ভারতের দুনিয়াকে বোকাবাক্সে বন্দি করা শুরু দূরদর্শনের মাধ্যমেই

Sarla Maheshwari, Salma Sultan, Sheila Chaman, Minu Talwar

বিশেষ প্রতিবেদন: ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ধাক্কায় সিনেমার পাশাপাশি টিভি দেখার প্রবণতা কমেছে। পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের মতো সর্বত্রই এখন নেটফ্লিক্স, হটস্টার-এর রমরমা। আর দূরদর্শন? এমন বলে টিভিতেও কোনও চ্যানেল আছে জানেই না আজকের জেনারেশন। অথচ সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল ভারতের মানুষের পৃথিবীকে ঘরবন্দি করার প্রথম পদক্ষেপ। আজ সেই দূরদর্শনের জন্মদিন। 

১৯৫৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লীতে একটি অস্থায়ী স্টুডিও বানিয়ে প্রথম পথ চলা শুরু হয়েছিল দূরদর্শনের। তখন এটি পরীক্ষার পর্যায়ে ছিল। এটির নামকরণ করা হয়েছিল টেলিভিশন ইন্ডিয়া। সেখান থেকে দিল্লিস্থিত টাওয়ারের মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে খুব স্বল্প সময়ের জন্য আরম্ভ হয় প্রথম সম্প্রচার। পরে ১৯৭৫ সালে টেলিভিশন ইন্ডিয়ার নাম পরিবর্তন করে হয়েছিল দূরদর্শন।

১৯৬৫ সালে, দৈনিক প্রোগ্রামগুলি দূরদর্শন নিয়মিত প্রচার করতে শুরু করে। পাঁচ মিনিটের একটি নিউজ বুলেটিনও শুরু হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে টিভি সম্প্রচারের বৃদ্ধি খুব ধীর ছিল। ১৯৭৫ সালের মধ্যে কেবল সাতটি শহরেই সম্প্রচার শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। ১৯৮২ সালে রঙিন টিভি বের হয় এবং এশিয়ান গেমসের সম্প্রচার তার জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। এখানেই টিভির রূপান্তর ঘটেছিল।

নতুন প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে প্রোগ্রামগুলি সকালে এবং তারপরে বিকেলে সম্প্রচার শুরু হয়। সপ্তাহে দু’বার চিত্রহার এবং রবিবার সন্ধায় রঙ্গোলি ও কৃষি দর্শনের জনপ্রিয়তার সাথে আজকের প্রোগ্রামগুলির কোনও মিল পাওয়া যায় না। ১৯৬৬ সালে শুরু হওয়া কৃষি দর্শন দেশে সবুজ বিপ্লব আনতেও ভূমিকা রেখেছে। আজ ২ টি জাতীয় এবং ১১ টি আঞ্চলিক চ্যানেল সহ দূরদর্শনের মোট ২১ টি চ্যানেল সম্প্রচারিত হয়। এটি ১৪ হাজার গ্রাউন্ড ট্রান্সমিটার এবং ৪৬ স্টুডিও সহ দেশের বৃহত্তম সম্প্রচারক। ঘটনা হল, যতই অন্যান্য মাধ্যমের রমরমা হোক এখনও ১৫ আগস্ট কিংবা ২৬ জানুয়ারির প্রোগ্রাম দেখতে গেলে ভরসা ডিডি।

১৯৫৯ সালে প্রারম্ভিক পর্যায়ে প্রথম সম্প্রচার শুরু হওয়ার পরে ১৯৬৫ সালে আকাশবাণীর একটি অংশ হিসেবে আরম্ভ হয় দূরদর্শনের নিয়মিত সম্প্রচার এবং ১৯৭২ সালে ভারতের টেলিভিশন পরিষেবা মুম্বই (তদানীন্তন “বম্বে”) এবং অমৃতসর পর্যন্ত পরিবর্ধিত হয়। এরপর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মোট সাতটি শহর দূরদর্শন পরিষেবার আওতাভুক্ত হয়। ১৯৭৫ সালের ৯ অগস্ট কলকাতায় প্রথমবারের জন্য স্থাপিত হয় “দূরদর্শন কেন্দ্র”। ১৯৭৬ সালে দূরদর্শনকে আকাশবাণী থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বতন্ত্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিষেবায় রূপান্তরিত করা হয়। নয়াদিল্লিতে আকাশবাণী এবং দূরদর্শনের নিজস্ব কার্যালয়ে দু’জন পৃথক অধিকর্তা নিযুক্ত হন।

১৯৫৯ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর স্টুডিওতে একটি ছোট ট্রান্সমিটার ও অস্থায়ী স্টুডিও নিয়ে কাজ শুরু করে দূরদর্শন। ৬ বছর পর, ১৯৬৫ সালে প্রতিমা পুরী প্রথম পাঁচ মিনিটের সংবাদ পাঠ করেন দূরদর্শনে।দূরদর্শন শুরু হয়েছিল গোটা পরিবারকে একসঙ্গে ধরে রাখার ভাবনা থেকে- সে সমাচার হোক অথবা সান্ধ্য শো, আঞ্চলিক এন্টারটেনমনেন্ট হোক কি জাতীয় প্রোগ্রাম অথবা স্পোর্টস।

<

p style=”text-align: justify;”>দুরদর্শনে সম্প্রচারিত বহু শো ক্লাসিকে পরিণত বয়েছে। ৮-এর দশকের শেষ থেকে ৯ এর দশের গোড়া পর্যন্ত মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল তু তু ম্যাঁয় ম্যাঁয়, মহাভারত, দেখ ভাই দেখ, উড়ান, ফৌজি, মালগুডি ডেজ-এর মত শো গুলি।

Phasmophobia: আপনি কি একটু বেশি ভয় পাচ্ছেন? তাহলে আপনি এই রোগে আক্রান্ত

Phasmophobia

বিশেষ প্রতিবেদন: ভয়! শব্দটির সাথে আমরা সকলেই কমবেশি জড়িয়ে আছি। বিভিন্ন অলৌকিক বা অশরীরী ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের ‘ভূতের ভয়’ নামক অনুভূতি আবর্তিত হয়। আত্মানির্ভর বা পারলৌকিক বিষয়ের উপর কোনো চলচ্চিত্র বা গল্প বইয়ের রেশ যখন মনের মধ্যে ক্ষণে ক্ষণে উঁকি দিয়ে যায়, তখন এক গা ছমছমের অনুভূতির জন্ম নেয়।

কারো কাছে ব্যাপারখানা নিতান্তই রোমাঞ্চের, আবার কারও কাছে জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো হুমকিস্বরূপ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অলৌকিক বা ভূতের অতিরিক্ত ভয়কে এক ধরনের ফোবিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার নাম ‘ফেসমোফোবিয়া‘ (Phasmophobia)।

ভূতের ভয় থাকা স্বাভাবিক তবে ফেসমোফোবিয়ায় আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে ভয়ের মাত্রাটি অনেক বেশি। তারা একা ঘরে থাকতে ভয় পায়, অন্ধকারকে অসম্ভব ভয় পায়, নিস্তব্ধতা সহ্য করতে পারে না, শহরে বাস করলে গ্রামে কোনভাবেই রাত কাটাতে চায় না, ভৌতিক গল্প, সিনেমা বা ছবি থেকে অনেক দূরে থাকেন। তবে এই ধরনের ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ প্রদর্শন করে থাকেন।

১। একা ঘুমুতে ভয় পান
২। পুরোপুরি অন্ধকার ঘরে ঘুমুতে চান না
৩। মনের মধ্যে সবসময় অলীক ভূতের ছবি ভাসতে থাকে
৪। যেকোনও পরিস্থিতিতে ভূতের অস্তিত্বের আভাস পান

৫। মাঝে মাঝে ভয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন
৬। সবসময় মুখে চিন্তার ছাপ দেখা যায়
৭। নিদ্রাহীনতায় ভুগতে থাকেন কারণ ভূতের ভয়ে ঘুমুতে পারেন না
৮। বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্রের প্রতি অনেক বেশি আসক্তি হয়ে পড়েন

করণীয় :
ভূতের ভয়কে সাধারণত খুব বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে করা হয় না। তবে ভয়ের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে অথবা এই ভয় যদি দৈনন্দিন জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলে, তবে এই বিষয়ে সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত। তবে প্রথমেই উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজে থেকেই চেষ্টা করতে হবে এই ফোবিয়া থেকে বের হয়ে আসার।

Tashirojima: বেড়ালের ‘রাম রাজত্ব’ চলে এই দ্বীপে

tashirojima cat-island

বিশেষ প্রতিবেদন: আফ্রিকায় সিংহের রাজত্ব। সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের রাজত্ব। আর এখানে বেড়ালের রাজত্ব। ঘটনাচক্রে বাঘ , সিংহ এরা সবাই ‘ক্যাট ফ্যামিলি’র। কিন্তু বেড়ালের এমন রাম রাজত্ব আফ্রিকায় সিংহ কিংবা সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারেরও নেই। এখানে মানুষের থেকে মার্জারের সংখ্যা বেশি। যেদিকেই তাকাবেন কিলবিল কড়ছে বেড়াল আর ‘ম্যাও’ ডাক। বেড়ালের এমন রাম রাজত্ব রয়েছে জাপানে তাশিরোজিমায় (Tashirojima)।

তাশিরোজিমা, জাপানের একটি ছোট্ট দ্বীপ। আয়তন দেড় বর্গকিলোমিটার। এই দ্বীপটি ‘দ্য কিংডম অফ ক্যাটস’। এখানে মানুষ থাকেন মেরেকেটে ১০০ জন। বেড়ালের সংখ্যা কত জানেন ? জানলে চমকে যাবেন। প্রায় ৬০০। বিশ্বাস করতে না পারলেও এটাই বাস্তব। এখানে যেদিকেই তাকাবেন বিভিন্ন ধরনের বেড়াল দেখতে পাবেন। রাস্তাঘাট, বাজার দোকান, শ’খানেক মানুষের বাড়ির ছাদ ঘর সর্বত্র ওদের রাজ চলে। এই দ্বীপের নামই হয়ে গিয়েছে ‘বেড়াল দ্বীপ’ (cat island)।

cat island of japan

কিন্তু কীভাবে গড়ে উঠল এমন বেড়াল সাম্রাজ্য? এখানকার মানুষ নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে এই কাণ্ড করেছেন।
৭৫ থেকে ৭৭ বছর পিছনে যেতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই সময়ে তাশিরোজিমায় প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল। জলরাশিতে ঘেরা সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরতি দ্বীপ। মাছ শিকার করে মানুষ জীবিকা চালাতেন। পাশাপাশি শুককীট চাষের প্রচলন ছিল। যা থেকে তৈরি হত রেশমের পোষাক। সব বেশ সুন্দর ছিল। বাধ সাধল ইঁদুরের দল।

হঠাৎ করেই এখানে শুরু হয় ইঁদুরের উৎপাত। তারা শুককীটের ব্যাপক ক্ষতি করতে শুরু করে। রেশমের পোষাক উৎপাদন ব্যাহত হয়। এতেই থামেনি ইঁদুরের দল। মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার জালও কেটে দিতে শুরু করে এই তারা।

cat island of japan

মূষিক তাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। তারা কিছু বেড়াল নিয়ে এসে ছেড়ে দেন দ্বীপে। দারুন ফল পেল তারা। ইঁদুরের উৎপাত কমে গেল। কিন্তু কিছুদিন পরে ‘গল্প’ অন্যদিকে ঘুরে গেল। বেড়ালের সংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

সুখ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেড়াল রেশমের ক্ষতি করেনি। মৎস্যজীবীরা যে মাছ কষ্ট করে ধরে আনত তা মনের আনন্দে সাবাড় করে দিতে শুরু করে বেড়ালের দল। তাদের খাটতেও হয় না। মাছ একদম মুখের সামনে। গপাগপ খেয়ে ফেলতে শুরু করে তারা।

tashirojima cat

<

p style=”text-align: justify;”>আর ঝামেলা না নিয়ে বাসিন্দারা অন্য জায়গায় চলে যেতে শুরু করেন। থেকে যায় বয়স্ক মানুষরা। তাদের নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গ হয়ে ওঠে বেড়ালের দল। তারাই এখন সেখানকার বাসিন্দা। প্রসঙ্গত, জাপানিদের কাছে বেড়াল সৌভাগ্যের প্রতীক। ২০১১ সালের সুনামি হয়। সৌভাগ্যের প্রতীক বেড়াল দ্বীপে কিচ্ছুটি হয়নি। এই দ্বীপে বেড়াল রক্ষা করতে কুকুরের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা করেছে জাপান সরকার।

