দুটি দলের সঙ্গে খাপ খায়না।

Mamata Banerjee

ত্রিপুরায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে সোমবার দুপুরে কলকাতা (kolkata)থেকে দিল্লি(delhi) গেলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। কলকাতা বিমানবন্দরে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতা এদিন ত্রিপুরা প্রসঙ্গেই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, সায়নী ঘোষের মতো একজন শিল্পীর বিরুদ্ধেও খুনের চেষ্টার মামলা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্যদিকে বিজেপির (bjp)লোকজন পুলিশের সামনেই হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কেউই এসব বিষয় দেখতে পাচ্ছে না। আসলে বিজেপি গণতন্ত্রের তোয়াক্কাই করে না

মমতা বলেন, আসলে বিজেপি মানুষকে ভয় পাচ্ছে। ওরা মানুষকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ভোটের নামে ওখানে ঘোট করছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমাদের রাজ্য তো অনেক বিজেপি নেতা ঘুরে গিয়েছেন। কই আমরা তো কাউকে বাধা দিইনি। ত্রিপুরার ঘটনা গণতন্ত্রের কলঙ্ক।

মমতা আরও বলেন, ত্রিপুরায় শুধু যে তাঁর দলের নেতাদের আক্রমণ করা হচ্ছে তা নয়। সংবাদমাধ্যমেরও কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অবশ্য এটা সাধারণ ঘটনা। বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার বর্তমান অবস্থা অগ্নিগর্ভ। সেখানে কোনও মিটিং মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর এটা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় দিল্লি সফর। সাধারণত সংসদের অধিবেশনের শুরুতে বা অধিবেশন চলাকালীন প্রতিবারই দিল্লি আসেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর গোটা দেশের রাজনীতিতে তৃণমূল নেত্রীর গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাই মমতার এই দিল্লি সফরে নজর রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলের। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেবুধবার মোদির মুখোমুখি হবেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে জানিয়েছেন, বিএসএফের এলাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আগেই চিঠি দিয়েছেন। দিল্লিতেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন আর্থিক দাবিদাওয়াগুলি অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মত লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করতে গিয়ে তৃণমূল সরকারের ঘাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার বোঝা চেপেছে। এই আর্থিক দায় সামলাতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের বকেয়া পাওনাগন্ডা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানাতে চলেছেন। করোনাজনিত কারণে এমনিতেই রাজ্যের আর্থিক হাল খুবই খারাপ। তার ওপর নতুন করে সরকারের ঘাড়ে আরও আর্থিক বোঝা চেপেছে। দেশের ২৩টি রাজ্য পেট্রোল, ডিজেলে ভ্যাট কমালেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা পরিষ্কার জানিয়েছেন, বাংলায় ভ্যাট কমবে না।

রাজ্য যে প্রবল আর্থিক সংকটে ভুগছে তার প্রমাণ মিলেছে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণায়। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দফতরের বাজেটে কাটছাঁট করেছেন। বাজেট বরাদ্দের পরেও বিভিন্ন দফতরের টাকা খরচের উপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছেন। অর্থ দফতরের অনুমোদন ছাড়া কোনও দফতরই টাকা খরচ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে অর্থ দফতর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। তাই প্রতিটি দফতরকে সর্বদাই টাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আয়ের বিষয়টি সুনিশ্চিত না করেই মুখ্যমন্ত্রীর লাগামছাড়াভাবে অর্থ খরচ করার কথা বলে নিজের জালে নিজেই জড়িয়েছেন। এই মুহূর্তে তাই তাঁকে কেন্দ্রের কাছে অর্থের জন্য দরবার করতে হচ্ছে।

চলতি সফরে মমতা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও দেখা করবেন। ২০২৪ সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার ব্যাপারে বিরোধীদের রণকৌশল তৈরি নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। তাই সবদিক দিয়েই মমতার দিল্লি সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহলের কাছে।

Tripura: ‘পশ্চিমবঙ্গে TMC সন্ত্রাসের ছবি ত্রিপুরায় দেখাচ্ছে BJP’

tripura

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তেমনই ত্রিপুরায় বিজেপি একই পথ নিয়েছে। ত্রিপুরায় পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের আবহে রবিবার দিনভর রাজনৈতিক হামলার প্রেক্ষিতে এমনই অভিযোগ করলেন সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী।