এক রাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এই স্টেশন মাস্টার

station master saved the lives of thousands

বিশেষ প্রতিবেদন: কোনওদিন শুনেছেন সময় হবার আগেই একটা মেল ট্রেনকে স্টেশন থেকে জোর করে রওয়ানা করিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুনবেন না। এমন কাজটি করিয়েছিলেন খোদ ডেপুটি স্টেশন সুপার। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এই কাজ মারাত্মক ভুল কিন্তু এই কাজের জন্য রেল তাকে শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল, ভোপাল প্লাটফর্মে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখা হয় তার নাম। তিনি গোলাম দস্তাগীর, সেন্ট্রাল রেলের এক পদস্থ কর্মচারী। তাঁর জন্যই বেঁচে গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষের প্রাণ।

ঘটনা ১৯৮৪ সালের। ২ ডিসেম্বরের মাঝরাত , রোজকার মতন রাত দশটায় স্টেশনের ডিউটিতে এসেছিলেন গুলাম । জমে থাকা কিছু ফাইল দেখতে দেখতে কখন যে রাত একটা বেজে গেছে খেয়াল করেননি । প্লাটফর্মে গোরখপুর মুম্বই এক্সপ্রেস এসে দাঁড়াতে আড়ামোড়া ভেঙে অফিসের বাইরে এলেন । প্লাটফর্মে পা রাখতেই চোখ দুটো তার তীব্র জ্বালা করে উঠলো, গলা এমন শুকিয়ে গেল যেন দমবন্ধ হয়ে যাবে । তখনও উনি জানতে পারেননি স্টেশন মাস্টার সহ তেইশজন রেলকর্মী ইতিমধ্যেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে।

কিছু একটা ভয়ঙ্কর কান্ড ঘটেছে আন্দাজ করে উনি সঙ্গে সঙ্গেই খবরটা জানালেন মধ্য রেলের কন্ট্রোল রুমে, দুদিকের বিদিশা আর ইটারসি স্টেশনে খবর দেন কোন ট্রেন যেন সেখান থেকে ছেড়ে এদিকে না আসে !

এবারে তার নজর গেলো এক্সপ্রেস ট্রেনটার দিকে । কেবিনে সিগন্যাল সবুজ করতে বলে ছুটে গেলেন ইঞ্জিনের দিকে । ড্রাইভার কে বললেন এখুনি ট্রেন ছাড়ার জন্য । বিস্মিত চালক যখন বললো ছাড়ার সময় আসতে এখনও পনেরো মিনিট বাকি, উনি দায়িত্ব নিয়ে লগবুকে লিখে দিলেন । হাজারের ওপর যাত্রী নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে গেল এক্সপ্রেস ট্রেনটি । বেঁচে গেল সেই ট্রেন সহ আরও কয়েকটি ট্রেনের যাত্রীদের প্রাণ।

পঁয়ত্রিশ বছর আগে সেই রাতেই ভূপালের ‘Union Carbide’ কারখানার স্টোরেজ ট্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল প্রায় ৩০ টন বিষাক্ত ‘methyl isocyanate’ বা মিক গ্যাস। যার প্রভাবে সেরাতে ছয়লক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবনটাই গেলো বদলে । হাজার হাজার মানুষ যারা মারা গেলো সেদিন তারা তো একদিক দিয়ে বেঁচে গেলো, বাকিরা কেউ বিকলাঙ্গ কেউ অন্ধ কেউ ভয়ঙ্কর ফুসফুস বা চর্মরোগ নিয়ে দগ্ধে দগ্ধে বেঁচে ছিল বাকি জীবন।
ট্রেনটা ছেড়ে যাবার পরও সেরাতে তার বউ বাচ্চার হাল দেখতে কোয়ার্টারে ফিরে যাননি গোলাম দস্তাগীর। চারিদিকে ফোন করে ডাক্তার ও এম্বুলেন্স আনিয়েছেন বিষাক্ত গ্যাসের ছোবলে যারা প্লাটফর্মে ছটফট করছিল তাদের জন্য । সারারাত নাকে রুমাল বেঁধে আচ্ছন্ন সহকর্মীদের হাসপাতালে পাঠিয়েছেন, যোগাযোগ রেখেছেন আশেপাশের সব স্টেশনের সঙ্গে।

রাত কেটে সকাল হয়, মনে পড়ে পরিবারের কথা। ক্লান্ত আচ্ছন্ন গুলাম দস্তাগীর কোনক্রমে শরীরটা টানতে টানতে পৌঁছান রেল কোয়ার্টারে । গ্যাসের ছোবল ততক্ষণে কেড়ে নিয়েছে তার এক পুত্রকে, আরেকজনের সারা শরীরে ছড়িয়েছে সংক্রমণ । সারারাত গ্যাসের প্রত্যক্ষ স্পর্শে থাকার দরুন গোলাম সাহেবেরও শ্বাসনালী হয়েছিল ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত । বাকি জীবনটা তাঁকে বাড়ি আর হাসপাতাল করেই কাটাতে হয়েছিল । ২০০৩ সালে দুনিয়া থেকে কিছুটা অভিমান নিয়েই বিদায় নেন এই মানুষটি ।

মৃত্যুর কারণ হিসাবে সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছিল “suffering from diseases caused as a direct result of exposure to MIC (Methyl Isocyanate) gas.”

বুড়িবালামের অমর শহীদ জ্যোতিষচন্দ্র

Jyotish Chandra

Online Desk: ভারত মাতাকে ইংরেজদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য হাজারো তরুণ যুবক শহীদ হন। বিপ্লবী বাঘা যতীন এর নেতৃত্বে পরিচালিত বুড়ি বালামের তীরে খণ্ডযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ও সেখানে তাকে পুলিসের হাতে ধরা পড়তে হয়। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা দেওয়া হয়। এই মহান বিপ্লবীকে অনেকেই হয়তো আজ ভুলে যেতে চলেছেন। এই মহান বিপ্লবীর নাম হলো জ্যোতিষচন্দ্র পাল (Jyotish Chandra)।

জ্যোতিষচন্দ্র পাল এর জন্ম হয়েছিল নদিয়া জেলার কমলাপুরে। তার পিতার নাম ছিল মাধবচন্দ্র পাল। বিপ্লবী জ্যোতিষচন্দ্র পাল বিপ্লবী মহানায়ক বাঘা যতীনের দলের একজন সভ্য সদস্য ছিলেন। তার পূর্ববর্তী জীবনের সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় নি। তবে তিনি বুড়ি বালামের তীরে খণ্ডযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় বিশেষ পরিচিত। সন ১৯১৫ সাল, সেপ্টেম্বর মাস ছিল। বিপ্লবের কাজে চাই অস্ত্র-শস্ত্র, এর জন্য উড়িষ্যার বালেশ্বরের সমুদ্র উপকূলে জার্মান জাহাজ “ম্যাভেরিক” থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিষচন্দ্র পাল।

বাঘা যতীন, চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী ও মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত গ্রাম ছেড়ে তালদিঘির দিকে ছুটছেন নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ও জ্যোতিষচন্দ্র পাল এর সঙ্গে মিলিত হতে। এরপরে তারা সকলে ঠিক করলেন যে বালেশ্বর রেলস্টেশন এর দিকে রওনা দেবেন। ততক্ষনে চারদিকেই পথ বন্ধ ও তল্লাশি চলছে। কারন ইংরেজ সরকার বিপ্লবীদের খবর আগেই পেয়ে যান। এদিকে স্থানীয় লোকজনও জানে না যে তারা কে, তাদের ডাকাত ভেবে স্থানীয় লোকজনও বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে। ১৯১৫ সালের ৭ ই সেপ্টেম্বর গভীর রাত্রে বাঘা যতীন বা যতীন মুখার্জী নিজের সাময়িক আস্তানা মহলডিহাতে ফিরে এলেন। সঙ্গে চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী, জ্যোতিষচন্দ্র পাল, মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত এবং নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত।

এরপর ৮ ই সেপ্টেম্বর সারাদিন কেটে গেল তাদের গভীর জঙ্গলে। সারা রাত পায়ে হেঁটে নদীনালা, খাল, বিল পার হয়ে শেষে ৯ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা পৌঁছলেন বালেশ্বরের বলরামগড়িতে বুড়িবালাম (উড়িষ্যায় একে বলে “বুড্ঢাবালাঙ্গ”) নদীর উপকণ্ঠে। ইতি মধ্যেই থানায় খবর পৌঁছে গিয়েছে। পুলিস দল দু ভাগে বিভক্ত হয়ে ধেয়ে আসছে তাদের দিকে। সাঁতার কেটে নদীর ওপারে গিয়ে যুদ্ধের পক্ষে মোটামুটি একটি উপযুক্ত শুকনো এক ডোবার মধ্যে আশ্রয় নিলেন তারা। এবার এসে দাড়ালো শেষ মুহূর্তের সেই ভয়ানক সময়। বিপরীতপক্ষে চার্লস টেগার্ট, কমান্ডার রাদারফোর্ড, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিলভি অসংখ্য সশস্ত্র পুলিস ও সামরিক বাহিনী নিয়ে হাজির হয়েছিল। পরীখার আড়ালে বাঘা যতীনের নেতৃত্বে পাঁচজন, হাতে মাউজার পিস্তল।

এবার শুরু হলো দুই দিক থেকে গুলি বৃষ্টি, একদিকে অসংখ সেনাবাহিনী আর অন্যদিকে মাত্র ৫ জন বীর সাহসী বিপ্লবী। এই পাঁচজন বিপ্লবী এমন ভাবে গুলি চালাচ্ছেন মনে হয় এক সাথে ১০-১২ জন গুলি করছেন। এক ঝাঁক গুলি এসে লাগলো চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরীর গায়ে, আহত হয়ে পড়েন চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী। বাঘা যতীন শেষে তার সঙ্গী চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরীকে জল খাওয়ানোর জন্য ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কারন সে জল খাওয়ার জন্য ছটফট করছিল।

বাঘা যতীন এর গায়েও গুলি লেগেছিল, ঘটনাস্থলে মারা গেলেন চিত্তপ্রিয় রায়চৌধুরী। এরপর সকলকেই গ্রেপ্তার করা হলো। বাঘা যতীন পরের দিন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ১৯১৫ সালের ১৬ ই অক্টোবর বিচারের রায়ে মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত এবং নীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। জ্যোতিষচন্দ্র পালকে দেওয়া হলো যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা। জ্যোতিষচন্দ্র পালও বেশিদিন বাঁচেননি। জেলের মধ্যে পুলিশের নির্মম অত্যাচারে আন্দামান সেলুলার জেলে কুঠরিবদ্ধ অবস্থায় উন্মাদ হয়ে যান। শেষে বহরমপুর উন্মাদ আশ্রমে ১৯২৪ সালের ৪ ই ডিসেম্বর বিপ্লবী জ্যোতিষচন্দ্র পাল এর শহীদ হন।

Financial Habits: সাফল্যের জন্য সহজ আর্থিক অভ্যাস

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: এটা অনেকেই জানেন অযথা ক্রেডিট কার্ডের উপর নির্ভর করা উচিত নয় , সময়মতো তার বিল পরিশোধ করতে হবে, প্রায়ই তার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট চেক করা দরকার এবং যতটা সম্ভব অর্থ সঞ্চয়  (Financial Habits) করা উচিত ।

কিন্তু এটা জানাই কি যথেষ্ট ? এটা তো বিষয় আশয়ের একেবারে প্রাথমিক ব্যাপারে অর্থাৎ ‘অ আ ক খ’ জানা । আর দুর্ভাগ্যবশত , এর দ্বারা কেউ খুব দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। ঠিক যেমন বাক্য তৈরি করতে সক্ষম হওয়ার জন্য পুরো বর্ণমালাটাই রপ্ত করতে হবে, আর্থিক সাফল্যের পাদদেশে পৌঁছতে গেলে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং সামনের আরোহণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

মনোযোগ দিয়ে বাজেট শুরু করা
অধিকাংশ মানুষ তাদের খরচের ব্যাপারে একেবারে ভেসে যান , যখন তারা তাদের মাসিক বেতনের চেক পান, সেটা আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিল পরিশোধ করে। যদি তাদের কোন টাকা অবশিষ্ট থাকে,তখন তাহলে তারা বিবেচনামূলক খরচে লিপ্ত হতে পারেন অথবা সঞ্চয় করতে পারেন । যেহেতু তারা বাজেট করেন না , তাই তাদের অর্থ কীভাবে এবং কোথায় যায় এবং সেটা অপব্যয় হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তারা আদৌ সচেতন নয় ।অন্য ভাবে সফল ব্যক্তিরা মাসিক বাজেট করে নিয়ে কাজ করেন।