সুজনবাবুর আরও অভিযোগ দুই রাজ্যের দুই শাসক দলের বিরুদ্ধেই। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সিপিআইএম প্রধান বিরোধী দল। কেন তাদের উপর হামলার সংবাদ চেপে যাচ্ছে কলকাতার সংবাদ মাধ্যম।

tripura

ত্রিপুরায় আইন শৃঙ্খলা শিকেয় উঠেছে এমনই অভিযোগ করে বিবৃতি দিল বিরোধী দল সিপিআইএম। এই বিবৃতিতে তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে থানায় জেরা করার সময় হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিবৃতি দিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা করেছে সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মু়খ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন সরকার জনসমর্থন হারিয়ে হিংসার পথ নিয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটে পরাজয় নিশ্চিত।

দিনভর পূর্ব আগরতলা থানায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। টিএমসি নেতারা থানাতেই আক্রান্ত হন। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন। অভিযোগ পুলিশের সামনেই হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তবে পুলিশ বলছে ‘কিছু জানি না’। এমনকি রাজ্য পুলিশের কর্তারা পর্যন্ত নীরব।

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের তরফেও শাসক বিজেপি কড়া নিন্দা করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই অভিযোগ।

খুনের চেষ্টার অভিযোগে তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করার পর থেকে ত্রিপুরার ভোট উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গে ছড়াতে শুরু করে। পরপর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েও শাসক বিজেপি নীরব। তবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, সায়নী ঘোষ ত্রিপুরায় হাওয়া গরম করতে গেছেন।

মোদী সরকারকে ফেলতে বিরোধীদের নিয়ে রণকৌশল গড়তে দিল্লিতে মমতা

Mamata Banerjee

News Desk: আর কয়েকদিন পরেই শুরু হতে চলেছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন (Winter Season)। শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত সফরসূচি জানা না গেলেও দলীয় সূত্রে খবর, ২২ থেকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের কাছে মমতার এই দিল্লি (Delhi) সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আগামী বছর পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিভিন্ন বিরোধী দলগুলির রণকৌশল নির্ধারণে মমতা আলোচনায় বসবেন। কথা বলবেন প্রায় সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে। একই সঙ্গে এই সফরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সামনে তুলে ধরবেন বিভিন্ন দাবিদাওয়া।

mamata banerjee

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এরই মধ্যে মমতার সফরকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। কারণ দিল্লির বাতাসে একটা গুজব ছড়িয়েছে এই যে, তরুণ বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী (Varun Gandhi) তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। যদিও তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূল এবং গান্ধী পরিবারের এই সদস্য কেউই কোনও মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এর আগে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন পেগাসাস ইস্যুতে কার্যত অচল হয়ে গিয়েছিল। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভের জেরে সংসদে কোনও কাজই হয়নি। তাই শীতকালীন অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী পক্ষ উভয়ই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মোদী সরকার যেমন এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে চাইছে তেমনি বিরোধীরা বুঝে নিতে চাইছে নিজেদের অধিকার।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। কৃষি আইন বাতিলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শীতকালীন অধিবেশনে সংসদ সম্পন্ন হওয়ার কথা। সে দিকেও নজর থাকছে। সাধারণত মমতা সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বা চলাকালীন একবার হলেও দিল্লিতে আসেন। বর্ষাকালীন অধিবেশনেও মমতা দিল্লি এসে জানিয়েছিলেন, বিরোধীদের একজোট হয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেতে হবে। কে নেতা হবে সে বিষয়টি ভেবে লাভ নেই। তাঁর কোনও ইগো নেই। তাই তিনি শুধু লড়াই করতে চান, নেত্রী হতে চান না।

ওই সফরে মমতা এটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, ২০২৪ সালে মোদীকে যদি গদি থেকে সরাতে হয় তাহলে বিরোধীরা জোটবদ্ধ না হলে সেটা সম্ভব হবে না। মমতা বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বললেও দিল্লি থেকে ফিরে গিয়েই তিনি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তৃণমূলের এই অবস্থান দেখে অবশ্য বিরোধীরাই ধন্দে পড়েছেন। তারা অনেকেই মনে করছেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী ঐক্য কখনওই সম্ভব নয় কিন্তু তৃণমূল যদি এভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুখ খোলে তাহলে কংগ্রেস বিরোধী জোটে আসবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।