এরফলে তারা তাদের খরচ কিভাবে বরাদ্দ করতে যাচ্ছেন এবং প্রতি মাসে কত টাকা সঞ্চয় করবেন সে সম্পর্কে তাদের একটি পরিষ্কার ধারণা থাকে। খরচের বিভাগগুলি নিদিষ্ট করে এবং প্রতিটির জন্য বাজেট বরাদ্দ করলে ব্যয়গুলির উপর নজর রাখতে শুরু করতে পারা যাবে। সময় মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার বাজেট নিয়মিত পর্যালোচনা এবং সংশোধন করতে ভুলবেন না কারণ প্রতি মাসে এটা একই রকম থাকবে না।

Financial Habits

বিনিয়োগের বিষয়ে নিজেকে শিক্ষিত করুন
জীবন এবং স্বাস্থ্য বিমার মতো মৌলিক বিষয়গুলি তৈরি হয়ে গেলে , পরবর্তী পদক্ষেপটি হল লগ্নিতে মন দেওয়া। ব্যাঙ্কে প্রচুর টাকা অলস পড়ে থাকার মানে হল রান্নাঘরে বসে খাওয়ার জন্য সমস্ত উপাদান থাকার মতো। যদি সেগুলি ব্যবহার না করেন তবে এমন খাবার পাবেন না যা আপনি উপভোগ করতে পারেন। প্রথমদিকে, বিনিয়োগের বিষয়টা কিছুটা ভীতিজনক মনে হতে পারে। কিন্তু যদি প্রতি সপ্তাহে এই বিষয়ে একটু একটু করে শিখে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন , তাহলে আপনি দ্রুত বুঝতে পারবেন যে বিভিন্ন বিনিয়োগ কী ভাবে কাজ করে , আপনার ঝুঁকির ক্ষুধা কী এবং বিভিন্ন আর্থিক লক্ষ্যের জন্য কীভাবে লগ্নি করা উচিত । তা শুরু করার জন্য একটি ভাল জায়গা হল বিনিয়োগের পরিভাষা বোঝা ।

শুধুমাত্র ভাল ঋণ নিতে হবে
হ্যাঁ , এমনিতে ঋণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয় । তবে সব ঋণ খারাপ নয় । জীবনের কিছু ধাপে জীবনে অগ্রগতির জন্য কিছু ঋণ নিতে হতে পারে । ভাল ঋণ এবং খারাপ ঋণের মধ্যে প্রাথমিক পার্থক্য হল ঋণের উদ্দেশ্য । যদি শুধুমাত্র খরচের উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করেন, যেমন ডিজাইনার পোশাক কেনার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা খারাপ ঋণ। যাইহোক, আবার আপনি যদি শিক্ষা ঋণ নেন বা আপনার স্টার্ট-আপ চালু করার জন্য একটি ব্যবসায়িক ঋণ নেন, তবে এটি একটি ভাল ঋণ । এই ধরনের ঋণ আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থ উপার্জন করতে সহায়তা করবে ।

প্রথমে সঞ্চয় করুন এবং পরে ব্যয় করুন
বর্তমানে বিশ্বটি প্রকৃতিগতভাবে ভোগবাদী এবং যতক্ষণ না কেউ এ সম্পর্কে আর্থিকভাবে সুস্থ থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার অভিনব এবং আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত হওয়াটা ঠিক আছে। সুতরাং , যদি ঘড়ি পছন্দ করেন এবং তা সংগ্রহ করতে চান , প্রথমে তার জন্য সঞ্চয় করুন । মাসের শেষে যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে প্রথমে কেনাকাটা করা এবং তারপরে অর্থ সঞ্চয় করতে ভুলবেন না । যদিও যা চান তা পেতে আপনার ক্রেডিট কার্ডে সবকিছু চার্জ করা সহজ , এটি চূড়ান্ত আর্থিক সঙ্কটের জন্য একটি নিশ্চিত-শট রেসিপি । অতএব , যদি এমন কিছু চান যার জন্য এখন আপনার কাছে টাকা নেই , তাহলে প্রথমে তার জন্য সঞ্চয় করতে হবে আপনাকে।

পরিমাণের চেয়ে গুণমানকে প্রাধান্য দিন
আর্থিকভাবে বিচক্ষণ হওয়ার অর্থ মিতব্যয়ী হওয়া বা কখনও দামি জিনিস না কেনাটা এমন নয়। ক্রমাগত বদলাতে হতে পারে এমন সস্তা বিকল্পের চেয়ে বেশি খরচ হলেও যা আপনার জীবনে মূল্য যোগ করে এমন জিনিসগুলিতে বিনিয়োগ করা অর্থপূর্ণ। কারণ অনেক সময় সস্তার জিনিস বেশি দিন চলে না ফলে অল্প দিনের মধ্যেই তা ফের কেনার দরকার হয় তারচেয়ে বরং দামি টেকশই জিনিস কেনাটা আর্থিক দিক দিয়ে সাশ্রয় হবে ৷

নিজেকেও কখন না বলতে হবে
ধরুন, একজন বন্ধু একটি অভিনব গ্ল্যাম্পিং উইকএন্ডের পরামর্শ দিচ্ছেন অথচ ওই মাসের জন্য আপনার বাজেটে জায়গা নেই। সেক্ষেত্রে তিনি কি হ্যাঁ বলতে বাধ্য হবেন, নাকি তিনি আর্থিকভাবে দায়িত্বশীলের মতো কাজ করবেন এবং সেই অফারটি প্রত্যাখ্যান করবেন?

নিজেকে না বলাটা অন্যদের না বলার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চাহিদার থেকে নিজের প্রয়োজনকে আলাদা করতে হবে যাতে ওই ব্যক্তির আয়ের মধ্যে বসবাস করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে জয়ী হতে পারেন।

Discovery is the Rickshaw:পঙ্গু স্ত্রীকে শহর দেখাবেন, আবিষ্কার হল রিকশা

rickshaw

বিশেষ প্রতিবেদন: রিকশা (Rickshaw) জাপানে উদ্ভাবিত হলেও সেটির নকশা করেছিলেন জোনাথন স্কোবি বা জোনাথন গোবলে নামের একজন মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারী । পারকার এফ ক্যালভিনের লেখা জোনাথন গোবলে ইন জাপান বইয়ে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। 

মি. জোনাথন ধর্ম প্রচারের কাজে জাপানের ইয়োকোহামা শহরে থাকতেন। তার স্ত্রী এলিজা গোবলে হাঁটতে চলতে পারতেন না। স্ত্রীকে ইয়োকোহামা শহর ঘুরিয়ে দেখাতে মি. স্কোবি ১৮৬৯ সালে দুই চাকার সামনে হাতল বিশিষ্ট বাহনের নকশা আঁকেন এবং কাঠ দিয়ে তৈরি করেন। সেই বাহনের নাম তিনি দেন জিনরিকশা।যা কালের বিবর্তনে রিকশা নামেই পরিচিতি পায়।

দুই চাকার এই হাতে টানা বাহনটি রিকশার প্রাথমিক সংস্করণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট নিবন্ধন পায়। তারপর সেটির অনুকরণে জাপানে এই বাহনটি নির্মাণ শুরু হয়। তবে এটি কোন মানুষ পরিবহনে নয় বরং ব্যবহৃত হতো মালপত্র পরিবহনের জন্য। আবার এমনটাও বলা হয় যে, ১৮৮৮ সালে একজন মার্কিন ব্যাপ্টিস্ট রিকশা আবিষ্কার করেছেন।

উইলিয়াম ই লুইসের থ্রু দ্য হার্টল্যান্ড অন ইউএস বইয়ে বলা হয়েছে, রিকশা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারে। সেখানকার এক কামার অ্যালবার্ট টোলম্যান দক্ষিণ আমেরিকান মিশনারীর চলাচলে সুবিধার জন্য রিকশাটি আবিষ্কার করেছিলেন বলে জানা যায়।

আবার বার্লিংটন কাউন্টি হিস্ট্রিকাল সোসাইটির গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন গাড়ি নির্মাতা জেমস বার্চের জাদুঘরে এ ধরণের একটি রিকশার মডেল প্রথম প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সেটাও ১৮৬৭ সালের দিকে। মি. বার্চ দাবি করেছিলেন, এটি তার ডিজাইন করা বাহন।

Chandranath Bose: গাছ বিলিয়ে ‘গাছ কাকু’ হাওড়ার চন্দ্রনাথ বসু

Chandranath Bose

বিশেষ প্রতিবেদন: গাছের পরিচর্যা তাঁর নেশা। সূযোগ পেলেই চেয়েচিন্তে অর্থ জোগাড় করেন। তা দিয়ে গাছ কিনে বিলি করেন পড়ুয়াদের। আর তা থেকেই এলাকার কচিকাঁচাদের কাছে তাঁর পরিচিতি ‘গাছ কাকু’ নামে।

তিনি হলেন, চন্দ্রনাথ বসু (Chandranath Bose)। হাওড়ার বাগনানের কাছারিপাড়ার বাসিন্দা। নিঃসন্তান চন্দ্রনাথবাবু অর্ডার সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করেন। তা দিয়েই সংসার চলে যায়। তার বাইরে জমানো অর্থ আর অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে গাছ কিনে তুলে দেন কচিকাঁচাদের হাতে।বছর দু’য়েক ধরে এই কাজই করে চলেছেন তিনি। স্কুল খোলা থেকে শুরু করে স্কুল ছুটি পর্যন্ত – সারাদিন স্কুলে স্কুলে ঘুরে শিশুদের বোঝান গাছের গুরুত্ব। তারপর গাছের চারা তুলে দেন। তা থেকেই তাঁর নাম ‘গাছ কাকু’। এব্যাপারে চন্দ্রনাথবাবুর স্ত্রীও তাঁকে সাহায্য করেন, উদ্বুদ্ধ করেন।

চন্দ্রনাথবাবুর মতে, ‘‘শিশুরাই গাছকে বেশি ভালোবাসতে পারে। তাই তাদের হাতে গাছ তুলে দিই। শিশুরাও যেমন আমাদের ভবিষ্যৎ। তেমনই গাছও যে ভবিষ্যৎ।’’ শিশু ছাড়াও বিভিন্ন বিভিন্ন পেশার ইচ্ছুক মানুষের হাতেও গাছ তুলে দেন তিনি। তাঁর মতে, ‘‘এটা পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছাড়াও গাছ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে একটা পরোক্ষ লড়াই। মাফিয়ারা যত গাছ কাটবে তার চেয়ে বেশী গাছ লাগাবো সবাই।

William Friedrich Denning: অজপাড়া গাঁয়ের শখের জ্যোতির্বিদ পৃথিবীকে জানিয়েছিলেন উল্কাবৃষ্টির কথা

William Friedrich Denning

বিশেষ প্রতিবেদন: মানুষ সর্বপ্রথম কবে আকাশে উল্কা ছুটতে দেখেছিল? এর কিন্তু পুরোপুরি সঠিক কোন উত্তর নেই। তবে মানুষ কবে সর্বপ্রথম আকাশে ছুটতে থাকা জ্বলন্ত উল্কার ছবিটি তুলেছিল তা কিন্তু আমাদের জানা। সেই দিনটিই আজ।  

১৮৮৫ সালের এই দিনে একজন শখের জ্যোতির্বিদ, উইলিয়াম ফ্রিডরিখ ডেনিং (William Friedrich Denning) এক অজপাড়া গাঁয়ে বসে কালো আকাশে দ্বীপ্তমান জ্বলন্ত অগ্নিশিখা মুখে নিয়ে ছুটতে থাকা তথাকথিত এক স্বর্গীয় বস্তুর ছবি তুলেছিলেন। প্রথমে তিনি এক সন্ধায় হুট করে উল্কাটি দেখতে পান। ঠিক করেন, পরের দিন ঠিক একই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলে ফেলা যাবে। কিন্তু পরের দিন শ’য়ে-শ’য়ে উল্কার বৃষ্টি দেখে হতভম্ভ হয়ে যান। “রাত বাড়ার সাথে সাথে উল্কাগুলি এত ঘন হয়ে পড়ছিল যে তাদের গণনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল” ২৭ নভেম্বর ডেনিং এ কথা জানিয়েছিলেন।

দেশটির নাম বললে অনেকেই হয়ত চিনবে না। জার্মান, পোল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার কোলে অবস্থিত চেকিয়া নামক একটি দেশ। সবার জানামতে মহাজাগতিক কাণ্ডগুলো ওই স্থানে বসে খুব ভাল দেখা যেত। তাই তো ডেনিং সাহেব সেই যুক্তরাজ্য থেকে চেকিয়ায় এসে করতেন শখের পর্যবেক্ষণ। ডেনিং সাহেব কি ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন, সে সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্কাবৃষ্টি কী? এটাও আকাশ থেকে পড়ে, বৃষ্টির মতোই, কিন্তু সেটা দেখা যায় শুধু রাতে। আকাশে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। দেখলে মনে হয় আকাশ থেকে আতশবাজি নেমে আসছে। আকাশের তারা বুঝি খসে পড়ছে মাটিতে। ইংরেজিতে সে জন্যই এদের বলা হয় ‘শুটিং স্টার’। মাটির কাছাকাছি আসতেই নিভে যায়। তবে মাঝেমধ্যে দু–একটা জ্বলন্ত অবস্থাতেই মাটিতে পড়ে। সেটা আবার বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সে কথায় পরে আসছি।

উল্কা হল আমাদের এই সৌরজগতেরই আকাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা কিছু বস্তুখণ্ড। এই বস্তুখণ্ডগুলো আসে ধূমকেতু থেকে। ধূমকেতু মাঝেমধ্যে আকাশে দেখা দেয়। সূর্যের চারপাশে এক চক্কর দিয়ে আবার দূরে চলে যায়। এদের চলার পথ অনেকটা ডিমের আকৃতির মতো (ইলিপটিক)। হ্যালির ধূমকেতুর কথা আমরা জানি। একবার সূর্য প্রদক্ষিণ করে আবার প্রায় ৭৬ বছর পর ফিরে আসে। এ ধরনের আরও কিছু ধূমকেতু সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ধূমকেতুর মূল অংশের কিছু জমাট বাঁধা মহাজাগতিক ধূলিকণা ও অন্যান্য বস্তু আকাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থেকে যায়। পৃথিবী তার কক্ষপথে চলার সময় এসব বস্তুখণ্ডের কাছাকাছি এলে ওগুলো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে মাটির দিকে পড়তে থাকে।

এই পড়ন্ত বস্তুগুলো পৃথিবীর কাছাকাছি এলে বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে। তখন আকাশে ওদের দেখে মনে হয় আলোকোজ্জ্বল তারা আকাশ থেকে পড়ছে। যেন আতশবাজির বৃষ্টি পড়ছে। এটাই উল্কাবৃষ্টি।

উল্কাপিণ্ডগুলো ঘণ্টায় প্রায় ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ মাইল বেগে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। ফলে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে এরা জ্বলে ওঠে। সাধারণত মাটিতে পড়ার আগেই জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু উল্কা খণ্ড খুব বড় হলে সবটা জ্বলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আগেই মাটিতে পড়তে পারে। এ রকম উল্কার আঘাতে মাঝেমধ্যে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে এ ধরনের বিশাল এক উল্কাখণ্ড বা গ্রহাণুর (অ্যাস্টেরয়েড) আঘাতে পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল বলে বিজ্ঞানীরা বলেন। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো গবেষণা করছেন।

পৃথিবী থেকে পাঁচ সেকেন্ডের জন্য উধাও Oxygen! কী হবে জানেন?

oxygen

What if the world loses oxygen for five seconds
বিশেষ প্রতিবেদন: পৃথিবীর সমস্ত অক্সিজেন গায়েব হয়ে যাবে মাত্র ৫ সেকেন্ড। আমরা কি ৫ সেকেন্ডের জন্য।আমাদের শ্বাস ধরে রাখতে পারব ? বায়ুমণ্ডলের কী হবে? পরিবেশেরই বা কী হবে?

মুক্ত বাতাসে মনভরে একটি দীর্ঘশ্বাস নিন। আপনি শ্বাস হিসেবে যা গ্রহণ করেছেন তা হল অক্সিজেন, যা আমাদের বায়ুমণ্ডলের প্রায় ২১%, আর ৭৮% হচ্ছে নাইট্রোজেন। যদিও অক্সিজেন আমাদের বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক প্রচুর পরিমাণে থাকা কোনো গ্যাস নয়, তবুও এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক মুহুর্তের জন্য অক্সিজেন না থাকলে, গাছপালা, পশুপাখি, পানি এবং আমরা মানুষ আজ যেখানে আছি সেখানে থাকতে পারতাম না।

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই শ্বাস না নিয়ে অনায়াসে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড যেতে পারে, তাই…৫ সেকেন্ড অক্সিজেন না থাকলে আমাদের ফুসফুস স্বাভাবিকই থাকবে। কিন্তু পৃথিবীর অন্য সব কিছুর জন্য? অক্সিজেনবিহীন এই ৫ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো পৃথিবীর চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। পৃথিবীর সকল কংক্রিটের তৈরি দালান, ব্রিজ, ভাস্কর্য, নানা স্থাপনা মূহুর্তেই ধ্বসে পড়বে কেননা কনক্রিটের তৈরি স্থাপনায় অক্সিজেন special binding agent হিসেবে কাজ করে। অক্সিজেন ছাড়া কনক্রিটের স্থাপনা ধুলো ছাড়া আর কিছুই না!!

পৃথিবীর সব খাল বিল নদীনালা, সাগর মহাসাগর বাষ্পীভূত হয়ে উধাও হয়ে যাবে । সমুদ্রের পানি থেকে অক্সিজেন অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে হাইড্রোজেন একটি সীমাহীন মুক্ত গ্যাসে পরিণত হয়। হাইড্রোজেন গ্যাস, সবচেয়ে হালকা হওয়ায়, উপরের ট্রপোস্ফিয়ারে উঠবে এবং বাষ্পীভূত হয়ে মহাকাশে চলে যাবে। সকল জলজ প্রানী পানির অভাবে ছটফট করতে থাকবে। সমুদ্রে লঞ্চ,স্টিমার, জাহাজ, সাবমেরিন থাকলে তা একেবারে তলানিতে গিয়ে পড়বে।

ওজোন স্তর (O3) আমাদের পৃথিবীকে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। এক সেকেন্ডের জন্য অক্সিজেন উধাও হয়ে গেলে ওজোন স্তর অকার্যকর হয়ে যাবে, তখন নিমিষেই পৃথিবী অত্যন্ত গরম হয়ে উঠবে। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করার মতো কিছুই থাকবে না।

ওজোন স্তর ধ্বংসের পাশাপাশি, আমাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংগ কান মুহুর্তেই বিস্ফোরিত হবে। অক্সিজেন হারানো মানে আমাদের বায়ুচাপের ২১% হারানো। আকস্মিক বায়ুচাপের এই বিশাল পরিবর্তন যা সমুদ্রপৃষ্ঠে থাকা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ২০০০ মিটার নিচে নেমে যাওয়ার সমতুল্য। আমাদের কান বায়ুমন্ডলের চাপের এই বিশাল পরিবর্তন মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে বিস্ফোরিত হয়ে যাবে। অক্সিজেন ছাড়া, আগুন উৎপন্ন হবে না৷ ফলে যানবাহনে জ্বলন প্রক্রিয়াও ঘটতে সক্ষম হবে না।

বৈদ্যুতিক নয় এমন যেকোনো প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ হবে। আকাশ থেকে উড়োজাহাজ খসে পড়বে এবং লক্ষ লক্ষ মোটরসাইকেল গাড়ি, ট্রাক রাস্তায় হঠাৎ থেমে গিয়ে বড় দুর্ঘটনার সৃষ্টি করবে।

অক্সিজেন ছাড়া আমাদের এই সুন্দর নীল আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যাবে। ওহ ভালো কথা…পৃথিবীর ভূত্বক সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যাবে। কারণ পৃথিবীর ভূত্বক ৪৫% অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। ভূপৃষ্ঠে অক্সিজেন না থাকলে অনেক কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ভূত্বকটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে এবং কিছু অবশিষ্ট না থাকা পর্যন্ত চূর্ণ হতেই থাকবে।

বিশ্বাসঘাতককে হত্যা করে ক্ষুদিরামদের ফাঁসির বদলা নিয়েছিল এই বাঙালি

Satyendranath Bosu

বিশেষ প্রতিবেদন: এই বাংলার মাটিতে অনেক বীর দামাল ছেলেরা জন্ম নিয়েছেন। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য নিজের জীবনকে মাতৃভূমির শৃঙ্খল মোচন এর জন্য বলিদান দিয়েছিল। তাদের মধ্যে সেই মহান বিপ্লবী আর কেউ নন তিনি হলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

ইনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন অন্যতম অগ্নিযুগের বিপ্লবী শহীদ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম হয় ৩০ শে জুলাই ১৮৮২ সালের মেদিনীপুর জেলায়। সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন মনিষী রাজনারায়ণ বসুর ভ্রাতুষ্পুত্র। তার পিতার নাম অভয়চরণ বসু।

সত্যেন্দ্রনাথ বসু তার জ্যেষ্ঠতাত ছিলেন রাজনারায়ণ বসু ও অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রনাথ। সত্যেন্দ্রনাথ এন্ট্রাস পাশ করেন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৮৯৭ সালে। ১৮৯৯ সালে এফ এ পাশ করেন মেদিনীপুর কলেজ থেকে। বি.এ পড়ার জন্য কলকাতা সিটি কলেজে ভর্তি হন, কোন এক কারনে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তার অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রনাথ এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে ১৯০২ সালে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিলো। সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো এবং সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন তার সহকারী।

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় “ছাত্রভাণ্ডার” গড়ে তোলেন। সেখানেই তাঁত, ব্যায়ামচর্চা ইত্যাদির আড়ালে বিপ্লবীদের ঘাঁটি তৈরি হয়। ক্ষুদিরাম তারই নির্দেশে “সোনার বাংলা” শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করে ধরা পড়েন। পরে আলিপুর বোমা মামলা জড়িত থাকায় গ্রেপ্তার করা হয় সত্যেন্দ্রনাথকে। বিচারে নরেন গোঁসাই রাজসাক্ষী হলে তাকে মারার পরিকল্পনা করেন বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু। সত্যেন্দ্রনাথ বসু বুদ্ধি করে নরেন গোঁসাইকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে ও নরেন গোঁসাইকে গোপনে খবর দেয় আমি রাজসাক্ষী হতে রাজি। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিবৃতি দেবেন। নরেন খবরটা অপরওয়ালা পুলিস কতৃপক্ষের কাছে জানিয়ে ছিলেন ও তারা সত্যেন্দ্রনাথ বসুর এই আর্জিকে মঞ্জুর করেন।

সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেনের সঙ্গে ভাব জমিয়ে ফেললেন। নরেনের উৎসাহের শেষ নাই। শেষ অব্দি সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মতো বিপ্লবী যদি রাজসাক্ষী হয় তাহলে আর ভাবনা কিসের। সত্যেন্দ্রনাথ বসু এই দিনটির প্রতিক্ষাতেই ছিলেন। কানাইয়ের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের পরামর্শ করে নিলেন। ডিসপেনসারির মধ্যেই এই কাজটা করতে হবে। ঠিক হলো কলাইলাল দত্ত সেখানে পৌঁছে যাবেন দাঁত মাজার অছিলায়। সশস্ত্র অবস্থায় থাকবেন। যথা সময়ে অপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। নরেনকে দেখে কানাইলাল বারান্দায় চলে গেলেন। কান সজাগ রাখলেন ঘরের ভিতর। ঘরের ভিতর কথা হচ্ছে, ঠিক তখনই সত্যেন্দ্রনাথ বসু নরেনকে গুলি চালায়। গুলিটি লাগলো উরুতে গুলিবিদ্ধ, নরেন গোঁসাই আর্তনাদ করে ঘর থেকে ছিটকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে ধরার জন্য হিগিনস ছুটে এলেন, সত্যেন্দ্রনাথ এর গুলি এসে হিগিনসকে বিদ্ধ করলো। এই হিগিনস হচ্ছেন নরেন গোঁসাই এর গার্ড। এতে নরেন পালাতে চেষ্টা করে, দেখে ফেলেন কানাইলাল দত্ত তার পশ্চাৎধাবন করলেন। হাসপাতালের গেট পার হয়ে নরেনের কাছাকাছি পৌঁছে কানাইলাল গুলি করতে শুরু করেন। গুলি খেয়ে নরেন স্নানঘরের পাশে নর্দমার মধ্যে হামাগুড়ি খেয়ে পরে গেলেন। আরো এক নরেনের দেহরক্ষী লিন্টন কানাইলালকে ধরতে যান, কানাইলালের গুলিতে লিন্টনের কপালের চামড়া ঝরে যায়। সত্যেন্দ্রনাথ এগিয়ে এলেন, দুজনে শেষ গুলিটি অব্দি নরেনের ওপর বর্ষণ করেন। সব মিলিয়ে তারা ৯টি গুলি চালান। জেলের পাগলা ঘুন্টি বেজে উঠল, সশস্ত্র পুলিস বাহিনী এগিয়ে আসেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও কানাইলাল দত্ত কে বন্দি করেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও তার বন্ধু কানাইলাল দত্তের বিচারের পালা। বিচারে তাদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। ১০ ই নভেম্বর ফাঁসি হলো কানাইলাল দত্তের। আর বাকি রইল ২২ শে নভেম্বর সত্যেন্দ্রনাথ বসুর দিন। ফাঁসির কয়েক দিন আগে হেমচন্দ্র কানুনগোকে জেলের গরাদের ও পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু,—- “মা যদি এখানে এসে না কাঁদেন, তবেই আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি, নচেৎ নয়।” তা-ই হল। আলিপুর জেলে মা ও ছেলে মুখোমুখি। বুকের কান্না চোখের জলে ধুয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল না।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রেসিডেন্সি জেলে ১৯০৮ সালের ২২ শে নভেম্বর ফাঁসি হয়ে গেল। ফাঁসির পর সত্যেন্দ্রনাথের শবদেহ জেলের বাইরে এল না। জেলখানার উঁচু পাঁচিলের ঘেরাটোপের মধ্যে দাহ করা হয়। এমনকি হেমচন্দ্র কানুনগোরা কোনও স্মৃতিচিহ্ন পর্যন্ত সঙ্গে নিতে পারেননি। সত্যিই এতবড়ো বলিদান, আজকের প্রজন্ম কি তা জানে, না জানে না। এভাবেই বাংলার একের পর এক দামাল ছেলেরা মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য বলিপ্রাপ্ত হয়েছিল।

বিগবেন: হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়িটি ৯৫ বছরে পা

howrah-big-clock

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: হাওড়া স্টেশন মানেই বাঙালির চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি বিশেষ জিনিস। সম্ভবতঃ হাওড়া স্টেশনে এটিই সবচেয়ে বিখ্যাত স্থানফলক। আর পরিচিত কাউকে খুঁজে পেতে তো এর জুড়ি মেলা ভার। শুধু নিশানাটুকু বলে দিলেই হল। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়িটির কথাই হচ্ছে। যা এবার পা দিল ৯৫তে।  

“হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়ির নীচে এসে দেখা করিস (বা করো)” এমন কথা যার উদ্দেশে তার কথাই বলা হচ্ছে। ১৯২৬ সালে এই বড় ঘড়িটি স্থাপন করা হয়। পিঠোপিঠি এই ঘড়িটির একটি মুখ ১ থেকে ৮ নাম্বার প্লাটফর্মের দিকে এবং অন্যটি ৯ থেকে ১৫ নাম্বার প্লাটফর্মের দিকে। এই ঘড়িটি ভারী লোহার ফ্রেমের ওপর স্থাপিত এবং স্টেশন ম্যানেজার অফিসের পাশের দেয়ালের সাথে সংযুক্ত।

howrah-big-clock

“জেন্টস” দ্বারা নির্মিত এই পুরানো ফ্যাশনের ঘড়িটি ৯৩ বছর পরও সঠিক সময় দেয় যার কারণে যাত্রীরা নিজেদের ঘড়ির সময় এটির সাথে মিলিয়ে নেন। আগে এই বিদ্যুৎ চালিত যান্ত্রিক ঘড়িটিতে একটি দূরনিয়ন্ত্রক পালসার যন্ত্রের মাধ্যমে একটি অফিস থেকে দম দেওয়া হতো এবং সময়ের সমন্বয় সাধন করা হতো। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ পরিবাহী তারে সমস্যা সৃষ্টির কারণে দম দেওয়ার ব্যবস্থা ঘড়ির নিজের ভেতরেই করা হয়।এখন এই ঘড়িতে আর চাবি ঘুরিয়ে দম দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

বহু মানুষের মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হাওড়ার “বিগ বেন” এই ঘড়িটিই প্রকৃত সময়ের স্বাদ দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।

হরিদাস পাল: শুধু কথার কথা নয়, কে ছিলেন হরিদাস পাল

haridas-pal

বিশেষ প্রতিবেদন: “হরিদাস পাল” বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ কথন। সাধারণত কোন অযোগ্য ও তুচ্ছ ব্যক্তি কে অবহেলার্থে বলা হয়ে থাকে “তুমি কোন হরিদাস পাল হে?”কিন্তু হরিদাস পাল। শুধু কথার কথা নয় তিনি বাস্তব। তৎকালীন বাঙালি সমাজের এক বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। নামে রয়েছে রাস্তাও।

জানা যায়, ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের রিষড়ার এক অতি দরিদ্র গন্ধবণিক পরিবারে হরিদাস পালের জন্ম। তার পিতা নিতাইচরণ পাল। পিতার মৃত্যুর পর জীবিকার সন্ধানে হরিদাস ১৮৯২ সালে কলকাতায় চলে যান ।সেখানে এক সোনার দোকানে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ শুরু করেন ।

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে হরিদাসের কলকাতা নিবাসী একমাত্র ধনী নিঃসন্তান মামা মারা যাওয়ায়- হরিদাস উত্তরাধিকারসূত্রে মামার সব সম্পত্তি মালিক হয়ে রাতারাতি ধনী হয়ে যান।তিনি বড়বাজারে কাঁচ ও লণ্ঠনের ব্যবসা শুরু করেন ।অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ ও বুদ্ধিমান হরিদাস কয়েক বছরের মধ্যে তার ব্যবসা অনেক বাড়িয়ে তোলেন। এক দশকের মধ্যে তার ব্যবসা কলকাতার নানা জায়গায় ও গৌহাটিতে ছড়িয়ে পড়ে ।হরিদাস অত্যন্ত সৎ ও দয়ালু ছিলেন। বিপুল অর্থ তাকে কলকাতার বাবু সমাজে স্থান করে দেয়।তাঁর দান ধ্যান ও পরোপকারের জন্য জনসাধারন তাকে ভালোবাসতো। দাতা হরিদাসের উদার মনোভাব, মার্জিত ব্যবহার, সহানুভূতিশীল ব্যবহারে তার সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে । সাধারণের কল্যাণে তিনি নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ।সমাজে তিনি অত্যন্ত উঁচু সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হন । প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।

এমনকি তিনি কাউকে কিছু করার কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে তা পালিত হতো। কারণ সকলে জানতো হরিদাস যা করেন সবার মঙ্গলের জন্যই করেন।

১৯৩৩ সালে হরিদাস কিডনির অসুখে মারা যান ।১৯৬৫ সালে কলকাতা কর্পোরেশন তাঁর সম্মানার্থে একটি রাস্তার নাম রাখেন “হরিদাস পাল লেন ” । “হরিদাস পাল” প্রবাদটি ব্যবহার হয়ে থাকে কারণ অতিরিক্ত দান খয়রাত করে তার টাকা পয়সা ফুরিয়ে যায়, তার অসুখে শরীর ভেঙে যায়।

তখন তিনি টাকার দরকারে তার এক কর্মচারীর কাছে টাকা ধার করতে যান। তার চেহারা দেখে সেই কর্মচারী তাকে চিনতে পারে নি, এবং বলে তুমি কোন হরিদাস পাল হে তে তোমাকে টাকা চাইলে দিতে হবে। মনে করা হয় এখান থেকে শুরু হয় কেউ টাকা চাইলে বলা হয় তুমি কোন হরিদাস পাল হে যে টাকা চাইলে দিতে হবে।

তাপমাত্রার তারতম্যে লিঙ্গ নির্ধারিত হয় এই প্রাণীদের

Temperature Dependent Sex Determination

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্রোমোসোমের ভিত্তিতে সাপ, টিকটিকিরও স্ত্রী-পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। তবে ব্যতিক্রম দেখা যায় কিছু প্রজাতির কচ্ছপ ও সকল ধরনের কুমির প্রজাতির মতো সরীসৃপ প্রাণীর ক্ষেত্রে।

সাধারণত এদের লিঙ্গ নির্ধারিত হয় ডিম ফোটানোর সময়কার তাপমাত্রার উপর! একে বলা হয় Temperature Dependent Sex Determination (TSD)। আজকের লেখায় তাপমাত্রার প্রভাবে কয়েকটি প্রাণীর লিঙ্গ নির্ধারিত হওয়ার বিষয় ও লিঙ্গনির্ধারণে বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

Crocodile

কুমির
কুমির সাধারণত উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ায় পাওয়া যায়। এদের স্বাদু ও লবণাক্ত উভয় প্রকার জলেই পাওয়া যায়। কুমির মাত্র ৮-১০ বছর বয়সে প্রজননের জন্য উপযোগী হয়। সাধারণত জুলাই অথবা আগস্ট মাস এদের প্রজননের উত্তম সময়। এদের স্ত্রী-পুরুষ সাধারণত জলের তলে মিলন করে। মিলনের সময় স্ত্রী-পুরুষ কুমির কয়েকদিন পর্যন্ত একইসাথে অবস্থান করে। সে সময়ে তারা বেশ কয়েকবার মিলিত হয় ও ডিমের নিষেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সাধারণত মিলনের পর ডিম পাড়ার জন্য স্ত্রী কুমির প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করে। সেখানে সে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ১০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর মধ্য থেকে শতকরা মাত্র ২০ ভাগ ফুটে বাচ্চা হয়। তন্মধ্যে শতকরা মাত্র ২ ভাগ বাচ্চা বেঁচে থেকে পূর্ণবয়স্ক হয়।

ডিম পাড়ার পর স্ত্রী কুমিরটি গর্তের প্রবেশমুখের পাশে লুকিয়ে থেকে ডিমগুলো পাহারা দেয়, যাতে কোনো শিকারী পশুপাখী ডিমগুলো নষ্ট করতে না পারে।

ডিমগুলো পরিবেশের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফোটে। স্ত্রী কুমির অনেক সময় ডিম মুখেও রাখে এবং ডিমের খোলস ভেঙ্গে বাচ্চা বেরিয়ে আসতে সহায়তা করে। বাচ্চার ক্ষেত্রে যত্নশীলতার দিক থেকে অল্প কিছু সরীসৃপের মাঝে কুমির অন্যতম।

কুমিরের অনেক অদ্ভুত বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে তাপমাত্রার প্রভাবে বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারিত হওয়া! স্ত্রী-পুরুষ লিঙ্গের বাচ্চা হওয়ার জন্য তাদের নির্দিষ্ট কোনো ক্রোমোসোম নেই। সাধারণত ডিম ফোটানোর সময় পরিবেশের তাপমাত্রা ৩১.৭˚ সেলসিয়াস এর নিচে হলে বাচ্চাগুলো হবে স্ত্রী লিঙ্গের। অপরদিকে ৩১.৭˚-৩৪.৫˚ সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় ফোটা বাচ্চাগুলো পুরুষ লিঙ্গের অধিকারী হয়। আবার তাপমাত্রা ৩৪.৫˚ সেলসিয়াসের অধিক হলে স্ত্রী লিঙ্গের বাচ্চা জন্মায়।

leopard-gecko

লিওপার্ড গেকো
লিওপার্ড গেকো বা তক্ষক একধরনের গিরগিটি জাতীয় প্রাণী। Eublepharis macularius হচ্ছে প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম। স্ত্রী তক্ষক ৪৫ গ্রাম ওজন না হওয়া পর্যন্ত প্রজনন উপযোগী হয় না। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন পেতে ও প্রজননক্ষম হতে তক্ষকের ৯ থেকে ১০ মাস সময় লাগে। মিলনের ১৬ থেকে ২২ দিন পর স্ত্রী তক্ষক ১-২টি ডিম পাড়ে। এরা ২০ বছরের আয়ুষ্কালে মাত্র ৮০ থেকে ১০০টি ডিম পাড়ে।

কুমিরের মতো লিওপার্ড গেকো বা তক্ষকের স্ত্রী ও পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারিত হয় তাপমাত্রার উপর। গবেষণায় জানা যায়, ডিম ফোটানোর তাপমাত্রা ২৬˚ সেলসিয়াস হলে প্রায় ১০০ ভাগ বাচ্চাই স্ত্রী লিঙ্গের অধিকারী হয়। অপরদিকে, ৩০˚ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শতকরা ৭০ ভাগ এবং ৩৪˚ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ বাচ্চা স্ত্রী লিঙ্গের অধিকারী হবে। তবে ৩২.৫˚ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ তক্ষক পুরুষ লিঙ্গধারী হয়ে জন্মায়।

green-sea-turtle

সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ
সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখতে অন্যান্য সাধারণ কচ্ছপের মতই। Chelonia mydas হচ্ছে এর বৈজ্ঞানিক নাম। সাধারণত কচ্ছপের মতো দেখতে হলেও এদের পায়ের পরিবর্তে ফ্লিপার বা পাখনা থাকে। এই কচ্ছপ প্রায় ১০০ বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে।

সামুদ্রিক কচ্ছপের ৭টি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। সারাবিশ্বেই এদের দেখা মেলে। এরা মাংসাশী প্রাণী; চিংড়ি, সমুদ্র-শৈবাল, কাঁকড়া, জেলিফিস, শামুক, স্পঞ্জ ইত্যাদি খেয়ে এরা জীবনধারণ করে।

সামুদ্রিক কচ্ছপ একাকী বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। প্রজননের জন্য এরা সৈকতে ফিরে আসে। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের মাধ্যমে এরা ২,২৫৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাদের জন্মস্থানে প্রজননের জন্য চলে যেতে পারে!

দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে সমুদ্রতীরের বালিতে মা কচ্ছপ গর্ত করে ৭০-১৯০টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। ডিম পাড়ার পর সেগুলো বালি দিয়ে ঢেকে রাখে। বালির তাপমাত্রায় বাচ্চাগুলো ফোটার পর দ্রুত সমুদ্রে নেমে যায়। ফলে সারাজীবন এই বাচ্চা কচ্ছপ তাদের বাবা-মায়ের দেখা না-ও পেতে পারে!

কচ্ছপের বাচ্চা স্ত্রী লিঙ্গের নাকি পুরুষ লিঙ্গের হবে এটি নির্ভর করে বালির তাপমাত্রার উপর। যদি বালির তাপমাত্রা ৩০˚ সেলসিয়াস এর নিচে হয় তবে অধিকাংশ বাচ্চা পুরুষ লিঙ্গ নিয়ে জন্মাবে। অপরদিকে তাপমাত্রা ৩০˚ সেলসিয়াস এর অধিক হলে অধিকাংশ বাচ্চা স্ত্রী লিঙ্গের হবে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বা তাপমাত্রার পরিবর্তন আলোচিত প্রাণীগুলোর বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করবে। যদি তাপমাত্রার প্রভাবে সব একই লিঙ্গের প্রাণীর জন্ম হয়, তবে একসময় প্রজননবিহীন অবস্থায় প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হতে পারে! ৮ জানুয়ারী ‘কারেন্ট বায়োলজি’তে সামুদ্রিক কচ্ছপের উপর প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনই তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের শতকরা ৯৯.৮ ভাগ কচ্ছপ জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে স্ত্রী লিঙ্গ নিয়ে জন্মেছে! অপরদিকে যেখানকার পরিবেশ কিছুটা শীতল সেখানকার শতকরা ৬৫ ভাগ কচ্ছপ স্ত্রী লিঙ্গধারী হয়েছে।

কচ্ছপ ডিম ফোটানোর জন্য কিছুটা উষ্ণ বালিময় স্থান নির্বাচন করে। ফলে তাদের শতকরা ৫০ ভাগ পুরুষ ও ৫০ ভাগ স্ত্রী লিঙ্গের বাচ্চা জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। তবে এক্ষেত্রেও স্ত্রী লিঙ্গের বাচ্চার সংখ্যা কিছুটা বেশিই হয়।

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে বরফ গলে কচ্ছপের জন্মস্থান নিমজ্জিত হলেও তাদের বিলুপ্তি বা সংখ্যা কমে যেতে পারে। কারণ কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের মাধ্যমে তার জন্মস্থানেই ফিরে যায়। এরপর সেই স্থানটিকেই প্রজনন ও ডিম পাড়ার স্থান হিসেবে নির্বাচন করে। নিমজ্জিত হলে কচ্ছপ সেই স্থানটি খুঁজে পায় না। ফলে ডিম পাড়ার পূর্বে অনেক কচ্ছপকে মরে সমুদ্রতীরে ভেসে আসতে দেখা যায়।

সুতরাং বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপ প্রজাতি ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলার কথা ভাবতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি ও উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায়, কোস্টারিকার জানকুইলাল সমুদ্রতীরের মতো ব্যবস্থা নেয়া লাগতে পারে। সেখানে বিজ্ঞানীরা কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করেন। এরপর সংগৃহীত ডিম সমুদ্রতীরের একটি নির্দিষ্ট শীতল তাপমাত্রার স্থান ও নির্দিষ্ট গভীরতায় রেখে দেন। বাচ্চা ফুটে বের হয়ে সমুদ্রে যাওয়া পর্যন্ত শিকারী, পশুপাখী ও পর্যটকদের থেকে রক্ষা করার জন্য যথাযথভাবে নজর রাখেন তারা। এ ব্যবস্থাগুলো নিশ্চয়ই সহজসাধ্য নয়! সুতরাং জলবায়ু রক্ষায় করণীয় কী ভাবুন এখনই।

Ireland: সন্দেশে জল নাই, আর সাপ নেই আয়ারল্যান্ডে

There are no snakes in Ireland

বিশেষ প্রতিবেদন: আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষের কাছাকাছি। কিন্তু দেশটিতে একটাও সাপের অস্তিত্ব নেই। সরীসৃপ বলতে দেখা পাবেন শুধু টিকটিকির। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানিয়েছে আয়ারল্যান্ডের এই অদ্ভুত পরিস্থিতির কথা। কিন্তু কেন জানেন?

উত্তর আটলান্তিক মহাসাগরে অবস্থিত আয়ারল্যান্ড একটি দ্বীপ, যা মান সাগর দ্বারা গ্রেট ব্রিটেন থেকে বিচ্ছিন্ন। সেখানে কোথাও সাপ নেই। নিউজিল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, কিংবা অ্যান্টার্কটিকাতেও সাপের দেখা মেলে না।

আয়ারল্যান্ডে সাপ না থাকার বিষয়টি খ্রিস্টধর্মের উপকথাতেও উঠে এসেছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, আনুমানিক ৫ খ্রিস্টাব্দে সেন্ট প্যাট্রিক খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আয়ারল্যান্ড পৌঁছন। টানা চল্লিশ দিন উপোসের মাধ্যমে তপস্যা করার জন্য একটি পাহাড়ে উঠেন তিনি। সেখানে কিছু সাপ তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপরই তিনি আয়ারল্যান্ড থেকে সব সাপ বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেন।

There are no snakes in Ireland

তাই পুরো আয়ারল্যান্ডের যেখানে যত সাপ ছিল, সেগুলোকে একত্র করে একটি শৈলচূড়ার উপর থেকে সমুদ্রে ফেলে দেন। তারপর থেকে আয়ারল্যান্ডে আর কখনও সাপ দেখা যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই মিথের সাথে একমত নন। তাঁদের ভাষ্যমতে, আয়ারল্যান্ডে কখনোই কোনো সাপ ছিল না।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার বছর আগে তুষারযুগে বরফে ঢাকা ছিল আয়ারল্যান্ড। সাপ ঠান্ডা রক্তের প্রাণী হলেও, রক্তে হিমোগ্লোবিনের প্রয়োজনীয় মাত্রা বজায় রাখতে চারপাশের বস্তু থেকে তাপ গ্রহণ করতে হয় তাদের। বরফের চাদরে মোড়া আয়ারল্যান্ডে সেটা সম্ভব ছিল না।তুষারযুগের পর হিমবাহ গলতে শুরু করলে, মানসাগর দ্বারা ব্রিটেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।সেই সময় ব্রিটেনকে বাসস্থান হিসাবে বেছে নেয় কয়েক প্রজাতির সাপ। তবে স্বভাবে কুঁড়ে হওয়ায় ব্রিটেন থেকে সাঁতরে আয়ারল্যান্ডে আসার সাহস দেখায়নি তারা।

কবির নোবেল জয়ে রাসের আলোয় মহোৎসব শান্তিনিকেতনে

shantiniketan

বিশেষ প্রতিবেদন: রাস লীলা যেমন কৃষ্ণ প্রেমের দিন। তেমনই কবির বিশ্বকবি হয়ে ওঠার সময়ও বটে। আজ থেকে ১০৮ বছর আগে এক রাস পূর্ণিমার রাতে কবি রসে মেতেছিল শান্তিনিকেতন। প্রাণের রবি নোবেল পেয়েছেন যে। এমন দিনে রাসের আলোয় কবিতার রসে, আনন্দে মেতে ওঠাটাইতো স্বাভাবিক। হয়েছিলও তাই।
তখন নভেম্বর মাস, আর বীরভূম মানে ব্যাপক ঠান্ডা। শীতের হাওয়া নাচন দেখিয়ে দিত।

১৯১৩ সালে ১৩ নভেম্বর সুইডিশ অ্যাকাডেমি রবীন্দ্রনাথের “গীতাজ্ঞলি” কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল প্রাপ্তির খবর ঘোষণা করেন। অ্যাকাডেমিই ‘গীতাঞ্জলি’-র প্রকাশক ম্যাকমিলান কোম্পানির কাছ থেকে ঠিকানা নেয়। ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার লন্ডন থেকে কেবলগ্রাম পাঠায় ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনে এবং নিউ ইয়র্কের ইভনিং পোস্টে সে খবর প্রকাশ পায়। যাক, ফেরা যাক সেই মহোৎসবে। প্রচন্ড শীতের রাত ।

খোয়াইজুড়ে রাস পূর্ণিমার গোল হলুদ চাঁদ উঠেছে।চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে পারুল বন। জোব্বার পকেট থেকে টেলিগ্রামের কাগজটা বের করলে ভাঁজ খুলে বার দু’য়েক পড়লেন।চেয়ে রইলেন দূর বনপথে। চোখে উদাস করা চাহনি। তারপর উদাসীন ভাবে নোবেল প্রাপ্তির টেলিগ্রামটা সচিবের দিকে এগিয়ে বললেন, ‘‘নিন, নেপালবাবু। এই আপনার ড্রেন তৈরির টাকা!’’।রবিঠাকুরের কথা শুনে নির্বাক আশ্রম-সচিব নেপালচন্দ্র রায়! দু’চোখের কোণ ভিজে এল তাঁর!

shantiniketan

‘রবিজীবনী’-র লেখক প্রশান্তকুমার পালের লেখা থেকে জানা যায়। ১৪ নভেম্বর রাত্রি ৭-৪৪ মিনিট পর্যন্ত বোলপুরে পৌঁছনো টেলিগ্রামের সংখ্যা ৭টি, তার মধ্যে ওই টেলিগ্রামটি

কলকাতায় ৪টে ১০ নাগাদ জমা পড়ে। বোলপুর ডাকঘরে পৌঁছয় ঠিক তেত্রিশ মিনিট পর। কবির আমন্ত্রণে সে দিনই বেলা সাড়ে ১১টায় শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন বাঁকুড়ার ওয়েসলিয়ান কলেজের অধীন হাই স্কুলের অধ্যক্ষ পাদ্রী এডওয়ার্ড জন টমসন। পাদ্রীসাহেব বাংলা জানতেন। তাঁকে কবি বাংলাতেই চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সাহেব লিখছেন, “About 4.30, I had tea. He came in suddenly and said, ‘Mr. Thomson, will you excuse me for a few hours? I have to go somewhere.”

অতিথি টমসনের কাছ থেকে সময় নিয়ে কোথায় গেলেন রবীন্দ্রনাথ? বনবিহারে। রেল লাইনের পুব পাড় ধরে মোটর গাড়িতে চড়ে জোব্বা উড়িয়ে চললেন পারুলবনের দিকে।
সঙ্গে কয়েকজন বিদেশি অতিথি, এস্রাজ নিয়ে গানের ভাণ্ডারী দিনুঠাকুর, ছেলে রথি আর সচিব নেপালচন্দ্র। পথেই দেখা হল, বোলপুরের ডাক পিয়োনের সঙ্গে। কবিতা তাঁকে দেখে গাড়ি থামাতে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘কোনও সংবাদ আছে?’’‘‘আজ্ঞে। কলকাতা থেকে তার আছে আপনার।’’
এর পর টেলিগ্রাম হাতে পেয়েও কবি তখনই খুললেন না। সকলের দেরি হবে ভেবে জোব্বার পকেটে রেখে দিলেন কাগজখানা। কিন্তু সকলের কৌতূহল থামে না। এখন টেলিগ্রাম!

সবার অনুরোধে চাঁদের আবছা আলোয় বনপথেই টেলিগ্রাম খুললেন কবি।।প্রথমে বিশ্বাস হয়নি! তিন প্রিয় মানুষ পাঠানো সু-সংবাদ পড়ে বলেন, ‘‘উঁহু, সম্ভবত টেলিগ্রামের ভাষায় ভুল আছে বুঝলে!’’ সকলের উৎসুক চোখ কবির মুখের দিকে!

ফের পড়লেন তিনি। তার পর নেপালবাবুর দিকে এগিয়ে দিলেন কাগজখানা। রথীন্দ্র দেখলেন কাগজে লেখা, ‘‘নোবেল প্রাইজ কনফারড অন ইউ, আওয়ার কনগ্র্যাচুলেশনস।’’
এক আকাশ চাঁদের সে রাতে আশ্রামের চতুর্দিকে কেবল রবিরব। পুজোর ছুটির পর সবে খুলেছে রবিবাবুর ‘গানের স্কুল।’ বাড়ি থেকে ফিরে ছুটির হোম-টাস্ক নিয়ে মনখারাপ ছোটদের। তারই মাঝে সন্ধেরাতের হাওয়ায় রটল কবির নোবেল প্রাপ্তির খবর। সে সময় প্রমথনাথ বিশী শান্তিনিকেতনের ছাত্র। ‘রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন’-এ তিনি লিখছেন, ‘‘শীতের প্রারম্ভে নূতন-ওঠা বেগুনভাজা পরিবেশিত হইয়াছে… সহসা অজিতকুমার চক্রবর্তী রান্নাঘরে ঢুকিয়া চীৎকার করিয়া বলিলেন, ‘গুরুদেব নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন।’’

প্রাক্তনীর স্মৃতির পথে ফিরে দেখি, আশ্রমের অধ্যাপক অজিত চক্রবর্তীর চলাফেরা প্রায় নৃত্যের তালে পরিণত হয়েছে। চঞ্চল হয়ে উঠেছেন ‘গম্ভীরপ্রকৃতির লোক, চলাফেরায় সংযত’ ক্ষিতিমোহন সেন। বিদ্যালয়ের সর্বাধ্যক্ষ জগদানন্দ রায় এসে যখন তিন-চার দিনের ছুটি ঘোষণা করলেন, তখন ছাত্ররা বুঝতে পারল, ‘ব্যাপার কিছু গুরুতর!’

প্রমথ লিখছেন, ‘‘কোথায় গেল ক্লাসের নিয়মিত ঘণ্টা, কোথায় গেল অধ্যাপকদের গম্ভীর চালচলন, স্নানাহারের সময়ও গোলমাল হইয়া গেল!’’ সেই রাতে গৌরপ্রাঙ্গণে চাঁদের আলোয় বিস্তর আমোদ করেছিল আত্মহারা শান্তিনিকেতন আশ্রম। পিয়ার্সন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কাফ্রিদের ঢাল-তরোয়াল-মুখোশ এনেছিলেন। সে সব তিনি বের করে দেন আনন্দ-নৃত্যের জন্য। পিয়ার্সন ও ছেলেদের নাচের মাঝেই কালি-ঝুলি মেখে সং সেজে হাজির হলেন সুধাকান্ত। কোমরে তাঁর জড়ানো কুয়োর লম্বা দড়ি।

কবি অবিচল থাকলেও, সে দিন এমনই উল্লসিত হয়ে ওঠেন আশ্রম সদস্য ও তাঁর আপনজনেরা। কবির বড়দাদা, ঋষিপ্রতিম দ্বিজেন্দ্রনাথও খবর পেয়ে তাঁর নিচুবাংলার ঘর থেকে দৌড়ে গিয়েছেন কবিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে! আদর করে বলেছেন, ‘রবি, তুই নোবেল প্রাইজ পেয়েছিস!’

বোলপুরের ডাকঘর উপচে পড়ছে অভিনন্দন বার্তায়। অজস্র চিঠি-টেলিগ্রাম! খুব কাছের কয়েকজনকে কবি নিজেই উত্তর লিখলেন। বন্ধু রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীকে লিখলেন, ‘‘সম্মানের ভূতে আমাকে পাইয়াছে, আমি মনে মনে ওঝা ডাকিতেছি- আপনাদের আনন্দে আমি সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারিতেছি না। আপনি হয়ত ভাবিবেন এটা আমার অত্যুক্তি হইল কিন্তু অন্তর্যামী জানেন আমার জীবন কিরূপ ভারাতুর হইয়া উঠিয়াছে। ‘কোলাহল ত বারণ হল/ এবার কথা কানে কানে’ এই কবিতাটি দিয়া আমি গীতাঞ্জলির ইংরেজি তর্জ্জমা শুরু করিয়াছিলাম। কারণটা যে কতদূর সফল হইল তাহা দেখিতেই পাইতেছেন।’’ লিখলেন রোটেনস্টাইনকেও!
বাকিদের পাঠানো হল, রবীন্দ্র-হস্তাক্ষরে লেখা চিঠির বয়ান।

২৩ নভেম্বর কবিকে সংবর্ধনা জানাতে বিশেষ ট্রেন এল বোলপুরে! সে ট্রেনের খবর জানিয়ে কাগজে বিজ্ঞপ্তি বের হয়। জানানো হয়, শান্তিনিকেতন যাওয়ার ভাড়া ৩ টাকা চার আনা! কে নেই বিজ্ঞপ্তির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ব্রজেন শীল, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার। সু-সজ্জিত রেলগাড়ি ছাড়তে ৫৫ মিনিট দেরি হয়। কারণ সভাপতি জগদীশচন্দ্র বসু স্টেশনে পৌঁছতে পারেননি!

দুপুরে ট্রেন যখন বোলপুরে এল, কবির নামে জয়ধ্বনি উঠল বোলপুরের ভুবনডাঙার আকাশ জুড়ে। আম্রকুঞ্জে সংবর্ধনা সভায় কবি এলেন গরদের ধুতি পাঞ্জাবিতে, তাঁকে মালা পরিয়ে দিলেন সভাপতি জগদীশচন্দ্র। কবি বসলেন মাটির বেদীতে, পদ্মপাতায়। রেশমের কাপড়ে কবি সত্যেন্দ্র দত্তের খসড়া করা অভিনন্দনপত্রটি পড়লেন হীরেন্দ্রনাথ দত্ত। একটি লজ্জাবতী লতার গাছ উপহার দিলেন জগদীশচন্দ্র!
সকলের অভিনন্দন শেষে এ বার কবির পালা।
গেয়েছিলেন তিনেক আগে লেখা গীতিমাল্যের একটি গান, ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে।’

<

p style=”text-align: justify;”>তথ্যসূত্র : ডরথি দত্ত রায় (রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ)

পাঞ্জাব কেশরীর পূর্ণ স্বাধীনতার ডাক ছড়িয়ে পড়েছিল পরাধীন ভারতে

Lala Lajpat Roy

বিশেষ প্রতিবেদন: লালা লাজপত রায়, তিনিই প্রথম পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব রেখেছিলেন,সঙ্গে পেয়েছিলেন বাল গঙ্গাধর তিলক ও বিপিনচন্দ্র পালকে। তাদের সেই দাবি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই প্রস্তাবে সমস্ত দেশবাসী তাদের সঙ্গ দিতে বাধ্য হয়। তিনি লালা লাজপত রায়।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একজন মহান বিপ্লবী নেতা ছিলেন তিনি। তিনি ইংরেজদের লাঠি চার্জের আহত হয়ে মারা যান। তাকে পাঞ্জাব কেশরীও বলা হয়। লালা লাজপত রায় পাঞ্জাব সেন্ট্রাল ব্যাংক ও লক্ষী বীমা কোম্পানির স্থাপনা করেছিলেন। ইনি ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেস গরম দলের তিন প্রমুখ নেতা লাল-বাল-পাল এর মধ্যে একজন ছিলেন।

লালা লাজপত রায় ১৯২৮ সালে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে এক মিছিল বের করেন। যার ফলে ইংরেজ লাঠি চার্জের আদেশ দেন। এই লাটি চার্জে লালা লাজপত রায় গুরুতর আহত হন ও আঘাতের ফলে তার মৃত্যু ঘটে।

Lala Lajpat Roy

লালা লাজপত রায় এর জন্ম ২৮ জানুয়ারি ১৮৬৫ সালে পাঞ্জাবে হয়েছিল। তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেস এর গরম দলের নেতা ছিলেন, তার সঙ্গে বিপিনচন্দ্র পাল ও বাল গঙ্গাধর তিলকও ছিলেন। লালা লাজপত রায় স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে মিলে আর্য সমাজকে পাঞ্জাবে লোকপ্রিয় করে তোলেন। লালা হংসরাজ ও কল্যাণ চন্দ্র দীক্ষিত এর সঙ্গে তিনি দয়ানন্দ ইংলো বৈদিক বিদ্যালয়ের প্রসার করেন। সেটাকে আজকের দিনে D.A.B স্কুল বা কলেজ নামে চেনা যায়।

লালা লাজপত রায় বিভিন্ন স্থানে শিবির গড়ে মানুষের সেবা করতেন। দিনটি ছিল ৩০ অক্টোবর ১৯২৮ সাল, সাইমন কমিশন লাহোরে যাত্রা করেন। এই কমিশনের বিরুদ্ধে যোগ দিয়ে একটি বিশাল মিছিলের প্রদর্শন করেন। সেই মিছিলের একটাই শ্লোগান “সাইমন গো ব্যাগ” মিছিল তীব্র রূপ ধারণ করে। যার ফলে ইংরেজ সরকার লাঠি চার্জের আদেশ দেয়। লালা লাজপত রায় সামনের সরিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। একটির পর এক লাঠি তার শরীরে আঘাত হানে।

আঘাতে পুরো শরীর রক্তাত্ত হয়ে পড়ে, তবুও তিনি বলছেন ‘সাইমন গো ব্যাগ’। আঘাতের পর আঘাত সে সময় তিনি একটাই কথা বলেন, ” मेरे शरीर पर पड़ी एक-एक लाठी ब्रिटिश सरकार के ताबूत में एक-एक कील का काम करेगी”। আর সেখানেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে গেলেন, আর কোনদিন জ্ঞান ফিরলো না। ঠিক ১৭ দিন পর ১৯২৮ সালের ১৭ ই নভেম্বর শরীর থেকে বেরিয়ে যায় তার প্রাণবায়ু।

<

p style=”text-align: justify;”>লালা লাজপত রায় এর মৃত্যুর বদলা নিতে হবে, শপথ নিলেন বিপ্লবীরা। তাদের প্রিয় নেতার হত্যাকারীকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। এগিয়ে এলেন বীর বিপ্লবী চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগৎ সিং, রাজগুরু, সুখদেব ও অন্যান্য বিপ্লবীরা। ঠিক ১ মাস পরেই ১৯২৮ সালের ২৭ ই ডিসেম্বর তারা স্যান্ডার্সকে গুলি করে হত্যা করেন।

সলিম আলী: দ্য বার্ডম্যান অব ইন্ডিয়া

Salim Ali: The Birdman of India

বিশেষ প্রতিবেদন: উপমহাদেশের বিখ্যাত পাখিবিশারদ সলিম মঈজুদ্দিন আব্দুল আলী সংক্ষিপ্ত নাম সলিম আলী নামেই পাখী ও প্রকৃতি প্রেমিকদের কাছে অধিক পরিচিত। ‘দ্য বার্ডম্যান অব ইন্ডিয়া’ বা ‘ভারতের পাখিমানব’ নামে খ্যাত এই পাখি বিজ্ঞানীর জন্ম ১৮৯৬ সালের ১২ নভেম্বর, ব্রিটিশ ভারতের মুম্বাইয়ের সুলাইমানি বোহরা গোত্রের এক মুসলিম পরিবারে। জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। উল্লেখ্য যে, ১৯৮৭ সালের ২৭ জুলাই ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ভারতের এই পাখি মানব।

ভারতে তিনিই প্রথম পাখির ওপর নিয়মতান্ত্রিক জরিপ পরিচালনা করেন। তার রচিত বইগুলো পরবর্তী সময়ে পক্ষীবিজ্ঞানের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখে। ভারতে আধুনিক অর্নিথোলজি বা পাখিবিজ্ঞানের অন্যতম রূপকার তিনি। ভারতের তো বটেই, সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাখি বিশারদ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে তিনি একজন। তিনিই প্রথম ভারতবর্ষের পাখিদের উপর নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জরিপ পরিচালনা করে তাদের লিপিবদ্ধ করেন।

Salim Ali: The Birdman of India

শিশুকালেই খেলনা এয়ারগান দিয়ে চড়ুই শিকার করার সূত্র ধরে তাঁর সাথে পরিচয় হয় বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির তৎকালীন সচিব ওয়াল্টার স্যামুয়েল মিলার্ডের। মিলার্ড সলিম আলীর উপর খুশি হয়ে তাঁকে পাখি সম্পর্কিত কিছু বই পড়তে দেন, পাশাপাশি পাখি সম্বন্ধে জ্ঞানদান করেন। নিজের আত্মজীবনীতে মিলার্ডের সাথে এ পরিচয়কেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন সলিম আলী। প্রথম জীবনে তাঁর পাখি শিকারের প্রতি ঝোঁক থাকলেও পরবর্তীতে তা পাখি ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসায় রূপ নেয়। পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জার সাথেও শিকার করেছিলেন তিনি।

গিরগামের জনানা বাইবেল মেডিকেল মিশন গার্লস হাইস্কুলে সলিমের প্রাথমিক পড়াশোনা। পরবর্তীকালে বোম্বের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৯১৩ সালে বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলেজে ওঠার পর প্রথম বর্ষেই তিনি ঝরে পড়েন। এ সময় বার্মা চলে আসেন পারিবারিক ওলফার্ম (এক ধরনের ধাতু) খনি দেখাশোনার জন্য। পরে ভারতে ফিরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ফাদারের উৎসাহে প্রাণিবিদ্যায় ভর্তি হন। এছাড়া গতানুগতিক পড়াশোনার দিকে তাঁর কখনোই আগ্রহ ছিল না। জীবিকার তাগিদে তিনি মিয়ানমারে পাড়ি জমান ও পরবর্তীতে জার্মানি ভ্রমণ করেন। এ সময় এরউইন স্ট্রেসম্যান, আর্নেস্ট মায়ারের মতো খ্যাতনামা প্রকৃতিবিদদের সংস্পর্শে আসেন তিনি।

খেলার ছলে সলিম একবার একটি হলুদকণ্ঠ চড়ুই শিকার করেন। আত্মজীবনী ‘দ্য ফল অব অ্যা স্প্যারো’তে উল্লেখ করেন এই হলুদকণ্ঠ চড়ুই শিকারই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই সময় ব্রিটিশ উদ্যোক্তা ও প্রকৃতিবিদ ডব্লিউএস মিলার্ড সলিমকে পাখি নিয়ে কিছু বই পড়তে দেন। এছাড়া বার্মার উম্মুক্ত প্রকৃতি তাকে বেশ প্রভাবিত করে। বার্মায় থাকাকালে তিনি এরউইন স্ট্রেসম্যান ও আনের্স্ট মায়ারের মতো বিখ্যাত প্রকৃতিবিদদের কাছাকাছি আসার সুযোগ পান।

১৯৩০ সালে ভারতে প্রথমবারের মতো পাখির ওপর নিয়মতান্ত্রিক জরিপ পরিচালনা করেন তিনি। ভারতীয় পাখি নিয়ে আরেক বিজ্ঞানী রিচার্ড মেইনার্তসের অনেক ভুল সঠিক করে দেন তিনি। ১৯৪৭ সালে বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ আসন তিনি অলঙ্কৃত করেন এবং এর উন্নয়নে সরকারি সাহায্যের সংস্থান করে দেন। পরবর্তীতে ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ভারত সরকার ১৯৫৮ সালে তাকে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৫৮ সালে রাজ্যসভায় সদস্য মনোনীত হন। পাখি বিষয়ে অবদানের জন্য তিনি বার্ডম্যান অব ইন্ডিয়া নামে খ্যাত।

লেখালেখিতে তার বড় কাজ হলো দশ খণ্ডের হ্যান্ডবুক অব দি বার্ডস অব ইন্ডিয়া এন্ড পাকিস্তান। সলিম আলী তাঁর সমস্ত গবেষণা ও জ্ঞানকে একত্রিত ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে দশ খণ্ডে সম্পন্ন করেন তাঁর কিংবদন্তি গ্রন্থ ‘হ্যান্ডবুক অব দ্য বার্ডস অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’। বিশাল ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যময় পাখিদের নিয়ে এটিই সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বই। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, সিকিম, ভূটান ও শ্রীলঙ্কার যাবতীয় পাখিকে তিনি এতে লিপিবদ্ধ করেন।

<

p style=”text-align: justify;”>এই বইটির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের পাখির উপর আলাদা আলাদা বই লিখেন তিনি। যেমন- দি বার্ডস অব সিকিম, দি বার্ডস অব কেরালা, দি বার্ডস অব হিমালয় প্রভৃতি। বিভিন্ন জার্নালে তিনি পাখি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছেন।
সলিম আলী ১৯১৮ সালে তাহমিনা নামে এক দূরবর্তী সম্পর্কের আত্মীয়াকে বিয়ে করেন। পাখি জরিপের কাজে গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য করেন তাঁর স্ত্রী তাহমিনা। ১৯৮৭ সালের ২৭ জুলাই মুম্বাইয়ে তিনি মারা যান।

Salute: মানবসেবা রাস্তাতেই চিকিৎসা করেন ‘ডাক্তারবাবু’

Madhusudan Bag

Special Correspondent, Kolkata: না, তাঁর কোনও চেম্বার নেই। টাকা পয়সার চাহিদা নেই। শুধু মানুষের সেবা করতে জানেন। পথে ঘাটে যাকে অসুস্থ দেখেন তাঁর চিকিৎসা করেন। এমনই বাগনানের স্কুল শিক্ষক মধুসূদন বাগ (Madhusudan Bag)।

তাঁর সঙ্গী একটি ছোট্ট ব্যাগ। যাতে চিকিৎসার সরঞ্জাম রয়েছে। রাস্তাতেই মানুষকে তাঁর পরিষেবা দেন । করোনা জয় করতে গেলে যে নিজের শরীর ফিট রাখতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে, এতদিনে এই বিষয়টি জেনে গিয়েছে আট থেকে আশি সবাই। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক ভাবে আপনি সুস্থ কিনা তা জানার জন্য প্রেশার, পালস, সুগার ঠিক আছে কিনা জানতে হবে। তাহলে মোটামুটি ভাবে আপনি সুস্থ কিনা জানতে পারবেন।

এই পরিস্থিতিতে হাওড়ার বাগনান থানার দেউল গ্রামের বাসিন্দা আদতে পেশায় শিক্ষক মধুসূদন বাগ এক নজির তৈরি করেছেন। যেখানেই যান, সঙ্গে একটি ছোট ব্যাগ রাখেন। ব্যাগে থাকে প্রেশার মাপার যন্ত্র থেকে শুরু করে ডেটল পর্যন্ত। সরবিট্রেট সহ কিছু ওষুধও রাখেন। যাতে পথে ঘাটে কেউ বিপদে পড়লে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দিতে পারেন।

জানা গিয়েছে, পেশায় প্রাথমিক স্কুলের মধুসূদন বাগের বয়স পঞ্চান্ন। বাড়ি হাওড়া জেলার বাগনান থানার দেউলগ্রামে। পরিবারে এক ছেলে ও স্ত্রী রয়েছেন। গ্রামের পাশে ডি এম বি স্কুলে পড়াশোনা করার সময়েই সমাজসেবার কাজে যুক্ত হন। মানুষের জন্য করা টুকটাক কাজ গুলি করে যে আত্মতৃপ্তি আসে তা কখন নেশায় পরিনত হয়েছে তা বুঝতে পারেননি তিনি। গ্রামে চিকিৎসার অভাব রয়েছে। পাশের মানকুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভিড়ে থিকথিক করে। মনোযোগ দিয়ে চিকিৎসা দেখেন মাঝে মধ্যে। পরে এক চিকিৎসকের পরামর্শে তার কাছ থেকেই শেখেন প্রেশার মাপা, পালস দেখা, স্যালাইন দেওয়া ইত্যাদি। আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য জেনে নেন কিছু ওষুধ।

এরপর তা ব্যাগে ভরে সাইকেল চেপে গ্রাম থেকে গ্রামে অবসর সময়ে ঘুরে বেড়ান। রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লেই এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু নিজেকে চিকিৎসক বলতে নারাজ মধুসূদনবাবু। সাফ জানান, “আমি একজন শিক্ষক। চিকিৎসার যে টুকু জানি তাতে আপাতত সামলে দেওয়া যাবে। করোনার এই সময়ে আপাতত প্রেশার, সুগার, পালসটুকু ঠিক থাকলে অনেকটাই সুস্থ বলে ভাবা হবে।” তাই পথ চলতে এটুকু দেখলেই রোগীকে মানসিক শক্তি দেওয়া হবে। “আর মধু বাবুর এ হেন কাজ কে কুর্ণিশ জানিয়েছেন সকলে।

সব জিনিসের সঙ্গে আটকে যায়, নিজের টিউবে আটকায় না সুপার গ্লু, জেনে নিন কারণ

Know the use of super glue

News Desk, Kolkata: মাত্র এক বর্গইঞ্চি জায়গায় সুপার গ্লুর ঠুনকো প্রলেপ এক টনের বেশি ওজন ধরে রাখতে পারে। ‘সায়ানোঅ্যাক্রিলেট’ নামের এক রাসায়নিক তরল থাকার কারণেই গ্লু এই অবিশ্বাস্য শক্তি অর্জন করতে পেরেছে। এটি জল ছাড়া কোনও কিছু জোড়া লাগাতে পারে না।

টিউবের ভেতর বায়ু ও জলশূন্য অবস্থায় একে ঢুকিয়ে ভালোভাবে মুখ আটকে দেওয়া হয়। তাই জলের অনুপস্থিতিতে গ্লু টিউবের ভেতরের গায়ের সঙ্গে জোড়া লাগতে পারে না। কিন্তু টিউব থেকে বের হলেই শুরু হয় তার তেলেসমাতি। বাইরের বাতাসের মধ্যে থাকা জলীয়বাষ্পের সঙ্গে মিশে নিজ অ্যাকশন শুরু করে দেয় দ্রুত। হালকা প্রলেপ বেশি কার্যকর, কারণ সামান্য জলীয়বাষ্প লাগে, কাজ হয় চটপট। একটু ফুঁ দিলে আরও তাড়াতাড়ি কাজ হয়। সামান্য আঠা বের করেই টিউবের মুখটা খুব দ্রুত বন্ধ করে দিলে ভেতরে বাতাস ঢুকতে পারে না। ফলে, সে টিউবের ভেতরের গায়ে জোড়া লাগে না। কিন্তু সাধারণ আঠার কার্যক্রমটা ভিন্ন। ওর মধ্যে জলথাকে বলে সে কৌটা বা টিউবের ভেতরের গায়ে জোড়া লাগে না। কোনো ছেঁড়া কাগজে মেশানোর পর জল শুকিয়ে গেলে জোড়া লাগে।

প্রচণ্ড শক্তিশালী আঠা সুপার গ্লু অসাবধানতাবশত ত্বকে লেগে গেলে ভয় পাবেন না। অযথা টানাটানি করতে গিয়ে ত্বকের ক্ষতি না করে কয়েকটি সাধারণ উপায় মেনে খুব সহজেই দূর করতে পারেন সুপার গ্লু।
একটি বাটিতে কুসুম গরম জল নিন। আঠা লেগে যাওয়া অংশ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন জলে। জদিন আঙুলে না লেগে শরীরের অন্য কোথায় লাগে তাহলে গরম তোয়ালে ভিজিয়ে চেপে ধরে রাখুন। এবার আঠাযুক্ত ত্বকে লবণ ঘষে নিন। ১ মিনিট জোরে জোরে ঘষার পর দেখবেন উঠতে শুরু করেছে সুপার গ্লু। আরও ২ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন ত্বক। খুব সহজেই উঠে আসবে আঠা। ৬ থেকে ৭ ফোঁটা লিকুইড ডিশ ক্লিনার এক কাপ জলে মিশিয়ে নিন। আঠা লেগে যাওয়া ত্বক ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এক পাশ থেকে আঠা উঠতে শুরু করলে টেনে উঠিয়ে ফেলুন। অলিভ অয়েলের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি ঘষে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন ত্বকে লেগে যাওয়া সুপার গ্লু।